বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিরিবিলি পরিবেশে মোমবাতির আলোয় চারিদিক মোহিত করে রেখেছে। এখনকার সময় এটা হাস্যকর ব্যাপার কিন্তু আমি ও আমার স্ত্রী খুব উপভোগ করছি।
আজ একটা বিশেষ দিন আমাদের জন্য। আমার স্ত্রী অনুর ৫০ তম জন্মদিন আজ।
এই’তো কিছুদিন আগে অনু আমায় বলেছিলো ১৭টা লাল পদ্ম নিয়ে আসার জন্য, কনকনে মাঘের শীতেও অনেক সময় আমার কাছে বায়না ধরতো আইস্ক্রিম খাওয়ার জন্য। আর আজ অনু নাকি অর্ধশত বছরে পা রেখেছে। মাঝে মাঝে মনেহয় প্রত্যেক ঘন্টা সেকেন্ডের ন্যায় অতিক্রম করছে। সময়ের সাথে তালমিলিয়ে সভ্যতা অনেক আগে পৌঁছে গেছে। কিন্তু অনুর ছেলে-মানুষি ঠিক আগের মতো রয়েছে। অনু দুই বছর আগে আমায় বলেছিলো,
.
--মৃদুল।
--হ্যা, বলো।
--গ্রামের বাড়িতে আমাদের আবাদি জমি কতটুকু আছে?
--সাত আট বিঘে হবে।
--সব জমি কি একত্রে?
--সব একত্রে না, তবে ৩ বিঘে একত্রে আছে। বাকি সব আলাদা আলাদা জমি।
--বর্ষার সময়’কি ঐসব জমিতে পানি থাকে?
--হ্যা। আচ্ছা হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
--আমি ভাব.........।
--এই এই অফ যাও। নিশ্চয় আবার কোন আজগুবি ভাবনা তোমার মাথায় আসছে। ( অনুর মুখে হাত দিয়ে কথা আটকানোর চেষ্টা করছি)
--আরে শুনবে’তো আগে।
--আমার শুনতে হবে না। ক’দিন আগেও তোমার উদ্ভট ভাবনা আমার নয় হাজার টাকা ক্ষতি করেছে।
--প্লিজ, শুনো আগে।
--আচ্ছা বলো, তবে তোমার ভাবনার পেছনে আমি এক টাকাও খরচ করতে পারব না।
--যান্ত্রিক শহরে থাকতে থাকতে আমরাও কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে গেছি। চলোনা আমরা গ্রামে চলে যাই।
--সমস্যা না। গ্রামে গেলে আমারও একটু খরচ বাঁচবে।
--হ্যা, সেটাই। তবে...
--তবে! কি?
--আমি চাইছিলাম আমাদের ঐ আবাদি তিন বিঘে জমিতে একটা বাংলো তৈরী করতে। আমরা ওখানে থাকব।
--কি! ঐ জমিতে বাংলো? মাথা খারাপ হয়েছে তোমার? হাওরের মধ্যে বাংলো তৈরী করা এটা জুকস হয়ে গেলো না?
--প্লিজ প্লিজ। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে কোন এক হাওরের মধ্যে আমাদের একটা বাড়ি হবে। আশেপাশের পরিবেশ থাকবে নিস্তব্দ, সারাদিন রোদের কঠোর অত্যাচারের পর সন্ধ্যায় আমরা দুজন শীতল হাওয়া গায়ে মাখব। পূর্নিমা রাতে ছাদে বসে আমরা দুজন জোৎসনা বিলাস করব। বাংলো’র চারপাশে কোন ধরনের গাছ থাকবে না। গাছ থাকলে চারদিক থেকে আকাশ দেখতে অসুবিদা হয়। তবে বাড়ির সামনে একটা শিল কড়ইয়ের গাছ থাকবে। তুমিতো জানো শিল কড়ইয়ের ছোট ছোট পাতা ছিড়তে আমার ভালো লাগে।
--এই যে ম্যাম অফ যাও। যা স্বপ্নেও সম্ভব না তা উনি বাস্তবে করতে চাইছেন।
--আমি এতো কিছু বুঝি না। আমি যা বলেছি তা চাই।
.
.
এখন আমরা বসে আছি হাওরের মধ্যে সেই বাংলো বাড়িতে। যেটা দুই বছর আগে অনু বায়না ধরেছিলো। কিছুদিন হলো বাংলোর তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে। আজই প্রথম এসেছি অনুকে নিয়ে এখানে। আজ আসার কারন হলো আজ অনুর জন্মদিন। অনু জানতো না যে, আমি এখানে বাংলো বাড়ি তৈরী করেছি। অনুকে স্প্রাইজ দেওয়ার জন্য আমার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। এখানে অনুর চোখ বেঁধে নিয়ে এসেছি। বাংলোতে এসে চোখ খোলে দেওয়ার পর অনুর চেহারা ছিলো দেখার মতো, হঠাৎ যেন সে আকাশ থেকে পড়েছে এই ভাব ভঙ্গি।
মোমবাতির আলোয় অনুকে অনেক মায়াবি লাগছে। অনুর চোখের কোনের অশ্রু বিন্দু তার সুন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমর এই ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে অনু হঠাৎ বলে উঠলো,..
--উজবুক একটা।
-- (অনুনয়ের হাসি )
-- এতো অভাক করার কি আছে? আগে বললেই তো পারতে।
--আগে বললে তোমার এই আস্কমিক সুন্দর্য থেকে আমি বঞ্চিত হতাম।
--তাই বলে এতো বড় স্প্রাইজ।
--হু।
--আচ্ছা শিল কড়ইয়ের গাছ কোথায়?
--চারা কেনা হয়ে গেছে। আগামিকাল গাছ লাগাবো।
-- হুম।
--অনু।
--কি?
--শুভ জন্মদিন।
--ধন্যবাদ।
--অনু।
--আবার কি হলো।
--ভালবাসি।
--গান শুনতে ইচ্ছে করছে।
--বিদুতের কোন ব্যবস্তা নেই। আগামি বিশ বছরে হবে বলেও মনেহয় না।
.
হঠাৎ অনুর গুন গুন কণ্ঠে আমার কানে আসলো,
.
পুরানো সেই দিনের কথা,
পুরানো সেই দিনের কথা
আয় আরেকটি বার আয়রে সখা
প্রানের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব
প্রান জুঁড়াবে তাই।
পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি’রে আয়
অসেই চোখের দেখা প্রানের কথা যেমনি ভুলা যায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now