বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুমল তুফান।। ২য় অংশ

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X হুবাব আবার তার পরিকল্পনার কথা বলতে শুরু করলেন: ‘হ্যাঁ এভাবে, এভাবে আমরা আমাদের কূপ থেকে পানি তুলে পান করবো আর যুদ্ধ করবো। আর অপর দিকে অন্য সকল কূপের পানি ঘোলা হবার কারণে শত্রুরা তা ব্যবহার করতে পারবে ন। যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে ছুটে যাবে পানির কাছে, তখন তারা পান করা মত কোনো পানিই কাছে পাবে না। পানি না পেয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়বে। ক্রমান্বয়ে তাবৎ ক্লান্তি, হতাশা আর বিষণ্ণতায় তারা আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে। আর এভাবেই এক সময় তারা যুদ্ধের ময়দান থেকে পিঠটান দিতে বাধ্যহবে।’ হুবাবের যুক্তিপূরণ পরামর্শ। সবাই তাকিয়ে আছেন মহান সেনাপতি রাসূলের (সা) দিকে। তিনিও ভাবছেন। ভাবছেন বিষয়টি নিয়ে। আর কোনো সংশয় নয়। এবার রাসূল (সা) হুবাবকে ডেকে বললেন, ‘তোমার পরামর্শ ও মতটিই সঠিক। চলো, তেমনি একটি জায়গায় শিবির স্থাপন করি।’ রাসুল (সা) তাঁর সমগ্র বাহিনী নিয়ে এবার বদরের কুয়ার ধারে শিবির স্থাপন করলেন। বদর! বদর যুদ্ধে হুবাবের পরামর্শ গ্রহণ করেছিলেন দয়ার নবীজী। শুধু বদর নয়, এমনি আরও অনেকবার তার সুচিন্তিত মতামত গৃহীত হয়েছিল রাসূলের (সা) কাছে। মদীনার ইহুদি গোত্র বনু কুরায়জা ও বনী নাদীরের বিষয়ে সাহাবীদের কাছে রাসূল (সা) পরামর্শ চাইলেন। হুবাব বলেন, ‘হে রাসুল! আমরা তাদের ঘর-বাড়ি ঘেরাও করে তাদের যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলবৈা।’ দয়ার নবীজী (সা) হুবাবের পরামর্শ গ্রহণ করলেন। যুদ্ধের ময়দানেও হুবাব ছিলেন বিচক্ষণ এবং সাহসী। ছিলেন তিনি বারুদস্ফুলিঙ্গ। বদরের প্রান্তর। যুদ্ধ চলছে ভীষণ বেগে। হুবাব দেখলেন আবু কায়সকে। নরাধম আবু কায়স! যে মক্কায় দয়ার নবীকে (সা) নিদারুণ কষ্ট দিয়েছিল। তার উৎপীড়ন আর অত্যাচারের মাত্র ছাড়িয়ে গিয়েছিল যে কোনো হিংস্র পশুকেও। সেই আবু কায়স এসেছে যুদ্ধ করতে শত্রুপক্ষে। হুবাব দেখলেন তাকে। তারপর ছুটে গেলেন তার দিকে। এবং তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিলেন হুবাব। এরপর নাগালে পেয়ে গেলেন তিনি আলীর (রা) উৎপীড়ক উমাইয়্যা ইবন খালফকে। তিন তরবারির আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে ফেললৈন তার একটি উরু। এভাবে তিনি আম্মার ইবনে ইয়াসিরের সহযোগিতায় হত্যঅ করলেন উমাইয়্যার চেলে আলীকেও। আর বন্দী করলেন খাদ ইবন আল আলামকে। উহুদ যুদ্ধ! ও প্রান্ত থেকে ধেয়ে আসছে কুরাইশ বাহিনী। ভীষণ শোরগোল পড়ে গেল গোটা মদীনায়। মদীনার অনতিদূরে জুলহুলায়দায় কুরাইশ বাহিনী পৌঁছলে, রাসুল (সা) দু’জন গুপ্তচরকে পাঠালেন সেখানে। তাদের খবরাখবর নেবার জন্য। তাদের পেছনে আবার পাঠালেন হুবাবকেও। হুবাব সেখানে গিযে তাদের সৈন্যসংখ্যা, প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে রাসূলকে প্রদান করেন। উহুদ যুদ্ধের একটি ভয়াবহ পর্যায়ে, যখন মুসলিম বাহিনী বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, তখন যে পনেরজন সাহাবী নিজেদেরকে ঢালস্বরূপ ব্যবহার করে দয়ার নবীকে (সা) ঘিরে রাখেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুঃসাহসী হযরত হুবাব। শুধু যুদ্ধের ময়দানেই নয়। হুবাব ঢালস্বরূপ কাজ করেছেন সারাটি জীবন ইসলামের জন্য। তিনি নিজেকে, নিজের যাবতীয় যোগ্যতাকে, নিজের তাবৎ সামর্থকে কুরবানী করে দিয়েচিলেন আল্লাহর পথে। রাসূলকে (সা) ভালোবাসার সর্বোচ্চ নজরানা পেশ করতে তিনি চিলেন কুণ্ঠাহীন। হুবাব ছিলেন যেমনি সাহসী যোদ্ধা আবার তেমনি ছিলেন একজন কবি ও সুবক্তা। নানাবিধ যোগ্যতায় তিনি চিলেন পূর্ণ। ছিলেন উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। আর ত্যাগ, কুরবানী ও সাহসের দিক থেকে তিনি ছিলেন এক তুমুল তুফান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুমল তুফান।। ২য় অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now