বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঠাকুরদের পূর্বপুরুষ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X উপন্যাসের প্রারম্ভিক পর্যায়ে পুরানো কিছু গাল-গল্প করতে গিয়ে সুনীল কলকাতার যুগলসেতুর দের কাহিনি এবং কলকাতা নগরী পত্তনের সাথে তাদের ভুমিকা খুবই সচেতনভাবে তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছেন। ঠাকুরদের আদি পদবী ছিল কুশারী, কুশ গ্রামের নামানুসারে তাদের এমন পদবী। তাদের এক বংশলতিকা ঘটনাক্রমে পীর সংসর্গে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তাদের নাম হয়ে যায় পিরালীর বামুন। এই পিরালীর বামুনরা খুলনার পিঠাভোগ গ্রাম ছেড়ে ভাগ্যান্বেষণে কলকাতায় চলে আসে এবং ব্রাহ্মণ হওয়াতে স্থানীয় লোকেরা তাদের ‘ঠাকুর’ বলে ডাকা শুরু করে। তখন ইংরেজ কর্তৃক নতুন শহরকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন কাজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। লবণ ও অন্যান্য ব্যবসার মাধ্যমে কলকাতা শহরে ঠাকুরদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ভীষণরকমভাবে বেড়ে গিয়েছিল। এই বংশের সবচেয়ে সূর্যসন্তান প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর আরো বিভিন্ন ব্যবসায়ে জড়িয়ে সেই সম্পত্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি ইংল্যান্ডের রানির আমন্ত্রণে তিনি ব্রিটেন পরিদর্শন করতে গিয়ে ফরাসীদেশও ভ্রমণ করে আসেন যা ভারতীয় ইংরেজদের চোখেও তাকে ঈর্ষাণ্বিত করে তোলে। অথচ তাঁর এমন সম্পদ-লিপ্সা ও বিলাস-ব্যসনকে জ্যেষ্ঠপুত্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সুনজরে দেখেননি যা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। তাই সব ছেড়ে ইংল্যান্ডেই স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান এবং সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পিতার মৃত্যুর পর দেবেন্দ্র পুরোপুরি ঈশ্বর ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। অথচ যুবাবয়সে তিনি হিন্দু ধর্মের প্রতি ভীষণ অনুরক্ত ছিলেন এবং এক সরস্বতী পূজায় প্রায় এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। উপনিষদের শ্লোক দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনতিকাল পড়েই পিতৃবন্ধু রাজা রামমোহন রায়ের মতাদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন এবং আধ্যাত্মিতা ও ব্রাহ্ম ধর্ম প্রচারের পথ বেঁচে নেন। ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি একেশ্বরবাদী ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের কাজ হাতে নেন যা সে-সেময় হিন্দু যুবকদের খ্রিষ্টান হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। নব্য-প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মধর্ম দেবেন্দ্রনাথের পুত্রসম কেশব সেনের মতো যুবকদের প্রবল উৎসাহ ও প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও তাদের মধ্যকার বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য ও অন্তর্দ্বন্দ্ব ফাটল সৃষ্টি করে। গোঁড়া হিন্দুরা ব্রাহ্মধর্ম প্রচারকে হিন্দুধর্ম নাশের ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন, কারণ ব্রাহ্মরা কোনো দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা করে না, বরং নিরাকার ব্রহ্মের আরাধনা করে। দেবেন্দ্রনাথ ঐ-সমাজে সমাজ-সংস্কারের যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তা যথার্থভাবে চিত্রিত করে লেখক প্রাজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন। দেবেন্দ্রনাথের মেজ পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম আইসিএস হয়ে ঠাকুর বাড়ি ও বাঙালির মুখ উজ্জ্বল করেন। ১৮৬১ সালে দেবেন্দ্রনাথের চতুর্দশ সন্তান রবীন্দ্রনাথের জন্ম হলে নাম রাখার অনুষ্ঠানে তারই প্রতিবেশী নবীনকুমার সিংহের আমন্ত্রিত হওয়ার খবর আমরা এই উপন্যাসে জানতে পাই। নবীনকুমার দেবেন্দ্রনাথের প্রিয়পাত্র ও ব্রাহ্মদের আলোচনায় উপস্থিত থাকলেও ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেয়ার কথা কখনও মনেও আনেন নি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঠাকুরদের পূর্বপুরুষ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now