বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্বার্থপর ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X কাজিনের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে সৃষ্টির (ছদ্মনাম) সাথে অর্ণবের প্রথম দেখা । একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে সৃষ্টি কে দেখে অনেক ভালো লেগে যায় অর্ণবের। লাল রঙের মিষ্টি একটা স্কার্ট পরে এদিক ওদিক ঘুরতেছে, কি সুন্দর! না লাগছিল তখন !! আর অর্ণব হা করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়েই আছে, মেয়েটাও বুঝতে পারে ছেলে টা তার দিকে তাকিয়েই আছে । মেয়েটা একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়। . . অর্ণব কিছু বুঝতে পারতেছে না, মনটা কেমন ছটপট করতেছে, সে মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছে, প্রথম দেখায় ! যেটা কে বলে "লাভ এট ফার্ষ্ট সাইট" অর্ণব মেয়েটাকে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারছে না । কি ভাবে মেয়েটার সাথে কথা বলা যায় সে চিন্তায় ঘুম আসতেছে না । . . কিছুদিন পর ওইখান থেকে বেড়ানো শেষ করে বাড়িতে চলে আসে অর্ণব। সৃষ্টির রিলেটিব একটা মেয়ের সাথে কিছুদিন কথা বলে সৃষ্টির নাম্বার টা ম্যানেজ করে। এর কিছুদিন পর সৃষ্টিকে কল দেয় অর্ণব, প্রথমে ভুল বুঝলেও পরে সব ঠিক হয়ে যায়। . . তিন মাস কথা বলার পর অর্ণব তার মনের কথাটা বলে দেয় সৃষ্টি কে, সৃষ্টি ও খুব একটা সময় নেই নি, সময় নিবে বা কেন? তারও তো অর্ণব কে প্রথম দেখে ভালো লেগে যায়। অর্ণব কে সেও খুব ভালোবাসে । . . প্রেম চলছে পুরো দমে.. দিন রাত দুইজনের কাছে এক হয়ে গেছে । কোন তফাৎ নেই । থাকবেই বা কেন গভীর রাতে বাড়ির দরজায় কিংবা বাড়ির ছাদে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাত টাকে ভোর বানিয়েই দিলে তফাৎ থাকলো কোথায়? হয়তো এটাই ভালোবাসা.... নিজের ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে রাত অবধি মোবাইলের ওপাশ থেকে মিষ্টি কথাগুলা শুনাই ভালোবাসা! অর্ণব আর সৃষ্টির ভালোবাসাই ছিল এই রকম অনেক মিষ্টি স্মৃতি। . . খুব সুন্দরভাবে চলছিল তাদের সম্পর্ক। দুইজন দুইজনকে খুব ভালোবাসতো। প্রথম দেখা হয় তাদের প্রপোজ করার কিছু দিন পর। দেশের অবস্থা তখন খুব খারাপ ছিল। পিকেটিং পেট্রোল বোমার ভয় উপেক্ষা করে সেদিন দেখা করতে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালি গিয়েছিল অর্ণব। . . অনেকক্ষণ কথাবার্তা হয় তাদের। প্রথম দেখায় একটা সোপিস,আর একটা ব্যাগ,ও চকলেট গিফট করে... এরপর যতবার দেখা হয়েছে ততবারই কোন না কোন গিফট দিয়ে এসেছে। যেটা পছন্দ হইতো ওইটা কিনে রেখ দিত পছন্দের মানুষটির জন্য আর দেখা করার সময় নিয়ে যেত । . . এরপর প্রায়ই দেখা হতো তাদের, ওদের সম্পর্কের বয়স তিন বছর ছুঁই ছুঁই । ওদের সম্পর্ক করার আগে কথা হয়েছিল তারা একজন আরেক জনকে ধোঁকা দিবে না । তাদের প্রেমের পরিণতি হবে বিয়ে । একজন আরেক জনকে অনেক স্বপ্ন দেখাত.... -বাবু ?? (সৃষ্টি) - হুম বলো.... (অর্ণব) -আমাদের বিয়ের পর যদি ছেলে হয় কি নাম রাখবো জানো?? - কি রাখবে? -অরণ। (তোমার নামের সাথে মিল রেখে বাবু) - হুম... আর যদি মেয়ে হয়??? -অন্বেহা.. -হুম এই রকম অনেক অনেক স্বপ্ন তারা মধ্য রাতে বুনত... . . এর মধ্যে মেয়েটা অনার্স ১ম বর্ষ ফাইনাল দিয়ে ২য় বর্ষে উঠে, আর এদিক ওদিক থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে। মেয়েটা কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। কয়েক মাস আগে অর্ণব একটা প্রাইভেট ফার্মে জব নেয়। খুব ভালো চলছিল চাকরিটা । এর মধ্যে তাদের প্রেমের কথা জানাজানি হয়ে যায়। তার বাবা অনেক বকাবকি করে মেয়েটাকে। প্রথমে রাজি না হলেও পরে মেয়েটা বাবার পছন্দ মত বিয়ে করতে রাজি হয়ে যায়। এই কথাগুলো একবারও অর্ণব কে বলে নাই। শুধু মিথ্যে আশ্বাস দিয়েছিল সে।বারবার বলেছিল আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। তার কথাগুলো অর্নব অন্ধের মত বিশ্বাস করেছিল । আশা হারায় নি মানুষটির প্রতি। . . (কিছুদিন পর) . বারবার ওকে কল দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, শুধু কল দিলে ওপাশ থেকে একটাই কথা আসতেছে "এইমূহর্তে আপনার কাঙ্খিত নাম্বারে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন" এই ব্যর্থ চেষ্টাটা বারবার করে যাচ্ছে অর্ণব। কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। সৃষ্টি কল ধরতেছে না দেখে ওর মামাতো বোনকে কল দেয় কল দিয়ে শুনে ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, কথাটা শুনে কি করবেই কিছু বুঝতে পারছে না.... এরপর রাতে সৃষ্টির মোবাইল খুলে অনেকবার কল দেয়ার পর মোবাইল রিসিব করে.... - কল ধরতেছেও না কেন? (অর্ণব) - তুমি আমাকে আর কল দিবে না । আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। (সৃষ্টি) -কি বলতেছ এসব? -আমাকে আর ডিস্টাব না করলে খুশি হবো - তাহলে কেন আমাকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়েছো?? -কোন কথা নেই ( মোবাইলটা অফ) . এরপরের ছেলেটা ভালো নেই, অনেকটা উশৃঙ্খল হয়ে গেছে... . ভালোবাসায় বিশ্বাস হারাতেই নেই, বিশ্বাস হারালেই যে ভালোবাসা হারিয়েই যাবে। কিন্তু কি হলো?? বিশ্বাস কি অর্ণব কে হারিয়েই দিয়েছিল নাকি ভালোবাসাটা ??


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালোবাসা বড় স্বার্থপর
→ স্বার্থপর ভালোবাসা
→ স্বার্থপর ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now