বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--এই জেরী..!শোন..!
.
(কিছু না বলেই হেটে যাচ্ছি।দৌড়ে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো নীলাদ্র)
.
-- কিরে,তোকে কতক্ষণ ধরে ডাকছি।তুই শুনছিস না কেন?
-:- তুই কি আমাকে ডেকেছিস?
-- না,আমি আমার বউকে ডেকেছি।
-:- তোর বউকে ডাকলে,আমার পথ আগলে দাঁড়িয়েছিস কেন?
-- তুই কি, কিছুই বুঝিস না?
-:- না, বুঝি না।আর বুঝতে চাই ও না।আর জেরীটা কে?
--জেরী হচ্ছে টমের ভালবাসা।
-:- ফাজলামো কেন করিস?
-- এখানে ফাজলামোরর কি আছে।আচ্ছা আমার আকাশের ভালোবাসার নিয়নবাতি গুলো কি তোর আকাশেও জ্বলে?
-:- আমার আকাশের নিয়নবাতি গুলো ফিউজ হয়ে গেছে। সেখানে এখন কেবলই অমবর্ষা।আর আমার নাম 'বিন্তি'।আমাকে বিন্তিই ডাকবি।জেরী টেরী আমার একদমই সহ্য হয় না।
-- হয়েছে মেডাম।টম কখনো কি জেরীর সাথে পেরেছে বলেন?
টমের হারার মাঝেও যে ভালোবাসা থাকে।আর দিন শেষে দুজন দুজনার।
-:- লেকচার থামান।কি বলবেন বলেন।
-- তোকে আমার বাসায় invite করতে এসেছি।২ দিন আমি ভার্সিটি আসবো না।এই নে আমার বিয়ের কার্ড।
.
.
(হঠাৎ করে কেন জানি বুকের মধ্যে কাপন দিয়ে উঠলো।এরই নাম বুঝি ভালোবাসা।কিন্তু আমার মত মেয়ের তো ভালবাসার অধিকার নেই।সমাজে আমার মত মেয়েদের কেউই ভালবাসতে চায় না।সবার ভালো মুখশের পেছনে যে আরেকটা রুপ থাকে, তা আমি 'বিন্তি' খুব ভালো করেই জানি। সবাই বলে, শিক্ষা নাকি মানুষের আচার-আচরনের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটায়।কিন্তু এই শিক্ষার কারনেই যে কত বাবা সর্বস্ব হারায়,কত মেয়েই যে নেয় নিষিদ্ধ পল্লীর সাধ তা কয়জনেই জানে? শিক্ষা মানুষের জীবনে চরম উন্নতি ঘটায়।আর সেই শিক্ষা অর্জনের জন্য যে মানুষকে কতটা অবনত হতে হয়,তা আমার মত বাবা-মা হারানো শত শত 'বিন্তি' জানে।তাদের আশ্রয় দেওয়ার মত অনেকেই থাকলেও তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার মত কেউই নেই।)
.
.
-:- এই মামা থামেন।
.
.
(হঠাৎ এত তাড়াতাড়ি ভার্সিটির হলে চলে আসবো ভাবি নি।এতক্ষন আমি রিক্সাতেই ছিলাম।রিক্সাটাও নীলাদ্রই ধরিয়ে দিয়েছে।ছেলেটা আমাকে ভীষণ ভালবাসে আমি বুঝি।কিন্তু আমার অনিশ্চিত ও যে ওয়ার্ডটা না যোগ করলেই নয় তা হলো 'কলঙ্কিত' জীবনের সাথে নীলাদ্রের জীবন জড়াতে চাই না।কিন্তু নীলাদ্র যে কম জ্বালায় আমায় তাও নয়।ঝিঙে গাছের আঠার মত সারাক্ষণ লেগেই থাকে।)
.
.
[রুমে এসে ব্যাগটা রাখলাম]
.
.
যাক বাবা বেঁচে গেলাম।ছেলেটার হাত থেকে শেষ মেষ রক্ষা পাবো।তবুও মনের মধ্যে কেমন যেন একটা ব্যাথা অনুভব হচ্ছে।তারপর কার্ডটা দেখি।কোন গুন ধরনীর সাথে ঝিঙে গাছের আঠার বিয়ে হচ্ছে তা জানার জন্য।আর তাই কার্ডটি খুললাম
.
.
কনেঃমেহের আফরোজ নিগার........-.
........বরঃনাহিয়ান চৌধুরী
বাবাঃ মোঃ আফজাল হোসেন..........
.........বাবাঃ নীরব চৌধুরী
মাতাঃ নাজনীন আরা...........................
... মাতাঃ কুসুম চৌধুরী
.
.
আরে নিগার আপুতো নীলাদ্রের বোন।ছেলেটা আবার আমায় ডফ্ দিলো।কাল ভার্সিটি যাই বুঝাবো মজা।পুরো কার্ডটা পড়লাম।সেখানে শুভেচ্ছান্তে নীলাদ্রের পাশে আমার নামটাও ছিলো।তাই রাগটা আরো বেশিই মাথায় উঠে গেল।অবশ্য আমার মত মেয়েদের রাগ ক্ষোভ এগুলো থাকতে নেই।
.
.
ধুর কি ভাবতে কি ভাবছি।আমি খারাপ, তাই বলে কি আমার রাগ থাকবে না।আমিও তো মেয়ে।কারো না কারো বউ হওয়ার স্বপ্ন দেখি, কিংবা কারো মা। না, না, আমার মত মেয়েদের স্বপ্ন দেখতে হয় না।
.
.
[পরের দিন]
.
.
-:- এই,তুই আমাকে মিথ্যে বলেছিলি কেন?
-- বাহ,রে আমি আবার কি মিথ্যে বললাম।
-:- কেন তুই বলিস নি তোর বিয়ে।
-- হ্যাঁ, বলেছিলাম সেটা তো তোকে রাগানোর জন্য।
-:- আমি রাগ করলে কি তোর ভালো লাগে?
--না, তা লাগে না।তবে কোথায় যেন পড়েছি ''যার প্রতি যার রাগ বেশী, তার প্রতি তার ভালোবাসাও বেশী''
-:- মোটেও না।আমি তোকে একটুও ভালোবাসি না।
-- হুম,হয়েছে। আর ভাব ধরতে হবে না।
-:- না, নীলাদ্র তুই আমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানিস না।
-- হুম জানি তো।
-:- কি জানিস?
-- তুই আমাকে ভালোবাসিস,আর আমি তোকে
-:- সব সময় তুই এত ফাজলামো কেমনে করিস।
-- শুধু ফাজলামো টাই দেখলি ভালোবাসা টা দেখলি না। হায় রে কপাল..! কাকে দিয়েছ রাজার পাল..! যে রাজ্যই চিনে না।
-:- হয়েছে মহা গরু এবার চলেন উঠি।
-- এই তুই আমাকে গরু বললি কেন?
-:- ওহ্ সরি। আপনিতো গুরু। আমি ভুলে বলে ফেলেছি।
-- ভুল করেতো একবার ভালোবাসি বলতে পারিস না।আর আপুর বিয়েতে যদি তোকে না দেখি তো খবর আছে। টিভিতে রোহিঙ্গাদের নিউজ এর সাথে বড় করে লিখা থাকবে "ধানমন্ডির এক বাসায় বোনের বিয়েতে ভাইয়ের আত্মহত্যা"
-:- তুই যে এত ছেলে মানুষী করিস না..! ওকে,আসবো যা।
--সেই জন্যইতো তোকে এত ভালোবাসি।
-:- হয়েছে আর ঢং দেখাতে হবে না।
.
.
ঐ দিনের গল্প সেখানেই ইতি।বিয়েতেও গিয়েছিলাম। নিলাদ্র সবার সাথে আমাকে তার বউ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।ছেলেটার লজ্জা শরম কিছুই নেই।সে তার বাবা-মায়ের সামনেও আমাকে তার হবু বউ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। নীলাদ্র তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান বলে তার বাবা মা'ও কিছুই বলে নি। সেইদিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন ছিলো।আমি এক মুহুর্তেই ভুলে গেছি আমার ভেতরও যে অন্য একটি জগৎ রয়েছে।যেখানে ভালোবাসার কোনো স্থান নেই।যাই হোক,বিয়েটা শেষ হলে নীলাদ্রকে আমি সব খুলে বলবো।কারন এই কয়েক দিনে নীলাদ্রের প্রতি আমার অনেক মায়া বসে গেছে।এই মায়া আর বেশি এগুতে দেওয়া ঠিক হবে না।মায়া বেড়ে গেলে তা কাটানো যায় না।হয়তো আমি নীলাদ্রকে বিয়েও করতে পারবো।কিন্তু কখনো না কখনো নীলাদ্র ঠিকই সব জানবে।আর তখন আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না।কারন কাছের মানুষের অবেহেলা সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের নেই।মানুষ নাকি বড্ড অভিমানী। তাই নীলাদ্রকে একদিন ডাকলাম দেখা করবো বলে।
.
.
-- তুই আমাকে ডেকেছিস কেন?
-:- তোকে কিছু কথা বলার ছিলো।
-- হুম জানি। তুই বলবি, দেখ নীলাদ্র আমি তোকে ছাড়া বাঁচবো না।আমি তোকে ভালোবাসি। এই কয়েকদিনে আমি তোকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।
-:- তোর ধারনা একটুও ঠিক না।আমি তোকে অন্যকারনে ডেকেছি।
-- আচ্ছা, আগে একটা কথা বলতো।
-:- হুম কি কথা?
-- তোর প্রিয় রঙ কি?
-:- নীল। কেন তুই জানিস না?
--হুম।আর আমারও প্রিয় রঙ নীল।
-:- আমার কথার সাথে তোর এই কথার কি সম্পর্ক?
-- বলছি তো। শোন না।তুই নীল ভালোবাসিস আর আমিও নীল ভালোবাসি।নীল টাকে কমন নীলে দুজন দুজন কে ভালোবাসি।
-:- আমার কথা গুলো শুনলে তোর ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালাবে।
-- আমাদের বাসার জানালা গুলো থাই গ্লাস করা,আর শক্ত লকও আছে।ভালোবাসা পালানোর কোন সুযোগ নেই।
-:- তোর ফাজলামো গুলো রাখবি..? না হয় আমি উঠলাম কিন্তু।
-- আচ্ছা..! রাগ করিস কেন? টম'টা যদি জেরীকে না জ্বালায় তাহলে কি টমের পেটের খাবার হজম হয় বল?ওকে আমি সিরিয়াস।বল কি বলবি।
.
.
-:- শোন, নীলাদ্র আমি জানি তুই আমাকে অনেক ভালোবাসিস।তার চেয়ে বড় কথা হলো তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস।আমার বাবা-মা অনেক অভিমানী। তাইতো দুনিয়ার জঞ্জাল যুক্ত জীবনে আমাকে জড়িয়ে তারা দূর থেকে মজা নিচ্ছে।এর কোনো কিছুই তোর অজানা নয়।কিন্তু তুই এটা জানিস না,আমার পড়া লিখার খরচ কোত্থেকে আসে? আমার হোস্টেলের খরচ কত্থেকে আসে?আমার অনেক আত্মীয় স্বজন আছে।কিন্তু আমার পাশে দাঁড়ানোর মত কেউই নেই।
.
.
-- দোস্ত ইমোশনে আমার চোখের পানি আসতেসে।তোর ঐ যাদুর বাক্সে (মেয়েদের কাঁধের ব্যাগ) টিস্যু আছে.? একটু দিবি?
-:- নীলাদ্র তোর ফাজলামো গুলো আমার এই মুহুর্তে একেবারেই নিতে ইচ্ছে করছে না।তুই কি আমার কথা শুনবি? নাকি আমি উঠবো?
.
.
-- তোর সারা জীবনের কথা শুনবো বলেইতো এত আয়োজন। বল কি বলবি।
.
.
-:- নীলাদ্র তোর ভালোবাসার যোগ্য আমি না।তুই অনেক ভালো মানুষ। আমার জীবন আর তোর জীবন সম্পূর্ণ বিপরীত। তুই আমার বাহ্যিক জগৎ টাকে চিনিস।তুই আমার বাহ্যিক রুপটাকেই ভালোবাসিস। কিন্তু এই রুপের সাধ অনেকে নিয়েছে।আমি কি বলতে চাইছি তুই অনেকটাই বুঝতে পারছিস। আমার ভেতর টা যেই জগতের সেখানে কোনো ধর্ম নেই, কোনো সমাজ নেই।এই জগতের স্থান দুনিয়াতেও নেই আখিরাতেও নেই।যার পরিনাম ভয়ংকর শাস্তি।তাহলে কেন আমি এই জগতে আছি..? এই প্রশ্নটা নিশ্চয়ই তোর মনে জাগতে পারে।প্রথমবার আমার অনিচ্ছাকৃত আমাকে জোর করে হয়েছিল।আমার জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে হলে হয়তো সুইসাইড করতো।কিন্তু আমি চেষ্টা করেও পারি নি।তাই বেঁচে থাকার জন্য,সমাজকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই পথ বেছে নিয়েছি।সমাজে কারো ভালোবাসার যোগ্য আমি না।কারন আমি নিষিদ্ধ সমাজের মেয়ে।
''আমি একটা স্লাট''
.
.
[এতক্ষন পর্যন্ত নীলাদ্র আমার চোখের দিকেই চেয়েছিল।হঠাৎ চোখটা ঝাপসা হওয়ায় কিছুক্ষণের জন্য ওর চাহুনি দেখতে পাইনি।চোখ মুছে আবার তাকালাম।নীলাদ্র মাটিতে ঘাস গুলোকে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে। হঠাৎ আমাকে অবাক করে দিয়ে নীলাদ্র উঠে চলে গেল।একটি কথাও বললো না।একবার পেছনের দিকে তাকালও না।সে দিন আমি অনেক কেঁদেছি।কিছুতেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নি।এভাবে কবে কখন কেঁদেছি,জানি না। সন্ধ্যে হওয়ায় সেই দিন চলে গেলাম
ভার্সিটির হলে।]
.
.
গত এক সাপ্তাহ ধরে নীলাদ্র ভার্সিটি আসে না।ওর বাসায়ও যেতে পারছি না।এই মুখ নিয়ে কিভাবে আমি ওর সামনে দাঁড়াবো, কিছুই আমার মাথায় ডুকছে না। পুরো পৃথিবীটা যেন আমার মাথার উপর ঘুরছে।
.
.
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now