বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাস্তবতা

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অভিমানী শাকিল (০ পয়েন্ট)

X বিয়ের রাতে ছেলেটি আমার পাশে বসার আগেই ধমক দিয়ে বলেছিলাম, - খবরদার!আমায় ছোঁবেন না বলছি।বিয়েটা আমার কাছে স্রেফ কাগজে কলমে একটি চুক্তি। তাই প্লিজ নিজের পুরুষত্ব দেখাতে আসবেন না একদম! ও খানিকটা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলেছিলো, -আপনি যা ভাবছেন তা একদমই নয়।তাছাড়া আমরা দুজন দুজনকে চিনি না।তাই চেয়েছিলাম বন্ধু হতে।যাজ্ঞে ঘুমিয়ে পড়ুন। এই বলে ও অন্য রুমে ঘুমুতে গেলো। . লোকে আমায় বলতো আমি নাকি পরীর মত দেখতে।রীতিমত ছেলেদের লাইন লাগতো আমার পেছনে।কিন্ত হুট করে বাবা কোন এক ক্ষ্যাত, ব্যাকটেডেট ছেলে খুঁজে নিয়ে আসলেন আমার জন্য।অবাধ্য হতে পারিনি তাই নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে রাজি হয়ে গেলাম বিয়েতে।ছোটবেলা স্বপ্ন দেখতাম রাজপুত্র আসবে, আমায় তার সাথে করে নিয়ে যাবে।কিন্ত ওকে দেখে রাগ আরো দ্বিগুণ মাত্রায় বেড়ে গেলো।দেখতে অসম্ভব সুদর্শন হলেও কেমন জানি অগোছালো ও।চোখের নিচে কালি জমেছে, না জানি কত রাত ও ঘুমোয় নি।মাথার চুলগুলো কাটেনা হয়তো অনেকদিন ধরে,গাল ভর্তি দাড়ি।দেখতে অনেকটা গম্ভীর ও এলোমেলো স্বভাবের।কিন্ত কে জানি বলেছিলো ভালোবাসা নাকি নিজের অজান্তে হয়ে যায়।আমার ক্ষেত্রেও তাই।যাকে ভালোবাসবো না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আজ তার প্রতি আমি দুর্বল। আর হবোই না কেন? যে ছেলে প্রতিদিন হাজারটা ঝাড়ি,গালি হজম করে রোজ রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় একগুচ্ছ গোলাপ ফুল এনে আমার রুমের বাইরে রেখে যায় তাকে কি আর ভালো না বেসে পারা যায়! ভোরবেলা উঠতে পারিনা বলে রোজ ছেলেটা অফিসের যাওয়ার আগে নাস্তা বানিয়ে টেবিলে রেখে যায়।মাঝেমধ্যে ওর এমন কাণ্ড দেখে ভাবি যদি আমায় কোনো বড়লোক রাজপুত্র বিয়ে করতো সে কি এভাবে আমায় ভালোবাসতে পারতো নাকি! মধ্যরাতে যখন আমার খিদে পেলে ওকে ডেকে তুলে বলি নুডুলস খাবো।ও চুপটি করে ঘুমঘুম চোখে নুডুলস করে খাইয়ে দিবে। শাড়ী পড়তে গেলে আমি কুচি সামলাতে পারিনা বলে ছেলেটা সবসময় আমার কুচি ঠিক করে দেয়।কপালে মাঝ বরাবর টিপ পড়তে পারেনা অনেক মেয়ে।তাদের মধ্যে আমি একজন তাই তো ও সবসময় আমার কপালে টিপ পড়িয়ে দিবে।কিন্ত আজ অব্ধি আমরা কেউ কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারিনি "ভালোবাসি" ওর অগোছালো জীবনটা গুছিয়ে নিয়েছি অনেকটাই।প্রেমিকার প্রতারণার কষ্টে চুপচাপ হয়ে যাওয়া আমার ব্যাকডেটেড স্বামীকে আজ হাসতে শিখিয়েছি আমি। . টুনাটুনির ছোট্ট সংসারে বেশ ভালোই ছিলাম।কিন্ত একদিন ওর অফিস থেকে এক কলিগ জানালো আরাফ মানে আমার স্বামী চার তলার সিঁড়ি থেকে পা পিছলে পড়ে দিয়েছে।অবস্থা সুবিধের না তাই আইসিইউ তে রাখা হয়েছে ওকে।বড়জোর কয়েক ঘন্টা বাঁচবে।কোনো রকম তাড়াহুড়ো করে হসপিটালের ওই দমবন্ধ হয়ে যাওয়া ঘরটাতে ঢুকতেই চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিলো আমার। তবু নিজেকে সামলে ওর পাশে গিয়ে বসলাম।সে আমার হাতটি ধরে নিজের যন্ত্রনা ঢেকে মুখে নরম হাসি এনে আমায় বললো, - স্নিগ্ধা? - হ্যাঁ বলো - আজ একটা কথা বলবো? - বলো - আমি তোমায় অনেক ভালোবাসি - আমিও - আচ্ছা আমি না থাকলে কে তোমার জন্য রোজ গোলাপ ফুল এনে দিবে? - আরাফ এসব কি বলছো তুমি?তোমার কিছু হবেনা - আচ্ছা তোমায় কে কপালে টিপ পড়িয়ে দিবে?আর কে তোমার শাড়ীর কুচি ঠিক করে দিবে? - আরাফ আজ যদি অসুস্থ না হতে তাহলে কিন্ত থাপ্পড় খেতে - ঝগড়ুটে বউ আমার - হুহ...!! - আমার সময় মনে হচ্ছে কমে আসছে স্নিগ্ধা! . আমি আর নিজেকে সামলাতে না পেরে জড়িয়ে ধরলাম ওকে।কিন্ত হঠাৎ অনুভব হলো আমার হৃদপিন্ডটা কে জানি ছিঁড়ে চুরমার করে ফেলেছে।ততোক্ষণে বুঝতে আর বাকি রইলো না আরাফ আমার বুকে মাথা রেখে আমায় একা ফেলে চলে গিয়েছে।শুধু আমায় একা নয়, আমাদের অনাগত সন্তানকেও একা ফেলে চলে গেলো ও।ক'দিন আগে টেস্ট করিয়েছিলাম।আজ সকালে রিপোর্ট হাতে আসলে জানতে পারি আমি মা হতে চলেছি।ভেবেছিলাম আজ আরাফ অফিস থেকে আসুক।তখন ওকে সারপ্রাইজ দিবো।কিন্ত তার আগেই ও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজটা দিয়ে চলে গেলো। ! ! ! সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ # বাস্তবতার ভালোবাসা # অনুগল্প
→ বাস্তবতা
→ বাস্তবতার রুদ্ধশাস কাহিনী
→ স্বপ্ন ও বাস্তবতা
→ বাস্তবতা থেকে ইসলামিক জীবনযাপন
→ বাস্তব অভিঙ্গতা তথা বাস্তবতা
→ নাগিন নাটকের বাস্তবতা
→ বাস্তবতা
→ বাস্তবতা
→ স্বপ্ন বাস্তবতা ১
→ এটাই বাস্তবতা
→ বাস্তবতা
→ ""বাস্তবতা""
→ বাস্তবতা অনেক কঠিন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now