বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"সব ভালবাসার হ্যাপি এন্ডিং হয়না"

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X আমি মেঘা। অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী। আমি বেশিরভাগ হেঁটেই ক্যাম্পাসে যাই। আমাদের বাসা থেকে ক্যাম্পাস বেশি দুরেনা। সেদিনও রাস্তার পাশ ঘেষে হেঁটে যাচ্ছিলাম ক্যাম্পাসের দিকে। হঠাৎ একটি রিক্সা ঠিক আমার পাশে এসে দাড়ালো। আমি তাকিয়ে দেখি মুখে চাপদাড়িওয়ালা একটি ছেলে রিক্সায় বসে আছে। সে আমাকে বললো... --যদি কিছু মনে না করো, তোমাকে ক্যাম্পাসে নামিয়ে দিই..!? আমি চমকে গেলাম তার কথা শুনে..! তাকে আমি চিনিনা। আর আমাকেও তার চেনার কথা নয়। কারন আমি বুঝার পর থেকে বোরকা ছাড়া কোনোদিন বাইরে বের হইনি। আমি বললাম... --ধন্যবাদ, আমি হেঁটেই যেতে পারবো। আর তাছাড়া আপনাকে আমি চিনিনা। তাহলে কেন আমি আপনার সাথে যাবো..!? ছেলেটি কোনো কথা না বলে রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া মিটিয়ে রিক্সাটা ছেড়ে দিলো। তারপর বললো... --ঠিক আছে, আমিও তোমার সাথে হেঁটে যাবো, তোমার আপত্তি থাকলেও। আমি কিছুটা ভয়ও পেয়ে গেলাম। আবার ছেলেটাকে দেখে ভয় পাবারও কোনো কারন ছিলোনা। ভালোই মনে হলো ছেলেটিকে। আমি কিছু না বলে হাঁটা শুরু করলাম। . ছেলেটিও আমার সাথে হাঁটছে..। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম... --আচ্ছা আপনি কি আমাকে চিনেন..? --চিনি তো অবশ্যই। না চিনলে কি এভাবে কেউ রিক্সায় চড়ার প্রস্তাব দেয়..! --তাহলে আপনার পরিচয়টা এবার দয়াকরে বলুন..। --আচ্ছা তোমার কি আকাশ নামের কাউকে মনে আছে..? আমি মনে করতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু মনে পড়লোনা...! বললাম... --নাতো, মনে করতে পারছিনা..! --আচ্ছা, তুমি যখন ক্লাস দশম শ্রেণীতে পড়তে, তখন কি কোনো বখাটে ছেলে তোমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলো...? . তখনই আমার পাঁচ বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ে গেল... "আকাশ নামের এক মাতাল ছেলে ছিলো। বড়লোকের একমাত্র ছেলে। পড়ালেখা বাদ দিয়ে সারাক্ষন নেশার উপরে থাকতো। আর ছাত্র রাজনীতি করে বেড়াতো। কলেজের সবাই তাকে ভয় করতো। এমনকি কলেজের শিক্ষকরাও। ছেলেটি একদিন আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসলো। আমি সাথে সাথে তার প্রস্তাব ডিনাই করে দেই। আরেকদিন লোকজনের সামনে মাতাল অবস্থায় আমার কাছে এসে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো। তারপর বললো, আমি তোমাকে সত্যিই ভালবাসি, তোমাকে ছাড়া আমি বাচাঁবোনা। তারপর আমার হাত ধরে কাঁদতে লাগলো। আমার মেজাজটা গরম হয়ে গেল। আমি রেগে গিয়ে বললাম, আপনি ভাবলেন কি করে আপনার মতো একজন মাতাল, নেশাখোরকে ভালবাসবো আমি.! সে আমার হাত ছাড়ছিলোনা, আমি একটান মেরে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তার দুই গালে দুইটা থাপ্পড় দেই, এবং সেখান থেকে আমি চলে আসি। তারপর থেকে আকাশকে আর দেখিনি।" . --মেঘা...? ছেলেটির ডাকে আমি কল্পনা জগৎ থেকে ফিরে এলাম। এ তো দেখি আমার নামও জানে..! আমি বললাম... --হ্যাঁ, আকাশ নামের এক বখাটে ছেলে ছিলো। --আমিই সেই বখাটে ছেলে আকাশ...! কথাটা শুনেই আমি আরো চমকে গেলাম। এ কি করে সম্ভব! সেই আকাশ আর এই আকাশের মধ্যে তো রাতদিন তফাৎ। আমি মেলাতেই পারছিলামনা। তার কপালের মাঝখানে কালো দাগ হয়ে গেছে। বুঝতে পারছিলাম সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। চেহারায় যেন অন্যরকম একটা লাবন্য আছে। . ছেলেটি আবার বলতে লাগলো... --কি..! চেনা যাচ্ছেনা তাইতো..!? তোমার সেই থাপ্পড় দুটোই আমার জীবনটাকে বদলে দিয়েছিল। সেদিন আমি অনেক্ষণ কেঁদেছিলাম। আর মনে মনে বলেছিলাম, আমার এই বাউন্ডুলে জীবনটাকে কেউইতো পছন্দ করেনা। মেঘা করবে কেন..!? আমি নিজেকে বদলে ফেলবো। যেন পরেরবার মেঘার সামনে গেলে আমাকে ফিরিয়ে দিতে না পারে। সত্যিই আমি নিজেকে বদলে ফেলেছি একদম। আমি খুব ভালভাবেই লেখাপড়া শেষ করেছি। ব্যাংকে একটি চাকরিও পেয়েছি। তারপর একদিন তোমাদের ভাড়া বাসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তোমার বাবা ট্রান্সফার হয়ে ঢাকায় এসেছে। কিন্তু কেউ বলতে পারলোনা ঢাকার ঠিকানা..! আমি তখনি তোমার বাবার অফিসে গিয়ে ঢাকার অফিসের ঠিকানা ম্যানেজ করি। তারপর ঢাকা এসে তোমার বাবার অফিসে গিয়ে তোমার বাবাকে পেয়ে যাই। কিন্তু তার সাথে দেখা করিনা। তোমাদের বাসার ঠিকানা জানার জন্য গতকাল তোমার বাবার পিছু নিয়েছিলাম, সে যখন অফিস শেষে বাসায় ফিরছিলেন। অবশেষে বাসার ঠিকানা পেয়ে যাই। আজ সকাল থেকে তোমাদের বাসার সামনে অপেক্ষা করছি, কখন তুমি বের হও..! আমি তোমাকে যে সত্যিই ভালবাসি মেঘা। এখোনো কি আমাকে ফিরিয়ে দিবে..!? . আমি এক ধ্যানে ওর কথাগুলো শুনতেছিলাম। ততক্ষণে আমার দুচোখ অশ্রুতে ভরে গেল। যে মানুষটা আমাকে এত ভালবাসে তাকে আমি কি করে বলি যে আমি এন্গেজড.! গতমাসে আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে..! কষ্ট হলেও সত্যটা আকাশকে আমি জানালাম। কথাটা শুনে ও খুব কাঁদতেছিলো! ওকে শান্তনা দিলাম, আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর কারো হাত নেই। আমার নামের পাশে আপনার নামটা হয়তো তিনি লিখে রাখেননি..! এই চরম সত্যটা আমাদের মেনে নিতেই হবে..! . তারপর আমি সেখান থেকে চলে আসি। আকাশ সেখানেই মুর্তির মত দাড়িয়ে ছিলো! ওর জন্য ভীষন কষ্ট হচ্ছে আমার..! আসলেই সব ভালবাসার হ্যাপি এন্ডিং হয়না..! কষ্টের হলেও এটা মেনে নিতে হয়...!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "সব ভালবাসার হ্যাপি এন্ডিং হয়না"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now