বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সব গল্পের হ্যাপি এন্ডিং হয় না

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আজকে নীলা ঢাকার একটা পার্ক এ বসে আছে, কেননা তার ভালোবাসার মানুষ আর কিছু ক্ষন পরে তাকে নিতে আসবে, তাদের প্লান তারা আজকে একসাথে সারাদিন ঘুরবে,অনেক জমে থাকা কথা বলবে একে অপরকে.বলা হয় নি নীলা যার জন্য অপেক্ষা করছে তার নাম শুভ. ও একটা সফটওয়্যার কম্পানি তে জব করে. নীলাদের গ্রামের পাশের গ্রামেই বাসা কিন্তু চাকুরির জন্য ঢাকা তে থাকে. নীলার অনেক ইচ্ছা ঢাকা শহর দেখবে, শুভ বললো কয়েকদিন পরে ঈদের ছুটিতে বাসায় গিয়ে দেখা করবো কিন্তু নীলা মানতে নারাজ তাই এত পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসেছে নীলা, আজকে সারাদিন ঘুরাঘুরি করে রাতে গাড়িতে করে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে. ,, আর হ্যা নীলার কথা বলি,, নীলা, অনেক মেধাবী, চঞ্চল, পৃকিতির. সে উপশহরের একটা কলেজে লেখাপড়া করে,ইন্টার প্রথম বর্ষে. মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বলে ছোট বেলা থেকেই তার চাঞ্চলতা বেশি বিকশিত লাভ করতে পারে নি. শুভ আর নীলার পথ শুরু হয় অনেকটা এই ভাবে. শুভ অনেকদিন পর বাসায় আসছে কি জেনো একটা কাজে মায়ের জরুরি তলব,তাই আসছে. আসার সময় নীলাদের গ্রাম ক্রস করে আসতে হতো, শুভ বাসায় ফিরছে এর মাঝে হঠাত একটা মেয়ে দেখে শুভ, মনে হয় যেন একটা ডানা কাটা পরী. অনেক ভালো লাগে ওর, ,, আর ঢাকা শহরে সারাদিন কাজের পর আর বের হতে ভালো লাগে না, তাহলে কাউকে যে স্পেশাল ভাবে ফিল করবে কিভাবে, ত মেয়েটিকে দেখে অনেক ভালো লেগে যায় শুভ এর। বাসায় ফিরে দেখে সবাই ওর জন্য অপেক্ষা করছে. বাসায় ফিরে সে কিসুতেই মন স্থির করতে পারছিলো না, মনে শুধু সেই পরীটার ছবি ভেসে উঠছিল, পরী বলছে কেননা মেয়েটিকে দেখতে পরীর মত তাছাড়া শুভ নাম জানতো না. পরের দিন পাশের এলাকায় গেলো উদ্দেশ্য পরীটাকে খুজে বের করা. কিছুক্ষন পরে পেয়েও গেলো, দেখে শুভ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না. ,, কেননা ওর বন্ধু নাসিম রয়েছে তার সাথে, নাসিম, শুভ এর ভালো বন্ধু,আর পরী মানে নীলা এর চাচতো বোন. নাসিম ই আগে শুভ কে ডাক দেয় কথা বলে এরপরে শুভ জানতে চায় পরীটা কে. নাসিম বলে ও তো আমার চাচাতো বোন নীলা ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ে, শুভ বলে কিছু না,অনেক ভালো লাগে ওকে,কালকেই নীলা দেখলাম মনে হয় কলেজ থেকেই ফিরছিলো, আমি ওরে চাই যে কোনো মুল্যে, বলে শুভ, আর নাসিম বলে দেখ শুভ ও এমন মেয়ে রিলেশন কোনোদিন ও করবে না।তুই পাড়লে আমার কিছু যায় আসে না. সাহস পেয়ে শুভ বলে আমি সাত দিন এলাকায় আছি তুই আমাকে ওর( নীলা) সাথে একদিন কথা বলায়ে দিবি আর আমার সম্পর্ক এ যা জানিস বলবি বাকি টা আমি (শুভ) দেখবো। ,, বলে সেইদিন চলে আসে. এর পরে শুভ প্রতিদিন সকালে নীলার কলেজে যাওয়ার রাস্তার পাশে দারিয়ে থাকত,আর বিকালে নীলার বাসার সামনে ঘুরাঘুরি করতো. সমস্যা হতো না কেননা নাসিম থাকতো সাথে, কিন্তু নাসিম কিছুই বলে নি নীলাকে, যে কথা বলতে চায় শুভ.. নীলা অবশ্য কিছু বুঝতে পেড়েছিল শুভ হয়তো ওকে পছন্দ করে, তারপরেও ওই দিকে মন দেয় নি. ষষ্ঠ দিনে নাসিম কে বলে কালকে বিকালে আমি(শুভ) ঢাকায় চলে যাবো. তুই ত কথা বলাইয়া দিলি না. নাসিম এর ও একটু খারাপ লাগে ওর(শুভ) ত দেখি নাই কোনো মেয়ের পিছনে ঘুরতে,,এখন পাগল হয়ে গেছে. নাসিম কিছু না বলে বাসায় ফিরে আসে, শুভ বুজলো ওর আশা শেষ। তাই সে মন খারাপ করে চলে আসে. রাতে ঘুমুতে পারে না শুভ, .... পরেরদিন সকালে নাসিম এর কাসে গিয়ে বলে ভালো থাকিস, অনেক কস্ট দিছি তোরে মাফ করে দিস,আজ যাচ্ছি ঢাকা. ফিরবো ঈদের ছূটিতে. সেইদিন নীলাকে দেখা দেয় নি শুভ.. ঢাকায় চলে যায় শুভ, ওই দিন নীলা শুভ কে দেখতে পেলো না,রাতে অনেক মিস করতে লাগলো যেই ব্যক্তি আমাকে সব সময় ফলো করতো সে আজ কেনো আসলো না। শুভ এখন ঢাকা, আর নাসিম এর ও খারাপ লাগছে ভালোবাসা ত দোষের কিছু না, আমি(নাসিম) নীলার সাথে কথা বলে দেখতাম কি হয়. নিজেকে অনেক অপরাধি মনে হচ্ছে নাসিম এর. তাই নাসিম নীলা এর কাসে গিয়ে সব খুলে বলে, নীলাও ত অনেক মিস করতেছিলো, নাসিম হইলো নীলা এর বড় ভাই, সে কেমনে বলবে আমি(নীলা) আপনার বন্ধুকে মিস করছি.. .. ... এরপরের কাহিনী অতি সংক্ষিপ্ত, নীলা হঠাত করে বলে ফেলে আমি আপনার বন্ধুকে অনেক ভালোবাসি. আমি ওনার (শুভ) এর সাথে কথা বলবো, সেইদিন নাম্বার নিয়ে রাতে বাসার ফোন নিয়ে কল করে শুভকে, নীলা কথা নাই বার্তা নাই বলা শুরু করলো আপনি একটা পচা, আপনি এমন কেনো,আমাকে একা রেখে গেলেন যাওয়ার সময় বলেও গেলেন না যে ঢাকায় যাচ্ছি, জানেন আমি কত মিস করেছি আপনাকে,, কিছুই করতে পারি নাই, আজকে হঠাত নাসিম ভাইয়া আপনার কথা বললো, আর তার ফল আপনার সাথে কথা বলছি.. শুভর বুঝতে বাকি রইলো না এই কথা গুলা নীলা ই বলতে পারবে, শুভ ত অনেক অবাক হয়ে গিয়েছিলো,, .... ফোন পেয়ে, তারপর কথা বলতে লাগলো, প্রতিদিনই.. কি কথা হইতো আমি বলবো না আপনারাই বুঝে নিন,নাইলে আপনারা ভালোবাসা শিখে যাবেন. নীলা এত অস্থির হয়ে পরছিলো শুভকে দেখার জন্য,আর তর সইছিলো না. ঈদ ও চলে আসছে শুভ বললো আগামী তিন দিন পরে আমি আসবো তারপরে সব জমানো কথা বলবো,, একসাথে পাশাপাশি বসে,আর তোমাকে দেখবো.. মন ভরে. অবশ্য নাসিম এর সাহায্যে ভিডিও কলে কথা হয়েছিলো ওদের তারপরেও অনেক অস্থির ছিলো নীলা. আসলে ভালোবাসার মানুষ কে না দেখলে এমন ই হয়. দুই দিন পরে নীলা বলে আমি ঢাকা দেখবো, আমি আসবো আর তুমি আমাকে ঘুরাইয়ে দেখাবে,আমি ঢাকা দেখি নাই. এইগুলা বলার কারন হইলো নীলা আর অপেক্ষা করতে পারছিলো না, শুভ বলে হ্যা কিন্তু বাসায় কি বলবে. নীলার কথা আমি মেনেজ করে নিবো. সব মেনেজ করেই আজকে নীলা বসে আসে ঢাকার এক পার্ক এ, ..... শুভ এর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী,. ওই ত শুভ আসছে, দূর থেকে দেখে বসা থেকে উঠে চলে গেলো, আর জড়িয়ে ধরলো আর বুকে কিল মারতে লাগলো, এত দেরি করলে কেনো...পার্ক থেকে বেরিয়ে ঢাকার কয়েকটা ঐতিহ্য বাহি জায়গা ঘুরিয়ে দেখালো, নীলা অবাক হচ্ছিলো সব কিছু দেখে, গ্রামের মেয়ে ত তাই। এরপরে দুইজন কেনাকাটা করে বাসের টিকিট করতে এলো, শুভ একবারের বেড়িয়ে এসেছিলো, এর পরে রাতের গাড়িতে দুইজন বাসায় আসছে নীলা, শুভ এর বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে. শুভ বলে একটা খুশির খবর আছে, নীলা লাফ দিয়ে উঠে বললো কি বলো বলো,. শুভ বললো আসছা বলছি, বাসায় ফিরে আম্মুকে বলবো আমি নীলাকে বিয়ে করতে চাই. এই কথা শুনে নীলা লজ্জা পেলো, .... আমি আবার বউ হবো.... ও এই কথা শুনে বললো আমি তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাই, শুভ বলে সারাজীবন এর জন্য ব্যবস্থা করবো বাসায় ফিরি.. এরপরে নীলা ঘুমিয়ে যায় শুভ এর বুকে, শুভ ও অচেতন প্রায় আর এই সময় হঠাত করে ওদের বাস টা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়, বাসের সবাই অচেতন ছিলো তাই বাসের অর্ধেক এর বেশি লোক মারা যায়... এর মাঝে নীলাও ছিলো, কিন্তু ভাগ্যক্রমে শুভ বেচে যায়. সারারাত হাসপাতালে ছিল, নীলার খোজ পাচ্ছিল না,,, পরেরদিন সকালে নীলার লাশ পাওয়া যায়, আর অজ্ঞান হয়ে পরে শুভ....গ্রামে নীলার দাফন হয়,, এরপরের ঘটনা শুভ একদিন সন্ধ্যার বসে আছে দুরের ওই আকাশে তারা দেখছে, মনে হচ্ছে ওই তারার মাঝ থেকে নীলা ওকে (শুভ) ডাকছে..........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সব গল্পের হ্যাপি এন্ডিং হয় না

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now