বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিরাজ ভ্রমন ০৩(শেষ)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X ৭. ধীরে ধীরে চোখ খুলে সিরাস। সে এখানে কেন? সে এখানে শুয়ে আছে কেন? আর সাদা এপ্রোণ পড়ে এত মানুষ তার চারপাশে দাঁড়িয়ে কি দেখছে? কোথায় সে এখন? এরা কারা? একটু ভয় পায় সিরাস। মহামতি কোস্ত্রার কপালে ভাঁজ পড়লো বেশ কয়েকটা। উনি কিছুই বুঝতে পারছেন না কি হলো। ইন্টেনিয়ামের টিউব সময়ের অন্য ডাইমেনশনে চলে যাবার কথা, সেটা ঠায় এখানে দাঁড়িয়ে আছে, আবার বিজ্ঞানী সিরাসের বয়স কমে বাইশ হয়ে গেলো! কোথাও মারাত্মক কোন ভুল হয়ে গেছে, মারাত্মক ভুল! ৮. ঘুম ভেঙ্গে গেলে বেল টিপে নার্সকে ঢাকেন মহামান্য সিরাস। দিনের বেশিভাগ সময় ঘুমিয়েই কাটান, বড় দূর্বল লাগে নিজেকে, হয়ত আয়ু ফুরিয়ে এসেছে ওনার। একটাই কষ্ট, এক্সপেরিমেন্টটা সফল করে যেতে পারেন নি। নার্স, আজ কয় তারিখ? -বিশে জুন দুই হাজার ত্রিশ। আমি এখানে কতদিন ধরে আছি? মিহান কি এসেছিলো আর আমাকে দেখতে? -আপনি এখানে আছেন পাঁচ দিন হলো। আর মিসেস. মিহেতা এখনো মনে করেন আপনি মহামান্য সিরাস নন। উনি কিছুতেই মানতে চাচ্ছেন না এই সত্যটা। হুমম। কি একটা যেন খুচাচ্ছে মনে মনে সিরাসকে, কিন্তু ধরতে পারছেন না। হঠাৎ বা হাতের কব্জিতে কিসে উপস্হিতি টের পেলেন। হাতটা চোখের সামনে তুলে ধরতেই কোয়ান্টাম ঘড়িটা চোখে পড়ল তার, জ্বলজ্বল করছে “নয় দিন বিশ ঘন্টা পঁচিশ মিনিট ……সেকেন্ড”। একসাথে অনেক কিছু খেলে গেলো তার মাথায়! সে হসপিটালে আছে পাঁচ দিন, তাই এক্সপেরিমেন্টও হয়েছে পাঁচ দিন আগে, কোয়ান্টাম ঘড়ি দেখাচ্ছে প্রায় দশ দিন! চোখ জ্বলে ওঠলো সিরাসের। মনে মনে অনেক কিছু চিন্তা করলেন সময় নিয়ে, তারপর কম্পিত হাতে ফোন করলেন মিহানের নাম্বারে। -“আপনি কেন ফোন দিয়েছেন? আমি বলিনি যে আমি আপনার মিহান নই, আর আপনিও সিরাস নন! কী বলিনি?” উত্তেজিত হয়ে যায় মিহান। “আমি জানি আমি সিরাস নই”, দেখ মিহান “কোথায় গন্ডগোল হয়েছে আমি আন্দাজ করতে পারছি। যে রাইটিংস্ক্রিনে আমি সব কিছু লিখে রাখতাম সেটা কি তুমি কি আমার বাসা থেকে এখানে নিয়ে আসতে পারবে?” -আমি সিরাসের গোপনীয় গবেষণার রেকর্ড কেন আপনাকে দিব? কারন আমি সিরাসকে, তোমাকে এবং আমাকে সাহায্য করতে চাই, আমার এক্সপেরিমেন্ট ফেইল হয়নি। তুমি প্লিজ আমাকে একটু সহযোগীতা কর, আমার মনে হয় আমি আবার সব আগের মত করে দিতে পারবো। পরবর্তী দুই দিন অমানুষিক পরিশ্রম করে সিরাস। ক্লান্তির চরমে চলে গিয়েছিল একেবারে এ দুই দিনে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে রাইটিং স্ক্রিনে একের পর এক সমীকরন মিলিয়েছে, নতুন সমীকরন তৈরী করেছে, আগের সব কাজের রেকর্ড প্রথম থেকে শেষে পর্যন্ত চেক করেছে, খুঁটিনাটি অনেক কিছু আবার ভেরিফাই করে দেখেছে, এখন সবকিছু তার সামনে পরিষ্কারভাবে ফোটে উঠেছে। আশ্চর্য! এত বড় একটা বিষয় কিভাবে তার চোখ এড়িয়ে গেলো? কাঁপা হাতে, কিন্তু অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফোন করে সে মহামতি কোস্ত্রার ইমার্জেন্সি নাম্বারে। ৯. -আপনি বলতে চাচ্ছেন এক্সপেরিমেন্ট সফল হয়েছে? আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি এক্সপেরিমেন্ট ‘সিরাস ভ্রমণ’ সফল হয়েছে। -হুমম। আমার ভুল হয়েছিলো আমি সময়ের অন্য স্তরগুলোকে সরলরৈখিক-সমান্তরাল ভেবেছিলাম, আসলে সময়ের ডাইমেনশনগুলো সমান্তরাল ঠিকই আছে, তবে তা সরলরৈখিক নয়, বরং এগুলো এক কেন্দ্র বিশিষ্ট বিভিন্ন বৃত্তের পরিধি বরাবর অবস্হিত। -একটু সহজভাষায় ব্যাখ্যা করবেন, প্লিজ? মনে করুন, একটা ফুটবলের ভিতর আরেকটা ফুটবল, তার ভিতর আরেকটা ফুটবল, তার ভিতর আরেকটা, এভাবে চলতেই থাকলো, স্বাভাবিক ভাবেই ভিতরের দিকের ফুটবলের পরিধি কম। এখন দ্বিমাত্রিক সময়ের, একটা মাত্রা এই ফুটবলের পরিধি বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে যেটা আমরা অতীত থেকে ভবিষ্যতে প্রবাহমান দেখি, আরেকটা মাত্রা এই ফুটবলের কেন্দ্র বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। এখন বাহিরের বিশ্বের পরিধি যেহেতু বেশি তাই এই বিশ্বে যখন একদিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে, তখন ভিতরের কোন বিশ্ব যার পরিধি বাহিরের বিশ্বের পরিধি অর্ধেক সেখানে দুই দিন অতিবাহিত হচ্ছে। আসলে ঠিক করে বলতে গেলে, বাহিরের বিশ্বে যখন চব্বিশ ঘন্টায় একদিন প্রবাহিত হয়, তখন ভিতরের বিশ্বে বার ঘন্টায় একদিন অতিবাহিত হয়, তবে কেন্দ্রের সাপেক্ষে সব বিশ্বের সময় এক। আসলে অসীম সংখ্যক হুবহু একই রকমের বিশ্ব বৃত্তাকারে ‘একের ভিতর এক’ এভাবে অবস্হান করছে, কোথাও সময় দ্রুত কোথাও সময় ধীর। এই বিশ্বের সিরাস যখন ইন্টেনিয়ামের টিউবে ভ্রমনের জন্য অপেক্ষা করছিলো, তখন অপর বিশ্বের সিরাস মানে আমিও ইন্টেনিয়ামের টিউবে ভ্রমনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, আসলে এই অসীম সংখ্যক বিশ্বের সবকিছু একই রকম চলছে। আমি এখানে এসেছি বলেই সিরাস ওখানে যেতে পেরেছে, আবার সিরার ওখানে গিয়েছে বলেই আমি এখানে আসতে পেরেছি। দুইটা ঘটনা যুগপৎ ঘটেছে বলে পরিবর্তনটা বুঝা যায় নি। যখন এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয় তখন এই বিশ্বের সিরাসকে নিয়ে টিউবটি আমার বিশ্বে চলে যায়, আর আমাকে এই বিশ্বে নিয়ে আসে। যেহেতু সময়ের দুইটি ভিন্ন মাত্রার বিশ্বের মধ্যে সংযোগ স্হাপিত হয় তাই স্বাভাবিক ভাবেই একে ব্যালেন্স করার জন্য আমার বয়স বেড়ে গিয়েছে, আর নিশ্চই এই বিশ্বের সিরাসের বয়স ঐ বিশ্বে গিয়ে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে, এবং তার সব স্মৃতিও স+হিত হয়ে আছে তার সেই বয়সে। যেহেতু সবগুলো বিশ্বই হুবহু একই রকম তাই সবাই ভাবছে যে সে নিজের বিশ্বেই আছে -এখন আপনি কি করতে বলেন? সমাধান একদম সহজ। যে এক্সপেরিমেন্ট আমরা করেছি, সেটা আবার করলেই আমি আমার বিশ্বের আর এই বিশ্বের সিরাস এই বিশ্বে চলে আসবে। -মুহূর্তেই করনীয় ঠিক করে ফেললেন মহামতি কোস্ত্রা। হাতে সময় খুব কম, সিরাসের শারীরিক অবস্হা ভালো না, যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে ভেবে ল্যাব বন্ধ করে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে, ঠিক আছে আমি চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে আবার এক্সপেরিমেন্ট চালানোর ব্যবস্হা করছি। “অনেক ধন্যবাদ, স্যার” বলেই মহামতি কোস্ত্রা দিকে একটি ডিস্ক বাড়িয়ে দিয়ে সিরাস বললো, আমার একটা রিকোয়েষ্ট স্যার, “এই ডিস্কটা আমি যাওয়ার পর মিহানকে দিবেন। আর বলবেন যেন সিরাস ফিরে আসলে এটা তাকে দেয়” ১০. “প্রিয় সিরাস, কি অদ্ভুত! তাই না? আমি নিজেকে নিজেই “প্রিয় সিরাস” বলছি! যেহেতু আমিই তুমি, তাই আমি আসলে যা বলতে চাই তা তোমার জানার কথা। কিন্তু আমার ধারনা তুমি তা জান না, কারন তুমি যখন আমার বিশ্বের গিয়েছিলে তখন তোমার বয়স অর্ধেক হয়ে গিয়েছিলো তাই তুমি অনেক কিছুই বুঝতে পারনি। আসলে এই বিশ্ব আমাদের ধারনার চেয়েও অনেক অনেক বেশি রহস্যময় ও জটিল। এখনে অসীম সংখ্যক বিশ্ব গোলক আকারে একের ভিতর এক অবস্হান করছে এক কেন্দ্রীক বৃত্তের পরিধি বরাবর………………” “……………এই সূত্র মতে যতই কেন্দ্রের দিকে যাবে ততই সময়ের গতি বাড়তে থাকবে, তাহলে একেবারে কেন্দ্রে কি আছে? কেন্দ্রের সময়ের গতি তাহলে অসীম! আবার সর্ববাহিরের বিশ্বের সময় কেমন? সেখানে তো সময় চির স্হির হয়ে আছে! তাহলে কি বিশ্বের কেন্দ্রের অসীম গতির সময় আর সর্ববাহির বিশ্বের চির স্হির সময় নিয়েই ঈশ্বর স্বয়ং? কি জানি, এই প্রশ্নের উত্তর পদার্থ বিজ্ঞান কোন দিন দিতে পারে কি না!”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিরাজ ভ্রমন ০৩(শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now