বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তুমি আর তোমাকে ভালোবাসার গল্প।

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X এখন ও আকাশে মেঘ ডেকে বৃষ্টি নামলে নীলার করা সেই কাজগুলোর কথা মনে পড়ে যায় অয়নের। নীলা বারান্দার গ্রিল ধরে বৃষ্টি দেখতে খুব পছন্দ করত। প্রায় ই দেখা যেতো, গ্রিলের মধ্যে হাত দিয়ে নীলা বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলা করছে। অয়ন সুযোগ পেলেই দেখতো ওকে। মুখোমুখি বাসা হওয়ায় নীলার বারান্দাটা খুব ভালো করেই দেখা যেত অয়নের জানালা থেকে। প্রথম প্রথম অয়নকে দেখলেই নীলা ঘরের ভিতর চলে যেত। কিন্তু একদিন অয়ন দেখল, তাকে দেখেও নীলা বারান্দা থেকে চলে গেল না। আপন মনে বৃষ্টির পানি নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে থাকলো। সে দিন অয়ন আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করছিলো, যেন বৃষ্টি না থামে। তারপর থেকে প্রায়ই চলতে থাকলো দুজনের চার চোখের মিলনের খেলা। মাঝে মাঝে এক চিলতে হাসিও দিত নীলা অয়নকে দেখে। এক রাতের কথা। রাত তখন একটা বা দেড়টা হবে। অয়ন পড়ছিলো। হঠাৎ সে দেখে, তার ঘরের মাঝে লাল লাল কিছু আলো বিন্দু খেলা করছে। প্রথমে ভয় পেলেও পরে বুঝলো আলো টা আসছে সামনের বারান্দা থেকে। দৌড়ে গিয়ে দাড়ালো অয়ন, জানালার কাছে। গিয়ে দেখে, নীলা দাড়িয়ে আছে বাড়ান্দায়। আজ আর কোন লুকোচুরি নয়। সরাসরি তাকিয়ে থাকলো অয়ন নীলার চোখের দিকে। নীলা ও ঠিক একই ভাবে তাকিয়ে ছিল অয়নের দিকে। কোন কথা নাই, কেবল দুই জোড়া চোখ একে ওপরের দিকে তাকিয়ে আছে। এক সময় নীলা কথা বলে উঠল, - ঘুমিয়ে পড়, বেশি রাত জাগতে নেই। ব্যস এইটুকুই। তারপর নীলা ঘরের ভিতর চলে যায়। একটু পর লাইট বন্ধ হয়ে যায় ওর ঘরে। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন। কোন কথা নাই, কেবল চেয়ে থাকে একে ওপরের দিকে। তারপর একদিন ঘটল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। যার জন্য অয়ন প্রস্তুত ছিল না মোটেই। সেদিন সকালবেলা কলেজ যাচ্ছিল অয়ন। কলেজের সামনে নেমে রিক্সা ভাড়া দেওয়ার জন্য টাকা বের করছে এমন সময় অয়নের চোখ গেল কলেজের পাশের বেলী ফুলের গাছটার নিচে। কলেজ ড্রেসপরা একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে জড়সড় হয়ে। মেয়েটার দিকে ভাল করে তাকাতেই ..... অয়ন নিজে নিজে বলে উঠল, 'ওরে সাবাশ'! এতো..... নীলা! মানে অয়নের সামনের বাড়ির মেয়েটা। ও এখানে ?? মনের মধ্যে হাজার টা প্রশ্ন এক সাথে উকি দিলো অয়নের। ও এখানে কি করছে? কি চায়? এখানে কি কারো জন্য দাড়িয়ে আছে সে? আমার সাথে নাকি? এরকম হাজার টা প্রশ্ন । যার কোনটারই উত্তর অয়নের জানা নাই। খানিকটা দুরুদুরু হৃদয় আর কাঁপা কাঁপা হাত-পা নিয়ে ওর দিকে এগিয়ে গেল অয়ন। মেয়ে সেই একই ভাবে নির্বাক চোখ নিয়ে তাকিয়ে রইল অয়নের দিকে। নীলার সামনে গিয়ে বলল, অয়নঃ তুমি এখানে? নীলা কিছু বলল না। বইয়ের ভিতর থেকে একটা খাম বের করে অয়নের দিকে এগিয়ে দিল। অয়নের মনে কি হচ্ছিল তা সে ঠিক বুঝতে পারছে না। কিন্তু যা হচ্ছিল তা অয়ন নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারছিল না কিছুতেই। তাই খানিক টা বোকার মতই প্রশ্ন করে বসল, অয়নঃ কি এটা? আমার জন্য? প্রশ্ন করার পর অয়নের মনে হল কি গাধা আমি! কি বলব আর কি বললাম? নীলা খানিকটা গম্ভীর মুখ নিয়ে বলল, নীলাঃ এপ্লিকেশন লেটার। তোমার প্রাইমারি স্কুলের হেড স্যারের জন্য। গাধা কোথাকার! বোঝনা কি জিনিস এটা? এটা বলেই নীলা পেছন ঘুরে হাটা ধরল। অয়নের একবার মনে হল ডাক দেয়া উচিত। কিন্তু দিল না। একটু পর দেখা গেল নীলা নিজেই ঘুরে তাকাল। একবার। পরে আরো একবার। নীলার যাওয়া দেখতে দেখতেই খাম টা খুলল অয়ন। একটা ভাঁজ করা কাগজ। পুরো কাগজে কেবল একটা বাক্যই লেখা । "আমি তোমাকে ভালবাসি" ব্যস আর কিছু না । অবশ্য আর কিছুর দরকারও ছিল না। চিঠি থেকে মুখ তুলে নীলার দিকে তাকাল অয়ন। ততক্ষনে নীলা অনেকটুকু পথ চলে গেছে। খুব ইচ্ছা করছিল অয়নের, দৌড়ে গিয়ে নীলাকে বলতে "আমিও তোমাকে ভালবাসি নীলা"। কিন্তু কলেজের ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার সময় হওয়ায় আর যাওয়া হল না অয়নের। অন্য রকম এক ভাল লাগা নিয়ে কলেজে ক্লাস করতে ঢুকেছে অয়ন। মন তখন অসম্ভব ভাল। কিন্তু মন বেশিক্ষন ভাল থাকে নি সেদিন। প্রথম পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই বাসা থেকে খবর আসে যে, অয়নের বাবা গাড়িতে করে অফিস যাওয়ার সময় এক্সিডেন্ট করেছে। কলেজ থেকে বের হয়ে হাসপাতালে চলে যায় অয়ন। তারপর কিভাবে দিন চলে গেল টেরই পেল না অয়ন। তার বাবা একটু সুস্থ হলে চলে আসে তারা বাসায়। তাও প্রায় ৭/৮ দিন কেটে গেছে। বাসায় এসে প্রথমেই নীলার কথা মনে পড়ল অয়নের। অনেক্ষন জানালার কাছে দাড়িয়ে থাকল সে। বিভিন্ন ভাবে জানান দেওয়ার চেষ্টা করল, যে আমি এসেছি। কিন্তু নীলার কোন খবর নাই। অয়ন ভাবল, হয়তো রাতের বেলায় আসবে। কিন্তু রাতের বেলাও সে এল না। তারপর দিনও না। এমন কি তারপর দিনও না। তারপর ই সেই কষ্টে ভরা খবরটা পেল নীলার। ৫ দিন আগেই নাকি নীলারা বাসা ছেড়ে চলে গেছে। ওর বাবার হঠাৎ করে বদলির নির্দেশ আসায় নাকি এমন টা করতে হয়েছে। অয়ন রুমে বসে ভাবছে, হায়রে কপাল আমার! আমার প্রেম কাহিনী শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেল। কিন্তু না। শেষ হয় নি। অয়ন তার জুতার আলনাটার পাশে দেখল একটা মোচড়ানো কাগজ। সে কাগজটা খুলে দেখে, সেখানে লিখা আছে একটা ফোন নাম্বার। নীলা চলে গেছে, কিন্তু যাওয়ার আগে দিয়ে গেছে কিভাবে যোগাযোগ করবে তার ঠিকানা। সেদিনই বিকেলে কল দিল অয়ন তার বান্ধবিকে দিয়ে, নীলার দেয়া নাম্বারে। রিসিভ করেছে নীলা। - কে বলছেন? - আপনি কি নীলা? - জ্বী হ্যা। - নিন, অয়নের সাথে কথা বলুন। অয়নের হ্যালো শব্দটা শুনে নীলার চোখে পানি চলে এল। নিজেকে কোনোভাবে সামলে নিয়ে প্রায় ১০/১৫ মিনিট কথা বলল দুজনে। কথা বলা টা বিপদজনক মনে করে নীলা আর অয়ন ঠিক করল, কোথাও বেড়াতে যাবে। দিন এবং জায়গা ঠিক করে ফেলল দুজনে মিলে। তারপর আসল সেই কাঙ্খিত দিন। অয়ন তাকিয়ে আছে নীলার দিকে। অয়নের মনে হল, কত দিন পর আবার ঐ মুখ খানি দেখেছে সে। সেই নির্বাক চোখ জোড়া একই ভাবে তাকিয়ে আছে অয়নের দিকে। এরপর যতক্ষন তারা এক সাথে ছিল দুজনেরই সেই চোখাচোখির খেলা চলতে থাকলো। অয়ন খেয়াল করে দেখল, সেই সেদিন কার মত নীলা জড়সড় হয়ে বসে আছে। অয়ন ভাবছে, কত কিছু বলার ছিল নীলাকে! কত কিছু জানার ছিল নীলার কাছ থেকে। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না সে। কিন্তু অয়নের স্বভাব যা। আবারও বোকার মত জানতে চাইলো নীলার কাছে, অয়নঃ তোমার কোন বয়ফ্রেন্ড নেই তো? প্রশ্নটা করেই অয়নের মনে হল, এটা কি বললাম! নীলা গম্ভীর হতে গিয়ে হেসে ফেলল। বলল, নীলাঃ বয়স বেড়েছে, বুদ্ধি বাড়েনি। অন্য কোন বয়ফ্রেন্ড থাকলে আমি দুঘন্টা ধরে এখানে তোমার পাশে বসে থাকতাম না। গাধা কোথাকার। নীলা খেয়াল করল, অয়ন মুচকি মুচকি হাসছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তুমি আর তোমাকে ভালোবাসার গল্প।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now