বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পরীর রহস্যময় আলো

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান প্রিন্স ফ্রেরাসে (guest) (০ পয়েন্ট)

X পরীর রহস্যময় আলো - এক ছিল রাজা হীরকের রাজ্য, যেখানে সবুজ পাহাড় আর নীল নদীর মাঝে লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত জঙ্গল। সেই জঙ্গলের গভীরে এক প্রাচীন বটগাছের নিচে থাকতো পরীরা। লোকমুখে বলা হতো, তারা আলোর মতো সুন্দরী, কিন্তু তাদের হৃদয়ে লুকিয়ে আছে গভীর রহস্য। এই গল্পের নায়ক ছিল গ্রামের সাধারণ ছেলে আরিফ, যার স্বপ্ন ছিল তার পরিবারকে সুখী করা। আরিফ ছিল কাঠুরে। প্রতিদিন সকালে সে জঙ্গলে ঢুকতো কাঠ কাটতে। এক বর্ষার সন্ধ্যায় ঝড় উঠলো। বজ্রপাতের আলোয় সে হঠাৎ দেখলো বটগাছের গুঁড়িতে একটা আলোর রেখা। কৌতূহলে কাছে গিয়ে দেখে, গাছের গায়ে একটা দরজা খুলে গেছে। ভয়ে ভয়ে ঢুকতেই সে পড়লো এক অপরূপ সুন্দর উদ্যানে। ফুলের সুবাসে মুখ ভরে গেল। হঠাৎ এক স্বর্গীয় কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, "মানুষের ছেলে, তুমি এসেছো আমাদের রাজ্যে। আমি লিলি, এ পরীর রানী। তোমার পবিত্র হৃদয় দেখে আমি তোমাকে স্বাগত জানাই।" লিলি ছিল অপরূপা। তার চুল ছিল রূপার মতো লম্বা, চোখ দুটি তারার ঝর্ণা। পরনে সবুজ রেশমী শাড়ি, যেন পাতা থেকে তৈরি। আরিফ অবাক হয়ে বললো, "আপনারা সত্যি পরী? আমি তো শুধু লোককথা শুনেছি।" লিলি হেসে বললো, "আমরা জিন জাতিরই অংশ, কিন্তু আলোর সৃষ্টি। তোমাকে আমি তিনটি কাজ দেবো। পারলে তোমার জীবন বদলে যাবে।" প্রথম রহস্য ছিল 'সোনার পাখি'। লিলি বললো, "এই উদ্যানের উত্তরে এক গুহায় সে আছে। কিন্তু রক্ষক সাপ তার পাহারায়। তাকে জয় করতে হলে তোমার সাহস লাগবে।" আরিফ গুহায় গেল। সাপটা বিশাল, কিন্তু আরিফের মনে ভয় ছিল না। সে সাপের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, "আমি তোমাকে ক্ষতি করবো না, শুধু পাখি দাও।" সাপের চোখে অশ্রু ফুটলো। সে বললো, "তুমি প্রথম মানুষ যে ভয় পাসনি। নাও পাখি।" আরিফ পাখিটা নিয়ে ফিরলো। লিলি খুশি হয়ে বললো, "এটা তোমার সাহসের ফল।" দ্বিতীয় রহস্য ছিল 'জ্ঞানের ফল'। উদ্যানের এক নদীর তলায় সে ফল লুকানো। লিলি বললো, "তলায় যাওয়ার জন্য তোমার ধৈর্য লাগবে।" আরিফ নদীতে ডুব দিল। ঠান্ডা জলে কাঁপতে কাঁপতে সে ফলটা পেল। কিন্তু উঠতে গিয়ে দেখলো, তার হাতে একটা রূপালি আংটি। লিলি বললো, "এটা তোমার জ্ঞানের চাবি। এতে স্পর্শ করলে সব রহস্য জানতে পারবে। তৃতীয় রহস্য ' জ্ঞানের আলো' । লিলি বললো, "আমাদের রাজ্যে এক কালো ছায়া এসেছে, যা পরীদের শক্তি কেড়ে নিচ্ছে। তাকে পরাজিত করতে হলে তোমার ভালোবাসা লাগবে।" আরিফ জঙ্গলে ঘুরে দেখলো, ছায়াটা ছিল এক দুষ্ট জিন, যে পরীদের ঈর্ষা করতো। আরিফ তার আংটি দিয়ে ছায়ার দিকে তাকালো। তার মনে উঠলো গ্রামের সবার প্রতি ভালোবাসা। ছায়া আলো হয়ে মিলিয়ে গেল। পরীদের রাজ্য আবার উজ্জ্বল হলো। লিলি আরিফকে জড়িয়ে ধরলো। "তুমি আমাদের বন্ধু। তোমার জন্য আমরা তোমার গ্রামকে আশীর্বাদ করবো। প্রতি পূর্ণিমায় এই বটগাছের নিচে এসো, আমরা দেখা করবো।" আরিফের হাতে দিল সোনার পাখি, জ্ঞানের ফল আর একটা রূপালি ফুল। সে দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলো। বাইরে সকাল হয়েছে। তার পরিবার ধনী হলো পাখি থেকে, সে জ্ঞানী হলো ফল খেয়ে, আর গ্রাম শান্তিময় হলো ফুলের আশীর্বাদে। আজও সেই গ্রামে লোকেরা বলে, সাহস, ধৈর্য আর ভালোবাসা থাকলে পরীরা আসে। আরিফ বুড়ো হয়ে গল্প শোনাতো, আর বাচ্চারা স্বপ্ন দেখতো বটগাছের নিচে। এই রহস্যের আলো কখনো নিভবে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৬৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now