বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সবেমাত্র কলেজ জীবনে পা দিয়েছি।এলাকারই
একটি কলেজ তাই সকলেই ছিলো চেনা ফ্রেন্ড।
আমি আকাশ। ছাত্র হিসেবে খুব একটা খারাপ ছিলাম না।
কিন্তু কোন মেয়েকে আজও ইম্প্রেস করতে
পারলাম না। একদিন কলেজ বিরতিতে আমি আর হৃদয়
মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হটাৎ হৃদয় এর কাছে একটি
অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসলো।হৃদয় কলটা
রিসিভ করতেই এক বালিকার কন্ঠে এক নিশ্বাসে
ভেসে আসলো।
.
-হ্যালো সাহিন ভাইয়া,আমি বাধন(বালিকা)
-দূঃখিত আপু,আমি আপনাকে চিনলাম না!(হৃদয়)
-কেন তুমি সাহিন ভাইয়া না?
-না আমি হৃদয়।
-ওহ! আমি দূঃখিত ভাইয়া মনে হয় নাম্বার ভুল হয়ছে।
- ওহ,আচ্ছা ঠিক আছে!
.
কথাটি বলেই ফোনটি কেটে দিলো হৃদয়। আমি
জিজ্ঞেস করলাম
-কে ছিলো রে দোস্ত?(আমি)
-একটা মেয়ে wrong number।(হৃদয়)
-নাম্বার টা দে তো!
-তুই নাম্বার টা কি করবি?
-আরে দে না কাজে লাগবে
-এই নে ০১*******৩৫।
-ওকে। চল ক্লাসে যাই?
-তাই চল।
.
কিছুদিন চলে গেলো। হটাৎ একদিন আমার নাম্বার টার
কথা মনে পড়লো। ফোন দিলাম। সেই বালিকা
উঠালো
.
-হ্যালো!(আমি)
-কে বলছেন?(বালিকা)
-সেটা নাহয় না জানায় থাক।
-কেন ফোন দিয়েছেন।
- কথা বলতে।
-আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলি না।
-আমরা কি পরিচিত হতে পারিনা।
- না পারিনা।
- কেনো?
-বাই!!
.
কেমন হইলো। এবার দেখছি কোন মেয়েরি
আমার কন্ঠ সহ্য হয়না। আমার জীবনে কি.............
...................... ভাবতে ভাবতে বাইরে বেরিয়ে
এলাম।
.
এরই মাঝে অনেক দিন পেরিয়ে গেলো।
দেখতে দেখতেই ঈদ-উল-ফিতর এর আগমন
ঘটলো। ঈদ এর সকাল খুব ঘুরাঘুরি ও আনন্দ করছি।
হটাৎ এক মূহুর্তে সেই বালিকার নাম্বার থেকে
ফোন।
.
-হ্যালো ভাইয়া! ঈদ মুবারক!(বালিকা)
-ঈদ মুবারক! আপনি এতোদিন পরে কি মনে করে।
(আমি)
-না মানে আপনার নাম্বার টা আমার ফোন এ দেখলাম
তাই ফোন দিলাম।
-আপনি তো অপরিচিত কারো সাথে কথা বলেন না
-তো পরিচিত হতে কি অসুবিধা?
-না মানে আপনিই তো সেইদিন.....
-থাক বাদ দেন তো অইসব! এতদিন পর ফোন দিলাম
কেমন আছি জিজ্ঞেস ও তো করলেন না।
- ওওওহ সরি! আপনি কেমন আছেন?
-হুম আমি বলার পর!!! ভালো আছি। আপনি?
-ঈদ এর দিন কেউ খারাপ থাকে।
-তাই!তা কি করিতেছেন?
- ঘুরছি আপনি ঘুরছেন না?
-না আমার ঘুরতে ভালো লাগে না
- কেনো?
-এমনি!! তাহলে আমরা আজ থেকে ফ্রেন্ড।আমরা
তুমি করে বলবো ওকে। ওওহ তোমার নামটাই
তো জানা হলো না।
- আমার নাম...আমার নাম বাধন ।(আমি)
- কি!!!!! তোমার নাম বাধন? হাহা?(বাধন)
- হুম। কেনো কোন অসুবিধা। আমার দাদু শখ করে
রেখেছিল আমার এই নামটা।
- না কোন অসুবিধা না।
- তো তোমার নামটা কি?
- আমার নাম.... নীলিমা।
-ওওহ
.
এইভাবে গড়ে ওঠে আমাদের বন্ধুত্ব। প্রায়
প্রতিদিনই ফোনে কথা হতো আমাদের।দুইজনের
বাসায় রাজশাহীতে। বাধন ১০ম শ্রেণীতে পড়ে।
একদিন হটাৎ বালিকা আমাদের পাশের এলাকায় এসে
আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমি এইখানে। আমরা
আজকে দেখা করবো আসো।
আমি চলে গেলাম সাথে বন্ধু হৃদয় কে নিয়ে।
গিয়েই ফোন দিলাম।
.
-কই তুমি?(আমি)
- এতো তারাতারি কিসে করে আসছো।( বালিকা)
-মোটরসাইকেলে আসছি।
-তবে আমি রাস্তার পাশে দাঁড়ায় থাকবো।আমাকে তুমি
খুজে বের করো।
-ওকে।
.
এইভাবে অনেক খোজার পড়ে শেষ পর্যন্ত
খুজে বের করলাম।নীলপরীর মতো দেখতে
কত মায়াবী চেহারার এক মেয়ে। পলক ফেলা যায়
না চোখের। মনে হচ্ছে এভাবেই দেখতে থাকি
তারে।
তারপর বালিকা বললো
- কী বাধন সাহেব শেষ পর্যন্ত খুজে বের
করলেন।(বালিকা)
-হুম।।
-পাশের কুলবয় টা কে?
-ওওও। এ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হৃদয়। যাই হোক
আমি আকাশ।নট বাধন।(আমি)
-কি!এতোদিন তাহলে এতো বড় মিথ্যে কথা
বলেছিলে।
-তুমিও তো বলেছিলে, আসল বাধন তো তুমিই,
নীলিমা হক।
- ও হে আমি বাধন। আর আপনি আমার নাম জানলেন
কিভাবে।
-কেনো? সেই wrong number থেকেই। হৃদয়
কে সাহিন ভাইয়া ও নাম!!!
.
এভাবেই চলতে থাকে আমাদের বন্ধুত্ব। নিয়মিত
দেখা করা, একসাথে ঘুরতে যাওয়া, দুষ্টুমি। এক সময়
বন্ধুত্ব ভালোলাগায় রুপ। তাই একদিন বলেও ফেলি
সাহস করে।
-একটা কথা বলবো।(আমি)
-বল কি কথা
-আসলে আমি বলছি যে তোমার সাথে প্রথম
যেদিন কথা বলি সেদিন থেকে আমার তোমার প্রতি
ভালোলাগা সৃষ্টি হয়েছে। তোমাকে যেদিন
প্রথম চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। এখন আমার
সমস্ত কল্পনায় তুমি মনে হয়। তোমাকে ছাড়া
কেমন যেন মনে হয়। আমি তোমাকে
ভালোবেসে ফেলেছি।
- থাক আর ঢং করতে হবে না। আমি ও ২।
-কি সত্যি।
- হুম হুম হুম সত্যি।
আর এইভাবেই গড়ে ওঠে wrong number এর
একটি নতুন বন্ধন।।।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now