বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজকের মতো কলেজ শেষ। আমি বাসে করে বাড়ি ফিরছি। বাসের জানালা দিয়ে বাহিরে চেয়ে আছি। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ফোটা গুলো জানালার কাচে এসে পরছে। আর কাচের উপর বৃষ্টির ফোটা গুলো আকাবাকা হয়ে সাপের মতো নিচে গড়িয়ে পরছে। যা দেখতে খুবই ভালো লাগছে। সবার মতো আমারো বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি একদমই পছন্দ করিনা। আজ যদি আমি বাড়িতে থাকতাম তাহলে এখন হয়তো আমি ছাদে থাকতাম। বৃষ্টির স্পর্শে নিজেকে ভেজাতাম। বৃষ্টিতে নিজেকে ভেজাতে খুব ভালো লাগে। কিন্তু এখন তো আর তা সম্ভব না। . . . . . .
,
গাড়ি টা সামান্য জ্যামে পরেছে , আমি আর এই সুযোগটা হাতছাড়া করলাম না। জানালা খুলে এক হাত বাহিরে বৃষ্টির সংস্পর্শে ভিজিয়ে দিলাম। বৃষ্টির পানিতে নিজের মুখটাও ভিজিয়ে নিলাম। বৃষ্টির ফ্রেস পানিতে মুখ ধোয়ার সাথে সাথে যেনো আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো। বৃষ্টির পানিতে নিশ্চয়ই কোনো জাদু আছে। যেটা আল্লাহ প্রদত্ত। . . . . . . .
,
দীর্ঘসময় ধরে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। অনর্গল যেমন বৃষ্টি পরতেই আছে ঠিক তেমনি আমার পিছনের ছিটে বসা এক কাপল অনর্গল বগ বগ করেই চলেছে। ১০ টা ছেলের মাথা চিবিয়ে খাওয়ার জন্য ওই একটা মেয়েই যথেষ্ট ছিলো। মেয়েটার কথা গুলো এইরকম ছিলো: . . .
__আচ্ছা বাবু বৃষ্টি এতো রোমান্টিক কি করে হয়।
__মানে?
__আরে বুঝো না। দেখছো কত্তো কিউট বৃষ্টি , আমার তো বৃষ্টি দেখলেই ভিজতে ইচ্ছে করে। কেনো এত্তো রোমান্টিক হতে হবে কেনো বৃষ্টি কে।
__তুমি ভিজো বলেই তো বৃষ্টি এতো রোমান্টিক , তুমি যদি না ভিজতা তাইলে আর বৃষ্টি এতো রোমান্টিক হইতো না। একেবারে ক্ষেত টাইপ হইতো।
__ইসসসস আমার এখন বৃষ্টিতে ভিজতে ইচ্ছে করছে। কত্তো সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে। আল্লাহ বাসায় যাওয়া পর্যন্ত যাতে বৃষ্টি টা থাকে বাসায় গিয়ে ভিজবো। আচ্ছা তুমি বাসায় গিয়ে কি করবা।
__আমি ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাবো , , , , , ,
__কিইইই তুমি এত্তো রোমান্টিক বৃষ্টি ছেড়ে ঘুমাবা , ছি তুমি এতো টা আনরোমান্টিক , আগে জানলে আর তোমার সাথে প্রেমই করতাম না।
__ তাইলে কি করমু তুমিই বইলা দেও।
__যতোক্ষণ বৃষ্টি হবে ততক্ষণ ভিজবা। ভিইজা ঠান্ডা লাগাই ফেলবা। কাল যদি তোমার ঠান্ডা না লাগে তাইলে তোমার খবর আছে।
__আচ্ছা ঠিক আছে , ঠান্ডা লাগাবো।
__এই দেখো দেখো পিচ্চিটা একা একা বৃষ্টিতে ভিজতেছে। দেখছো এই পিচ্চিটাও কতো রোমান্টিক , আগের জন্মে মনেহয় পিচ্চিটার গার্লফ্রেন্ড আমার মতো বৃষ্টি পাগল ছিলো তাই পিচ্চিটা এ জন্মে একা একা ভিজতেছে। আচ্ছা বাবু পিচ্চিটার গার্লফ্রেন্ড এখন কই আছে। পিচ্চিটার গফ কি এই পিচ্চিটার কথা ভুলে গেছে।
__না পিচ্চিটার গফ পিচ্চিটার জন্য ছাতা আনতে গেছে…………………
,
আমি বাহিরে তাকিয়ে দেখলাম আসলেই পিচ্চিটা একা একা ভিজছে। ঠিক ভিজছে না , ভিজছে বললে ভুল হবে। পিচ্চিটা শীতে কাপছে। দুর থেকে দেখলেও এইটুকু বুঝতে বাকি রইলো না যে পিচ্চিটা ইচ্ছে করে বা তার পূর্বের জন্মের প্রেমিকার কথা মনে করে ভিজছেনা। পিচ্চিটার গায়ে কোনো জামা নেই , শুধু একটা হাফপ্যাণ্ট পরা। তার বয়স ৭/৮ বছর হবে। আর হাতের মুঠে শক্ত করে ধরে আছে একটা প্লাস্টিকের বস্তা। আমরা সাধারণত এই সকল শিশুদের কে টোকাই নামে চিনি। আমরা তাদের নিয়ে একটা গালিও তৈরী করে ফেলেছি , সেটা হচ্ছে টোকাইয়ের বাচ্চা। . . . . . . . . . .
,
পিচ্চিটার ঠিক পেছনেই বেশ ঝকঝকে কিছু দোকান আর একটা হোটেল আছে। সেইগুলা তে সাহেবরা দাড়িয়ে আছে। হয়তো এই সাহেবদের জন্যই পিচ্চিটা আজ বৃষ্টিতে ভিজতেছে। সাহেবদের ভীরে পিচ্চিটার দাড়ানোর জন্য সামান্য পরিমাণ যায়গা হয়নি। হয়তো সাহেবদের জামাকাপড় নোংরা হবার ভয়েই তারা পিচ্চিটাকে তাদের পাশে দাড়াতে দেননি। আর দাড়াতে দেবেই বা কেনো ও তো টোকাই , টোকাইদের তো সাহেবদের পাশে দাড়ানোর কোনো যোগ্যতাই নেই। টোকাইদের তো জামাই নেই সুতরাং জামা ভিজে যাবার কোনো ভয়ও নেই। টোকাইদের তো অসুখ করেনা। টোকাই রা তো মানুষ না। টোকাই রা তো মানুষের কাতারেই পরেনা। সেইখানে সাহেবদের পাশে দাড়ানোর কথা আসবে কোথা থেকে। . . . . . . .
,
ছেলেটার সামনে, পিছে, ডানে, বামে, দিয়ে অনেকেই হেটে যাচ্ছে। তারা ভিজতে ভিজতে যাচ্ছে না। তাদের প্রত্যেকের মাথায় ছাতা আছে। ছেলেটা মাথা উচুঁ করে দেখলো তার সামনে দিয়ে যাওয়া লোকটা লাঠির মত কি যেনো ধরে আছে। যার জন্য লোকটা ভিজতেছে না। ছেলেটা শিশু কিন্তু মাথায় প্রচন্ড বুদ্ধি , আমি নিজেও ভাবিনি ছেলেটা এই কাজ করবে। ছেলেটা তার বস্তা থেকে বেশ বড়সর একটা ভালো পলিথিন বের করলো। ফু দিয়ে ফুলিয়ে পলিথিনের মুখটা শক্ত করে বেধেঁ দিলো। তারপর একটা লাঠি নিয়ে লাঠির উপর ফুলানো পলিথিন টা বেধেঁ নিলো। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ছাতা টা আবিষ্কার করে ফেললো ছেলেটি। . . . . .
,
আমাদের কাছে ছাতাটার দাম নেই , কিন্তু তার কাছে সেটা মুল্যবান। আমাদের কাছে তার ভেজাটার দাম নেই কিন্তু তার কাছে সেটা বেদনার্। বৃষ্টি আমাদের কাছে রোমান্টিক কিন্তু তার কাছে কষ্টের্। আমাদের অসুখ হলে মুখের কাছে ঔষধ ধরার জন্য মানুষের অভাব নেই। কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি তাদের কি হবে। আমাদের ঔই সব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমাদের মাথায় সব সময় একটাই কথা ঘুরে , নিজে বাচলে বাপের নাম। সেখানে একটা টোকাইয়ের কি হবে তাতে কার কি যায় আসে। . . . . . . . . .
,
জ্যাম ছেড়েছে , বাসটা আসতে আসতে তার চলার গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন সময় আমার পিছনে বসা সেই বিরক্তিকর কাপল এর বিরক্তিকর বগ বগ করে চলা মেয়েটা ডাক দিলো। বললোঃ ---------
__এই যে ভাইয়া শুনছেন।
__হে ছোট আপু বলো কি বলবা।
__এই আপনি আমাকে ছোট আপু বললেন কেন, ছোট মানে তো পিচ্চি। আর আমি মোটেও পিচ্চি না , আমি যথেষ্ট বড় হয়েছে। আর প্রথম আলাপে একটা মেয়ে কে তুমি বললেন কেনো , আমার মতো আপনি করে বলাটা আপনার উচিৎ ছিলো।
__হাহাহাহাহা আসলেই তুমি পিচ্চি। তোমাকে তুমি বলা আর ছোট আপু বলার কারন টা যদি বুঝতে তাহলে আর এই প্রশ্ন করতেছে। তুমি ছোট তো তাই বুঝতে পারোনাই।
__ভাইয়া আমি কিছুই বুঝিনাই একটু বুঝাই বলবেন প্লিজ।
__তুমি আমায় ভাইয়া বলে ডাক দিছো। সুতরাং আমি তোমার বড় ভাই। কারন বড়ভাই কেই ভাইয়া বলা হয়। তো আমি তোমার বড়ভাই , তাই তোমায় ছোট আপু বলছি। আর ছোটদের তুমি করেই বলতে হয়।
__হে ভাইয়া এইবার বুঝতে পারছি। ছিহহ আমি এতো বোকা এইটুকু বুঝতে পারিনাই। আল্লাহ . . . . . .
__কেনো ডাক দিলা সেইটা এখনো বলো নাই।
__oops সরি ভাইয়া ভুলে গেছিলাম। আসলে এখনো আপনার লজিক টা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তো তাই। আসলে ভাইয়া জানালা টা লাগিয়ে দেবার জন্য ডাক দিছিলাম , বৃষ্টির পানি গায়ে আসছে তো তাই।
__(আমি একটা মুচকি হাসি দিতে জানালা টা লাগিয়ে দেই)
,
হাসি দেবার কারনটি মেয়েটার কথা। কিছুক্ষণ আগেই এই মেয়েটাই বৃষ্টিতে ভেজার জন্য পাগল হয়ে ছিলো। আর এখন বৃষ্টির পানি শরীরে লাগার ভয়ে জানালা লাগাতে বলছে। আসলে মানবজাতি বহুরূপী , তাদের পরিবর্তন হতে খুব বেশী সময় লাগেনা। শুধু পরিবর্তন হতে পারেনা বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তার ধারে দাড়িয়ে থাকা সেই টোকাই রা।
,
তারা টোকাই , তারা সুখ টোকায় এর জন্য তারা টোকাই। তারা পেট ভোরে খেতে চায় , এর জন্য তারা টোকাই। তারা বাচতে চায় , এর জন্য তারা টোকাই। তারা হাসতে চায় , এর জন্য তারা টোকাই। বৃষ্টি থেকে বাচতে সাহেবদের ভীরে একটু দাড়ানোর যায়গা চায় , এর জন্য তারা টোকাই।
,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now