বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সপ্তাহের প্রথম দিন, রাহাত যথারীতি বসে আছে ল্যাবে। স্যার প্রোগ্রামিং টার্ম বুঝাচ্ছে ছেলে পিলেদের আর রাহাত ঝিমুচ্ছে বসে বসে। মনে ক্ষীণ আশা স্যার আজকে কোন এসাইনমেন্ট না দিলে বেচে যায় সে। আগের ক্লাশে ছেলে পিলেদের বুঝাতে বুঝাতে ভালই টায়ার্ড হয়ে গিয়েছিল।
রাহাতের কপাল শুধু ভাল না, বেশ ভাল রকমই ভাল বলা চলে। জাস্ট ভাগ্যের জোড়ে বহুবার বেচে গিয়েছে নানারকম বিপদ থেকে। শেষ একবার এক কোর্সে ৫টা এসাইনমেন্টের ভিতরে ৪ টা ঠিকঠাক করেছিল, কিন্তু শেষটা কিছুতেই মেলাতে পারছিল না, ওটা ওইরকম অসম্পূর্ন রেখেই সাবমিট করে দিয়েছিল, কপাল এমনই ভাল, স্যার ওই এসাইনমেন্ট চেক না করেই ফুল মার্ক দিয়ে দিল। যাইহোক, ব্যাতিক্ষম এবারো ঘটলো না, স্যার ক্লাশ শেষ হওয়ার আগেই বের হয়ে গেলেন, তার নাকি মিটিং আছে, বাকিটা পড়ের ক্লাশে বুঝাবেন বলে চলে গেলেন। রাহাত খুবই খুশি হলো, বাসায় গিয়ে ঘুমই দিবে কিনা চিন্তা করতে করতে ব্যাগ গুছাচ্ছিল এমন সময় অর্থি হাজির।
'কি অবস্থা আপনার এখন ?" অর্থি জিগেষ করলো। "জ্বী ভাল" রাহাত ব্যাগ গুছাতে গুছাতে উত্তর দিলো। তার অর্থিকে সহ্য হচ্ছে না ঠিক। যত দ্রুত বের হওয়া যায় ততই ভাল। "সেদিন তো আপনার অবস্থা দেখে ভয়ই লেগেছিল, সে তুলনায় এখন তো পুরাই সুস্থ মনে হচ্ছে, ভাগ্যিস ভুল করে পেপার রেখে গিয়েছিলাম আর সেটা ফেরত নিতে এসেছিলাম" অর্থি কথা বাড়িয়ে গেল।
রাহাত কি বলবে ঠিক বুঝতে পারলো না। এমনিতে কারো হেল্প নিতে নিদারুন আপত্তি আছে রাহাতের। খুব ক্লোজ কেউ হলে এক ব্যাপার, তাও যতটা পারে সে এভয়েড করে। অর্থি সে হিসেবে অনেক বেশী কিছু করে ফেলেছে এবং খুশি হওয়ার বদলে রাহাত মোটামুটি ভালরকম বিরক্ত হয়ে আছে ব্যাপারটাতে। "হ্যা, ডাক্তার বলছিলেন তোমার কথা, তুমিই নাকি নিয়ে গিয়েছিলে।" কিছু না বললেও হচ্ছে না, তাই শুকনো মুখেই রাহাত বললো।
"ওহ, আব্বু বলেছে তাহলে" অর্থি একটু খুশিই হলো।
"আব্বু ??? " চমকালো এবার রাহাত। "হ্যা, তড়িঘড়ি করে কোথায় কি নিয়ে যাবো, তার থেকে আব্বুর কাছে নিয়ে যাওয়াই ভাল মনে হলো" সরল স্বীকারোক্তি অর্থির। ডাক্তারের সেই হাসির রহস্য এতক্ষনে মোটামুটি একটা অর্থ বের হলো রাহাতের কাছে। "আচ্ছা, আমার যেতে হচ্ছে এখন, তোমাদের কোন হেল্প দরকার হলে কালকে বোলো, আজকে সময় দিতে পারছি না আর" রাহাত আর কিছু বলার সময়ই দিলো না অর্থি কে।
"আজিব! লম্বুর সমস্যা কি, এত্ত ভাব ক্যানো" অর্থির মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।
" ও, এইটাই তোদের লম্বু ছিল ? " পাশ থেকে কনা জিগেষ করলো।
"তোর নাম যে আমরা শুধু শুধু স্লো-মোশান রাখি নাই, এইটা তুই আবারো একবার প্রমান করলি, এইবার চল, কিছু খাওয়া দরকার"
খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে কনার কোন কালেই আপত্তি ছিল না, সেটার প্রমান যথারীতি সে তার চেহারাতেও রাখতে সফল। খাওয়ার অফার পেলে পরে আর কোন কিছুই তার মনে থাকে না। কথা না বাড়িয়ে পা বাড়ালো ক্যান্টিনের দিকে ওরা।
খাবারের অর্ডার দিয়ে ওরা যখন সার্ভের জন্য ওয়েট করছিল সিরিয়ালে, হঠাৎই কনা গুতো দিয়ে বললো, "ওই দেখ",
" কি দেখবো ??" বলতে বলতে কনার ইশারার দিকে তাকিয়ে আবিস্কার করলো, লম্বু একটা কোক আরেকটা বার্গার নিয়ে কোনার এক টেবিলে যথারীতি ল্যাপটপের সামনে বসে আছে।
"দাড়া, দেখাচ্ছি মজা......" অর্থির মাথায় শয়তানি ভূত চাপলো এবার।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now