বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তোমার মত সুন্দরী মেয়ে

"ওয়েস্টার্ন গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X কোন মানুষ যদি পোকার খেলায় চারটে তাস টানে তখন তার এরকম একটা কিছু আশা করা উচিৎ । বেন টেইলর সম্ভবত সত্যি কথাই বলেছিল, যে তার ভাগ্য ফুরিয়ে গেছে । সে যাহোক, নিজের বলে একটা জায়গা হয়েছে তার, এটা সে রক্ষা করবে, যা থাকে কপালে । না, জায়গাটার কোন দোষ নেই । ঘোড়ায় চড়ে উপত্যাকায় পয়লাবার ঢুকেই অ্যালান রিং বুঝেছিল বাড়ি এসেছে সে । এটাই সে জায়গা, এখানেই সে থামবে । দশ বছর ধরে পশ্চিম চষে বেড়ানোর পর যদি কোথাও ডেরা বাঁধতে হয় এটা সে জায়গা । কেবিনটাও দেখে মনে হল ভাল । যদিও টেইলর বলেছিল জায়গাটা তিন বছর ফাঁকা পড়েছিল । বাড়িটা দেখে মনে মজবুত আর শক্তপোক্ত করে বানান, যদিও বাড়িটার চারপাশে উপত্যকায় কোমর সমান উঁচু হয়ে ঘাস জন্মেছে, কিন্তু তার মধ্যে নাল না পরান টাট্টুঘোড়া, মানে বুনো ঘোড়া চলার ট্রেইল তৈরি হয়েছে সে দেখতে পাচ্ছে । কিছু হরিণের পায়ের দাগও আছে । এর পাশে একটা নাল পরান ঘোড়ার ছাপও দেখতে পেল অ্যালেন । শেষ ট্র্যাকটা বাড়ির দরজা পর্যন্ত গিয়ে সেখানে শেষ হয়েছে । আরও দেখা যাচ্ছে খুব ছোট্ট পায়ের কেউ একজন হেঁটে গিয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়েছে । কেন একজন মানুষ একটা জানালা দিয়ে দুবার উঁকি দেবে? বিশেষ করে একটা খালি বাড়ির জানালায় ? নিজেই গিয়ে উঁকি মেরে দেখল সে, ধুলো ধুসরিত অন্ধকার ঘরের ভেতরটা বিপরিৎদিকের একটা জানালার গলে আসা আলোয় দেখা যাচ্ছে । দক্ষহাতে বানান একটা টেবিল, একজোড়া চেয়ার আর একটা পুরনো ফায়ারপ্লেস দেখতে পেল সে । 'তুমি কখনও ফায়ারপ্লেসটা বানাওনি বেন টেইলর,' বিড়বিড় করল রিং । 'তাস আর ইস্ত্রি ছাড়া আরকিছু চালাওনি জীবনে । তুমি কখনও তোমার জীবনে এত সুন্দর বা প্রয়োজনীয় জিনিস বানাওনি ।' লালচে পাথরের খাড়া ক্লিফটার নীচে, ঘাসে ঢাকা একটা তাক মতন জায়গায় বসে আছে কেবিনটা, ফিট পঞ্চাশেকেরও কম দূর দিয়ে বইছে ক্লিফ থেকে নেমে আসা একটা নালা । ঝিরঝির করে নালার পানির এসে পড়ছে একটা বেসিনে, তারপর সেখান থেকে এঁকেবেঁকে সিকি মাইল দূরের আরেকটা বড় নালায় এসে পড়েছে সেটা । কেবিনের চারধারে অনেকগুলো লম্বা স্প্রুস, দুটো সাইকামোর আর নালাটার ধারে একটা শিমুল গাছ । বেশ কিছু গুজবেরি ঝোপ আর দুটো আপেল গাছও আছে এখানে । আপেল গাছগুলোর ডালপালা ছাঁটা হয়েছে । 'আর তুমি এ কাজটাও করনি বেন টেইলর !' গম্ভীর ভাবে স্বগতোক্তি করল অ্যালেন রিং । 'গাছপালা সম্বন্ধে আমার আরও কিছু জানা থাকলে ভাল হত ।' সময়, চকিত হরিণীর মত ছুটে চলল । গোলাঘরের মধ্যে পাওয়া একটা লম্বা হাতলের নিড়ানি দিয়ে ঘরের চারপাশের ঘাসগুলো ছেঁটে ফেলল সে, কেবিনের চালের একটা ফুটো মেরামত করল যেটা দিয়ে ইঁদুরের পাল ঢুকত ঘরে । এমন কী আশপাশের বেশ কিছু ঝোপও ছেঁটে ফেলল সে । সবশেষে গোলাঘরটা মেরামত করল রিং । যেদিনটায় ঘরসাফাইয়ের কাজে মন দিয়েছে, সেদিনটাতেই গেইল ট্রুম্যান ঘোড়ায় চেপে হাজির হল এখানে । একটা চেয়ারের বসবার জায়গাটা মেরামত করে শেষ করে এনেছে রিং, যখন লাল টাট্টু ঘোড়ায় সওয়ার মেয়েটাকে দেখে সোজা হল সে । গাদা করে রাখা কাটা ঘাস আর পরিস্কার জানালা দেখে মুখ হাঁ হয়ে গেছে মেয়েটার । রিং দেখল মেয়েটা পিছলে নামল জিন থেকে তারপর একছুটে কেবিনের জানালার কাছে এসে উঁকি দিল । যন্ত্রপাতি ফেলে উঠে এল অ্যালেন । 'কাউকে খুঁজছো ম্যা'ম?' আধপাক ঘুরে ওর দিকে তাকাল মেয়েটা, ওর বড় বড় নীল চোখে অভিযোগের ছোঁয়া । 'কী করছো তুমি এখানে ? এভাবে হুট করে ঢুকে পড়ার মানে কী?' হাসল অ্যালেন, কিন্তু ব্যাপারটা ধাঁধায় ফেলছে ওকে । বেন টেইলর কোন মেয়ের কথা বলেনি, এরকম কোন মেয়ের কথা তো নয়ই । 'কী আশ্চর্য ! আমিই এখন জায়গাটার মালিক । তাই আমি থাকার মত করে একটু মেরামত করে নিচ্ছি বাড়িটাকে ।' 'তুমি এর মালিক?' বিস্মিত, ব্যথিত কন্ঠস্বর তার । 'তুমি এটার মালিক হতেই পারোনা ! ও কখনও এ জায়গাটা বিক্রি করতোনা । কখনোইনা !' 'আসলে ও ঠিক আমার কাছে বিক্রি করেনি ম্যা'ম.' কোমল গলায় জানাল রিং । ' ও আসলে পোকার খেলায় বাজিতে হেরে গেছিল আমার কাছে টেক্সাসে থাকতে।' 'পোকার খেলায়?' রীতিমত আতংকিত দেখাল মেয়েটাকে । 'হুইট বেইলি পোকার খেলত? বিশ্বাস করিনা আমি !' 'যে লোকটার কাছে থেকে আমি জায়গাটা পেয়েছি তাকে সবাই বেন টেইলর বলেই চেনে ম্যা'ম।' পকেট থেকে জমির দলিলটা বের করল রিং । 'সত্যি বলতে কী ও বলেছিল বটে, যদি কেউ হুইট বেইলি সম্বন্ধে জিগ্যেস করে তো, বলতে গুয়াডালুপসে সীসের বিষক্রিয়ায় হুইট বেইলি মারা গেছে ।' 'হুইট বেইলি মারা গেছে?' বিস্ময়ে হতবাক মনে হল মেয়েটাকে । 'তুমি ঠিক জান? ওহ!' শাদা হয়ে গেল মেয়েটার মুখ, মনে হল ভেতরে একটা কিছু নিভে গেল তার । হতাশ একটা ভঙ্গি করে উপত্যকাটার দিকে ফিরল সে । অদ্ভুত, ব্যাপারটা প্রথমবারের মত লক্ষ্য করল অ্যলেন রিং । একটা পরিচিত কিছুর উপস্থিতি অনুভব করল সে । ওর সামনে লম্বা ঘাসে ঢাকা উপত্যকা, শরতের ছোঁয়ায় কিছুটা বাদামী রং নিয়েছে । আর ওর ডান দিকে কুচকাওয়াজে পিঠ সোজা করে দাঁড়ানো সৈনিকের মতই সটান দাঁড়িয়ে আছে স্প্রুস গাছের বীথি, তারও খানিক দূরে উঠে গেছে পাহাড়ের ঢাল । আরও একটু দূরে আরও ডানে পাহাড়ের শেষ মাথায় আরেকটা বড় উপত্যকা মিলিয়ে গেছে দূরের ঘন নীলাভ-বেগুনি রংএর রেখায় । এখানে সেখানে দেখা যাচ্ছে শিমুল গাছের সোনালী বীথি, ঠান্ডায় শিমুল পাতা সোনালী রং নিয়েছে । কোন কথা দিয়ে একে প্রকাশ করা যায়না । এ একটা ছবি, এমন ছবি যা একজন মানুষ কেবল স্বপ্ন দেখতে পারে, কিন্তু আঁকতে পারেনা । 'এটা-এটা সুন্দর, তাই না ?' মেয়েটা ফিরল ওর দিকে, এবং মনে হল প্রথমবারের মত ওকে ভাল করে দেখল । গম্ভীর ধুসর চোখ আর একরাশ লালচে-বাদামী চুল মাথায় দীর্ঘদেহী এক তরুন, নিঃসঙ্গ, ঘোড়সওয়ারের ভাবটা লেগে আছে ওর চেহারায় । 'হ্যাঁ, জায়গাটা সুন্দর ।' আমি এতবার এসেছি এ দৃশ্য দেখতে, হ্যাঁ কেবিনটাকেও । আমার মনে আমার দেখা সবচয়ে সুন্দর জায়গা এটা । আমি অনেক স্বপ্ন দেখতাম-' হঠাৎ খেই হারিয়ে চুপ করে গেল সে । ' ওহ, আমি দুঃখিত, এভাবে বলাটা ঠিক হয়নি আমার ।' ওর দিকে ফিরে গম্ভীরভাবে বলল মেয়েটা. 'এখন আমার যাওয়াই উচিৎ, এখন তুমি এটার মালিক ।' ইতস্তত করল অ্যালেন । 'ম্যা'ম,' বলল সে জায়গাটা আমার, এবং আমি কোন কিছুর বিনিময়ই এটা বদল করবনা । কিন্তু দৃশ্য, সেটার ওপর কারো মালিকানা নেই । যার চোখ আছে এবং যে দেখতে যায় সেই দেখতে পারে । অতএব তুমি যখন খুশি আসতে পারো দেখতে ।' হাসল রিং, 'আসলে আমি বাড়িটা মেরামত করছি ভেতর থেকে যাতে বাড়ি বাড়ি মনে হয় জায়গাটা । লাল হল সে 'আর এব্যাপারে আমার তেমন ধারনা নেই, কারন সারাটা জীবন বলা যায় বাংক হাউজেই কাটিয়েছি আমি ।' সহানুভুতির আসি হাসল মেয়েটা । 'নিশ্চয়ই! খুব ভাল লাগবে সাহায্য করতে, শুধু,'-হাসি মুছে গেল তার-'তুমি এখানে থাকতে পারবেনা । রস বিলটনের সাথে তোমার দেখা হয়নি, হয়েছে কী ?' ' কে সে? কৌতুহলী হয়ে জিগ্যেস করল রিং । এগিয়ে আসা ঘোড়সওয়ারদের দিকে মাথা নাড়ল সে । 'ওই লোকটার কথা বলছ ?' দ্রুত ঘুরে তাকিয়ে মাথা নাড়ল মেয়েটা । 'হুঁশিয়ার থেকো ! ও টাউন মার্শাল । ওর সাথের লোক দুটো হচ্ছে আছে বেন হেগেন আর স্ট্যান ব্রুল ।' ব্রুলের কথা ওর মনে আছে, ব্রুলের কী ওর কথা মনে আছে ? 'তো যাই হোক, আমার নাম অ্যালেন রিং,' নীচু গলায় বলল সে । 'আমি গেইল ট্রুম্যান,' জানাল মেয়েটা । 'আমার বাবা, টল টি ব্র্যান্ডের মালিক ।' শাদা হ্যাট পরা বিলটন বিশালদেহী মানুষ । দেখে ঠিক পছন্দ হলনা রিংএর এবং বুঝল ব্যাপারটা আসলে দু'তরফা । ব্রুলকে সে চেনে, তাহলে গাট্টাগোট্টা লোকটা বেন হেগেন । ব্রুল পাল্টেছে সামান্য, একটু পাতলা হয়েছে সে, কিন্তু ওর কুঠারের মত মুখটা সেই আগের মতই সরু আর বিষাক্ত ।'কেমন আছ গেইল?' সংক্ষেপে প্রশ্ন করল বিলটন । 'এ লোক কী তোমার বন্ধু ?' টেবিলে নিজের তাস বিছিয়ে রাখা দরকার, ভাবল অ্যালেন । 'হ্যাঁ, বন্ধু কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা; এ জায়গার মালিক ।' 'তুমি রেড রকের মালিক?' অবিশ্বাসের সাথে প্রশ্ন করল বিলটন । 'ব্যাপারটা প্রমান করা তোমার জন্য খুব কঠিন হবে, তাছাড়া এ জমি এখন আইনের এখতিয়ারে ।' 'কার আইন?' জানতে চাইল রিং । ব্রুল যে ওকে খুঁটিয়ে দেখছে, সেটা সে বুঝতে পারছে, কিন্তু এখনও নিশ্চিত হয়নি । 'আমার । আমি টাউন মার্শাল এখানকার । এখানে একটা খুন হয়েছিল, এবং যতদিন পর্যন্ত না সে খুনের কিনারা হচ্ছে, ও খুনীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান না যাচ্ছে, ততদিন এজমিতে কেউ হাত দিতে পারবেনা । তুমি দেখছি এর মধ্যেই কিছু পরিবর্তন করে ফেলেছ, তবে আদালত তোমাকে ক্ষমা করলেও করতে পারে ।' 'তুমি টাউন মার্শাল?' হ্যাটটা মাথার পেছন দিকে ঠেলে দিয়ে তামাকের জন্য হাত বাড়াল অ্যালেন রিং । 'বেশ ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, যে যাই হোক, আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, তুমি শহরের বাইরে চলে এসেছ ।' 'তাতে কিছু আসে যায়না !' ধারালো শোনাল বিলটনের গলা । শুনেই বুঝল এরকম কথা শুনে বেশি অভ্যাস নেই মার্শালের, ওর হুকুম সাধারনত মান্য করা হয় । 'আজ রাত নামার আগেই তুমি এখান থেকে চলে যাবে ।' 'তাতে অনেক কিছু আসে যায়,' শান্তভাবে উত্তর দিল অ্যালেন । 'এ জায়গাটা পেয়েছি, আমার যথা সর্বস্ব পোকার খেলায় বাজি রেখে । চারটে তাস টেনে আমি জিতেছি, তিনটে টেক্কা ছিল তাতে । খেলাটা বোকার মত ছিল কিন্তু আমি জিতেছি । আমি দলিল রেজিস্ট্রি করেছি, সুতরাং আইনতঃ এ জমির মালিক আমি । আমি এমন কোন আইনের কথা জানিনা যে একবার খুন হয়েছে বলে তিন বছর কোন সম্পত্তি ফেলে রাখতে হবে । যদি তিন বছরেও খুনের কিনারা না হয় তো আমার পরামর্শ হচ্ছে, শহরে একজন নতুন মার্শাল দরকার ।' রেগে গেছে রস বিলটন, কিন্তু নিজেকে সংযত রাখল সে । 'তোমাকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে, তুমি যদি নিজে থেকে না যাও, তবে আমি আমার ক্ষমতা খাটিয়ে তোমাকে উচ্ছেদ করব ।' হাসল রিং । 'শোন বিলটন, তোমার এসব চাল ঝামেলা চায়না এমন লোকের জন্য রেখে দাও । তুমি হয়তো অনেক লোককে ধাপ্পা দিতে পারো, যে তোমার এরকম করার ক্ষমতা আছে । আমাকে তুমি ধাপ্পা দিতে পারবে না-আমি স্রেফ ভয় পাচ্ছি না, তাই না ব্রুল?' এত দ্রুত ওদিকে ফিরল রিং, যে জিনের ওপর জমে গেল ব্রুল । থাবা মেরে পিস্তল বের করার জন্য শূন্যে নিশ্চল হল হাত । ওর মুখে বিরক্তি ছোঁয়া খেলে গেল এবং তারপর ওকে চিনতে পারল ব্রুল । 'অ্যালেন রিং,' বলল ব্রুল । 'তুমি আবার !' 'ঠিক তাই ব্রুল, শুধু এবারে ইন্ডিয়ান এলাকার মধ্যে গরু নিয়ে যাচ্ছিনা আমি । সেবারে গরুচোরের দলের সাথে ছিলে তুমি ।' বিলটনের দিকে ফিরল রিং, 'তুমি না আইনের লোক ? এ লোক তোমার সাথে কেন ? টেক্সাসের প্রত্যেকটা কাউন্টিতে ঘোড়াচরি থেকে খুনের দায় ব্রুলের নামে হুলিয়া ঝুলছে ।' অনেকক্ষন ওর দিকে চেয়ে রইল বিলটন । 'তোমাকে হুঁশিয়ার করা হয়েছে,' বলল সে । 'আমি থাকছি এখানে,' তীক্ষ্ন গলায় উত্তর দিল অ্যালেন রিং । 'আর আবার এদিকে এলে ওই কয়োটিগুলোকে সাথে এনো না, আমি পছন্দ করছিনা ওদের !' ব্রুলের আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে পড়ল, শীতল ক্রোধে কঠিন হয়ে পড়েছে ওর ঠোঁটজোড়া । শান্তভাবে ওকে দেখল রিং, 'তুমি জানো ও কাজ করে কোন লাভ হবেনা । আমার পিঠ ফেরানো পর্যন্ত অপেক্ষা কর । তুমি যদি পিস্তলের দিকে দিকে হাত বাড়াও তো, ঘোড়ার পিঠ থেকে ফেলে দেব আমি তোমাকে ।' কৌতুহলের সাথে ওকে দেখছিল গেইল ট্রুম্যান । 'আজব ব্যাপার ! ব্রুল তোমাকে দেখে ভয় পাচ্ছে ! বিস্ময় প্রকাশ করল সে । 'ঠিক কে তুমি, আসলে ?' ধীরে ধীরে হাত শিথিল করল ব্রুল । নির্বাকভাবে ওর দুই সঙ্গী বিলটন আর হেগেনের দিকে চাইল সে, চোখ গরম করে গোটা ব্যাপারটা দেখছিল ওরা । 'কেউ না ম্যা'ম,' সরলভাবে উত্তর দিল অ্যালেন । 'আমি কোন বন্দুকবাজ নই । সাধারন একজন মানুষ, যার কিনা ভয় পাওয়ার মত যথেষ্ট ঘিলুও নেই মাথায় । ও জানে ও আমাকে হারালেও হারাতে পারে, কিন্তু ওকে আমি খুন করব । ওর সামনেই ওর এক দোস্ত ব্লেজ গার্ডেনকে খতম করেছি আমি ।' 'কিন্তু-তাহলে তুমি নিশ্চয়ই কোন বন্দুকবাজ! ব্লেজ গার্ডেন একটা খুনী ! আমি বাবা আর অন্য লোকদের ওর সম্বন্ধে গল্প করতে শুনেছি !' 'নাহ, আমি কোন গানম্যান নই । আসলে আমার আগে ড্র করেছিল ব্লেজ । সত্যি বলতে কী আমার পিস্তল হোলস্টার থেকে বের হওয়ার আগেই ওর পয়লা গুলিটা বেরিয়ে গেছে । ওর দ্বিতীয় আর তৃতীয় গুলি আমাকে আঘাত করেছিল । আমি তখনও গুলি করিনি, এগিয়ে চলেছি ওর কাছে । ঘাবড়ে গিয়ে পিছে হটল ও আর ওর চতুর্থ গুলিটা অণেক ওপর দিয়ে চলে গেল । এবারে আমি গুলি করলাম, একটা গুলিই যথেষ্ট যদি ঠিক জায়গামত লাগান যায় ।' হাত তুলে চারপাশটা দেখাল রিং, 'কী ঘটেছিল এখানে, বলবে ?' 'আসলে খুবই সোজাসাপটা সবকিছু, এখানে এমন কিছু আছে যাতে মানুষ বন্দুকবাজিতে মেতে ওঠে । এবং একটা ঘটনা থেকে আরেকটা ঘটনায় মোড় নেয় পরিস্থিতি ।' 'হুইট বেইলি এ জায়গাটার মালিক ছিল । খুব করিৎকর্মা লোক ছিল সে । সবসময় একটা কিছু নিয়ে মেতে থাকতো সে । লম্বা, সুদর্শন একজন মানুষ, যাকে সব মেয়েরাই ভালবাসত ।' 'তুমিও ছিলে নাকি তাদের মধ্যে ?' জিগ্যেস করল রিং । লাল হল মেয়েটা । 'হ্যাঁ, সেভাবে বললে তাই । আমার বয়স এখন আঠারো, আর ব্যাপারগুলো ঘটেছিল তিন-চার বছর আগে, চোখে পড়ার মত কেউ ছিলাম না আমি তখন ।' স্যাম হ্যাজলিট এ তল্লাটের সবচেয়ে ধনী লোকদের একজন, একটা ঘোড়ার ব্যাপারে হুইটের সাথে বচসা হয়েছিল তার । আশপাশে অনেক ঘোড়াচুরি হচ্ছিল তখন । হ্যাজলিট তার কিছু চুরি যাওয়া গরুঘোড়াকে হুইটের এই র্যাঞ্চে আবিসকার করে, অন্তত তার দাবি ছিল তাই । হুইট তাকে ফালতু কথা না বলতে বলে, এবং সাফ জানিয়ে দেয় এর পর থেকে যেন এ র্যাঞ্চে পা না দেয় সে । এরপর ঠিক ঘটেছিল তা নিয়ে মানুষজনের দ্বিমত আছে । হুইটের অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল আর হ্যাজলিটের ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ চার ভাই । এর অল্প কিছুদিন পরে বাক হ্যাজলিটের র্যাঞ্চ থেকে কয়েকজন রাইডার এ পথ দিয়ে যেতে দেখে উঠানে, ঠিক ঝর্ণাটার ধারে একটা লাশ পড়ে আছে । ভেবেছিল হুইট বোধহয় আঘাত পেয়েছে, কিন্তু কাছে এসে দেখে, লোকটা স্যাম হ্যাজলিট । পিঠে গুলি করে মারা হয়েছে ওকে । 'সোজা শহরের দিকে রওনা দিল ওরা, হুইটকে পাকড়াও করবে । হুইটকে পেয়েও গেল ওরা, কিন্তু গোটা ব্যাপারটা অস্বীকার করল সে । ওকে ঝোলাবে বলে ওর গলায় দড়ি পড়িয়ে দিয়েছে ওরা এমন সময় আমি-আমি শপথ করে বললাম যে আজ সারাদিনে র্যাঞে যায়নি ও ।' 'কথাটা কী সত্যি ছিলনা পুরোপুরি?' অ্যালেনের চোখ মেয়েটার মুখ পরীক্ষা করছে তীক্ষ্ন ভাবে । ওর চোখ এড়ীয়ে গেল সে, আরও লাল হয়ে উঠেছে সে । 'না, মানে ঠিক তা নয় । কিন্তু আমি জানি ও নির্দোষ! ও কারো পিঠে গুলি করতে পারেনা । আমি ওদের বলেছি ও আমাদের বাসায় ছিল, মানে এসময় ওর পক্ষে স্যাম হ্যাজলিটকে মেরে আসা সম্ভব নয় ।' 'মানুষজন ব্যাপারটা পছন্দ করেনি । কেউ কেউ এখনও বিশ্বাস করে হুইট বেইলিই স্যাম হ্যাজলিটকে মেরেছে । আর কেউ কেউ ব্যাপারটা পছন্দ করেনি কারন আমি যেভাবে বলেছি কথাটা, হুইট অনেক কম বয়সী একটা মেয়ের সাথে ভাব করছিল । আমি হুইটকে আমাদের বাসার সামনে দেখিছি, যদিও বাকিটা পেট বানানো কথা । সে যাই হোক কয়েক সপ্তাহ পরেই হুইট এ জায়গা ছেড়ে চলে যায় ।' 'আচ্ছা- তো কেউ জানে না স্যাম হ্যাজলিটকে কে মেরেছে ?' 'কেউ না । একটা ব্যাপার কেউ বুঝতে পারছেনা স্যামের হিসাবের খাতাটার কী হল । জিনিসটা ছিল একটা টালি খাতার মত । অনেক জিনিস টুকে রাখত স্যাম খাতাটায় । খাতাটা ওর পকেটে পাওয়া যায়নি । কেউ জানে না ওটা কোথায় গেছে, কিন্তু ওর পেন্সিলটা পাওয়া গেছে, কাছের বালির ওপর । বাবার ধারনা, স্যাম গুলি খাওয়ার পরেও কিছুক্ষন বেঁচেছিল । ও এ সময় খাতায় খুনীর নাম লিখে গেছে । খুনী খাতাটা পেয়ে ওটা নষ্ট করে ফেলেছে ।' 'র্যাঞ্চ কর্মীদের ব্যাপার কী ? বিলটন কী ওদের জিজ্ঞাসাবাদ করেনি?' 'ওহ বিলটন! বিলটন তখনও শহরের মার্শাল হয়নি । ও তখন বাক হ্যাজলিটের র্যাঞ্চে কাজ করত । স্যামের লাশ ওই আবিস্কার করেছে !' মেয়েটা চলে যাবার পর ঘরে ঢুকে গোটা ব্যাপারটা মনে মনে খতিয়ে দেখল । এখান থেকে চলে যাবার কোন ইচ্ছা ও নেই, এখানেই ও থাকবে । কিন্তু সমস্যাটা চমকপ্রদ । এ বাড়িতে বাস করে এবং চারপাশটা খতিয়ে দেখে হুইট বেইলি সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছে সে । গেইল ঠিকই বলেছে । হুইট ছিল 'কাজের লোক' । কারন, আশপাশে ও হাতের তৈরি অনেক জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, মজবুত করে বানান ফায়ার প্লেস থেকে শুরু করে সুন্দর করে ছাঁটা আপেল গাছগুলো সব তার হাতের নিপুণতার পরিচয় বহন করছে । লোকটা কোন খুনী ছিলনা যে সে ব্যাপারে বাজি ধরতে রাজি আছে অ্যালেন । টেইলর বলেছিল হুইট বেইলি সীসার বিষক্রিয়ায় মারা গেছে । কে ওকে মেরেছিল ? কোন সাধারন তর্কাতর্কি ঘটিত ডুয়েল? নাকি প্রতিশোধ নিতে এসেছিল কোন বন্দুকধারী ? নাকি কারোর ধারনা হুইট খুব বেশি কিছু জানে, ওকে চুপ করেই দেয়া দরকার? 'জায়গাটা পছন্দ করবে তুমি,' বলেছিল টেইলর । মানে কী দাঁড়াল? জায়গাটা বেন টেইলর এসে দেখে গেছে! যতই দেখছে ততই জটিল মনে হচ্ছে পরিস্থিতিকে । রাতের খাওয়া সেরে ঘরের বাইরে গিয়ে কেবিনের দেয়ালে হেলান দিয়ে একটা সিগারেট ধরাল অ্যালেন । স্যাম হ্যাজলিট খোয়া যাওয়া গরুঘোড়া সব নিয়ে গেছিল এখান থেকে । আচ্ছা হুইট যদি চোর না হয় তাহলে চোর কে? আর চোরাই গরুই বা কোথায় বা কোথায় লুকিয়েছে ? আপনা থেকেই মগোলোনস পর্বতমালার দিকে চোখ চলে গেল ওর, আদর্শ জায়গা । ওর চোখ সরু হয়ে গেল পুরনো এক স্মৃতি মনে করে । একরাতে তাস খেলতে খেলতে একটা ঝড়্ণার কথা বলেছিল টেইলর । ফসিল স্প্রিংস, বিশাল এক ঝর্ণা যা প্রচন্ড গর্জনে হাজার হাজার গ্যালন পানি উগরে দেয় মাটির ওপরে । 'ওখানে একটা লোক অনেক গরু চরাতে পারে,' চোখ টিপে বলেছিল টেইলর । 'কেউ জানতে পারবেনা, সেকথা ।' অনেক দিন আগে এবং অনেক দুরে শোনা কথা । রেড রক র‌্যাঞ্চ তখনও বাজি ধরা হয়নি, বেশ কয়েকমাস পরে হবে ব্যাপারটা । ভেবে দেখর চেষ্টা করল সে, ফসিল ক্রিক জায়গাটা এখান থেকে খানিকটা উত্তরে । হয়তো ফসিল ক্রিক, সিল স্প্রিংস থেকেই নেমে এসেছে? কে জানে । টেক্সাসে ওর পরিচয় টেইলরের সাথে আর এটা অ্যারিজোনা । বাংক হাউজের একটা সামান্য আলাপেরও অনেক তাৎপর্য থাকতে পারে । 'দেখা যাবে বেন! ' বিড় বিড় করল অ্যালান রিং । 'আমরা দেখবো ঘটনা কোথায় গড়ায় !' রস বিলটন, হ্যাজলিট র‌্যাঞ্চের কর্মচারী ছিল খুনের সময় এবং অকুস্থলে সবার আগে পৌঁছেছে সে । এখন সে টাউন মার্শাল এবং সে এই র‌্যাঞ্চটায় কেউ বাস করুক তা চায়না । কেন? কোনটাই কোন মানে হয়না । এবং আপাতদৃষ্টিতে এটা তার কোন মাথাব্যাথা নয় । কিন্তু অনেক ভেবে দেখল সে, এটা তার ব্যাপার । র‌্যাঞ্চটার মালিক এখন সে । যদি কোন পুরনো খুন তার এখানে বসবাসের ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করে তো এটা খতিয়ে দেখা তার কর্তব্য । আসলে ব্যাপারটা কৌতুহল মেটানোর একটা অজুহাত, নিজেও মনে মনে জানে সে তা । সকাল হল ও তা ধীরে ধীরে দুপুর পর্যন্ত গড়াল । বিলটন বা ব্রুলের কোন পাত্তা দেখা যাচ্ছেনা । রাইফেলে গুলি ভরে হাতের কাছেই রেখেছে অ্যালেন, কোমরেও জোড়া পিস্তল ঝুলিয়েছে, যদিও একটার বেশি সে সাধারনতঃ পরেনা । কেবিনের দরজার কাছেই আছে তার দোনলা শটগান । ঝর্ণাটার দিকে তার মনোযোগ । ঠিক এই মুহুর্তে কেবিনের আশপাশ ছেড়ে যেতে চাইছেনা মন । ঝর্ণাটা তাহলে বেশ খুঁটিয়ে দেখা যায় । ঠিক এই মুহুর্তেই যে কাজটা করতে হবে তা নয় । কিন্তু বেশ কিছু পাথর আর শ্যাওলা জমেছে বেসিনের তলায় । ওগুলো সরালে আরো বেশি ও আরো পরিস্কার পানি পাবে সে । ক্যানিয়নের মুখের দিকে একটা সতর্ক চোখ রেখে কাজে নেমে পড়ল অ্যালেন । এগিয়ে আসা ঘোড়ার খুরের শব্দে সোজা হয়ে দাঁড়াল সে । হাতের কাছেই একটা পাথরের গায়ে হেলান দিয়ে রাখা আছে তার রাইফেলটা । পিস্তলও তৈরি, কিন্তু অচেনা অশ্বারোহী যখন চোখের সামনে আসল তখন দেখল লোকটা একাই এসেছে । চমৎকার একটা বে গেল্ডিং ঘোড়ায় চড়ে আসছে লোকটা । বয়স হয়েছে তার, ভারী দেহ । ঝুলে পড়া গোঁফ আর সদয় নীল চোখ । থামল লোকটা কাছে এসে । 'হাউডি!'বন্ধুত্বপুর্ণভাবে বলে চারপাশে একবার দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিল লোকটা । 'আমি রলি ট্রুম্যান, গেইলের বাবা ।' 'পরিচিত হয়ে খুশি হলাম,' লাল একটা ব্যান্ডানায় ভেজা হাত মুছল রিং । ঝর্ণার দিকে মাথা নাড়ল সে । 'গর্তটা যা ভেবেছিলাম তারচেয়ে অনেক গভীর ।' 'পানি বইছে তোড়ে,' একমত হল ট্রুম্যান । গোঁফ কামড়াল চিন্তিতভাবে । 'আমি আত্ববিশ্বাসী, করিৎকর্মা তরুনদের দেখতে পছন্দ করি । যারা নিজেদের জমির উন্নতি করতে পরিশ্রমে পিছপা নয় ।' অপেক্ষা করতে লাগল অ্যালেন রিং । লোকটা একটা কিছু বলতে চাইছে, তাকে তার মতো করে বলতে দেয়া উচিৎ । ধীরে সুস্থে প্যাঁচালো গল্পটা বেরিয়ে এল । 'বেশি জায়গা অবশ্য নেই এখানে,' যোগ করল ট্রুম্যান । 'তোমার আরো গরু চরানোর জায়গা লাগবে । সিডার বেসিনে গিয়েছৌ কখন? কিংবা ইস্ট ভার্ডের নীচে ? চমৎকার জায়গা, কিন্তু বেশির ভাগই বুনো । কিন্তু শাদামুখো কিছু গরুর পাল চরালে বেশ কিছু পয়সা আসবে তোমার পকেটে ।' ' না, আমি দেখিনি ওসব জায়গা,' জবাব দিল রিং । 'আমি আমার জায়গা নিয়ে সন্তুষ্ট । বেশি জমির ইচ্ছা নেই আমার । আমি চাই ছোট জায়গা । আর এ জায়গা আমার জন্য যথেষ্ট ।' অস্বস্তির সাথে জিনের ওপর ওজন বদল করে তাকাল ট্রুম্যান । 'ব্যাপারটা হচ্ছে, তুমি এখানে থেকে তুমি অনেক লোক কে অসুবিধায় ফেলছ । তুমি চলে গেলেই ভাল হয় সবার ।' 'আমি দুঃখিত,' সাফ জবাব দিল রিং । 'আমি কারোর সাথে শত্রুতা চাইনা, কিন্তু আমি চারতাস টেনে এ জায়গাটা পেয়েছি । হয়তো আমি অদৃষ্টবাদী, কিন্তু আমি জানি আমি এখানেই থাকব । কোন মানুষের অধিকার নেই যে চারটে তাস টেনে সে ভাবতে পারে সে সবকিছু জিতে নেবে । কিন্তু আমি জিতেছি । আমার যথা সর্বস্ব বাজি ধরেছিলাম আমি ওটার পেছনে ।' অস্বস্তিতে মাথা নাড়ল র্যাঞ্চার । 'শোন ছেলে, তোমাকে চলে যেতেই হবে ! এখন এখানে কোন সমস্যা নেই । কিন্তু তুমি যদি থাকবে বলে মনস্থির কর তো পুরনো ক্ষত সব খুলে যাবে । এত ঝামেলা দেখা দেবে যে আমরা কেউই আর সেটা সামলাতে পারবনা । তাছাড়া বেন টেইলর কী ভাবে জায়গাটার মালিক হল ? সবাই জানে বেইলির সাথে ওর কোন সদ্ভাব ছিলনা । আমার মনে হয়না কোর্টে তোমার দাবি ধোপে টিঁকবে ।' 'সেসব আমি জানিনা ।' একরোখা সুরে বলল অ্যালেন । 'আমার একটা দলিল আছে এবং সেটাই যথেষ্ট আইনের চোখে । আমার ব্র্যান্ড সহ দলিল রেজিস্ট্রি করেছি আমি । আমি দেখেছি বেইলির কোন উত্তরাধিকারী ছিল না । সুতরাং নতুন কেউ এসে জায়গাটা মামলা না করলে আমি শক্ত হয়ে, আমার জায়গায় বসে থাকব ।' ভুঁরুর ওপর হাত বোলাল ট্রুম্যান । 'আমি তোমাকে দোষ দেই না । আমার হয়তো এখানে আসা উচিৎ হয়নি । কিন্তু আমি রস বিলটন আর ওর সাঙ্গপাঙ্গদের চিনি । এবং আমি তোমার এবং আমার নিজের জন্যও কিছু ঝামেলা বাঁচাতে চেয়েছিলাম । গেইলের ধারনা তুমি খুব চমৎকার মানুষ । হুইট চলে যাবার পর তুমি হচ্ছো প্রথম তরুন, যার প্রতি গেইল কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে । দেখ, হুইট যখন এখানে ছিল তখন গেইলের বয়স খুব কম ছিল । সুতরাং একধরনের বীর পূজা ওর মধ্যে ছিল বলা যায় ।' কোদালে হেলান দিয়ে, বয়স্ক লোকটার দিকে তাকাল অ্যালেন রিং । 'ট্রুম্যান, আপনার কী ধারনা ঝামেলা এড়িয়ে গিয়ে ঝামেলা থেকে বাঁচতে পারবেন? এই ব্যাপারে আপনার আর স্বার্থ কী ?' স্থির হয়ে গেল র্যাঞ্চার, ফ্যাকাসে আর শুকনো দেখাচ্ছে তার মুখ । তারপর ঘোড়া থেকে নেমে একটা পাথরের ওপরের বসল সে । হ্যাট খুলে ভুঁরু জোড়া মুছল সে । 'ব্যাপারটা হচ্ছে, তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে আমাকে ।' ধীরে ধীরে শুরু করল সে । 'তুমি হ্যাজলিটদের কথা শুনেছ । ওরা একটা শক্ত দল, পারস্পরিক মিল মোহাব্বত খুব বেশি । বন্দুকের ওপর ভরসা করে জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছে । স্যাম কে খুব করা হয়েছে । আমরা সবাই জানি যখন খুনীর আসল পরিচয় বের হবে, প্রচুর ঝামেলা হবে এ তল্লাটে, প্রচুর ।' 'আপনি খুন করেছেন ওকে ?' ঝাঁকি দিয়ে মাথাটা সোজা করল ট্রুম্যান । 'না! ওরকম কিছু ভেবো না । কিন্তু তুমি তো জানোই ছোট র্যাঞ্চাররা কেমন হয় । তখন গরুচুরির হিড়িক পড়ে গিয়েছিল । আর হ্যাজলিটদের আউটফিটটা ছিল বড়, ওদের অনেক গরু খোয়া গিয়েছিল ।' 'আর সেসব কিছু গরু, আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে ঘুরে বেড়াত?' ধুর্তভাবে জিগ্যেস করল রিং । মাথা নাড়ল ট্রুম্যান । 'সেরকমই ব্যাপারটা, খুব বেশি না যদিও, আর শুধু আমি এ কাজ করেছি তাও নয় । আমাকে ভুল বুঝোনা । আমি দোষ থেকে নিস্কৃতি চাইছি না । এর কিছুটা দায়ভার আমারও । কিন্তু আমি খুব বেশি নেই নি । আমার মত আরও আট-দশ জন তাদে ব্র্যান্ড হ্যাজলিটদের গরুতে বসিয়েছে । এদের মধ্যে পাঁচজন এখানকার সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড এখন । ওদের অনেক এখন প্রায়, হ্যাজলিটদের মতই বড় আউটফিট ।' আকাশ পরখ করল অ্যালেন রিং । এটা অনেক পুরনো গল্প এবং অনেকবার পুণঃরাবৃত্তি হয়েছে পশ্চিমে । গৃহযুদ্ধ শেষে, টেক্সাস আর দক্ষিন পশ্চিমের লোক বাড়ি ফিরে দেখে, তাদের গরুর হাজার হাজার হয়ে গেছে । ব্র্যান্ড নেই, মালিকানাও নেই । গরুর গায়ে ব্র্যান্ড মারতে পারলেই মালিক হয়ে যাবে পয়লা লোকটা । অনেক লোক গরম লোহা দিয়ে ছাপ্পর মেরে বিরাট ধনী হয়ে গেছে । তারপর ব্র্যান্ড ছাড়া গরু সব বিদায় নিয়েছে, র‌্যাঞ্চগুলো তাদের প্রতিপত্তি আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে । ওরকম দু'নম্বরী ব্র্যান্ডিং এর দিন শেষ । তবু এখনও কিছু রেঞ্জ আছে, যেখানে একজন মানুষ গরম লোহা খুব দ্রুত নিজের একটা গরুর পালের মালিক হতে পারে । অনেক বড় বড় র‌্যাঞ্চ এই ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । এবং ওদের অনেক এখনও চরে বেড়ানো গরু পেলেই নিজের ব্র্যান্ড লাগিয়ে দেয় । কোন সন্দেহ নেই এখানেও ব্যাপারটা তাই ঘটেছে । রলি ট্রুম্যানের মত অনেক ভাল মানুষ, যারা প্রথমে ইন্ডিয়ানদের সাথে লড়ে নিজেদের ঘরবাড়ি বানিয়েছিল, এভাবেই তাদের জীবিকা শুরু করেছিল । স্যাম হ্যাজলিট গরুচোরদের পেছনে লেগেছিল । ওরা কারা এবং চুরি যাওয়া গরু ওরা কোথায় রাখে তাও রাখে তার হদিস বের করে ফেলেছিল সে । এমন সময় পেছন থেকে গুলি করে মারা হয় তাকে এবং টালি খাতাটা খোয়া যায় তার পকেট থেকে । এখনও পাওয়া যায় নি ওটা । হয়তো খাতাটার মধ্যে এমন আলামত আছে যে, আজ যারা সমাজের মাথা, তারাই গতকাল গরুচোর ছিল । তাহলে হ্যাজলিট আউটফিটের প্রতিহিংসার ধকল তাদের নিতে হবে । অনেক সময় পশ্চিমের লোক এসব ব্যাপার ঢালাও চোখে দেখে । যদি কোন গরুচোর স্যাম হ্যাজলিটকে মেরে থাকে, তবে তার সাথের সমস্ত গরুচোরই দায়ী । এ র্যাঞ্চে বাস করে এমন যে কোন লোক হঠাৎ একদিন টালি খাতাটা খুঁজে পেতে পারে । তাহলে সমস্ত রেঞ্জে দাউ দাউ করে বন্দুক যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠবে । তাহলে অনেক লোক যারা অতীতের ভুল পথ থেকে বেরিয়ে এসে পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করছে, তারাও এই সংঘরষে জড়িয়ে পড়বে । পা ফাঁক করে গম্ভীরভাবে দরজা দিয়ে বাইরে তাকাল অ্যালেন । ভেতরে ভেতরে এক পরিচিত শীতলতা অনুভব করছে । সাবধানে হাতের তালু মুছল সে । 'বিলটন শহরে আছে?'জানতে চাইল সে । 'হ্যাঁ, মাজাটজাল স্যালুনে তাস খেল ছে ও ।' 'ও কী মেক্স স্পার পড়ে? বড় দাঁতের স্পার?' চোয়াল ডলল লোকটা । 'আমার মনে পড়ছেনা । সাবধানে থেক, সবাই খুব হুঁশিয়ার হয় চলছে ।' কাদাভরা রাস্তা ধরে চলল রিং । অন্ধকার জেনারেল স্টোরের কাছে এসে কাঠের বোর্ডওয়াকে এসে উঠল । বুট থেকে কাদা ঝেড়ে আবার হাত শুকাল সে । তারপর সাবধানে বর্ষাতির বোতাম খুলল । দ্বিতীয়বার কেউ এ সুযোগ পাবে না, জানে সে । এখন মাজাটজাল স্যালুনে যাওয়া মানে একটা বিস্ফোরন ঘটানো । তবে সে নিজেই এ বিস্ফোরণের সলতে ধরাবে, নিজস্ব উপায় । অন্ধকারে একা দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা ভেবে নিল সে । ওরা সবাই থাকবে ওখানে । ব্যাপারটা হবে অনেকটা ডিনামাইটের বান্ডিলে জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি ছুঁড়ে দেয়া । পিস্তলবাজিতে আরেকটু পাকা হাত থাকলে ভাল হত, ভাবল সে । কিন্তু সবসময়ই একা একা কাজ করেছে সে, অন্যভাবে কিছু করতে জানেই না সে । বোড়্ড ওয়াকের ওপর লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়ে চলল রিং । বৃষ্টির ঝমঝমের শব্দ, ডুবিয়ে দিচ্ছে তার বুটের আওয়াজ । কিছুতেই সেই স্পার টাকে মেলাতে পারছেনা সে । বুটটাকেও না । নাহ, কালো খাতাটা তাকে বাগাতেই হবে আবার । মাথা নীচু করে বৃষ্টির মধ্যে চারটে ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে । চেয়ে দেখল অ্যালেন, ওগুলো তিনটে আলাদা ব্র্যান্ডের ঘোড়া । বৃষ্টি ভেজা জানালার ভেতর দিয়ে স্যালুনের ভেতরে তাকাল সে । লম্বা ঘরটা ধোঁয়ায় ভর্তি আর ভীড়ে ভীড়াক্কার । পেতলের রেইলে পা তুলে মানুষ বার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে । প্রায় ডজনখানেক টেবিলে তাস খেলছে মানুষ । মনে হয়, সবাই বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছে ওখানে । হ্যাজলিট ভাইদের দেখল অ্যালেন, কামরার পেছনের একটা টেবিলে বসে আছে একসাথে । এরপ রে রস বিলটনকে চোখে পড়ল তার, দরজা সামনে রেখে তাস খেলছে সে । স্ট্যান ব্রুল বারের এক প্রান্তে আর হেগেন দেয়াল ঘেঁষে একটা টেবিলে । তিনজনে মিলে একটা ত্রিভুজ রচনা করেছে যার ভিত্তি হচ্ছে দরজাটা । তাহলে এটা কোন কাকতালীয় ব্যাপার নয়, বিলটন গোলমাল আশংকা করছে । তবে ঠিক হ্যাজলিটদের কাছ থেকে নয় । যদিও ভেবে দেখল অ্যালেন, ত্রিভুজটা হ্যাজলিটদেরকেও ক্রসফায়ারে ফেলতে পারে । দরজার দিকে পেছন ফিরে একটা লোক বসে বিলটনের সাথে তাস খেলছিল । আর হেগেনের খুব কাছেই বারে, রলি ট্রুম্যান । ড্রিংকটা নিয়ে খেলা করছে ট্রুম্যান । স্রেফ সময় পার করছে, মনে হচ্ছে একটা কিছু ঘটার অপেক্ষা করছে সবাই । ওরা কী ওর জন্যই অপেক্ষা করছে ? নাহ, ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য নয় । ওরা জানেনা যে সে খাতাটা পেয়েছে । তবে, কামরার একটা লোক নিশ্চিত জানে বলেই তার বিশ্বাস । বোধহয় এটা স্রেফ টেনশন, সে রেডরকের দখল বুঝে নেবার কারনে সৃষ্টি হয়েছে । বর্ষাতির কলারটা তুলে দিয়ে হাতদুটো আনার মুছে নিল সে । এরকম পরিস্থিতে সবসময়ই যা হয়, নার্ভাস লাগছে আর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে । পিস্তলের বাঁট স্পর্শ করল রিং , তারপর দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল স্যালুনে । সবাই একসাথে তাকাল ওর দিকে । একটা তাস বাঁটছিল বিলটন, শুন্যে জমে গেল তার হাত । দশ সেকেন্ড তাস হাতে সে জমে রইল যতক্ষণ না রিং দরজাটা বন্ধ করল । ঘরে ঢুকে আরেকবার চারপাশটা জরিপ করল সে, রস বিলটন তাসটা অন্য লোকটাকে দিয়ে নীচু গলায় কী যেন বলল । ঘুরে তাকাল লোকটা, বেন টেইলর ! শীতল কৌতুহলী চোখে জুয়াড়ি লোকটা অ্যালেনের দিকে চাইল, এবং এক মুহুর্তের জন্য ওদের চোখাচোখি হল । সটান ওর দিকে হাঁটা দিল অ্যালেন রিং । ঘরে আর কোন শব্দ নেই, বাইরে বৃষ্টির গর্জন ছাড়া । টেইলরের চোখে একটা কিছুর আভাস দেখতে পেল রিং । 'দারুন একটা তাস চেলেছিলে তুমি টেক্সাসের পথে,' বলল রিং । 'দারুন তাস!' 'আরও তাস টানতে পার তুমি,' বলল টেইলর । 'চমৎকার একটা জোড়া ধরে আছো তুমি !' লোকটা নড়ে ওঠার সাথে সাথে স্পারের ঝুনঝুন শব্দে রিংএর চোখ গেল সেদিকে । বেন টেইলর বড় দাঁতের ক্যালিফোর্নিয়া স্পার পড়ে আছে, এদিকটায় মেটেই দেখা যায় না ওরকম স্পার । টেইলরের পাশে দাঁড়াল সে, যাতে ওর দিকে তাকাতে মুখ তুলতে হয় ওকে । স্পষ্ট টের পাচ্ছে রিং, এখন ও ব্রুল আর হেগেনের ফায়ারিং লাইনের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে । কৌতুহলী হয়ে মুখ তুলে তাকাল হ্যাজলিটরা, ব্যাপারটা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে বুঝতে পারছে না ওরা । 'আমাকে জিনিসটা দিয়ে দাও টেইলর,' শান্ত গলায় বলল রিং । 'এখনই ফেরত দাও জিনিসটা আমাকে । 'কী বলছ আমি কিছু বুঝতে পারছি না,' জ্বলে উঠল বেন । 'না?' পা সামান্য ফাঁক করে দাঁড়াল রিং, ওর হাতদুটো বুকের কাছে , একটা বর্ষাতির প্রান্ত আঁকড়ে আছে । বাঁ হাতে ঘুষি হাঁকাল রিং । বেনের জন্য হুকটা ছিল খুব দ্রুত, আকস্মিক ও অল্প দুরত্বের । চোয়ালের ওপর ঘুষিটা পড়ার শব্দ শুনতে পেল সবাই । রিংএর ডানহাত এবার নেমে এল এবার জুয়াড়ি টেইলরের সোলার প্লেক্সাসের ওপর, হাঁটু ভাজ হয়ে গেল তার । একটানে ওর কোটের সামনের অংশটা খুলে ফেলল রিং, বোতামগুলো ছিটকে পড়ল মেঝেতে । হ্যাঁচকা টানে ভেতরের পকেট থেকে বের করে আনল খাতাটা । দেখল রিং, হ্যাজলিটরা সব সচকিত হয় উঠেছে, আর বিলটন এতো জোরে ছিটকে পেছনে চলে গেল যে চেয়ারটা উলটে পড়ল । 'ওকে আটকাও!' গর্জন করল বিলটন । 'আটকাও ওকে!' ধাক্কা দিয়ে টেইলরকে টেবিলের ওপর এনে ফেলল রিং । টেবিলটা উল্টে পড়ায় ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লাফ দিয়ে পেছনে সরে যেতে বাধ্য হল বিলটন । হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল রিং মেঝেতে, একই সাথে পেছন ফিরে দেখল পিস্তল উঠে আসছে ব্রুলের হাতে । এবার গুলি করল সে ! পিস্তলটা তুলে এনেছিল স্ট্যান ব্রুল, এমন সময় চোয়ালে গুলিটা লাগল ওর । ঝাঁকি খেন লম্বা লোকটা, ঘৃণা আর বিস্ময়ে বিকৃত তার মুখ । আবার গুলি করে করে, হাঁটু ভাজ করেই লাফ দিয়ে আগে বাড়ল রিং, মাটিতে পা পড়ার সাথে সাথে আবার গুলি করল । হেগেনের বুলেটটা আঘাত হানায় টলে উঠল অ্যালেন । ঠান্ডা মাথায় আবার ফায়ার করে আধপাক ঘুরে বিলটনের বেল্ট বাকলের ঠিক ওপরের আরেকটা গুলি ঢুকিয়ে দিল রিং । খুব দ্রুত, ক্ষিপ্র কিন্তু কার্যকর অ্যাকশন । চারটে গুলি করতে ওর তিন সেকেন্ডও লাগেনি । এক পা পেছনে হটে, মেঝেতে পড়ে যাওয়া টালি খাতাটা পকেটে পুরল ও । বিলটন মাটিতে পড়ে আছে, মুখ দিয়ে রক্ত বের করছে কাশির সাথে । ভাঙ্গা ডানহাত নিয়ে, জড়ান অবাক গলায় গালগাল করছে হেগেন । আর মাটিতে পড়ার আগেই মারা গেছে স্ট্যান ব্রুল । উঠে দাঁড়িয়ে আগে বাড়তে যাচ্ছিল হ্যাজলিটরা, এক কদম পিছে হটে পিস্তলটা হাত থেকে ফেলে দিল রিং, বর্ষাতির নীচ থেকে শটগানটা ফায়ারিং পজিশনে নিয়ে এসেছে সে । 'পিছে হট!' জড়ান গলায় বলল সে । 'সবাই পিছনে যাও, নইলে তিনজনকেই খুন করব আমি !' ক্ষুধার্ত নেকড়ের মত হিংস্র চেহারা ওদের তিনজনের, কিন্তু শটগানের সাথে কোন তর্ক চলে না । ধীরে ধীরে অনিচ্ছার সাথে, এক পা এক পা করে পিছিয়ে গেল ওরা । শটগান নাড়ল রিং । 'তোমরা সবাই, দেয়ালের কাছে গিয়ে দাঁড়াও !' সবাই উঠে ওর দিকে চোখ রেখে পিছিয়ে গেল । অনিশ্চিত, হুঁশিয়ার, কেউ কেউ ভীত । ওদের যেতে দেখল অ্যালেন রিং, মাথা ঘুরছে তার । খুলির মধ্যে দপ দপ করতে থাকা ব্যাথাটা দুর করার চেষ্টা করলে রিং । দুর্বলটা অন্য কোন জায়গা থেকে আসছে । 'মাই গড !' বলে উঠল রলি ট্রুম্যান । 'গুলি খেয়েছে লোকটা !' 'পিছে হট!' জড়ান গলায় বলল রিং । পেটমোটা স্টোভটার দিকে নজর গেল ওর । শটগানটা কোমরের কাছে ধরে এগিয়ে গেল সে স্টোভটার দিকে । সবকটা লোকের চোখ ওর দিকে । স্লিং থাকায় শটগানটা ধরে রাখতে সুবিধা হচ্ছে ওর । ডানহাত আলতো করে ধরে রেখেছে, আঙ্গুল ট্রিগারে । বাঁ হাতে স্টোভের পাল্লাটা খুলে, পকেট হাতড়াল ও । 'না!' গর্জে উঠল বাক হ্যাজলিট । রাগে চোখ জোড়া ঠেলে বেরিয়ে আসছে ওর । 'না ! এটা করতে পার না তুমি !' ছুটে আসতে যাচ্ছিল সে সামনে । শটগানের নলটা মাটিতে নামিয়ে গুলি করল রিং । বাকের পায়ের কয়েক ইঞ্চি সামনে বিঁধল গুলি । এত দ্রুত থামল সে প্রায় উল্টে পড়ে যেতে যাচ্ছিল সে । শটগান ওপরে উঠে কাভার করল তাকে । 'পেছনে !' হুকুম দিল রিং, পায়ের ওপর টলছে সে । 'পেছনে!' বলেই টালি খাতাটা ছুঁড়ে ফেল ল সে স্টোভের মধ্যে । চেপে রাখা শ্বাস ছাড়ল জনতা । তাকিয়ে থাকল ওরা, দেখল আগুনের লকলকে শিখা ঘিরে ফেলল খাতাটাকে । প্রথমে বাদামী, তারপর কালো, সবশেষে ছাই হয়ে গেল ওটা । মন্ত্রমুগ্ধের মত সেদিকে চেয়ে রইল সবাই । রিংএর চোখ গেল বাক হ্যাজলিটের দিকে । 'বেন টেইলর খুন করেছিল ওকে,' বলল সে । 'টেইলর সাথে ছিল বিলটন, ও দেখে ফেলেছিল এটা ।' 'শুধু তোমার কথাকেই মেনে নিতে হবে আমাদের ?' ক্রুদ্ধভাবে দাবি করল বাক হ্যাজলিট । চোখ বড় তাকাল অ্যালেন রিং । 'তুমি প্রশ্ন করতে চাও এটা নিয়ে ? নাকি আমাকে মিথ্যাবাদী বলতে চাও তুমি ।' ওর দিকে চাইল হ্যাজলিট । তারপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাল,'না, ঠিক আছে । ওরাই করেছে এ কাজ।' 'আমি তোমাদের সত্যি কথাই বলেছি,' বলেই হাঁটু ভাঁজ হয়ে গেল রিংএর । ধপাস করে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল ও । সবাই ছুটে এল সামনে । রলি ট্রুম্যান, স্টোভের সামনে বাক হ্যাজলিটের দিকে চাইল । বিশালদেহী লোকটা আগুনের দিকে মিনিটখানেক তাকিয়ে থেকে স্টোভের পাল্লাটা বন্ধ করে দিল । 'ভাল!' বলল সে । 'এই ভাল হয়েছে! জিনিসটা আমাদের ওপর একটা কাল মেঘের মত দাঁড়িয়ে ছিল ।' জানালা দিয়ে উজ্বল রোদ গলে পড়ছে, এমন সময় গেইল ট্রুম্যান ওকে দেখতে এল । বিছানা সোজা হয়ে বসতে পারে ও এখন, আগের চেয়ে সুস্থ লাগছে । বাড়ি ফিরতে পারলে ভাল হয়, অনেক কাজ জমে আছে । ভেতরে এসে মেয়েটা তার বুটে, রাইডিং হুইপ দিয়ে আলতো বাড়ি দিয়ে হাসল । 'ভাল লাগছে?' জিগ্যেস করল সে । 'তোমাকে দেখতে অবশ্যই ভাল লাগছে । দাড়ি কামিয়েছো তুমি ।' দাঁত বের করে হেসে, চিবুকে হাত বোলাল অ্যালেন । 'দরকার ছিল ব্যাপারটার । দু'সপ্তাহ বিছানায় পড়ে ছিলাম । আঘাতটা নিশ্চয়ই খারাপ ছিল খুব ।' 'অনেক রক্ত হারিয়েছিলে তুমি । তোমার হার্ট খুব শক্ত ।' 'এখন আর এত শক্ত নয়,' বলল রিং । 'খুবই দুর্বল হয়ে পড়ছি আমি ও জায়গাটায় ।' লাল হয়ে উঠল গেইল । 'ওহ? তোমার নার্স , ধরে নিতে পারি আমি ?' 'মেয়েটা সুন্দরী তাই না?' চমকে তাকাল গেইল । 'তার মানে তুমি--' 'না, হানি,' বলল রিং, 'তুমি ।' 'ওহ,' ওর দিকে তাকাল গেইল । তাপর পর চোখ নামিয়ে নিল । 'আমার মনে হয় --' 'ঠিক আছে ?' হঠাৎ হেসে উঠল গেইল । 'ঠিক আছে ।' 'তোমাকে বলার দরকার ছিল, ' বলল রিং । 'আমাদের বিয়ে করতে হবে ।' 'করতে হবে? কেন ?' 'লোকে কথা ছড়াবে । তোমার মত সুন্দরী অল্প বয়েসী কোন মেয়ে যদি সবসময় আমার ওখানে আসে লোকে ভাবতে পারে তুমি শুধু দৃশ্য দেখার জন্যই আসো !' 'ওরা যদি তাই ভাবে,' চটজলদি জবাব দিল গেইল । 'ওরা ভুল ভাববে !' 'তুমি বলছ আমাকে ?' জিগ্যেস করল রিং ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তোমার মত সুন্দরী মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now