বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার একটা বোন আছে নাম বৃষ্টি। ও সবসময় বলে, "ভাইয়া কারো যদি এ-পজেটিভ রক্ত লাগে তাহলে আমাকে ডাক দিও, যেখানেই থাকি ছুটে আসবো।"
রক্ত দানের একটা মাত্রা আছে কিন্তু ও দেখছি নিয়মনীতিরও উর্ধ্বে!!!
প্রথমত ভেবেছিলাম বয়স কম তাই হয়তো আবেগে এসব করে তাছাড়া ওর মধ্যে বেস্ট একটা গুণ আছে তা হলো, "মানুষের উপকার করা। অনেক সময় দেখেছি রাস্তার ছেলেমেয়েদেরকেও নিজ খরচ দিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়েছে, লেখাপড়ার খরচ দিচ্ছে। আসলে ওর মত একটা মানুষের সাথে পরিচিত হয়ে আমি ধন্য।
.
ওহ্ যা বলছিলাম,
একদিন বিকালে আমি রক্তের একটা বিজ্ঞাপন দিলাম, বৃষ্টি দেখেই আমাকে নক করলো! - ভাইয়া আমি রক্ত দিব, তুমি হাসপাতালের ঠিকানা দাও।
আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললাম, - পাগল হয়েছো বৃষ্টি?
- কেন ভাইয়া? এমনটা বলছো কেন?
- দেখো বোন, তুমি থাকো মৌলভীবাজার, আর হাসপাতাল হলো "ময়মনসিংহ চরপাড়া!" এখানে তুমি আসতে পারবা না।
- তবুও আমি আসবো ভাইয়া তুমি না করোনা! এই রক্তের জন্য একদিন অনেক চোখের পানি ঝরিয়েছি।
- মানে?
- কিছু না ভাইয়া।
.
- আমাকে বলবা না?
- কি বলবো ভাইয়া?
- "রক্তের জন্য চোখের পানি ঝরিয়েছ" এটার মানে।
- কষ্ট পাবা ভাইয়া!
- তবুও বলো......!
- আচ্ছা তাহলে শুনো,
২বছর আগে তখন আমি ক্লাস টেন এ পড়ি। আমার একটা ভাই কানাডা থাকে, আব্বু ব্যাংকে জব করে আর মা গৃহিণী। মায়ের একমাত্র সঙ্গী ছিলাম আমি, তাই মা আমাকে খুব আদর করে। খুব সুখেই চলছিলো আমাদের সংসার।
হঠাৎ একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দেখি কিচেনের ফ্লোরে আম্মু পড়ে আছে! মাথার নিচে রক্ত জমাট, আর অজ্ঞান অবস্থায়। চিৎকার দিয়ে কেঁদে দিলাম!
কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। মাথায় বুদ্ধি আসলো, - আব্বুকে ফোন দিই!
.
আব্বুকে ফোন দিলাম, আব্বু খুব তাড়াতাড়ি আসছে......! এদিকে আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কাঁধে উঠানোর চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না, বারবার ব্যর্থ হচ্ছি।
রুম থেকে বের হয়ে দারোয়ানকে ডাক দিলাম, এমন সময় দেখি গাড়ি নিয়ে আব্বু উপস্থিত।
ধরাধরি করে আম্মুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো! সাথে সাথে ডাক্তারকে বলে দেওয়া হলো যত টাকাই লাগোক, "আপনারা ওনাকে সুস্থ করে দিন!"
৫মিনিট পর অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তার বের হলো, আব্বু আর আমি ডাক্তারের কাছে এগিয়ে গেলাম।
হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় আব্বু বলছে, - ডাক্তার সাহেব আমার স্ত্রীর কি অবস্থা?
ডাক্তার সাহেব মুখের মধ্যে বিষন্নতার ছাপ এঁকে বলে উঠলো, - অবস্থা খুবই সিরিয়াস! ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে রক্ত না পেলে পেসেন্টকে বাঁচানো যাবে না।
.
ডাক্তারের কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে জল চলে আসলো! আব্বু পাগলের মত হয়ে রক্ত খুজছে আর আমি হাসপাতালের কেবিনে বসে কান্না করছি।
নানু বাড়িতে ফোন দিলাম, ফুফুর কাছে ফোন দিলাম, এক আঙ্কেলকে খবর দিলাম! যত আত্মীয় স্বজন আছে সবার সাথে যোগাযোগ করলাম কিন্তু রক্ত যোগার হয়নি। কারো সাথে রক্তের গ্রুপ মিলে না, যদিওবা গ্রুপ মিলে, তো এত তাড়াতাড়ি দেওয়া সম্ভব না।
.
.
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললো, - সরি মা, আমি তোমার আম্মুকে বাঁচাতে পারলাম না। আই এম এক্সট্রিমলি সরি।"
.
.
বৃষ্টি কাঁদতে কাঁদতে বলছে, "জানো ভাইয়া তখন আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়েছিলো আমি কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না শুধু চিৎকার করে কেঁদেছিলাম!"
তার কিছুক্ষন পর আব্বু ফিরে আসলো, সাথে একজন মানুষ নিয়ে। আব্বু এসে দেখে আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছি!
জানো ভাইয়া, সেদিন আব্বু চিৎকার করে কাঁদতে পারেনি আমার জন্য। শুধু নিরবে চোখের পানি ফেলেছিলো।
আব্বুকে বললাম, - খুব দেরী করে ফেলেছো আব্বু, বড্ড দেরী করে ফেলেছি।
.
বৃষ্টির কথা শুনে আমার চোখ জলে টলমল করছে।
ওপাশ থেকে বৃষ্টি কান্না থামিয়ে বললো, - ভাইয়া আমি আসছি।
- হ্যা ,আসো বোন......!
আসলে যার হারিয়েছে সেই বুঝেছে হারানোর কি বেদনা। আসুননা নিজের শরীরের এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে একজন মানুষের প্রান বাঁচায়!
দেখবেন পুরো দুনিয়া সুন্দর হয়ে যাবে। তাহলে বৃষ্টির মত আর কোনো মেয়েকে এতিম হতে হবে না। এতিম হতে হবে না কোনো নবজাতক শিশুকে। খালি হবে না কোনো মায়ের বুক
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now