বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
সত্যজিৎ রায় এর রয়েল বেঙ্গল রহস্য-৩
"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান mim (০ পয়েন্ট)
X
তড়িৎবাবু কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে
বিকেলে আর আমাদের সঙ্গে বেরোতে
পারলেন না। তার বদলে এলেন
মহীতোষবাবুর বন্ধু শশাঙ্ক সান্যাল। ইনিও
দেখলাম। এদিকে এত দিন থেকে জঙ্গল আর
জানোয়ার সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনে
ফেলেছেন। সাড়ে চারটেতেই প্রায়
অন্ধকার হয়ে-যাওয়া জঙ্গলের রাস্তা
দিয়ে জিপে করে যেতে যেতে কত রকম
গাছপালা আর কত রকম পাখির ডাক যে
আমাদের চিনিয়ে দিলেন। ত্ৰিশ বছর আগে
এ জঙ্গলে বাঘের ংখ্যা কত বেশি ছিল তাও
বললেন। ত্রিশ বছর ধরেই আছেন। ভদ্রলোক
লক্ষ্মণবাড়িতে। আসলে কলকাতার লোক,
ইস্কুল আর কলেজে মহীতোষবাবুর সঙ্গে এক
ক্লাসে পড়েছেন।
রোদ যখন প্ৰায় পড়ে এসেছে তখন একটা সরু
নদীর ধারে এসে আমাদের গাড়িটা
থামাল। শশাঙ্কবাবু বললেন, একবার
নামবেন নাকি? চলন্ত গাড়ির ভিতর থেকে
জঙ্গলের পরিবেশটিা ঠিক ধরতে পারবেন
না।
জিপ থেকে নেমেই প্রথম বুঝতে পারলাম
জঙ্গলটা কত গভীর আর নিস্তব্ধ। বাসায়
ফিরে যাওয়া পাখির ডাক আর নদীর
ফুরিয়ে আসা জলের কুলকুল শব্দ ছাড়া কোনও
শব্দ নেই। সঙ্গে বন্দুক না থাকলে ভয়ই করত।
বন্দুক রয়েছে যার হাতে সে নাকি
এখানকার একজন নামকরা পেশাদারি
শিকারি। নাম মাধবীলাল। আগে যখন
বিদেশ থেকে শিকারিরা এখানে আসত
তখন মাধবীলালই নাকি তাদের গাইডের
কাজ করত। কোন রাস্তায় বাঘ চলাফেরা
করে, কোন গাছে মাচা বাঁধা উচিত, কোন
জন্তুর ডাকের কী মানে, এ সব নাকি
মাধবীলালই বলে দিত। বছর পঞ্চাশ বয়স,
পেটানো শরীর, তাতে চর্বির লেশমাত্র
নেই।
আমরা জিপ থেকে নেমে একটু এগিয়ে গিয়ে
নদীর ধারে বালি আর নুড়ি-পাথরের উপর
গিয়ে দাঁড়ালাম। এ কথা সে কথার পর
ফেলুদা শশাঙ্কবাবুকে জিজ্ঞেস করল,
দেবতোষবাবু পাগল হলেন কী করে?
শশাঙ্কবাবু বললেন, এদের বংশে ইনিই প্রথম
পাগল নন। মহীতোষের ঠাকুরদাদারও
শেষের দিকে মাথা খারাপ হয়ে
গিয়েছিল।
তই বুঝি? তা হলে শিকারের ব্যাপারটা…?
সব বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হাতের কাছ থেকে
বন্দুক-টন্দুক সব সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
এক’দিন হঠাৎ বৈঠকখানার দেওয়াল থেকে
একটা পুরনো তলোয়ার খুলে নিয়ে সেটাই
হাতে করে জঙ্গলে চলে গেলেন বাঘ
মারতে। ইস্কুলে থাকতে ইতিহাসের বইয়ে
শের শাহ-র কথা পড়েছেন তো?–ইনি
উত্তরুকালে তরবারির এক আঘাতে একটি
বাঘের মস্তক ছেদন করিয়া শেয় আখ্যা
প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। –পাগল অবস্থায়
আদিত্যনারায়ণের শের শাহ হবার শখ
জাগে।
তারপর? লালমোহনবাবু চোখ গোল গোল
করে চাপা গলায় প্রশ্নটা করলেন।
সেই যে গেলেন, আর ফেরেননি। এক
তলোয়ার ছাড়া আর প্রায় সব কিছুই বাঘের
পেটে গিয়েছিল।
ঠিক এই সময় কাছেই একটা জানোয়ারের
চিৎকার শুনে লালমোহনবাবু প্রায় তিন
হাত লাফিয়ে উঠলেন। শশাঙ্কবাবু হেসে
বললেন, আপনি এত অ্যাডভেঞ্চারের বই
লেখেন, আর শেয়ালের ডাক শুনেই এই
অবস্থা?
না, মানে লেখক বলেই কল্পনাশক্তিটা একটু
বেশি কি না। আপনি বাঘের কথা বললেন,
আর আমিও দেখলুম হলদে মতো কী জানি
একটা ওই ঝোপটার পিছন দিয়ে চলে গেল।
এখনও যায়নি, তবে কিছুক্ষণের মধ্যে যেতে
পারে।
কথাটা খুব নিচু গলায় বললেন শশাঙ্কবাবু।
ওইটাই কি বার্কিং ডিয়ারের ডাক?
ফেলুদাও ফিসফিস জিজ্ঞেস করল।
একটা জন্তু ডেকে উঠেছে কয়েকবার।
অনেকটা কুকুরের মতো ডাক। বাঘ
কাছাকাছি এলেই বার্কিং ডিয়ার বা
কাকর হরিণ ডেকে ওঠে এটা আমি ফেলুদার
কাছে শুনেছি। শশাঙ্কবাবু মাথা নেড়ে
হ্যাঁ বলে আমাদের জিপে গিয়ে বসতে
ইশারা করলেন। আমরা প্রায় নিঃশব্দে
গিয়ে যে যার জায়গায় বসে পড়লাম;
অন্ধকার আরও বেড়েছে। হরিণটা আবার
ডেকে উঠল। জিপের হুড ফেলে দেওয়া
হয়েছিল, কাজেই আশেপাশে কোনও
জানোয়ার এলে আমরা সবাই দেখতে পাব।
আমার বুকের ভিতরটা টিপ টিপ করছে;
মাধবীলালও গাড়ির কাছে এসে স্থির হয়ে
দাঁড়িয়ে আছে। লালমোহনবাবু একবার
আমার হাতটা ধরাতে বুঝতে পারলাম ওঁর
হাতের তেলো বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে
গেছে।
প্রায় ছটা পর্যন্ত দম বন্ধ করে অপেক্ষা
করেও কোনও জানোয়ার দেখতে না পেয়ে
আমরা বাড়ি চলে এলাম।
সন্ধ্যার দিকে পশ্চিমের আকাশ দেখতে
দেখতে কালো মেঘে ছেয়ে গেল, আর চোখ
ধাঁধানো শিকড় বার-করা বিদ্যুতে
আকাশটা বার বার চিরে যেতে লাগল।
আমরা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে তাই
দেখছিলাম, এমন সময় দরজায় টোকা পড়ল।
দরজা খোলাই ছিল, ঘুরে দেখি
মহীতোষবাবু।
কীরকম বেড়ালেন? ভদ্রলোক তাঁর জাঁদরেল
গলায় প্রশ্ন করলেন।
আমরা আরেকটু হলেই বাঘ দেখে
ফেলেছিলাম! ছেলেমানুষের মতো চেঁচিয়ে
বলে উঠলেন লালমোহনবাবু।
বছর দশেক আগে এলে নিশ্চয়ই দেখে
ফেলতেন, বললেন মহীতোষবাবু, আজ যে
দেখতে পেলেন না, তার জন্যে অবিশ্যি
আমাদের মতো শিকারিরাই খানিকটা
দায়ী। শিকারটাকে যে স্পোর্টের মধ্যে
ধরা হত কি না; আজকে নয়, আদ্যিকাল
থেকে। পৌরাণিক যুগে রাজারা মৃগয়ায়
যেতেন। মোগল বাদশাৱাও যেতেন।
ইদানীংকালে আমাদের দুশো বছরের প্রভু
সাহেবরাও যেতেন, আর আমরাও গেছি। এই
দু হাজার বছরে তীরের ফল আর বন্দুকের
গুলিতে কত জনোয়ার মরেছে ভাবতে
পারেন? তারপর সার্কাস আর
চিড়িয়াখানার জন্য কত জন্তু-জানোয়ার
ধরা হয়েছে তার কোনও হিসেব আছে কি?
ফেলুদা মহীতোষবাবুর দিকে চেয়ার এগিয়ে
দেওয়াতে ভদ্রলোক বললেন, বাসব না।
আপনাকে একটা জিনিস দেখাতে এসেছি।
চলুন, আমার ঠাকুরদার ঘরে চলুন। ঘরটা
দেখেও আনন্দ পাবেন।
মহীতোষবাবুর ঠাকুরদার ঘর উত্তরদিকের
বারান্দায় উত্তর-পূর্ব কোণে। ঘরের দিকে
যেতে যেতে ফেলুদা বলল, আপনার ঠাকুরদার
শেষ বয়সে পাগল হয়ে যাওয়ার গল্প
শুনছিলাম শশাঙ্কবাবুর কাছে।
মহীতোষবাবু একটু হেসে বললেন, পাগল হবার
আগে ষাট বছর বয়স অবধি তার মতো
পরিষ্কার মাথা খুব কম লোকেরই দেখেছি।
যে তলোয়ারটা দিয়ে বাঘ মারতে
গিয়েছিলেন, সেটা এখনও আছে কি?
সেটা ঠাকুরদার ঘরেই আছে। চলুন
দেখাচ্ছি।
আদিত্যনারায়ণ সিংহরায়ের ঘরের তিন
দিকের দেয়ালে আলমারিতে ঠাসা বই,
পুঁথিপত্র আর খবরের কাগজের ডাঁই। অন্য
দিকের দেওয়ালের সামনে রয়েছে দুটো
সিন্দুক আর একটা কাচের আলমারি।
আলমারির মধ্যে খুঁটিনাটি কত রকম যে
জিনিস রয়েছে তা একবার দেখে মনে
রাখা অসম্ভব। বাঘের নখ, গণ্ডারের শিং,
হাতির দাঁত আর ধাতুর তৈরি নানারকম
ছোটবড় মূর্তি, পাথর-বিসানো ভুটিয়া
গয়নাগাটি, তাঁর প্রিয় ভুটিয়া কুকুরের গলার
বকলসতাতেও লাল নীল হলদে পাথর বসানো!
এ ছাড়া আছে একটা রুপের কলম আর দোয়াত,
একটা মোগল আমলের দূরবীন, আর দুটো মড়ার
মাথার খুলি। ওপরের দুটো তাকের এই
জিনিসগুলোর কথা আমার মনে আছে।
নীচের দুটো তাকে রয়েছে খালি
অস্ত্রশস্ত্ৰ। কারুকার্য করা তিনশো বছরের
পুরনো পিস্তল, গোটা আষ্ট্রেক ছারা,
ভোজলি আর কুকরি, আর একটা তলোয়ার। এই
তলোয়ারটা নিয়েই আদিত্যনারায়ণ বাঘ
মারতে গিয়েছিলেন। পাগল না হলে এমন
কাজ কেউ করে না, কারণ তলোয়ারটা খুব
বেশি বড় নয়। বিকনিরের কেল্লায় রাজপুত
রাজাদের যে তলোয়ার দেখেছিলাম
সেগুলো এর চেয়ে অনেক বেশি বড় আর
ভারী।
ইতিমধ্যে মহীতোষবাবু একটা সিন্দুক খুলে
তার ভিতর থেকে একটা হাতির দাঁতের
কাজ করা ছাট্ট বাক্স বার করে এনেছেন।
এবার সেটা থেকে একটা পুরনো ভাঁজ-করা
কাগজ বার করে বললেন, ডিটেকটিভদের তো
নানারকম ক্ষমতা থাকে শুনেছি। আপনি
হেঁয়ালির সমাধান করতে পারেন কি,
মিস্টার মিত্তির?
ফেলুদা বলল, এককালে ওদিকটায় ঝোঁক ছিল
সেটা বলতে পারি।
ফেলুদা একটা ইংরেজি সংকেতের সমাধান
করেছিল সোনার কেল্লার ব্যাপারে।
বাংলা আর ইংরেজি হেঁয়ালির অনেক বই
ওর কাছে আছে, আর বিদগ্ধমুখমণ্ডলম বলে
একটা সংস্কৃত হেঁয়ালির বইও আছে।
মহীতোষবাবু এবার হাতের কাগজটা
ফেলুদাকে দিয়ে বললেন, আপনারা তিন
দিন থাকবেন বলছিলেন। তার মধ্যে যদি এই
সংকেতের সমাধান না হয়, তা হলে আরও
তিনটে দিন সময় দিতে পারি। তার পরে–
আর না।
শেষের কাটা কথা বলার সময় ভদ্রলোকের
স্বরটা যে কীরকমভাবে বদলে গেল তা ঠিক
লিখে বোঝাতে পারব না। কিন্তু এটা বেশ
বুঝতে পারলাম যে মহীতোষবাবুর ভিতরে
একটা কঠিন মানুষ রয়েছে, আর সময় সময় সেই
মানুষটা বাইরে বেরিয়ে পড়ে। যেমন এখন
পড়ল। গলার স্বরের সঙ্গে সঙ্গে
মহীতোষবাবুর চোখের চাহনিটাও বদলে
গিয়েছিল, আর সেটা স্বাভাবিক হবার
আগেই ফেলুদার প্রশ্ন এল–
আর যদি পারি?
ফেলুদা যে ঠিক কড়া ভাবে প্রশ্নটা
করেছিল তা নয়। এমনকী করার সময় ঠোঁট আর
চোখের কোণে একটা হালকা হাসির ভাবও
ছিল; কিন্তু এও বুঝতে পারলাম যে
মহীতোষবাবুর ভিতরের শক্ত মানুষটাকে
রুখে দাঁড়াবার মতো শক্তি ফেলুদার আছে।
মহীতোষবাবু এবার বেশ সহজভাবে হেসে
বললেন, যদি পারেন তো আমার মারা বড়
বাঘের একটা ছাল আমি আপনাকে উপহার
দেব।
আজকালকার দিনে একটা রয়েল বেঙ্গলের
ছাল যে নেহাত ফেলনা জিনিস নয়। সেটা
আমি জানতাম।
মহীতোষবাবুর হাত থেকে কাগজটা নিয়ে
তাতে মুক্তোর মতো হাতের লেখা
সংকেতটা ফেলুদা একবার বিড় বিড় করে
পড়ল—
মুড়ো হয় বুড়ো গাছ
হাত গোন ভাত পাঁচব
দিক পাও ঠিক ঠিক জবাবে।
ফাল্গুন তাল জোড়
দুই মাঝে ভুঁই ফোঁড়
সন্ধানে ধন্দায় নবাবে।
আপনার ঠাকুরদা কি কোনও গুপ্তধনের
সন্ধান দিয়েছেন এই সংকেতে? ফেলুদা
জিজ্ঞেস করল।
আপনার কি তাই মনে হয়?
শেষের লাইনটাতে তো সেই রকমই একটা
ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে হয়। সন্ধানে।
ধন্দায় নবাবে। এমন জিনিস যার সন্ধান
পেলে নবাবের মনও ধাঁধিয়ে যায়।
ধনদৌলতের কথাই তো মনে হয়। অবিশ্যি
আপনার ঠাকুরদা সে রকম লোক ছিলেন কি
না সেটাও একটা প্রশ্ন। সকলে তো আর
সংকেত লিখে গুপ্তধন লুকিয়ে রাখে না।
ঠাকুরদার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব ছিল। তিনি
চিরকালই খামখেয়ালি মানুষ ছিলেন, রং-
তামাশা করতে ভালবাসতেন,
প্র্যাকটিক্যাল জোক পছন্দ করতেন।
ছেলেবিয়সে একবার বাড়ির গুরুজনদের উপর
রাগ করে মাঝরাত্তিরে উঠে তাঁদের
প্রত্যেকের চটি জুতো খড়ম নাগরা সব নিয়ে
তালগাছের মাথায় ঝুলিয়ে রেখে
এসেছিলেন। এটা যদি গুপ্তধনের সংকেত হয়,
তা হলে সেটাও তার খামখেয়ালিপনারই
একটা নমুনা বললে বোধহয় ভুল হবে না।
মোটকথা। আপনি— কী চাই, তড়িৎ?
তড়িৎবাবু যে কখন দরজার মুখটাতে এসে
দাঁড়িয়েছেন তা টেরই পাইনি। ভদ্রলোক
শাস্তভাবেই বললেন, চরিতাভিধানটা
নিয়েছিলাম, সেটা রেখে দিতে এসেছি।
ঠিক আছে, রেখে যাও। আর প্রুফটা দেখা
হয়ে গিয়েছে?
আজ্ঞে হ্যাঁ।
তা হলে কাল ওটা সঙ্গে করে নিয়ে যেয়ো।
আর সেকেন্ড প্রফেও এত ভুল থাকে কেন এই
নিয়ে কড়া করে কথা শুনিয়ে দিয়ে এসো
তো।
তড়িৎবাবু হাতের বইটা আলমারির তাকে
একটা ফাঁকের মধ্যে গুঁজে দিয়ে চলে
গেলেন। মহীতোষবাবু বললেন, তড়িৎ কাল
দিন-সাতেকের জন্য কলকাতা যাচ্ছে। ওর
মা-র অসুখ।
ফেলুদা এখনও ছড়াটার দিকে দেখছিল। বলল,
এ সংকেতের কথা আর কে জানে?
মহীতোষবাবু ঘরের বাতি নিবিয়ে দিয়ে
দরজার দিকে এগোতে এগোতে বললেন, এটা
পাওয়া গেছে। এই দিন-দশেক হল। আমাদের
বংশের ইতিহাস লিখব বলে পুরনো বাক্স-
প্যাটরা ঘেঁটে দলিলপত্তর বার করছিলাম।
একটা স্টিল ট্রাঙ্কে ঠাকুরদার চিঠিপত্র
ছিল। ফিতোয় বাঁধা চিঠির তাড়ার তলা
থেকে এই বাক্সটা বেরোয়। আসলে কী
জানেন— এটার কথা যে—কজন জানে—
অথাৎ আমি, শশাঙ্ক আর আমার
সেক্রেটারি— তাদের কারুরই ক্ষমতা নেই
এর মানে উদ্ধার করার। এটার জন্যে একটা
বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োজন। ভাষার
মারপ্যাঁচ জানা চাই। সেটা আপনি জানেন
কি না সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন।
ফেলুদা কাগজটা ফেরত দিয়ে দিল।
সে কী, আপনি কি হাল ছেড়ে দিলেন
নাকি? মাহীতোষবাবু ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস
করলেন।
ফেলুদা হেসে বলল, না। ওটা আমার মুখস্ত
হয়ে গিয়েছে। ঘরে গিয়ে খাতায় লিখে
নিচ্ছি। এটা আপনাদের মূল্যবান
পারিবারিক সম্পত্তি, এটা আপনার কাছেই থাক।
·
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now