বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"উকুনের আত্মকাহিনী"
-------------------------
*** বাক্সবন্ধী শরীফ ***
‘কেমন আছ??’ মোবাইলের স্কিনে ভেসে উঠল। নেওয়াজ নাম দেখে রিপ্লাই দেওয়ার ইচ্ছে বাদ দিল।
হাই...
হ্যালো...
‘ কি হল?? আচ্ছা কথা বলার ইচ্ছা নাও থাকতে পারে কিন্তু অন্তত পক্ষে কেমন আছ সেটার উত্তর দেওয়া যায় না?? শত্রুও জিজ্ঞেস করলে মানুষ এর উত্তর দেয়। ”
পর পর অনেক গুলো মেসেজ ভেসে উঠল। এত গুলো মেসেজ দেখে নেওয়াজ কে রিপ্লাই দিতেই হল।
“ভাল, আপনি??” ভদ্রতা রক্ষার জন্য যতটুকু লেখা যায় ঠিক ততটুকুই লিখল।
“খুবই ভাল আছি। ফুর্তিতে আছি।” অচলার চটপট জবাব।
“হুম। ভালো।” তুই ফুর্তিতে থাক আর জাহান্নামে থাক আমার কি এসে গেল মনে মনে বলতে থাকে নেওয়াজ।
“ভালো সেটা জানি। কাল আপনার সময় হবে ভার্সিটিতে?”
“কেন??” নেওয়াজের ভুরু কুচকে উঠে।
“দেখা করতে চাইছিলাম আপনার মত বিখ্যাত মানুষের সাথে।”
“আমার একটানা ক্লাস।সরি। আর খোচা দিয়ে কথা না বলে কি থাকতে পারা যায় না?? এটা কি আপনার জন্মগত অভ্যাস না ট্রেনিং নিছেন।”
“সরি ফর দ্যাট। একটার সময় আপনি ফ্রি আছেন” অচলার উত্তর।
‘এসময় আমার ক্লাস আছে বললাম না।’
অচলা নেওয়াজের ক্লাসের রুটিনের একটা স্কিন শট পাঠিয়ে দেয়।
নেওয়াজ হাসির একটা ইমো দিয়ে বলে, ‘অনেক চালাক হয়ে গেছ। অইসময় আমার একস্ট্রা ক্লাস আছে।’
‘সেমিস্টারের শুরুতেই একস্ট্রা ক্লাস।’ সাথে অনেকগুলো জিভ বের করা ইমো।
নেওয়াজ রিপ্লাই দেওয়া বন্ধ করে দিল।
‘যাইহোক আপনি ইগনোর করলেও কিছু করার নাই। আমি ১টার সময় আপনাকে কল দিব। অন্যথায় আপনার Department এর সামনে প্লেকার্ড ঝুলিয়ে বসে থাকব। শুভ রাত্রি।’
মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল নেওয়াজের। এত দিন পর হঠাৎ করে এই আলগা পিরিতের রহস্য কি আল্লাহ জানে।সিদ্ধান্ত নিল,কল দিলে ধরবে না।
ক্লাসের চাপে রাতের ঘটনা ভুলেই গিয়েছিল। তার উপর নিখিল স্যারের টানা দুটি ক্লাস। সিগারেট না খেলেই নয়।তানজিমের জন্য অপেক্ষা করছিল লিফটের সামনে। শালা নিগা এতক্ষণ কি করে??
মোবাইল বের করল সময় দেখার জন্য। অচলার কল। রিসিভ না করায় কেটে যায়। দেখে ১০ টা মিসড কল।সাথে মেসেজ। ও ৩ তলাতে অপেক্ষা করছে।করুক অপেক্ষা। মরুকগে।
কল আসতেই থাকে। নিগা ব্যাপারটা দেখে বলে, “কি ব্যপার মোবাইলে কল আসছে , রিসিভ করছ না কেন?? কোন সমস্যা??”
নেওয়াজের এই সময় মনে হল, এতবার কল করছে যখন কোন সমস্যা নাকি। তানজিমকে চলে যেতে বলে কল রিসিভ করল।
‘যাক বাবা, শেষ পর্যন্ত রিসিভ করলে।আমি ভাবলাম, আজ বোধহয় প্লেকার্ড ঝুলাতেই হবে। আমি হাওয়া ভবনে আছি, কস্ট করে চলে আসুন।’
“আপনার সাহসের দৌড় কতটুকু জানা আছে।আমি পারব না আসতে।” নিরাসক্ত কন্ঠে উত্তর নেওয়াজের।
“প্লিজ একবার শুধু আস ৫ মিনিটের জন্য।”
“হাওয়া ভবনে যেতে পারব না। লাইব্রেরির সামনে আস।”
“ঠিক আছে ।আসতেছি।”
ইচ্ছে করেই নেওয়াজ দেরি করে গেল। ভিলেন মার্কা হাসি ফুটে উঠল ওর মুখে। বিষয়টা ভাল করেই লক্ষ করল অচলা।
পাশে যেতেই বলল,
“ একটা বিষয় জানেন আপনি, আপনার এই ভিলেন মার্কা হাসিতে সবচেয়ে হ্যান্ডসাম লাগে।” বলেই খিল খিল করে হেসে উঠে।
মুহুর্তেই মুখটা কালো হয়ে যায় মিস্টার নেওয়াজের। সে জানে তার এই হাসিতে বাংলা সিনেমার টেলিসামাদের মত লাগে, এই কথাটি আবার অচলাই তাকে বলেছে।এই মেয়েটাকে কিছুতেই বুঝে ঊঠতে পারে না।
রাগী কন্ঠে বলে, “কিসের জন্য ডেকেছেন?? আমি হ্যাণ্ডসাম কিনা সেটা জানাতে নিশ্চয়ই ডাকেন নি??”
‘প্রশংসা করা পাপ জানতাম না।’
“পাপ-পূণ্যের ক্ষেতা পুড়ি।আমার প্রচন্ড চা -সিগারেটের এর তৃঞ্চা পেয়েছে। কথা বলতে হলে বাইরে চল। আর হা আমার কাছে কিন্তু টাকা নেই। মানিব্যাগ বাসায় ফেলে আসছি। তানজিম খাওয়াত, কিন্তু এখন তো এখানে আসায় ওকে পাব না।”
“চা খাওয়াতে সমস্যা নেই কিন্তু সিগারেট পারব না। জেনে শোনে আমি মানুষকে মারতে পারি না।”
“তাহলে আপনি থাকেন । দুনিয়ার মানুষ্কে রক্ষা করেন। আমি যাই।” বলেই নেওয়াজ যাবার জন্য পা বাড়াল।
“এই আপনি যাচ্ছেন কোথায়?? ঠিক আছে একদিন না হয় ছাড় দিলাম। কোথায় যাবে??”
“সমকালের সামনে চা এর দোকান আছে। ওখানে চল।”
যেতে যেতে অচলা বলল, “আপনি না অনেক পালটে গেছেন।”
‘কেন?? আমার চেহারা কি বান্দরের মত হয়ে গেছে??’ উদাস কন্ঠে জিজ্ঞেস করল নেওয়াজ।
হি হি হি... হাসি আটকাতে পারল না অচলা। অচলার দিকে দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল। মেয়েটির হাসির মাঝে কি যেন একটা আছে বুকের মধ্যে ধপ করে লাগে।
“চেহারা না আমি আপনার আচরনের কথা বলছি।” অনেক কস্টে হাসি আটকে উত্তর দিল অচলা।
“মানুষই তো পালটায়। তাই না?? আহসানুল্লাহর বিল্ডিং তো সেই প্রথম দিন যেমন ছিল তেমন ই আছে। কিন্তু ভেতরের মানুষগুলো ক্ষণে ক্ষণে রুপ পাল্টায়।আমি নিশ্চয়ই মানুষের কাতার ভুক্ত ।তাই না??”
এইসময় টং দোকানের মামা চা দিল।
“মামা একটা বেনসন দিও।” সিগারেট ধরিয়ে অনেক বড় একটা টান দিয়ে ঠিক অচলার মুখের সামনে ধোয়া ছেড়ে নেওয়াজের খুব তৃপ্তি লাগল।
“ছি ছি, কেমনে যে এইটা খাও।”
“একটা টান দিয়ে দেখ কেমনে খাই। যাইহোক তোমার কি খবর? কিসের জন্য ডাকলা??” সিগারেটের ধোয়া মেজাজ ঠান্ডা করল নেওয়াজের।
“একটা জিনিস দেব বলে।”
“জিনিস?? তোমার কাছে আবার কি জিনিস পাই আমি??” অবাক হয়ে বলল নেওয়াজ।
“একটা গিফট। গতদিন শপিং এ গিয়েছিলাম। পছন্দ লাগল, কিন্তু কার জন্য কিনব ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরে তোমার কথা মনে পড়ল। তাই কিনে ফেললাম।”
“আমি তো কোন গিফট নিব না।”
“কেন??”
“আমি ডিসিশন নিছি কার কাছ থেকে গিফট নেব ও না, দেব ও না।”
“কখন নিলা এই ডিসিশন??”
“এই কিছুক্ষন আগে।”
“ডিসিশন পাল্টাবে কখন??”
“জানি না । এটা তো আর বাংলাদেশের পেনাল কোডের আইন না, যে পাল্টাতে সংসদ বসা লাগবে।আর তোমার কাছ থেকে গিফট নিব কিসের জন্য?? তুমি আমার কে হও??” নেওয়াজ কিছুটা রুঢ় কন্ঠে বলল।
এই কথা শোনেই অচলার চোখে প্লাবনের সংকেত ভেজে উড়ে। অনেক কস্টে নিজেকে সামলিয়ে ভারাকান্ত কন্ঠে বলে,
“আমি তোমার কেউ না?? এটলিস্ট বন্ধু ও না?”
“না। কেউ না। ইভেন বন্ধুত্বের মর্যাদাও তুমি রাখনি” নেওয়াজের কস্ট হচ্ছিল বলতে, তবু বলে ফেলল।
“ওই ঘটনার জন্য আমি সরি বলেছি তো। আর কি করব?? পায়ে ধরে মাফ চাইতে হবে?? তোমার পা দাও। মাফ চাই” রুদ্ধ কন্ঠে বলে অচলা তার চোখ মুছল।
“মাফ চাইতে হবে না”
“অকে ।তুমি থাক।নেওয়া লাগবে না গিফট” বলেই হন হন করে টং থেকে বের হয়ে হাটা শুরু করল অচলা।নেওয়াজ পিছন থেকে চেচিয়ে ঊঠল,“আরে বিল দিয়ে যাও”
অচলা গ্রাহ্যই করল না।
মানিব্যাগ বের করে কিছু টাকা দোকান্দারকে দিয়ে বলল, ‘মামা এই গুলা রাখ । পরে হিসেব করে নিয়ে যাব’ অনেকটা পথ দৌড়ে অচলার পথ আগলে দাড়াল।
“পথ ছাড়ুন”
“আমাকে ডেকে এনে আপনি চলে যাবেন তা হয় না। আচ্ছা যাও, তোমার দোষ ক্ষমার জন্য বিবেচনা করা হবে। আর হা চোখ মুছ,তোমাকে সরি আপনাকে কাদলে মক্ষীরানির মত লাগে”
“লাগুক মক্ষীরানি। তাতে আপনার কি??”
“আমার কিছুই না। কিন্রু আমি সুন্দরের পুজারি, মক্ষীরানির না”
“দোকানের বিল দিছ?? অচলা প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেয়”
“জি। কিপটে।কি সুন্দর আমাকে ফেলে রেখে চলে আসলা”
“আমি জানি তোমার কাছে টাকা আছে”
“সবজান্তা আসছেন। এখন টাকা দাও। আরেকটা সিগারেট লাগবে। অইটা ফেলে দিছি”
“টাকা দিব না। অইতা পুরোটাই খাইওছ আমি দেখছি”
“আমি কিন্তু সাদা ফ্ল্যাগ উড়াইছি শান্তিচুক্তির জন্য। এখন টাকা না দিলে কাল ফ্ল্যাগ বের করতে সময় লাগবে না” চটফট উত্তর নেওয়াজের।
“অকে,বাবা । এই নাও টাকা”
“নতুন আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে নেওয়াজ বলল, ধন্যবাদ”
“আর কিছুর জন্য ধন্যবাদ দিলেও মানতাম, কিন্তু সিগারেতের জন্য ধন্যবাদের প্র্যোজন নেই। আচ্ছা এই নাও তোমার গিফট”
“তোমাকে ডিসিশিন জানামাল তো। গিফট নেওয়া নিষেধ আছে”
“একটু আগে বলছ কিন্তু সাদা পতাকা উড়াইছ। এখন আবার নিষেধাজ্ঞা থাকে কেমন করে??”
“অইটা তো গিফটের জন্য বলি নাই। গিফট নিতে পারি এক শর্তে”
“কি শর্ত?”
“তোমাকে সিগারেট খেতে হবে । তবে বুঝা যাবে তুমি কতটুকু ডেস্পারেট। তোমার সব দোষ মাফ”
“মরলে ও না”
“তাহলে আর কি। আমি চললাম”
“আচ্ছা দাড়াও। অন্য কোন শর্ত দেওয়া যায় না”
“না, এটা হল পারফেক্ট পানিস্মেন্ট তোমার জন্য।তোমার চোখে আমার সবচেয়ে খারাপ দিক হল এটাই। তাই তোমাকে এই শর্তই পূরন করতে হবে” বলেই নেওয়াজ তার ভিলেন মার্কা হাসি দিল।
অনেক কস্টে চোখ বন্ধ করে এক টান দিয়েই কাশতে থাকে অচলা আর নেওয়াজ হা হা করে হাসতে থাকে। রাস্তার লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। একটা মেয়ে সিগারেট টানছে সেটা অবাক হবার মতই ব্যাপার।
সিগারেট ফিরিয়ে দিতে গেলে নেওয়াজ নেয় না, বলে “আরেকটা টান দাও”। অনেক কস্টে কোন ভাবে টান দিয়ে সিগারেট দূরে ছুড়ে মারে।
“আরে করলা কি?? ১১ টাকা জলে ভেসে গেল”
“এই ছেলে শোন ,আর কোনদিন যদি দেখি আমার সামনে সিগারেট খেতে গলা টিপে মেরে ফেলব। কেমনে খায় মানুষ এই গুলো টাকা খরচ করে।”
“আপনার হুকুম শিরোধার্য ম্যাদাম। গিফটে কি আছে সেটা কি বলা
যাবে??”
“না, সেটা সারপ্রাইজ”
“অকে, নো প্রবলেম।তোমার ক্লাস আছে??”
“না”
“তাহলে চল টিএসসিতে যাই।পুনরাস্তাপিত সম্পর্ক ডাকসুর ১ টাকা দামের চা দিয়ে উদযাপন করি”
“চল, এই দাঁড়াও” বলে নেওয়াজের এলোমেলো চুল গুলো ঠিক করে দেয় অচলা। ঠিক এরই সাথে বিচ্ছেদ ঘটে আমার দীর্ঘ তিন বছরের আবাস স্থলের।
ও আমার তো পরিচয় দেওয়া হয়নি। আমি নেওয়াজের মাথায় থাকা সামান্য একটি উকুন। অচলার প্রতি আমার রাগ হয় না, চুল থেকে ফেলে দেওয়ায় বরং ভালই হইছে। এদের একই কাহিনি দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলাম। বছরের ৬ মাস এদের খুবই ভাল যায়। তারপরই কোন একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা বাধে, কেউ কার ও মুখ দেখে না। আবার কিছুদিন পর উপরের ঘটনার নতুন মোড়কে পুন্রাবৃত্তি ঘটে। আবার ভাল। আবার খারাপ। ডিসগাস্টিং।
মাঝে মধ্যে সুইসাইড করতে ইচ্ছে করত। উকুন তো পারিনা। ফেলে দিয়ে ভালই করছে। তবে অচলা মেয়েটাকে মিস করব। নেওয়াজের মাথায় ঘুরে ঘুরে অনেক মেয়েকেই দেখেছি। কিন্তু অচলার মত এত রুপবতী মেয়ে দেখিনি। বিশেষ করে অর বাম গালের তিলটাকে । তিলটা ঠিক আমার সাইজের ছিল।
আমার মৃত্য সন্নিকটে। একটা গোবদা পোকা আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আপনারা ভাল থাকবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now