বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"তুমি ঠিকই বলেছো আমি একটা স্টুপিড।
কারন এতোটা স্টুপিড না হলে তোমাকে
এখনো কি ঠিক ততোটাই ভালবাসি যতটুকু
আগেও বেশেছি। তুমি আমার সাথে
অভিনয় করলে আর আমিও তোমাকে আগের
মত ভালবাসি"। কথাগুলো বলতে বলতে
চোখ দিয়ে অশ্রু ঝড়ছিলো সিহাবের।
ছেলেদের চোখে অশ্রু নাকি শোভা
পায়না। কিন্তু দুঃখের বহিঃপ্রকাশ আর
কিভাবেই বা করবে সে? একবার
স্মোকিং করেছিলো স্পর্শিয়া'র সাথে
দেখা করার পূর্বে। তবে ঠিকই বুঝে
ফেলেছিল স্পর্শিয়া। তাই আর এমন টা
করেনা সে।
.
~~যখন জানতে পারলো স্পর্শিয়া শুধু তার
সাথেই নয় আরও কিছু ছেলের সাথে সম্পর্ক
রয়েছে। তখন একটিবারও অবিশ্বাস করতে
চায়নি। কিন্তু স্পর্শিয়া কে জিগ্গাসা
করতেই সে বলল, "হ্যা আমি অনেকগুলো
রিলেশান রাখি, আমার ভাল লাগে তাই
এমনটা করি। তোমার ইচ্ছে হলে এখন তুমি
চাইলে আমার সাথে ব্রেকাপ করো
তাতে আমার কিছু আসে যাবেনা। অথচ
তুমি এতোটাই বোকা যে এখনো বলতেছে
জাস্ট তোমাকে যেন ভালবাসি?"
,
,
~সিহাব, নিজের চোখ দুটো মুছে
স্পর্শিয়া'র দিকে তাকিয়ে বলল, "জীবনে
প্রথম বার তুমি আমাকে জান বলে
ডেকেছিলে তখন মনে হয়েছিলো, এই
মানুষটা আমার বড়ই আপন। তোমার মুখে
জান শব্দ টা শুনে আমার কাছে শুধুই আপন
মনে হতো না, মনে হতো তোমার
জীবনটাই যেন আমি নয়ত আমাকে কেনো
জান বলে ডাকবে। এতোটাই তো
ভালবাসি তোমায়। আজ তাহলে সে জান
শব্দ টার মানে কি হলো একটু বলবে?"
,
~~"দেখো সিহাব রিলেশানে জড়ালে
জান, বাবু, সোনা, লক্ষীটি, কলিজা
ইত্যাদি এমনি বলে গফ/বফ কে। তার
মানে এটা না যে এগুলো সব সময় মনে
রাখতে হবে, আর এর একটা মানে থাকবে"।
,
~~"তুমি বোধ হয় আমাকে আর কখনো জান
বলে ডাকবে না, আমি যখন শুনলাম তোমার
একাধিক রিলেশান রয়েছে তখন যতোটা
না খারাপ লেগেছে তার থেকে বেশি
খারাপ লাগছে এটা শুনে যে, তোমার
সাথে ব্রেকাপ করলে তোমার কিছু
হবেনা। তুমি কি একটিবারও আমাকে মনে
করবে না? তোমার সাথে কাটানো আমার
কিছু আনন্দদায়ক রোমান্টিক মুহুর্ত গুলো,
এগুলোর কি তোমার কাছে কোনো মানে
নেই?"
,
~~"আমার কাছে এসবের কোনো মানে
নেই, আমি শুধু তোমার সাথেই টাইম পাস
করিনি আরও অনেকের সাথে করেছি,
করি। তাই এসব আমার কাছে কোনো
ব্যাপার না। আর আমি তোমার সাথে এসব
নিয়ে কথা বলতে চাইছিনা আমার ভাল
লাগছেনা। তুমি বরং এমন একজন কে খুজে
নাও যে একমাত্রই তোমাকে লাভ করবে,
তোমাকে জান বলবে। ভাল থেকো
সিহাব"""।
,
,
~~স্পর্শিয়া চলে যাবার পর সিহাব
ফোনটা বের করে, তাকে ফোন করলে সে
বার বার কেটে দিতে থাকে। রোডের
পাশ দিয়ে হাটতে গিয়ে অনেকের সাথে
ধাক্কা লেগে কত কথাই শুনতে হয় তাকে।
পাগল, অন্ধ ইত্যাদি।
,
~~সিহাব বরাবরই অনেকটা ইমোশোনাল
টাইপের ছেলে। যে ছেলে একমাত্র
স্পর্শিয়া কে ছাড়া আর কারো কথা
ভাবতোও না। স্পর্শিয়া খুব সুন্দরী একটি
মেয়ে তাও নয়। কিন্তু সিহাবের কাছে তার
ভালবাসার মূল্য অনেক।
,
,
"If u leave me, i promise u will come back once
with ur open eyes to see my close eys".
~~সিহাব মেসেজটি পাঠানোর কিছু সময়
পরই স্পর্শিয়া একটি স্মাইল ইমো রিপ্লাই
করে। চোখ দুটি ভিজে ওঠে আবার
সিহাবের।
,
~~"ফিরে এসো স্পর্শিয়া, আজ সারা দিন
একটিবারও আমাকে তুমি জান বলে
ডাকলে না। হৃদয় টা ব্যাথায় ছিড়েঁ যেতে
চাইছে। জানি তুমি আমাকে আর
ভালবাসি বলবেনা, আমি তো সেটা শুনতে
জোর করছিনা একটিবার জান বলে
ডাকবেনা আমায়?" মেসেজটি ঘুমানোর
পূর্বে সেন্ড করে ফোনের স্ক্রীনের
দিকে বার বার তাকাচ্ছে।
,
~~কোনো রিপ্লাই না আসায় স্পর্শিয়া
কে কল করে, কয়েকবার রিসিভ না
করলেও পরে রিসিভ করলো।
"বলো কি বলবে? তাড়া তাড়ি বলো?
"জান বলে একটিবার ডাকবে প্লিজ?
"এসব ন্যাকামো আমার একটুও ভাল
লাগছেনা।
"একবার শুধু বলো নয়ত আমি পাগল হয়ে
যাবো।
"যাও পাগল হয়ে, বা তুমি মরেই যাও
তাতে আমার কিছুনা।
,
,
~~স্পর্শিয়া'র শেষ কথাটি কানে বাজতে
থাকে। সারা রাত ঘুমাতে পারলো না।
সারা রাত না ঘুমানোর ফলে চোখ দুটি
লাল হয়ে রয়েছে। ঘুমে'র ঝিম এলেও
ঘুমাতে চায়না সিহাব। এই ঘুমই বা এমন কি
ঘুম? জেগে উঠলেই তো স্পর্শিয়া কে মনে
পড়বে। সুইসাইড করার মত সাহস তার মধ্যে
নেই। কি করবে সে?
,
~"রাফি আমাকে একটা হেল্প করবি?
~"তোর কন্ঠটা এমন শোনাচ্ছে কেনো?
~"সুইসাইড করতে চাই, একটা ইজি ওয়ে বল।
~"ওহ তাহলে তো আগে দেখা কর কারন
বলছি সব থেকে ইজি ওয়ে।
~"এক্ষুনি আসছি।
,
,
~~সম্পূর্ন ঘটনা খুলে বলে রাফি কে। "হুম
বুঝলাম। কিন্তু ওর মত একটা মেয়ের জন্য
তুই কেনো সুইসাইড করবি? তুই তো সত্যি
ভালবাসতিস তাইনা?"। বিষন্ন হয়েই
সিহাব বলল, "হ্যা, সত্যি অনেক ভালবাসি
ওকে"। "তাহলে এক কাজ কর নিজে
সুইসাইড করার আগে ওকে মেরে ফেল"।
,
~"আমি এটা কিভাবে করবো?"
~"কেনো করবিনা?
~"আমি ওকে ভালবাসি। ওকে একদিন
হলেও জান বলেছিলাম।
~"ঠিক আছে তাহলে তুই নিজেই সুইসাইড
কর
~"দোস্ত ও আমাকে অনেক বার জান
বলেছে। আমার কিছু হলে সেই জান
কথাটার কি কোনো মানে থাকবে?
~"সেটাইতো, তোর কিছু হলে এখন ওর
খারাপ লাগবেনা। পরে যদি লাগে, তখন
কি কথাটির কোনো মানে থাকবে?
~"দাড়া ওকে একবার কল করি।
,
,
~"হ্যালো স্পর্শিয়া?"।
~"আবার ফোন দিছো কেনো?"
~"জান বলবে একবার "।
~"কি শুরু করলে?"।
~"তোমাকে জান বলতে বললাম, জানো
আমি ভাবলাম যে সুইসাইড করি পরে মনে
পড়লো আমার কিছু হলে তোমার বলা জান
শব্দটি অর্থহীন হয়ে যাবে। তাই তুমি যত
যাই করোনা কেনো? জীবনে কখনো যদি
এমন হয় আমার কাছে ফিরে আসতে ইচ্ছে
হচ্ছে, মনের মাঝে কোনো সংকোচ রেখো
না প্লিজ ফিরে এসো তখন। আমি তোমার
জন্য অপেক্ষা করবো জান"।
~"তুমি প্লিজ আমাকে আর বিরক্ত করোনা
সিহাব।
~"তা কিভাবে হয় জান, আমি
চেয়েছিলাম তো সুইসাইড করবো
তোমাকে আর বিরক্ত করবোনা, পরে
ভাবলাম আমি মরে গেলে তোমাকে
জ্বালাবে কে?"। "উফ অসহ্য"। বলেই
ফোনটা কেটে দিলো।
,
~~ফোনটা কেটে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে
বন্ধুর দিকে তাকালো সিহাব। স্পর্শিয়া'র
কথা সব শুনতে পেয়েছিল রাফি। সে ভয়
করছে যে সিহাব, আবার না ডিসাইড করে
সুইসাইডের জন্য। কিন্তু সিহাব হেসেই
বলল, "প্রথম ভাবলাম সুইসাইড করি, ও সব
সময় ইগনোর করতেছে আমাকে। কষ্ট হয়না
বল? বুকটা তো ফেেট যাচ্ছে"।
,
~~"এসব বলিস না, ও আর তোকে ইগনোর
করবেনা আবার আগের মত ভালবাসবে
দেখিস"।
,
~"আমি জানি ও আবার ফিরে আসবে।
কিন্তু এই অাস্থাটুকুর জন্য সবাই আমাকে
হয়ত বোকা বলবে, কিন্তু আমি সত্যিই
একটা স্টুপিড তাই আমি নিজের কোনো
ক্ষতি করবো না। কারন আমি জানি ও
আসবে, হয়ত আমার চোখ দুটি বুজে ফেলার
পর"। বলেই বন্ধুকে জড়িয়ে কাদতে থাকে
সে। রাফির চোখেও জ্বল এসে যায় বন্ধুর
কান্না দেখে। সে জানতো না
ভালবাসায় এত কষ্ট, রোমান্টিক
ভালবাসা তো কতই দেখেছে। কিন্তু সে
জানতো না, প্রিয় মানুষটা হারিয়ে
গেলে এভাবে কেউ কাদতে পারে। তাও
শুধু তাকে মেয়েটি জান বলে
ডেকেছিলো বলে। রিলেশানে, সিম্পল
জান বলে তো অনেকেই অনেক কে
ডাকে। তবুও এই কথাটা যে শুধু একটি
সিম্পল ওয়ার্ড নয় সেটা আজ তার বন্ধু
সিহাব কে দেখে বুঝলো সে। যে
ছেলেটা বোকার মতই কেদে যাচ্ছে, সে
যে বুকের মাঝে এতোটা ভালবাসা একটি
মেয়ের জন্য বেধে রাখে সেটা যদি
স্পর্শিয়া বুঝতো তাহলে বোকা নামক
অর্থটি সে তার নিজের জন্যই ব্যবহার
করতো। কারন স্পর্শিয়া যাকে বোকা
ভাবে, সেই মানুষটা পৃথিবীর সব কিছু
উপেক্ষা করেই তাকে ভালবাসে নয়ত
সুইসাইড করার মত একটা সিদ্ধান্ত সে
প্রথমে নিতো না আর পরে ভাবতোও না
সেই মেয়েটি আবার ফিরে আসবে তার
কাছে। এতটাই বিশ্বাস করে তাকে।
কিন্তু বোকা মেয়েটি বুঝলো না। সে
ছেলেটিকে বোকা ভেবে গেলো। তবে
বোকা ছেলেটা যে তাকে এতোটা
ভালবাসে সেটা চোখে পড়লো না। সত্যি
খুব দুর্ভাগ্য স্পর্শিয়া'র।
:
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now