বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমরা দেখেছি দরবারের বৃদ্ধা মহিলারা দুই মিটার নীল ক্যানভাসের কাপড়, আধা মণ রসুন আর আধা মণ পেঁয়াজ নিয়ে মোল্লাবাজির বাসায় এলো শাহরবনুকে নিয়ে যেতে। কিন্তু মোল্লাবাজি জিজ্ঞেস করলো: তার মেয়েকে কখোন নেবে? মহিলারা বললো রাজপুত্রের বিয়ের পরের রাতে। এভাবে কথাবার্তা শেষ হবার পর মোল্লাবাজি বললো: ঠিকাছে! তোমরা বিকেলে এসে শাহরবনুকে নিয়ে যেও। মহিলারা জানতে চাইলো: বিকেলে কেন?
কেন বিকেলে আসতে হবে তার কারণ হিসেবে মোল্লাবাজি বলেছিল: তোমরা যে কাপড় নিয়ে এসেছো ওই কাপড় দিয়ে শাহরবনুর জন্য বিয়ের পোশাক বানাবো। একটু সময় তো লাগবে।
মহিলারা মেনে নিলো এবং মোল্লাবাজির ঘর থেকে চলে গেল দরবারের দিকে। এইফাঁকে মোল্লাবাজি শাহরবনুর জন্য ওই মোটা ক্যানভাসের কাপড় দিয়ে বিয়ের পোশাক বানিয়ে তাকে পরিয়ে দিলো। তখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। দরবারের মহিলারা আবারও এসে হাজির হলো এবং শাহরবনুকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হলো বাদশার প্রাসাদের দিকে। বাড়ি থেকে বের হয়েই শাহরবনু বৃদ্ধাদের বললো: আমার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিতে যাবো।
মহিলারা জিজ্ঞেস করলো: এ তোমার মা নয়?
শাহরবনু বললো: না, এই মহিলা আমার বাবার স্ত্রী।
মহিলারা এবার গুঞ্জন তুলে বললো: ও... তাই তো বলি, কেন তোমাকে তানুরের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে, কেন এতো বাজে কথা বললো আর কোনো দাবি দাওয়া ছাড়াই তোমাকে দিয়ে দিলো।
শাহরবনু মহিলাদেরকে মরুভূমির দিকে নিয়ে গেল। কূপের কাছে পৌঁছে তাদেরকে বললো: তোমরা এখানে অপেক্ষা করো। আমি আমার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এক্ষুণি ফিরছি।
শাহরবনু দ্রুত কূপের ভেতর গেল। দৈত্য জিজ্ঞেস করলো: এই ক্যঅনভাসের পোশাক পরে কোথায় যাচ্ছো?
শাহরবনু বললো: আমাকে আমার স্বামির ঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর যা যা ঘটেছিল সব ঘটনা দৈত্যকে খুলে বললো।
দৈত্য তাড়াতাড়ি করে চমৎকার এক সেট রেশমি কাপড়, একটা ইয়াকুত মানে পদ্মরাগ মণিমুক্তার মুকুট, একটা হিরার আংটি, জমরুদ বা পান্নার একটা হার এবং এক জোড়া স্বর্ণের জুতো শাহরবনুকে দিয়ে বললো: এগুলো শিগগির পরে নাও! তারপর বললো: বাদশার ছেলে যা যা পানীয় দেবে তোমাকে সব নেবে মানে গ্রহণ করবে কিন্তু শাহজাদা দেখতে না পায় এমনভাবে সেগুলো ফেলে দেবে,খাবে না। শাহরবনু দৈত্যের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে দরবারের মহিলাদের সামনে এলো। মহিলারা শাহরবনু দেখতেই নির্বাক হয়ে গেল। সবার মুখ হা হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর শাহরবনু’র রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলো সবাই। তারপর রওনা হলো প্রাসাদের দিকে।
প্রাসাদে পৌঁছার পর রাজপ্রাসাদের সবাই অবাক হয়ে গেল। শাহজাদা শাহরবনুকে নিয়ে গেল তার মায়ের কক্ষে। মা শাহরবনু মানে ছেলের বৌকে দেখেই বিস্মিত হয়ে গেল। এত সুন্দর মেয়ে! আবার কপালে চাঁদের জ্যোছনা এবং তারা ঝলমল করে-কী আশ্চর্য! এতো সুন্দরী মেয়ে রাজরাণী জীবনে আর কখনো দেখে নি। তাড়াতাড়ি করে বিয়ের আয়োজন করতে বললো এবং তাই করা হলো। রাতের মধ্যেই সকল আয়োজন। আনন্দের বাদ্য বাজনা বাজলো। রাতের শেষ প্রহরে রাজা, মন্ত্রীরা, সভাসদরা, দরবারের মুরব্বিরা, উকিলেরা সবাই এলো এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলো। অনুষ্ঠান শেষে শাহজাদা এবং শাহরবনু ঘুমাতে গেল। কিন্তু মোল্লাবাজি আর তার মেয়ের কী হলো?
মোল্লাবাজি মানে শাহরবনুর দুষ্ট মা ভেবেছিল ওই রাতেই শাহরবনুকে গলাধাক্কা দিয়ে অপমান করে প্রাসাদ থেকে বের করে দেবে। কিন্তু রাত কেটে সকাল গেল,দুপুর হলো শাহরবনু ফিরলো না। তাই সে নিজেই গেল প্রাসাদের দিকে খোজ খবর নেওয়ার জন্য। মোল্লাবাজি একে ওকে জিজ্ঞাসা করে করে গেল প্রাসাদের দিকে, গিয়ে দেখতে পেল শাহরবনুকে। না, সে যেরকম ভেবেছিল সেরকম কিছু নয়, বরং উল্টো। শাহরবনুর মাথায় মুণমুক্তা খচিত মুকুট, পরণে সিল্কি পাশাক, গলায় পান্নার মালা, হাতে সোনার বালা আর আঙুলে হীরের আংটি। রাণীর মতো আরামে বসে আছে শাহরবনু আর তাকে ঘিরে রেখেছে চাকর বাকরেরা। শাহরবনুর চেহারায় জ্যোছনার মতো আলো আর তার ঘাড়ে চমকাচ্ছে তারা।
মোল্লাবাজি মনে মনে বললো: আ..হা! আমার কপালটা কীরকম খারাপ। যতই চেষ্টা করলাম এই শাহরবনুকে অপদস্থ করতে ততই তার আরও উন্নতি হচ্ছে। এইসব চিন্তা করে তাড়াতাড়ি ফিরে গেল বাড়িতে। বাড়িতে গিয়েই দেখে উজিরের বাসা থেকে লোকজন এসেছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। তারা মোল্লাবাজিকে জিজ্ঞেস করলো: তোমার এই মেয়েকে নিতে কী কী আনতে হবে? মোল্লাবাজি বললো: মায়ের উপহার স্বরূপ ৫০টি রূপার কয়েন, মোহরানা বাবদ এক শ স্বর্ণমুদ্রা, বিয়ের দিনের জন্য সাত রঙের সাতটি পোশাক, চুড়ি বালা ইত্যাদি।
বুড়িরা বললো: ঘটনা কী? শাহরবনুর জণ্য সামান্য একটু ক্যানভাসের কাপড় এবং রসুন পেঁয়াজ আর এই মেয়ের জন্য তোমার চাহিদারই শেষ নেই,ব্যাপারটা কী?
মোল্লাবাজি বললো: এই মেয়ের সাথে ওই মেয়ের কথা আসছে কেন? আজ পর্যন্ত এই মেয়ের কণ্ঠস্বর কোনো পুরুষ শোনে নি। এই মেয়ে খুবই অভিজাত এবং সম্ভ্রান্ত।
মহিলারা কিছু বলল না। তারা চলে গেল এবং বিকেলে সবকিছু নিয়ে আবার এলো। মোল্লাবাজি সাপ আর বিচ্ছুকে একেবারে গোড়া থেকে কেটে ফেললো। কপাল আর ঘাড় ঢেকে দিলো রঙীন সিল্কের রুমাল দিয়ে। এরপর তাকে সাজালো বিয়ের সাজে। সাজগোজ শেষে মেয়েকে নিয়ে গেল উজিরের ঘরে। উজিরের ছেলে একটু সামনে পা বাড়িয়ে দেখতে চাইলো নিজের স্ত্রীকে। কিন্তু ওই মেয়েকে দেখে উজিরের ছেলে চোখ ফিরিয়ে নিলো। এত কুশ্রী মেয়ে জীবনে সে আর দেখে নি। কিন্তু বাদশার ভয়ে মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস পেল না। দ্রুত বিয়ের কাজ সেরে ফেললো। মোল্লাবাজির মেয়ে আসার সময় রসুন খেয়েছিল এখন তার মুখের গন্ধে কেউ তার কাছে ভিড়তে পারছেনা। উজিরের ছেলে নতুন বৌয়ের কাছে গিয়েই কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।
যাই হোক, বিয়ে তো হয়ে গেল। রাতের বেলা সবাই যখন ঘুমিয়ে গেল উজিরের ছেলে তখন উঠে মোমবাতি জ্বালালো। হালকা আলোয় তার চোখ পড়লো বৌয়ের কপাল আর ঘাড়ের দিকে। জোরে চীৎকার দিয়ে উঠলো সে। দৌড়ে সোজা চলে গেল মায়ের রুমে। মাকে সব খুলে বললো। মা সব শুনে উজিরকে বললো। উজির বাদশাকে জানালো। বাদশা তার স্ত্রীকে বললো। সে বললো নিজের ছেলেকে। ছেলে জিজ্ঞেস করলো শাহরবনুকে। শাহরবনু সাপ আর বিচ্ছুর ঘটনা সব খুলে বললো তার স্বামীকে। বাদশা সব জানতে পেরে উজিরকে ডেকে বললো: যেহেতু আমার কারণেই তোমার ছেলের কপালে এসব জুটেছে সেহেতু আমি আমার মেয়েকে তোমার ছেলের সাথে বিয়ে দেবো।
ঘটা করে বিয়ে হলো আর মোল্লাবাজি এবং তার মেয়েকে অনেক দূরে একটা গর্তে ফেলে দেওয়া হলো। এদিকে শাহরবনু একদিন দৈথ্যের কাছে গিয়ে বললো: তোমাকে সবসময় আমি বিরক্ত করেছি। এবার মাকে নিয়ে যেতে চাই আমার কাছে। দৈত্য হলুদ গরুটাকে নিয়ে এলো এবং হীরার ব্লেড দিয়ে তার চামড়া তুলে নিতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো তার মা। মেয়ের কাঁধে হাত দিয়ে বললো: মাকে সিরকার ড্রামে ফেলা কি ঠিক?
শাহরবনু মাথানীচু করে কাঁদতে শুরু করলো। তারপর দুজনে চলে গেল প্রাসাদে। রাজপ্রাসাদে মেয়ে আর জামাইকে নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটতে লাগলো মায়ের।#
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now