বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আবির মামার বাসার সামনে এসে থমকে যায়!
প্রায় ২ বছর পর মামার বাড়িতে এসেছে আবির।
২ বছর আগে ছিলো টিনের ঘর। এখন দেখছে এখানে
বিশাল বিল্ডিং।
মা অবশ্য বলেছে যে তোর মামা বাড়িঘর ঠিক
করেছে। কিন্তু টিন থেকে বিল্ডিং হবে তা তো
জানেনা।
গেইট বাড়ির ভিতর থেকে বন্ধ। কাউকে দেখাও
যায়না।
আবির কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকে তবু কাউকেই আসতে
দেখেনা।
আবির মনে মনে রাগ করে ভাবে বাড়িতে ফিরে যাই।
আবার ভাবে মা কতোদিন সাধা-সাধির পর পাঠিয়ে
দিলো... বাড়ির সামনে এসে কেমনে ফিরে যাই?
ডাকা-ডাকির অভ্যাস না থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে
ডাক দেয়... এই সুপ্তি আছিস নাকি রে?
সুপ্তি হলো আবিরের মামাতো বোন। পুরো নাম ইসমত
আরা সুপ্তি...
একটুপর গেইট খুলে উকি দেয় রত্না ভাবি। (সুপ্তির
একমাত্র ভাইয়ের বউ)
-সাহেব তাইলে বেলকুচির রাস্তা খুঁজে পাইছেন?
এই বলে হেসে ওঠে ভাবি...
-হুম। কেমন আছেন ম্যাডাম?
-ভালো আর থাকি কেমনে? দেবররাই খোঁজ-খবর
রাখেনা।
তো তুমি কেমন আছো আবির?
-রাখে আল্লাহ্ মারে কে? তা ম্যাডামকে কি ভাইয়া
দেখেনা?
-তার দেখা তো শুধু রাতে...
দিন হইলেই উদাও।
-তবে এখনো পাল্টেনি ভাইয়া?
-না রে ভাই।
আচ্ছা পরে এসব আলাপ হবে আগে ভিতরে চলো তো...
এই বলে আবিরকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকে ভাবি।
মামার রুমে নিয়ে যায় আবিরকে প্রথমে।
মামি আবিরকে দেখেই ভ্রু কুচকে বলে~আব্বাজান
তাইলে আমাদের বাসা চিনছো?
মুচকি একটা হাসি দিয়ে আবির মিষ্টির ব্যাগটা
মামির হাতে দিয়ে বলে কেমন আছেন মামি?
-ভালো আছি বাবা। তুমি ভালো তো?
-হা ভালো।
-বাড়ির সবাই কেমন আছে?
-সবাই ভালো আছে। মামা চিটাগাং থেকে ফিরে
নাই?
-না। একসপ্তাহ পর ফিরবে।
আচ্ছা পরে কথা হবে। আগে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে
আসো যাও।
ভাবি আবিরকে নিয়ে বাথরুম দেখিয়ে দেয়।
ফ্রেস হয়ে বের হয়ে ভাবিকে বলে~সুপ্তি কই? ওর রুম
কোনটা?
-ও তো কলেজে। একটুপরই আসবে।
আসো ওর রুমে।
খুব সুন্দর গোছানো রুম। কি নেই রুমের ভিতর?
পুরো রুমটা দামি জিনিষপত্র দিয়ে সাজানো।
তবে সবচে বেশি আছে দেয়ালের সাথে আবির এর
ফটো।
আবির আরো একবার অবাক হয়!
অবশ্য আবির জানে সুপ্তি ওকে কতো ভালোবাসে।
এ জন্য সুপ্তিরা মাঝে-মাঝেই যায় আবিরদের
বাড়িতে।
আর আবির এলো দুই বছর পর।
এ নিয়ে আবিরের উপড় খুব অভিমান সুপ্তির।
সুপ্তি আবিরকে খুব ভালোবাসে। আর এই বেপার ওদের
দুই পরিবার ই জানে।
এতে কারো বাধা বা অমত ও নেই।
শুধু আবির ই এখনো সুপ্তি কে বলেনি আমি তোকে
ভালোবাসি।
ভাবি বিস্কিট, চানাচুর নিয়ে ঘরে ঢোকে।
-কি দেখো সাহেব? প্রিয়তমার পাগলামি?
-আচ্ছা ভাবি ও এতোটা পাগল কেনো?
-পাগলিটা তোমাকে খুব ভালোবাসে। খুব মিস করে
তোমায়...
এই বলে ভাবি পানি আনতে যায়।
হঠাৎ ঘরে ঢুকেই দরজাটা আটকে দিয়ে ড্রেজ খুলতে
থাকে সুপ্তি।
আবির কিছু বলতে যাবে তার আগেই খুলে ফেলেছে
কিছু।
আবির ঘরে আছে তা টের ই পায়নি সুপ্তি।
ছোট টা খুলতে যাবে ওমনি চোখ যায় টেবিলের উপর।
কে যেনো বসে আছে অন্য দিকে মুখ করে।
-এই কে রে আমার ঘরে? চিৎকার দিয়ে বলে...
আবির চোখদুটো বুঝে সুপ্তির দিকে ঘুরে তাকায়।
সুপ্তি তাড়াহুড়া করে সব পড়ে নেয়। আবিরের দিকে
অবাক কন্ঠে বলে~স্যার কি ভুল করে এসেছেন নাকি?
আর ভুল করে আমার রুমেই ঢুকে গেছেন ভেজা
বিড়ালের মতো আমার সব দেখতে।
-ঐ ছেমরি তোর কি দেখলাম রে? (আবির)
-ঐ বলদা আমি রুমে ঢুকলাম তখন তোর আওয়াজ কি
খোয়ারে রাখছিলি?
শালা চোর আমার সব দেখে ফেলেছে...
এমন সময় ভাবি দরজায় টোকা দেয়।
কেরে সাহেব কি হলো? দরজা আটকে দিলেন যে?
সুপ্তি দরজা খুলে ভাবিকে জড়িয়ে ধরে আহ্লাদি
কন্ঠে বলে~ এই শয়তানটাকে ঘরে ঢুকতে দিছো
কেনো?
-কেনো কি করছে সাহেব মেমসাহেব কে?
এই মিষ্টার ফুল দেখেই ভ্রমর সেজেছো?
দিছি বিস্কিট খেতে আর তুমি মধুর সন্ধানে গেছো?
-ভাবি আমি কিচ্ছু করিনি বা দেখিনি।
-বুঝছি কি করেছো দুজন দরজা আটকে...
-এই এসব বলবে না। আমি কলেজ থেকে ফিরে ঘরে
ঢুকে সব খুলেছি। আর ঐ বদমাশ কিছু না বলে দেখেছে
সব।
এটুকুই হয়েছে। এর বেশি না।
ভাবি হাসতেছে...হা হা হা...
আবির মাথা নিচু করে মন খারাপ করে বসে আছে।
মনে হয় অপমান বোধ করেছে।
ভাবি বুঝতে পারে। একটু কড়া চোখে সুপ্তির দিকে
চেয়ে বলে~নিজে বেতাল হয়ে এসে কিছু না দেখে
বেহায়ার মতো কান্ড করেছিস। আর দোষ দিচ্ছিস
আমার সরল দেবরটাকে।
এই বলে আবিরের ঘা ঘেসে বসে ওর থুতনি ধরে
বলে~খাও তো ভাই।
ঐ কুটনির কথা বাদ দাও।
সুপ্তি আবিরের দিকে তাকায়। মনটা ভার করে আছে।
নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয় সুপ্তির। আবির এমন
ছেলে না..
যদিও মজা করে বলছি কিন্তু ও রিয়েলি ভেবে কষ্ট
পেয়েছে।
সুপ্তি এগিয়ে যায়। আবিরের পাশের টেবিলে বসে
ওর হাতের উপর হাত রাখে।
সরি...একটু মজা করতে গিয়ে বেশি করে ফেল্লাম।
আসলে কতোদিন পর এসেছো তো..
সামলাতে পারিনি। ক্ষমা করে দাও।
আবির তাকায় সুপ্তির দিকে...
ওর চোখে পানি টলমল করছে। একটু মজাতেই হেসে
ফেলে আবার একটু কষ্টেই কেঁদে ফেলে।
খুব বেশি ভালোবাসে আমাকে ও...
আবির হাতটা টান দিয়ে বলে~এতোদিন পর এসেছি
কোথায় একটু খাইয়ে দিবি তা না নাটক
সাজিয়েছিস।
সুপ্তির চোখের পানি বের হয়ে যায়... আবিরের
হাতটা শক্ত করে ধরে।
ভাবিও চোখটা মুছে বের হতে যায় ঘর থেকে।
আবির ভাবির হাতটাও ধরে... কি ম্যাডাম কই যান?
তোমরা ভালোবাসা করো। আমি আম্মার সাথে
তোমাদের খাবার রান্নায় যোগ দেই।
-এই আমরা একা খাবো নাকি? নিয়ে যাও কয়েকটা...
(সুপ্তি)
ভাবি দুইটা বিস্কিট আর চানাচুর হাতে নিয়ে
সুপ্তিকে চোখটিপ মেরে বলে~খা তোরা এখন
আরামসে... কতোদিন পর ভ্রমর এসেছে মধু খেতে।
এই বলে বের হয়ে যায় ভাবি। যাওয়ার সময় দরজার
পর্দাটা টেনে দেয়।
আবির কথা বলছে না, খাচ্ছেও না।
সুপ্তি ওর মুখে বিস্কিট দেয় আর বলে...
-আমাকে খাইয়ে দেবে না? একাই খাবে?
-খা তুই না করছে কে?
-ঠিকাছে একাই খান আপনে.. আমি যাই...
এই বলে উঠতে যায় সুপ্তি।
আবির আবার হাত ধরে টান দিয়ে কোলের উপর বসায়
সুপ্তি কে।
-কি রে একটুতেই অভিমান? এই নে খা...।
-নাও হয়েছে তো খাওয়া...এবার ছাড়ো। ভাবি এসে
আমাকে তোমার কোলে দেখলে তুমি আবার লজ্জায়
লাল হয়ে যাইবা নে।
-ছাড়বো কেনো রে? সবাই জানে তুই আমাকে
ভালোবাসিস।
আর এজন্যই তো ভাবি তোকে আমার কাছে রেখে
গেলো।
-আচ্ছা আবির... আমি তো তোমায় পাগলের মতো
ভালোবাসি এই পৃথিবীর সবাই জানে।
বাট তুমি আমায় এখনো বলোনি আমায় ভালোবাসো
কিনা...
তুমি তো আসোনা আমাদের বাসায়। এজন্য ২/১ সপ্তাহ
পর-পর আমি যাই তোমাদের ওখানে।
কতোবার তোমায় বলেছি তোমায় ভালোবাসি। কই
একবারো তো আমায় বলোনি তোকে ভালোবাসি।
জানো তোমার-আমার পরিবারের সবাই জানে আমরা
দুজন-দুজনকে ভালোবাসি।
কিন্তু আমি জানি.. তুমি কখনো আমার ভালোবাসায়
সাড়া দাওনি। আমাকে বুকে জড়িয়ে বলোনি
ভালোবাসি তোকে।
কেনো? কেনো বলোনা তুমি আবির?
আমি কি তোমার অযোগ্য?
-এই কথার উত্তরটা তোকে সামনে মাসের ১০ তারিখে
দেবো।
-কেনো? তার মানে তুমি আমায় ভালোবাসোনা?
-বল্লাম তো ১০ তারিখে..
এই বলে আবির খাটে উঠে হেলান দিয়ে শোয়।
সুপ্তি ও ওঠে। আবিরের গা-ঘেসে বসে।
হাতটা আবিরের কাঁদে দিয়ে টেনে নেয় বুকের
কাছে।
আবির উঠে যেতে চায়। যেটা ও কয়েক বছর ধরে করে
আসছে।
প্রতিবার সুপ্তি যখন ওকে কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে
নিতে চায়, আদর করতে চায় তখনি কেটে পড়ে আবির।
সুপ্তি হাতটা টান দিয়ে বুকের উপর ফেলে নেয়
আবিরকে।
জোর করার মতো করেই আষ্ঠে-পিষ্ঠে জড়িয়ে ধরে
বুকের সাথে।
ঠোটের উপর আক্রমন চালায়...
এবার সুপ্তিকে ধাক্কা দিয়ে উঠে যায় আবির।
বলে তোকে ভালোবাসি না আমি...।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now