বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উতলা মনের জ্বালা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X উতলা মনের জ্বালা -এইচ এম ফজলে রাব্বী চুপচাপ বসে ইউটিউবে ঘাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি, ইউটিউব আমাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি উতলা মন দেখার জন্য অনুরোধ করছে। কী আর করা, ছবির নাম দেখেই আমার মনটা উতলা হয়ে গেল। তাই সঙ্গে সঙ্গেই হাত-পা ঝাড়া দিয়ে দেখতে বসে গেলাম। শুরুতেই ছবির কলাকুশলীর নাম দেখে ভিরমি খেলাম। আরিয়ান শাহ, নীড়, নবাগত মনিকা ইত্যাদি। অভিনয়শিল্পীদের নামের বাহার এবং সেই সঙ্গে সত্তরের দশকের গ্রাফিকসের ব্যবহার আমার মন আবারও উতলা করে দিল। ছবির তিন মিনিটের মাথায় নায়িকা বজ্রকণ্ঠে বলে উঠলেন, ‘তোমার কী করে সাহস হলো খান বাহাদুর আফতাব খানের একমাত্র বোনের কাছে কৈফিয়ত চাওয়ার?’ ডায়ালগ শুনেই বুঝে গেলাম, তিনি ক্লাস থ্রির শিশুদের ফ্রক পরে ঘুরলেও আসলে মামুলি কেউ নন। খান বাহাদুরের একমাত্র বোন বলে কথা! কিছুক্ষণ পর তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারলাম। তাঁর নামে আনোয়ারপুরে ১৯৭২ সালে স্থাপিত একটা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আছে—মনিকা বিশ্ববিদ্যালয়! সেখানে গিয়েই মনিকা দেখা পান পাশের গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কন্যা নীড়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অকারণে কুস্তি লড়াই শুরু করেন তাঁরা! এবং কেবল কুস্তিই নয়, একে-অপরের মাথার ওপরে একপায়ে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিলেন যে তাঁরা সার্কাসের কৌশলও কম জানেন না। কুস্তি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, তখনই বেরসিকের মতো আরিয়ান শাহের আগমন। এসেই গরম গরম বক্তৃতা দিয়ে তিনি মনিকা ও নীড়ের দিব্যদৃষ্টি খুলে দিলেন। এবং তারপরই খুলে গেল অপার সম্ভাবনার দুয়ার! আগে তিনজনের দেখাই হয়নি। ফলে একসঙ্গে নাচের তালিম নেওয়ার সম্ভাবনাও শূন্য। তারপরও তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণে ধুমসে মিনিট পাঁচেক আকাশ-বাতাস কাঁপানো নাচ দেখিয়ে দিলেন। এরপরের দৃশ্যেই নায়ক লম্বা জোব্বা ও হাতে আঁকা মুখোশ পরে ভূতের ভয় দেখালেন ভাবিকে! এতেই ক্ষান্ত হলেন না নায়ক। তাঁর গুণের যেন শেষ নেই। পরীক্ষার আগে গরিব বন্ধুদের ক্লাসনোট দিয়ে সাহায্য করেন তিনি। রাস্তাঘাটে স্টাইলিশ সানগ্লাস লাগিয়ে ভিক্ষা করা ভিক্ষুকদের দুর্ঘটনা থেকেও রক্ষা করেন। এমনকি সব ক্লাস যখন প্রেমের সুনিপুণ সংজ্ঞা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন তিনিই একমাত্র যুগোপযোগী উত্তর দিতে সমর্থ হন! এত এত গুণের বহর দেখে মনিকা আর নীড় দুজনেই মাঝরাত্রিতে যে যার গ্রামে বাস করে কল্পনায় একই সুরে একই গানের তালে একই নায়কের সঙ্গে ভরতনাট্যম নাচ শুরু করে দেন। এর পরপরই মনিকা আবেগে টলমল হয়ে প্রপোজ করে বসেন নায়ককে। মনিকার প্রস্তাবে বিচক্ষণ উত্তর দিলেন নায়ক, ‘আমার চোখের দিকে তাকালেই বুঝবে।’ মনিকা কী বুঝলেন ওপরওয়ালাই জানেন; তবে চোখের দিকে তাকিয়ে বিনা মূল্যে মিনিট পাঁচেক দৈর্ঘ্যের একটা গান যে দেখলেন, তাতে সন্দেহ নেই। মনিকা ফ্রি ফ্রি গান শুনবেন আর নীড় কি দেশের উন্নয়ন দেখে বসে থাকবে? তিনিও নেচে নিলেন কল্পনায়। দুটি গান ও উদ্দাম নৃত্যের ধাক্কা সামলাতে না–সামলাতেই আবারও আরেকটা গান শুরু হলো! এত ইমোশনাল গান দেখতে দেখতে আমিও ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলছিলাম প্রায়। এবং উপলব্ধি করলাম, দুই নায়িকার জীবনের লক্ষ্য একটাই—আরিয়ানকে চাই। শরীরের সব রক্ত দিয়ে হলেও আরিয়ানকে চাই তাঁদের। আর সেটা বুঝে ওঠার পরপরই দেখা গেল, দুই নায়িকার পরিবার একই দিনে একই সময়ে টমটমে চড়ে, ব্যান্ড পার্টি বাজনার তালে তালে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেল আরিয়ানের বাসায়। আর সেখানেই উন্মোচিত হলো মূল রহস্য! দুই পরিবারই আরিয়ানের বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পেছনে সরাসরি দায়ী! এবং তখনই সুন্দর সমাধান! দুই নায়িকার বাবা ও দুই ভাই নিজেদের পেটে জং ধরা তরবারি ঢুকিয়ে আরিয়ানকে শেষ জবান দিয়ে গেল, ‘আমার মেয়ে/বোনকে সুখে রেখো!’ কী কপাল রে ভাই! আরিয়ান দুই হাতে দুজনকে নিয়ে হাসিমুখে হাঁটতে লাগল। আর পেছনে রেখে এল বিশাল এক পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ! সিনেমা শেষে মনে হলো, এই সিনেমাটা কেন অস্কারে গেল না!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উতলা মনের জ্বালা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now