বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সূর্য তখন অনেকটাই পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার পায়তারা করছে। অনুপম চাবাগানের ভিতর হামাগুড়ি দিয়ে এগুতে থাকে। অনেকক্ষণ দৌঁড়ানোর পরে সে এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে যে, এখন যেন তার দেহ চলাই ভার!
শুধু কি তাই- হাঁপানি রোগীদরে মতো সে হাঁপাচ্ছেও। ভয়ে যতই সে হাঁপানির শব্দ নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে ততই যেন তা আরও বেড়ে যাচ্ছে!
বিস্তৃর্ণ চাবাগান। বাগানের নীরবতা ভেঙ্গে মাঝে মাঝে কোন অপরিচিত পাখি ডেকে ওঠলে সে হকচকিয়ে চায়। তার মনের ভেতর দুরুদুরু করে কেঁপে ওঠে।
এই বুঝি বিরোধী পার্টির লোকেরা এল! এক অজানা ভয় তাকে ফেরারি আসামীর মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ক্লান্ত শরীরে সে একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য চোখ বুজে। হঠাৎ তার মনে পড়ল অনিন্দিতার কথা। এই সেরেছে! এখন তো অনিন্দিতার পার্কে থাকার কথা!
আবার ভাবলো নিশ্চয়ই কল দিয়ে যাবে। আবার পরক্ষণই তার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তাও ঢেউ খেলে গেল। আজ তার বাবার নির্বাচন। এ নির্বাচন রেখে সে কোনমতেই পার্কে আসবে না। না আসতে পারলেই ভাল। আমি কী আর যেতে পেরেছি?
এমনিভাবে নিজেকে নিজের মতো করে প্রবোধ দিতে থাকে। হঠাৎ বাম দিক থেকে একটি সাপ ফোস করে ওঠে। অনুপম চোখ মেলে। হকচকিয়ে চায়। কী আশ্চর্য! সন্নিকটেই লাল জামা পরিহিত এক তরুণী অর্ধনগ্ন অবস্থায় উপুর হয়ে শুয়ে আছে।
এই বাগানে কোনতরুণী একলা শুয়ে রয়েছে দেখে তার মধ্যে একদিকে যেমন ভীতি কাজ করলো তেমনি প্রাগৈতিহাসিক গল্পের ভিখুর মতো আদিম চিন্তাও ঢেউ খেলে গেল। অনুপম খুব সূক্ষ্ম কৌশলে চারদিক পর্যবেক্ষণ করে। কেউ কোথাও নেই। পৃথিবীর সকল নির্জনতা যেন এখন এই বাগানের মধ্যে খেলা করছে।
চায়ের সবুজ পাতার ভাঁজে ভাঁজে যেমন চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য বিরাজ করছে তেমনি অনাদিকালের নির্জনতাও যেন লেপ্টে রয়েছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now