বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঠাণ্ডা মাথায় খুন
-তাহমিনা সানি
‘তাহলে কী করে হলো?’
হ্যাঁ। ঠিক এ প্রশ্নটাই দুই দিন ধরে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে স্নায়ুতে ঢেউ তুলে যাচ্ছে।
কী করে হলো, এ প্রশ্নের উত্তর আপাতত তাঁর জানা নেই। কিন্তু আজকের মধ্যে এ প্রশ্নের একটা উত্তর খুঁজে বের করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে তাঁকে। চতুর্থ কাপ চা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন ডিটেকটিভ শরীফ মাহমুদ। ক্রাইম ব্রাঞ্চের শফিক মহিম এসেছেন একটু আগে। হোটেল কিংস্টনের বার সেকশনের পুরো ১২ ঘণ্টার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে এসেছেন। সেই ভিডিওর কোনায় কোনায় তল্লাশি করেও তিনি আসল খুনি ধরতে পারেননি। শেষে হাসতে হাসতে শফিক মহিম বললেন, এবার তো এই কেসটা আপনাকে ভোগাবে দেখছি!’
‘হুম। ’ একটা নিঃশ্বাস ফেললেন শরীফ মাহমুদ, ‘আমি তো পুরো ব্যাপার সাজিয়ে যা পেয়েছিলাম, তাতে বেশ আনন্দিতই হয়েছিলাম। ধরে নিয়েছিলাম, বিষ বোতলে নয়, বরং ছিল মি. রহমানের গ্লাসে। বিষটা শুকনো অবস্থায় ছিল। ওয়াইন ঢালায় সেটা ওর সঙ্গে মিশে যায়। আর এর পেছনে আনোয়ার সাহেবের হাত আছে বলেই ধরে নিয়েছিলাম। আজ তাঁকে আসতে বলেছি আবার। ’
মাথা নাড়লেন মহিম, ‘না। তা কী করে হবে। আমরা মি. রহমানের গ্লাসের বিষের নমুনা পরীক্ষা করেছি। ওটা পাউডার বিষ, না লিকুইড বিষ। আর যাঁর যাঁর গ্লাসে তাঁর তাঁর হাতের ছাপই আছে। একেবারে নির্ভুল!’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন শরীফ মাহমুদ—‘যা যা প্ল্যান করে রেখেছিলেন, সব বদলে সমীকরণটা আবার নতুন করে সাজাতে হয়েছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় রহমান সাহেবের স্ত্রীকেও রাখতে হয়েছে। তিনি আইনের কোনো লোকের সঙ্গে প্রথমে কথাই বলতে চাচ্ছিলেন না। পরে এক রকম ভয় দেখিয়েই জেরা করতে হয়েছে। যদিও তাতে উল্লেখযোগ্য কোনো সূত্রই মেলেনি।
মহিম চলে গেলে শরীফ মাহমুদ খানিকক্ষণ পায়চারি করে বেড়ালেন রুমে। শেষে কিছু মাথায় না আসায় ওয়াশরুমে গিয়ে চোখ-মুখ ধুয়ে এলেন। মাথা ঠাণ্ডা করে আবার প্রথম থেকে শুরু করলেন। প্রথম দিককার ফাইলগুলোয় চোখ বোলাতে লাগলেন। কিছু মিস করে যাচ্ছেন না তো? আছে কি এমন কিছু, যা একদম চোখের সামনে অথচ দেখতে পাচ্ছেন না?
বেল বাজিয়ে পিয়নকে ডাকলেন—
‘আরেক কাপ চা দাও। ’
‘স্যার? উনি আসছেন। ’
‘উনি কারো নাম হয় নাকি?
‘সরি, স্যার। নাম মনে নাই। তবে কালকা সকালবেলা যিনি আপনার সঙ্গে রাগারাগি করসিলেন, তিনি আসছেন। ’
‘ও, আচ্ছা। বুঝেছি। পাঠিয়ে দাও। চা আর বিস্কুট দাও। ’
‘জে, আচ্ছা’
একটু পরই হুড়মুড় করে এক ভদ্রলোক ঢুকলেন। রেগে আগুন—‘আপনি তো আচ্ছা রকমের বাজে লোক মি. শরীফ! যে খুনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই, তাতেই আমাকে প্রধান সন্দেহভাজন ভেবে বসে আছেন। কী কারণে, জানতে পারি?’
‘অবশ্যই জানতে পারেন। ’ মুচকি হেসে বললেন শরীফ মাহমুদ, ‘আগে একটু ধীরস্থির হয়ে বসুন? এক কাপ চা খান। মাথা ঠাণ্ডা করুন। ’
‘আমি এখানে বসতে বা আপনার আতিথেয়তা গ্রহণ করতে আসিনি। যা বলার সাফ সাফ বলুন। ’
‘আমার সাফ কথা এটাই, আপনি দুই দিন আগে মি. রহমানের সঙ্গে বসে ড্রিংকস করেছেন। বোতলে আপনার হাতের ছাপ আছে। ’
‘আর এতে প্রমাণ হয় যে আমিই খুনি!’ তির্যক দৃষ্টিতে তাকালেন বদরুল আনোয়ার। ভিকটিমের বাল্যকালের বন্ধু। অনেক দিন বিদেশে ছিলেন। গত সপ্তাহে দেশে এসেছেন। প্রথম সাক্ষাতের দিনই বন্ধুর মৃত্যু। ব্যাপারটা কেমন ঘোলাটেই মনে হচ্ছে শরীফ মাহমুদের।
‘ফর ইওর কাইন্ড ইনফরমেশন—আমি ছাড়াও সেদিন আরো অনেকে ছিল বারে। যারা রহমানেরও বন্ধু ছিল। ’
‘তা ছিল! কিন্তু তাদের আঙুলের ছাপ বোতলে ছিল না, যেমন আপনার ছিল। ’
রাগে ফোঁস ফোঁস করতে লাগলেন আনোয়ার—‘বাজে কথা বলবেন না!
‘ঠিক আছে। শুধু এটুকু বলুন—সেদিন বারে কে কাকে ডেকেছিল। আপনি মি. রহমানকে, নাকি তিনি আপনাকে?’
‘দেশে ফেরার পর আমিই ওকে ফোন দিয়েছিলাম। তারপর ও আমাকে পানীয়ের দাওয়াত দিল। ’ মুখ থমথমে করে বললেন আনোয়ার। ‘ট্রিটটা ওর পক্ষ থেকেই ছিল। কিন্তু তার মানে তো এই না যে আমি তাকে বিষ খাইয়ে মারব। আপনি ভুলে যাচ্ছেন, আমরা শত্রু নই, বন্ধু। ’
‘কিন্তু অন্য কারো সঙ্গেও তো সখ্য আছে দেখলাম। আপনি দেশে আসার পর মি. রহমানের স্ত্রীর নম্বর থেকে সবচেয়ে বেশি কল এসেছে। সে তুলনায় মি. রহমানের কল এসেছে অনেক কম!’
‘আপনারা গোয়েন্দারা সিম্পল একটা ব্যাপারকে এত ঘোলাটে করে তুলতে পারেন! রহমানের স্ত্রীও আমার পারিবারিক বন্ধু। ’
‘চলুন, এখন বরং ক্যামেরা ফুটেজে দেখি?’ ডিটেকটিভ শরীফ মাহমুদের ঠোঁটে হাসি।
ভিডিও চালু হলো। দেখা গেল, বারের এক কোনায় বসে দুই বন্ধু গল্প করছেন। একটু পরে এক ওয়েটার এসে বোতল আর গ্লাস দিয়ে গেল। ভিকটিম টিপস দিলেন। সে চলে গেল। এরপর আবার আরেক ওয়েটার এলো। সে এলো ছোট ছোট কিউব করা বরফ নিয়ে। এবার আনোয়ার তাকে টিপস দিলেন। সে চলে গেল। মি. রহমান খুব সুন্দর করে গুছিয়ে বরফ নিয়ে ওয়াইন খেতে লাগলেন। আনোয়ার সাহেবের গ্লাসটাও বরফ আর সোডা দিয়ে চট করে বানিয়ে দিলেন। আনোয়ার তাঁর গ্লাসটা নিলেন। তারপর এক চুমুকেই শেষ করে ফেললেন। এরপর কথা বলতে বলতে মি. রহমানের গ্লাসে ওয়াইনের বোতল থেকে আরেকটু পানীয় ঢেলে দিলেন।
শরীফ মাহমুদ মার্ক করলেন—আনোয়ার সাহেবের হাতের ছাপটা তখনই লেগেছিল।
আনোয়ার সাহেব উঠে গিয়ে বারের এক কোনায় গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন। আরো কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ায় কথা বললেন। তাদের সঙ্গে ওয়াইনও খেলেন। তারপর বেশ অনেকটা সময় কাটিয়ে প্রায় মিনিট বিশেক পর মি. রহমানের কাছে ফিরে এলেন। তিনি তখনো এক ধ্যানে পান করে চলেছেন। ধীরগতির বিষ কাজ শুরু করছিল বোধ হয় ওই সময়। চোখে ঝাপসা দেখছিলেন। বারবার চোখ ডলে নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন। আর খেতেও তাঁর ইচ্ছা করছিল না। ওয়েটারকে নির্দেশ দিলেন সব নিয়ে যেতে। আরেক দফা টিপস নিয়ে ওয়েটার সব গুছিয়ে চলে গেল।
ভিডিও ফুটেজে আরো পাঁচ মিনিট ধরে দুই বন্ধুকে গল্প করতে দেখা গেল। তারপর হঠাত্ চোখ-মুখ বিকৃত করে মি. রহমান উঠে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ওখানেই মারা গেলেন। শরীফ মাহমুদ ভিডিওটা অফ করে দিলেন।
আনোয়ার সাহেবের মুখ থমথমে। বোঝাই যাচ্ছে, রাগ চেপে রাখতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে তাঁর। কিন্তু কোনো কথাই বললেন না। শরীফ মাহমুদও নিশ্চুপ ভাবতে লাগলেন। এ মুহূর্তে তাঁর মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষে ঝড় বয়ে চলেছে যেন! রহস্যের খুব কাছাকাছি থেকেও কেন যে ঠিক ধরতে পারছেন না...
এবার মুখ ভার করে উঠে দাঁড়ালেন আনোয়ার সাহেব, ‘চলি। আর যাওয়ার আগে একটা কথা সরাসরি বলে যাই—‘রহমানের মৃত্যুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুঁজে বেরোলেও শেষ পর্যন্ত ফল হবে জিরো, আর এর পরও যদি আমাকে শুধু শুধু বিরক্ত করেন, আপনার ওপরের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হব। ’
থপথপ করে পা ফেলে আনোয়ার সাহেব রুম ছেড়ে বের হয়ে গেলেন। তাঁর চলে যাওয়া দেখতে দেখতে হঠাত্ একটা ব্যাপার মাথায় এলো শরীফ মাহমুদের। আবারও ভিডিও ফুটেজটা অন করলেন। রিউইন্ড করে ঠিক ওই জায়গায় আনলেন, যেখানে তাঁর সন্দেহ হয়েছে।
তাড়াতাড়ি বেল বাজালেন। পিয়ন এলো—‘স্যার, ডাকসেন আমারে?’
‘হুম। নিচে যাও আর ওনাকে একটু ডেকে আনো!’
পিয়ন মাথা চুলকাতে লাগল, অপ্রস্তুত হেসে বলল—‘স্যার, বুঝলাম না। ’
‘আরে ওনাকে, যিনি কালকে সকালে আমার সঙ্গে রাগারাগি করেছিলেন!’
‘ওওওও!’ এবার স্যারের মজা করাটা বুঝতে পারল, আর জোরে ছুটতে লাগল আনোয়ার সাহেবকে ডেকে আনতে।
শরীফ মাহমুদ হো হো হো করে হাসতে লাগলেন। সে হাসি থামতেই চাইল না।
পাঠক বলুন, গোয়েন্দা শরীফ মাহমুদের ভিডিওতে কী দেখে সন্দেহ হয়েছিল? খুনি কে ছিল? তিনি কিভাবে শনাক্ত করলেন?
সূত্র:- মগজ ধোলাই
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now