বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সব তোর ভালোর জন্য

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Bad Boy (০ পয়েন্ট)

X "সব তোর ভালোর জন্যই"  কথাটিকে বিশ্বাস করিয়ে মেয়েটাকে বিয়েতে রাজী করে বাবা মা বাবা-মা'র মুখের উপর না করতে পারেনি মেয়েটা, তাইতো নিজের প্রেম-ভালোবাসা, মায়া ত্যাগ করে বাবা-মা'র মুখে হাঁসি ফুঁটাতে মেয়েটি এ সিদ্ধান্ত নেয়! রাত পোহালেইই বিয়ে। চারেদিকে নানা রকম আয়োজন, মেয়েটিকে ঘিরে রেখেছে আত্নীয়-স্বজন। মেহেদী রাঙা হাত নিয়ে বসে আছে মেয়েটা, সবার দিকে তাকিয়ে সবার উৎসব আর আনন্দ দেখে নিজেকে একটু আনন্দে রাখার ভান করতেছে মেয়েটা মনে মনে ভাবতেছে আর কিছুক্ষণ পর সবাই ঘুমিয়ে পরবে, এটাই পালানোর বেস্ট সময়, ভালোবাসাকে জয় করতেই হবে।  আবার পরক্ষণে ভাবছে, বাবার হার্ট প্রব্লেম এইবার স্ট্রোক করলে কি হবে ? আর বাবার কিছু হলে মা তো বাঁচতে পারবেনা। তাই বার বার পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও পারেনি, ফিরে এসেছে আবার রুমে! হাতে ওড়না টা নিয়ে বারবার ফ্যানের সাথে পিছিয়ে সুইসাইড করতে গিয়েও ব্যর্থ মেয়েটা, কেননা ছেলেটার হাতে হাত রেখে লাস্ট বারের মত দু'জন দু'জনাকে কথা দিয়েছিল "যা কিছু হোক নানা ক্যান? সুইসাইড করবো না" ???? মেয়ে তো কিছুই করার নেই, চিৎকার করে প্রতিবাদ করার কন্ঠ নেই... জোড়ে কান্না করার ও পরিবেশ নেই, ছিল শুধু চাপা ক্ষত জালিয়ে নিজেকে পুড়াবার!  নির্ঘুম রাত শেষে ভোরের আলোর দেখা। প্রতেক টা মানুষেরই বিয়ের দিন অন্যতম মূল্যবান আর প্রিয় একটি দিন আর সেই দিন টাই ছিল মেয়েটার সবচেয়ে দুঃখের ভারাক্রান্ত একটি দিন। চারেদিকে নানান উৎসবে চলছে, থেমে নেই বিয়ের সানায়। মেয়েটিকে সাজানো হচ্ছে একদম পরীর মত করে। পুতুলের মত সাজিয়ে রাখা মেয়েটিকে যেন আজ সবথেকে বেশী সুন্দর লাগছে, আয়নার সামনে মেয়েটা নিজেকে দেখে মন ডেকে উঠে বললো "ইশ আমার পাগলটা যদি এভাবে একবার আমাকে দেখতো ?  বরযাত্রী এসে মেয়েকে দেখে অন্নেক খুশী, এ যে আকাশ থেকে নেমে আসা এক টুকরো চাঁদ। মাওলানা সাহেব সাক্ষী নিয়ে এসে মেয়েটিকে কবুল বলতে বললে, মেয়েটি চুপ থাকতে পারেনি। অসহায় শেঁকলে বাঁধা মেয়েটি পারেনি দৌড় মেরে উঠে যেতে, বাধ্য হইছে কবুল বলতে। বিয়ের সব কাজ শেষ.... বাবা-মা আনন্দে কান্না কাটি করে বরের হাতে তুলে দিল আদরের মেয়েটিকে, মেয়েটির চোখ থেকে পানি বের হচ্ছিল কিন্তু শব্দহীন ছিল কান্নাটা।  শশুর বাড়িতে নানান আয়োজনে মেয়েটিকে বরণ করা হলো। বাসর ঘরে মেয়েটি বসে, বার বার ভাবছে তার পাগলটির কথা। "না জানি তার পাগল টা কি করছে, ল্যাম্পপোস্ট এর আলোয় নিকোটিনের ধুঁয়াতে না জানি নিজেকে কত্ত যত্নকরে পুড়াচ্ছে। জানি ছেলেটা মরবেনা, কিংবা মাস্তানি দেখিয়ে মেয়েটার শশুর বাড়িতে গিয়ে মেয়েটার হাত ধরে পালিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না! জানি মেয়েটাও গল্প সিনেমার মত হুট করে পালিয়ে যেতে পারবেনা এই সংসার ছেড়ে, জানি মেয়েটা তার স্বামীকে হাঁসিমুখে ভান করে জাস্ট দেহ টা দিতে পারবে, তবে এর বেশী না! এক টুকরা স্বপ্ন আসতে আসতে যেন আয়োজন করে মেরে ফেলা হচ্ছে..... (পরের টা আরেকদিন) ৩ জন মানুষ ই পৃথক ভাবে সারাজীবন অসুখী থাকবে, তাতে কি বাবা-মা তো "ভালোর জন্য ই করেছে" ???? প্রতেক বাবা-মা'ই/অভিভাবক প্লিজ্জজ অন্তত সন্তানের ভালো টা বিচার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন... "সব তোর ভালোর জন্যই" - কথাটাকে সস্তা বানাবেন না প্লিজ সব ভালো সবসময় সহ্য হয় না। তথাকথিত "ভালো" এর জন্য অসহ্য কষ্ট বুকে পুষে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব না ... মানুষ ঠিকই বেঁচে থাকে ... মরে যায় শুধু স্বপ্নগুলো


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সব তোর ভালোর জন্য

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now