বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"খোকা"…… !!!
"বাবা একটু পরে আসোনা অনেক ইমপর্টেন্ট একটা কাজ করছি"। ইমনের কথা শুনে আসলাম সাহেব কথা না বাড়িয়ে নিজের রুমের দিকে হাঁটা শুরু করলেন।
আসলাম সাহেব কে রুমে আসতে দেখে হুমায়রা বেগম বিছানা ছেড়ে উঠে বসলেন। হুমায়রা বেগম আসলাম সাহেবকে বলল, "খোকা কি বলল"??? "দরকারী একটা কাজ করছে পরে যেতে বলল" বলে আসলাম সাহেব বারান্দায় দোল খাওয়া চেয়ারটায় বসে পিঠ এলিয়ে দিল।
.
আসলাম সাহেব ভাবছেন "এই বয়সটা তার কেনো হলো? কেনো নিজের স্বাধীনতাকে বিলুপ্ত করে পরাধীনতায় বাস করছে? ছেলে মেয়ে গুলো বড় না হলেই হয়তো ভালো হতো"। কোমল হাতের স্পর্শে আসলাম সাহেব পিছনে ফিরে তাকাল। তার স্ত্রী হুমায়রা কাঁধে হাত রেখে আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, "কি ভাবছো এতো"?? আসলাম সাহেব দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ছেড়ে বলল, "কই কিছু না তো"। "বললেই হলো? কিছু যদি নাই ভাবতে তাহলে তো আমার ডাকে সাড়া দিতে। কতবার তোমাকে ডাক দিলাম সেদিকে তো কোন খেয়ালই নেই" বলে পাশের চেয়ারটায় বসলো হুমায়রা বেগম।
.
- ভাবছি ছেলে-মেয়ে গুলো বড় না হলেই পারতো।
হুমায়রা বেগম একটু মুচকি হেসে বলল …………
- হঠাৎ এই কথা বলছো যে?
- মাথার চুল গুলোতে তো আর এমনি এমনি রং ধরেনি তাই না বলো? অনেক কিছুই দেখি, বুঝি তবুও চুপ করে থাকি। থাকতে হয় কারন এখন আমরা পরাধীনতায় বাস করি। হুমায়রা বেগম বলল, "হুম, হয়তো বা তাই"। আসলাম সাহেব আবার বলল, "এই পরাধীনতা থেকে মুক্তি কেবল একমাত্র মৃত্যুই দিতে পারে"।
- কি বলছো এসব?
আসলাম সাহেব মৃদু হাসলেন আর কিছু বললেন না।
.
আসলাম সাহেবের দুই ছেলে আর এক মেয়ে। সবাই অনেক বড় হয়ে গেছে যার যার সংসার জীবন নিয়ে এখন ব্যস্ত। আসলাম সাহেব বড় ছেলে ইমনের কাছে থাকেন। ইমনের এক ছেলে আর এক মেয়ে। সারাদিন এত ব্যস্ততায় সময় কাটে ইমনের। বাসায় যে অসুস্থ বাবা-মা আছে সেদিকে তার খেয়াল নেই। মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি থাকে। সংসারের কাজকর্ম সেরে, সময় পেলে ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নেয়। আর ছোট ছেলে বউয়ের সাথে শ্বশুরবাড়িতেই থাকে। তাই বাবা-মায়ের এত খোঁজ খবর নিতে হয় না কারন সেখানে তার নতুন বাবা-মা হয়েছে।
.
বৃদ্ধ বয়সে এসে এখন তাদের অন্যের কথায় চলতে হয়। কয়েকদিন যাবৎ আসলাম সাহেবের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না ডক্টর দেখানো দরকার। এই কথাটাই তার ছেলেকে বলতে চাইছে কিন্তু ইমনের সময়ই হয়ে উঠছে না বাবার কথা শুনার। এত বড় একজন মানুষ যার সাথে কথা বলতে গেলে আগে সময় হবে কিনা জানতে হয়। মাঝে মাঝে আসলাম সাহেব খুব অবাক হোন। এই ছেলেমেয়েদের জন্য তার জীবনের বেশি অর্ধেক সময় কষ্ট করে আজ ছেলেমেয়েদের এই অবস্থানে আনতে পেরেছেন। অথচ ছেলেমেয়েরা আজ এতটাই বড় হয়ে গেছেন যে বাবা-মায়ের কোন খেয়ালই রাখে না, একটু সময় দিতে পারে না।
.
হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো ইমনের, অফিস থেকে দ্রুত গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো। রাস্তায় অনেক ভিড় জমে গেছে একটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। মাথার ক্ষত দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পাশের ঝোঁপে গিয়ে জমেছে। ইমন সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখেন আসলাম সাহেব পড়ে আছেন। ইমনের সাথে কয়েক জন লোক ধরাধরি করে আসলাম সাহেবকে গাড়িতে উঠান। ইমন গাড়ি নিয়ে দ্রুত হসপিটালের দিকে যায়। এখনো বেঁচে আছেন আসলাম সাহেব। অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয় আসলাম সাহেবকে। টানা ৪৮ ঘন্টা পর আসলাম সাহেবের জ্ঞান ফিরে। পাশে হুমায়রা বেগম বসে অঝোরে কেঁদেই যাচ্ছেন। পায়ের কাছে ইমন দাঁড়িয়ে সাথে বউ মা ও দাঁড়িয়ে আছে।
.
ইমন একটু গম্ভীর গলায় বলল, "কি দরকার ছিলো তোমার বাহিরে বের হবার?? আমাকে বললেই তো পারতে"। আসলাম সাহেব আস্তে করে বলল, "তোমার তো সময়ই ছিলো না বাবার কথা শুনার।
ইমন : বলেই দেখতে।
- কয়েকদিন ধরেই তো তোমাকে বলতে চাইছিলাম কিন্তু আমাদের জন্য সময় কোথায় তোমার? মা-বাবার সাথে এক সাথে বসে শেষ কবে ভাত খেয়েছিলে বলতে পারো? পারো না… পারার কথাও না। মা-বার সাথে বসে একটু গল্প কি কথা বলার ও সময় হয় না তোমার। তোমার সাথে কথা বলতে হলে আগে এপয়েন্টমেন্ট যে নিতে হয়। কেনো বাবা আমরা কি তোমার কাছের কেউ না?? অফিসের কর্মচারী আর আমাদের মধ্যে কি কোন পার্থক্য নেই??
ইমন : বাবা কি বলছো এসব??
.
- ঠিকি বলছি বাবা তোমরা যখন ছোট ছিলে তখনই ভালো ছিলো। কাজ শেষে যখন বাড়ি ফিরতাম তখন দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলতে, "বাবা তারাতারি চলো আজ কি হয়েছে শুনবে"। আর এখন আমরা চাই তোমাদের বলতে, "খোকা আজ কি হয়েছে জানিস" কিন্তু সেই সুযোগটাই নেই কারন তোমাদের কাছে এখন আমাদের জন্য কোন সময় নেই।
ইমন : বাবা………
- সময় চলে গেলে সেই সময় গুলো আর ফিরে পাওয়া যায় না। যদি পাওয়া যেতো তাহলে সেই দিন গুলোতে ফিরে যেতাম যখন তোমাদের কাছে আমাদের মূল্য ছিলো আর এখন………
কথা গুলো বলতে বলতে আসলাম সাহেবের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে গাল বেয়ে অশ্রুকণা গুলো গড়িয়ে পড়তে লাগল।
ইমন জড়িয়ে ধরে আসলাম সাহেবকে……
ইমন : বাবা আমাকে মাফ করে দাও ভুল হয়ে গেছে আমার। তোমরা আমাদের কাছে মূল্যহীন হয়ে যাওনি আর হবেও না। হয়তো পৃথিবী আর টাকার মোহে তোমাদেরকে সময় দিতে পারি না কিন্তু অন্তরের অন্তস্তল থেকে তোমাদের প্রতি অসীম ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা রয়েছে।
.
ইমনের কথায় আসলাম সাহেবের চোখ দুটো আরো ঝাপসা হয়ে আসে। আসলাম সাহেব ইমন কে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, "ছেলে মেয়ে যতই অন্যায় করুক বাবা মার কাছে তার ছেলে মেয়ে সব সময় ভালো থাকে। কষ্ট পেলেও ছেলে মেয়েদের জন্য কখনই খারাপ দোয়া আসে না ভালো ছাড়া। আমি তোমার জন্য খারাপ দোয়া করবো না। মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাইতে নেই বাবা- মা সব সময় তার ছেলেমেয়েদের মাফ করে দেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now