বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এ ধরনের উপন্যাসে লেখক মানুষের ব্যক্তিচৈতন্যের গভীরে নিমজ্জিত নানা বিষয়ের আংশিক আভাস দিয়ে থাকেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো উপন্যাসে এরূপ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। এ ছাড়া রূপক-প্রতীকী উপন্যাস এবং অস্তিত্ববাদী উপন্যাস আধুনিক উপন্যাস সাহিত্যের নতুন সংযোজন। [মোঃ মাসুদ পারভেজ]
১৯৪৭ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত অর্ধশতককালের উপন্যাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর সমকালীন জীবন-নির্ভরতা। এ সময় ঔপন্যাসিকদের শিল্পভাবনার বিশিষ্টতায় সমাজবাস্তবতার রূপায়ণ ঘটেছে বহু মাত্রায়। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাহিত্যের প্রাথমিক পর্বে ঔপন্যাসিকরা তাঁদের রচনা শুরু করেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং দেশভাগের প্রেক্ষাপটে। ক্রমশ গ্রামীণ ও শহুরে পটভূমি এবং ব্যক্তিজীবনের বহুবিধ জটিলতা এর উপজীব্যরূপে স্থান পেতে থাকে। তবে শুরু থেকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত প্রধান ঔপন্যাসিকদের প্রায় সকলেই ছিলেন গ্রামকেন্দ্রিক। পূর্ববাংলার কৃষিজীবী মানুষের জীবনসত্য অমর রূপ পরিগ্রহ করে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালু (১৯৪৮) উপন্যাসে। গ্রামীণ জীবনে ক্ষুধা, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, শোষণের বাস্তবতা প্রভৃতি এতে সত্যনিষ্ঠভাবে চিত্রিত হয়েছে। এরূপ গ্রামনির্ভর উপন্যাস তখন আরও অনেকেই রচনা করেছেন। আবুল ফজলের (১৯০৩-১৯৮৩) জীবন পথের যাত্রী (১৯৪৮), আবু ইসহাকের (জ. ১৯২৬) সূর্য-দীঘল বাড়ী (১৯৫৫), শামসুদ্দীন আবুল কালামের (১৯২৬-১৯৯৭) কাশবনের কন্যা (১৯৫৭), আবুল মনসুর আহমদের (১৮৯৮-১৯৭৯) জীবন-ক্ষুধা (১৯৫৭), শওকত ওসমানের (১৯১৭-১৯৯৮) জননী (১৯৫৮) প্রভৃতি এ সময়কার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এগুলির মধ্যে শওকত ওসমান, আবু ইসহাক, শামসুদ্দীন আবুল কালাম ও আবুল মনসুর আহমদের উপন্যাস বিষয়ভাবনা, জীবনদৃষ্টি ও চরিত্রচিত্রণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ জীবনের অভাব-বঞ্চনা-শোষণ ছিল তাঁদের উপন্যাসের বিষয়বস্ত্ত।
ষাটের দশক থেকে গ্রাম ও শহর উভয়ই বাংলা উপন্যাসে প্রাধান্য পেতে থাকে। তখন নবসৃষ্ট রাজধানী শহর ঢাকা এবং বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি হয়ে ওঠে উপন্যাসের প্রধান বিষয়। শহরমুখী বিত্তহীন ও নিম্নবিত্তের মানুষও এর সঙ্গে যুক্ত হয়। নগরবিকাশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের জীবনজটিলতা, নর-নারীর সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রভৃতি অবলম্বনেও রচিত হয় বহু উপন্যাস। এ সময়ের নগর-জীবনাশ্রিত প্রথম সার্থক উপন্যাস আবু রুশদের (জ. ১৯১৯) সামনে নোতুন দিন (১৯৫১)। এ ছাড়া আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো: রাজিয়া খানের (জ. ১৯৩৬) বটতলার উপন্যাস (১৯৫৯), সৈয়দ শামসুল হকের (জ. ১৯৩৫) দেয়ালের দেশ (১৯৫৯), রশীদ করীমের (জ. ১৯২৫) উত্তম পুরুষ (১৯৬১), আলাউদ্দিন আল আজাদের (জ. ১৯৩২) তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০), আবু রুশদের নোঙর (১৯৬৩), জহির রায়হানের (১৯৩৩-১৯৭২) বরফ গলা নদী (১৯৬৯), রাবেয়া খাতুনের (জ. ১৯৩৫) রাজাবাগ শালিমারবাগ (১৯৬৭) ইত্যাদি। এঁদের মধ্যে আবু রুশদ, রশীদ করীম ও রাবেয়া খাতুন শহুরে সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত অঙ্কনে এবং রাজিয়া খান, সৈয়দ শামসুল হক ও আলাউদ্দিন আল আজাদ ব্যক্তির অন্তর্জগৎ উন্মোচনে কৃতিত্বের দাবিদার। এ সময়ের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক হচ্ছেন বুলবুল চৌধুরী, আহসান হাবীব, নীলিমা ইব্রাহিম, আমজাদ হোসেন, আবদুল গাফফার চৌধুরী, মালিহা খাতুন, সরদার জয়েনউদ্দীন প্রভৃতি। এঁদের উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে পরিবর্তনের গতিবেগে চঞ্চল গ্রামীণ ও নগরজীবনের সুবিস্তৃত পটভূমি।
রাজধানী ঢাকার নাগরিক জীবন ও জটিলতা বাংলাদেশের নগরজীবনাশ্রিত উপন্যাসমূহের প্রধান উপজীব্য। কিন্তু একথাও সত্য যে, ঢাকাকে বাদ দিলে পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ঠ (শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ) মানুষ তখনও ছিল গ্রামবাসী এবং পূর্ববঙ্গের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। তাই ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত গ্রামজীবনভিত্তিক উপন্যাসেরই প্রাধান্য দেখা যায়। আলাউদ্দিন আল আজাদের কর্ণফুলী (১৯৬২), শহীদুল্লা কায়সারের সারেং বৌ (১৯৬২) ও সংশপ্তক (১৯৬৫), সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮), জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে (১৯৬৪), শামসুদ্দীন আবুল কালামের কাঞ্চনমালা (১৯৬৫), ইন্দু সাহার কিষান বউ (১৯৬৮), আবুল মনসুর আহমদের আবে হায়াত (১৯৬৮) প্রভৃতি উপন্যাস প্রসঙ্গত স্মর্তব্য। শহীদুল্লা কায়সারের উপন্যাসে বিবর্তমান গ্রামসমাজ এবং সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাসে পাশ্চাত্যের আধুনিক আঙ্গিকের সফল ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।
১৯৭১-পূর্ববর্তীকালে কিছু ভিন্নধর্মী উপন্যাসও রচিত হয়েছে। সেগুলিতে গ্রাম কিংবা নগরের পরিবর্তে বিষয়বস্ত্ত হিসেবে এসেছে ইতিহাস, পুরাণ ও ঐতিহ্য। রাজনৈতিক সচেতনতাও বহু উপন্যাসের মূল বিষয় হতে দেখা যায়। শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২), সৈয়দ শামসুল হকের সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪), জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন (১৯৬৪), খালেকদাদ চৌধুরীর রক্তাক্ত অধ্যায় (১৯৬৬), সত্যেন সেনের অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭), আনোয়ার পাশার নিষুতি রাতের গাথা, অজয় রায়ের পদধ্বনি (১৯৬৯) প্রভৃতি উপন্যাসে ইতিহাস-ঐতিহ্যের পরিবর্তে ঔপন্যাসিকদের রাজনৈতিক দর্শনই প্রধান হয়ে উঠেছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ কালপর্বের পশ্চিম পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকতা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় শোষণের পরিপ্রেক্ষিতে উপন্যাসগুলির প্রকৃত তাৎপর্য গুরুত্ববহ। শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি-তে মধ্যযুগের মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট থাকলেও তা সমকালের শোষণপিষ্ট জীবনের প্রতীকী রূপ। সৈয়দ শামসুল হকের সীমানা ছাড়িয়ে নগরজীবনকেন্দ্রিক উপন্যাস হলেও এতে লেখকের রাজনৈতিক সচেতনতা লক্ষণীয়। জহির রায়হানের উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে বাঙালির আত্মদান ও রাজনৈতিক উত্থান তথা ভাষা আন্দোলনের কাহিনী। আনোয়ার পাশার উপন্যাসের চরিত্রসমূহের বিকাশ ঘটেছে সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাধারার সমান্তরালে।
১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় দেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মৌল পরিবর্তন আনে। সমালোচকদের মতে, স্বাধীনতার প্রত্যয় বাঙালির মন ও মননে যে নতুন চেতনার উদ্ভব ঘটায়, উপন্যাসেও তার প্রত্যাশিত প্রতিফলন লক্ষিত হয়। বস্ত্তত স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উপন্যাস বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকগত দিক দিয়ে ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটও হয়ে ওঠে উপন্যাসের জন্য এক অতি প্রাসঙ্গিক বিষয়। ১৯৭১-এর পূর্বে উপন্যাস রচনা করেছেন এমন ঔপন্যাসিকেরও রচনার ধারা পরিবর্তিত হয়ে যায়। হুমায়ুন আহমেদের নন্দিত নরকে (১৯৭২) ও শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩), আবদুল মান্নান সৈয়দের পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী (১৯৭৪), আহমদ ছফার ওঙ্কার (১৯৭৫), মাহমুদুল হকের জীবন আমার বোন (১৯৭৬), সেলিনা হোসেনের হাঙ্গর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬), বশীর আল হেলালের কালো ইলিশ (১৯৭৯), শওকত ওসমানের দুই সৈনিক প্রভৃতি স্বাধীনতাপরবর্তী এক দশকের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এ সময়ের উপন্যাসগুলিতে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা লাভ, ব্যক্তির অস্তিত্বগত সমস্যা ও অন্তশ্চৈতন্যের জটিলতা, সমষ্টিবদ্ধ মানুষের জীবনচেতনা ও বিস্তারিত সমাজ-পটভূমি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনের প্রতিফলন ঘটেছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী দশকের আরও কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ঔপন্যাসিক হচ্ছেন রাজিয়া খান, রশীদ করীম, রিজিয়া রহমান, আবু রুশদ, শওকত আলী, হাসনাত আবদুল হাই, দিলারা হাশেম, মাহমুদুল হক, রশীদ হায়দার, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ। সংখ্যাগত বিচারে স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের উপন্যাস স্বাধীনতা-পূর্বকালের চেয়ে অনেক বেশি।
আশির দশকে প্রচুর উপন্যাস রচিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে ভালো উপন্যাসের সংখ্যাও অনেক। যুদ্ধ-পরবর্তীকালের ব্যক্তি ও সমাজ, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস, সমকালীন গ্রাম্যজীবন ও শহুরে জীবন, নরনারীর সম্পর্ক-বৈচিত্র্য, মনোবৈকল্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি এ সময়কার উপন্যাসগুলির বিষয়বস্ত্ত। এ পর্বের কয়েকটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো: শওকত ওসমানের পতঙ্গ পিঞ্জর, রাহাত খানের অমল ধবল চাকরি, সেলিনা হোসেনের নীল ময়ূরের যৌবন, সৈয়দ শামসুল হকের নিষিদ্ধ লোবান, আবদুল মান্নান সৈয়দের কলকাতা, ইমদাদুল হক মিলনের ভূমিপুত্র, হাসনাত আবদুল হাইয়ের তিমি, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাই প্রভৃতি। চিলেকোঠার সেপাই বাংলাদেশের প্রথম উপন্যাস যার গদ্যভঙ্গি, বিষয় ও চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। উপন্যাসের খিজির নামক চরিত্র, গণ-আন্দোলনের পটভূমি ইত্যাদি বাংলাদেশে মহৎ উপন্যাস সৃষ্টির সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করে। ১৯৭১-এর পূর্বেকার গণ-আন্দোলনের পটভূমিকে এত সার্থকভাবে আর কোনো ঔপন্যাসিক তুলে ধরতে পারেননি। রশীদ হায়দার, মুর্তজা বশীর, রশীদ করীম, মঞ্জু সরকার, মাহবুব তালুকদার, রাজিয়া খান, রাবেয়া খাতুন, দিলারা হাশেম, বশীর আল হেলাল, আমজাদ হোসেন, আবু ইসহাক, আরেফিন বাদল, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুশ শাকুর, আনোয়ারা সৈয়দ হক, আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন, শওকত আলী, শহীদ আখন্দ, সুচরিত চৌধুরী, শামসুর রাহমান, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, আবুবকর সিদ্দিক, হরিপদ দত্ত প্রমুখ এ সময়ের প্রতিষ্ঠিত ঔপন্যাসিক।
১৯৪৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় অর্ধ শতকের উপন্যাস সমগ্র বাংলা সাহিত্যের নিরিখেই উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কালে প্রবীণদের পাশাপাশি নবীনদের পদচারণাও লক্ষ্য করার মতো। বেশকিছু উপন্যাসের নাম করা যায় যেগুলি এ শতকের শেষ দশকে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে সংযোজিত হয়েছে। সেগুলির মধ্যে মঈনুল আহসান সাবের (কবেজ লেঠেল, প্রেম ও প্রতিশোধ, স্বজন) ও ভাস্কর চৌধুরীর (লাল মাটি কালো মানুষ, স্বপ্নপুরুষ, মীমাংসাপর্ব) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলি উল্লেখযোগ্য। হাসনাত আবদুল হাই (সুলতান, নভেরা, ইন্টারভিউ) ও সেলিনা হোসেন (খুন ও ভালোবাসা, কালকেতু ও ফুল্লরা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, যুদ্ধ) জীবনীভিত্তিক উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রে স্মরণীয়। এক ধরনের অ্যান্টি-উপন্যাস রচনা করেন হুমায়ুন আজাদ (ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল ও রাজনীতিবিদগণ)। ইমতিয়ার শামীম (ডানাকাটা হিমের ভিতর) ও শহীদুল জহিরের (সে রাতে পূর্ণিমা ছিল) উপন্যাসে লক্ষ্য করা যায় বাস্তব ও পরাবাস্তবের কুহক। তবে যে উপন্যাস অর্ধশতককালের বাংলা উপন্যাসকে যথার্থ পরিণতির দিকে নিয়ে যায় তা হলো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা। এতকাল উপন্যাসে অবহেলিত ব্রিটিশ-উপনিবেশবিরোধী ফকির-বিদ্রোহের গৌরবময় অধ্যায়, সামাজিক পটভূমির বিশালতা, সর্বোপরি বাঙালির অহংদৃপ্ত জীবনচেতনা এ উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে এক অননুকরণীয় ভাষা ও ভঙ্গিতে।
এ পর্বের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো: অরুণ চৌধুরীর ছায়াবন্দী, ইমদাদুল হক মিলনের রাজাকারতন্ত্র, হুমায়ুন আহমেদের এইসব দিনরাত্রি ও আগুনের পরশমণি, সৈয়দ শামসুল হকের বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ, আবদুল মান্নান সৈয়দের ক্ষুধা প্রেম আগুন, আলাউদ্দিন আল আজাদের অনূদিত অন্ধকার, হরিপদ দত্তের অজগর ও জন্ম জন্মান্তর, তসলিমা নাসরিনের অপর পক্ষ ও লজ্জা, মঞ্জু সরকারের প্রতিমা উপাখ্যান প্রভৃতি। আল মাহমুদ, ইসহাক খান, জুলফিকার মতিন, দিলারা হাশেম, ওয়াহিদ রেজা, আনিসুল হক, আফসান চৌধুরী, নাসরীন জাহান, নিশাত চৌধুরী, হাসনাত আবদুল হাই, বুলবুল চৌধুরী, সামস্ রাশীদ, রেজানুর রহমান, রেজোয়ান সিদ্দিকী, রাজিয়া মজিদ, রফিকুর রশীদ, মহসিন শস্ত্রপাণি, মাফরুহা চৌধুরী, মালিহা খাতুন প্রমুখ এ সময়ের কয়েকজন খ্যাতিমান ঔপন্যাসিক।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর হাতে বাংলাদেশের উপন্যাসের যে শৈল্পিক সূচনা হয়েছিল, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসে এসে তা পূর্ণতা লাভ করে। তবে বাংলাদেশের উপন্যাসের এ গতিপ্রবাহ থেমে নেই। একবিংশ শতকে সম্পূর্ণ নতুন ধারার উপন্যাসের সূত্রপাত যে ঘটবে তার পূর্বাভাস লক্ষিত হচ্ছে। [মহীবুল আজিজ]
গ্রন্থপঞ্জি শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্গ সাহিত্যে উপন্যাসের ধারা, কলিকাতা, মডার্ণ বুক এজেন্সী, ১৯৪৫; অশোককুমার দে, বাংলা উপন্যাসের উৎস সন্ধানে, কলিকাতা, জিজ্ঞাসা, ১৯৭৪; সৈয়দ আকরম হোসেন, বাংলাদেশের সাহিত্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৮৫; মুহম্মদ ইদরিস আলী, আমাদের উপন্যাসে বিষয়-চেতনা: বিভাগোত্তর কাল, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৮৮; বিশ্বজিৎ ঘোষ, বাংলাদেশের সাহিত্য, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৯১; হাসান আজিজুল হক, কথাসাহিত্যের কথকতা, সাহিত্যপ্রকাশ, ঢাকা, ১৯৯৪।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now