বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্মৃতি-০২ (শেষ)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সাথী মাঝে মাঝে তাওহীদের জন্য বিভিন্ন ধরণের খাবার নিজ হাতে বানিয়ে আনতো।আবার মাঝে মাঝে তাওহীদদের বাড়িতেও সবাইকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াইতো।সবাই তার গুণ গায়তো কিন্তু তাওহীদ উল্টা বলতো।এতে সাথী রাগ পায়তো ও মনে এক ধরণের ভাল লাগা কাজ করতো।কারণ মুখে খারাপ বললেও চোখে ভাল হয়েছে বোঝিয়ে দিতো। আবার তাদের মাঝে ছোট খাট ঝগড়াও হতো; কিন্তু অভিমানটা থাকতো কিছুটা সময় পর্যন্ত তার থেকে বেশী না।তাওহীদদের বাড়ির সবাইকে সে হাত করে ফেলে।সে যখন যেটা বলতো তখন তাওহীদকে সেটাই করতে হতো।আবার তাওহীদের কাছে মাঝে মাঝে বিভিন্ন ধরেণের আবদার করতো।তখন তার সে গুলো পূরণ করতে হতো।আর না করলেই তার বাবা-মা ও বোনের কাছে বিচার দিতো।তখন তারা তার বিচার করতো।সবার এরকম আচরণে তার অনেক রাগ হতো।তারপর সাথীই রাগ কমিয়ে দিতো।এভাবেই দিন গুলি চলে যেতে থাকে। • - ভাবী আমার ভাইটাকে কি করে আসলা? - প্রতিবারের মত জ্বালিয়ে আসলাম। - বেশী জ্বালাইয়ো না।বিয়ের পর কিন্তু কিছুই খুঁজে পাইবা না। এটা বলেই মাওয়া হাসতে থাকে। - সেটা ননদীনি তোমাকে বলতে হবে না(গাল টেনে) বলে সাথী ও তার হাসির সাথে হাসি মিলাতে থাকে। - তা কেমন জ্বালিয়ে আসলে - তা তুমি নিজ চোখে দেখে এসো - উহুম তুমি বল - একটু জ্বালিয়েছি। এভাবে আরও না না ধরণের কথা বলে হাসে আবার দুই জনে মিলে দুষ্টামি ও করে।তারপর তাওহীদের রুমে এসে তাকে চোখের এক পলক দেখে আবার সাথী বাসায় চলে যেতে থাকে। • তাওহীদ সাথীকে অনেক ভালবাসে।সাথী ও তাওহীদকে অনেক ভালবাসে।কিন্তু কেউ কোনদিন তা প্রকাশ করেনি।দুই জনেই মনে মনে ঠিক করে রাখে বাসর রাতে তাদের ভালবাসার কথা বলবে। সাথীর কেয়ারিং করা, শেয়ারিং করা, এগুলো তার ভাল লাগতো।সাথীর দুষ্টামি করা, শাষণ করা, মান-অভিমান করা, এগুলোও তাওহীদের কাছে ভালো লাগতো। সাথীর কাজল কালো চোখের তাকানো, সাথীর মায়াবী হাসি দেখলে তাওহীদ তার তাকানো ও হাসির মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতো। নিজেকে তখন অন্য জগতের মনে করতো; যেখানে আছে সুখ-শান্তি ও ভালবাসা।যেখানে নেই দুঃখ-কষ্ট ও বেদনা। . আর সাথী! তাওহীদের বোকা বোকা চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতে তার ভাল লাগতো, কথা বলতে ভালো লাগতো, কথা শুনতেও তার ভালো লাগতো।কারণ তাকে দেখলে ও তার কথা শুনলে মনে একটা শান্তি পেতো।তাই তার সাথে এত কথা বলতো ও এত জ্বালাতো। আর তখন তাওহীদের চোখ রাঙ্গানোটা তার কাছে ভাল লাগতো, শাষণ করাটাও তার কাছে ভাল লাগতো।কিন্তু তাওহীদ যখন অভিমান করতো তখন তার অনেক কষ্ট হতো।সেটা সে সহ্য করতে পারতো না।তখন যেকোন উপায়ে তার এই অভিমান ভাঙ্গাতো। আবার সে যখন অভিমান করতো তখন তাওহীদ ও ভাঙ্গাতো।এভাবেই তাদের পবিত্র ভালবাসার দিন গুলি চলে যাচ্ছিল। • একদিন তাওহীদ ও সাথী পার্কে ঘুরতে যায়। তারপর অনেক দুষ্টামি ও মজা করে।এভাবে অনেক্ষণ ঘুরার পর আবার গাড়ি করে বাসায় ফিরতে থাকে।গাড়ির মাঝেও সাথী দুষ্টামি করতে থাকে। হঠাৎ তাদের গাড়িাটা ব্রেকফেইল করে এক গাছের সাথে ধাক্কা খায়।তারপর তারা আর কিছু বলতে পারে নি। . যখন সাথীর জ্ঞান ফিরে তখন নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করে।পাশে ফিরতেই দেখে পাশের সীটে তাওহীদ ঘুমিয়ে আছে।তারপর সীট থেকে ওঠে রুমের বাহিরে আসলে দেখে তাদের বাবা-মা, মাওয়া ও আরও অনেকেই মন খারাপ করে বসে আছে।তারা এক্সিডেন্টের কারণ জানতে চায়লে সে বলে কিভাবে কি হয়েছে।তারপর তারা তাওহীদের জ্ঞান ফিরার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।কিন্তু ঐ-দিন আর তাওহীদের জ্ঞান ফিরেনি। • আরও একদিন পার হয়ে যায়।তাপরেও তাওহীদের জ্ঞান ফিরেনি।তখন সাথীর মনে অজানা ভয় কাজ করতে থাকে।না না ধরণের চিন্তা ভাবনা মনে আসতে থাকে।সাথী নিজেকেই নিজে গালি দিতে থাকে।তার জন্যই তো আজ তাওহীদের এই অবস্থা। তার জন্যই তো তাওহীদ এক্সিডেন্ট-টা করেছে।সে যদি ঐ সময় দুষ্টামি না করতো তাহলে তো কিছুই হতো না।এখন সাথীর খুব কান্না করতে ইচ্ছা করছে। বুকের কষ্ট গুলোও উড়িয়ে দিতে চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। তাওহীদের পাশে বসে থেকে অপেক্ষা করে কখন তাওহীদ চোখ মেলে তার দিকে তাকাবে।হঠাৎ তার হাতে কারো হাত অনুভব করে। হাতের দিকে তাকাতেই দেখে তাওহীদ তার হাতটা শক্ত করে ধরে আছে।তাওহীদের হাতের স্পর্শ পেয়ে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে।সে কিছু বলার আগেই তাওহীদ বলতে থাকে . - সাথী! (অনেক কষ্ট করে ডাকটা দেয়) - বলেন(কাঁদতে কাঁদতে বলে) - যদি আমি চলেই যাই তাহলে আমার স্মৃতি নিয়ে আর বেঁচে থেকো না।আর একটা স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থেকো। - এসব কি কথা বলেন।আপনার কিছু হবে না।আপনি আবার সুস্থ হয়ে যাবেন। পাশ থেকে মাওয়া বলে - এই ভাইয়া তুমি এসব কি বল! এসব কথা বলবে না। তোমার কিছু হবে না। - না রে বোন যদি চলেই যাই তাই বলছি।তুই বাবা- মাকে দেখে রাখিস।সাথী তুমি আমার কথাটা রাখবে বল! সাথী কিছু বলতে পারছে না শুধু কেঁদেয় যাচ্ছে। আবার তাওহীদ তার মাকে ডেকে বলে - মা! কতদিন তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাই না।আজ একটু ঘুমাতে দিবে? - এই তাওহীদ! এভাবে কেন কথা বলছিস তোর কিছু হবে রে বাবা।তুই এভাবে কথা বলিস না। তাওহীদ কোনো কথা বলে না, চুপচাপ শুয়ে থাকে।তার মা মাথায় হাত বুলাতে থাকে আর সে চুপচাপ উপভোগ করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর চিরদিনের মত ঘুমিয়ে পড়ে।তার কিছুক্ষণ পর তার মা ডাকতে থাকে ।কিন্তু সে আর ঘুম থেকে উঠে না। • কি করে ঘুম থেকে উঠবে? কি করে কথা বলবে? সে যে পাড়ি দিয়েছে ঐ আকাশে।তার মা ডাকতেই থাকে, কিন্তু সে কোন কথা বলে না। যখন দেখে কথা বলছে না।তখন খোকা বলে ডাক দিতেই কিছুক্ষণের জন্য পরিবেশটা স্বদ্ধ হয়ে যায়।তারপর তা মা বলতে থাকে - খোকা! এই খোকা! ঘুম থেকে ওঠ আর কত ঘুমাবি? ওঠ না ঘুম থেকে।দেখ তোর জন্য বাসা থেকে কি বানিয়ে নিয়ে এসেছি।তোর পছন্দের জিনিস চেয়ে দেখ। এই খোকা! তুই না তোর মায়ের কথা ফেলতে পারিস না। তাহলে এখন কেন কথা মানছিস না? এভাবে আরও না না রকমের কথা বলে আর কাঁদে। পাশ থেকে মাওয়া বলে - ভাইয়া! এই ভাইয়া! কথা বল! কথা বলবে না? আমাকে আদর করবে না! আমার চোখের পানি মুছে দিবে না? তুমি না আমার চোখের পানি সহ্য করতে পার না! তাহলে এখন কেন চোখের পানি মুছে দিচ্ছ না? আপু! এই আপু! ভাইয়াকে বল না আমার সাথে একটু কথা বলতে।আমাকে আপু বলে একবার ডাক দিতে। মাওয়া এসব আর কাঁদে। তখন সাথী বলতে থাকে - তাওহীদ! এই তাওহীদ! কথা বল সবাই তোমাকে কত করে বলতেছে তুবও কেন কথা বলছ না? একবার কথা বল? তোমার মা ও বোন কত করে বলতেছে তুবও কেন কথা বল না? ও বুঝেছি অভিমান করে আছ তাই কথা বলছ না তাই না? মাওয়া তোমার ভায়ের অভিমান কমে গেলেই না কথা বলবে। কথাটা বলেই মাওয়াকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। কিন্তু তাওহীদ আর কথা বলেনি, চুপচাপ ঘুমিয়েই থাকে।কারো কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন ও মনে করেনি।প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মত করে ডাকতে থাকে কাঁদতে থাকে।আর সে! তার মত করেই ঘুমিয়ে থাকে। • হঠাৎ আকাশের ডাকে তার স্মৃতি থেকে ফিরে আসে।ভাগ্য গুণে ঐ দিন সাথী বেঁচে যায়। এখন সে নামেই বেঁচে আছে দেহটা তার মরে গেছে। সে অনুভব করে তার চোখে পানি এসে গেছে। তাওহীদদের কথা রাখতে গিয়ে আকাশকে তার বিয়ে করতে হয়।এখন সে কোন রকম ভাবে দিন গুলি পাড়ি দিচ্ছে। • লিখাঃ MD Mahmudur Rahman Tauhid


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্মৃতি-০২ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now