বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বেলা একটা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। এখন লাঞ্চ ব্রেক। দুপুরের খাবারটা সাধারণত ক্যাম্পাসেই খেয়ে নিতে হয়। ক্যাম্পাসের খাওয়া মানেই হলের গেটের পাশের খুপরি হোটেল। সার্ভিস খুব ভালো না হলেও একেবারে খারাপ নয়; বরং বন্ধুরা মিলে দুপুরের খাবারটা বেশ মজা করেই খাই। আজ কেবলই খেতে বসলাম। হঠাৎ বন্ধু শাওনের ফোন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক মুমূর্ষু রোগীর জন্য ‘ও’ নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন। আমার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ নেগেটিভ। খাওয়া শেষ করে দেরি করলাম না; পথ ধরলাম হাসপাতালের।
সঙ্গে ডেকে নিলাম সায়নকে। সায়ান আমার ছোটবেলার বন্ধু। একই এলাকায় থাকতাম, একসঙ্গে স্কুলে পড়েছি। তারপর আমি পরিবারের সঙ্গে অন্য শহরে শিফট হয়েছিলাম, তাই আলাদা কলেজে পড়েছি। এখন আবার আমার ভার্সিটি আর ওর কলেজ একই শহরে। তাই বিপদ-আপদে একে অন্যকে সাহায্য করার চেষ্টা করি।
হাসপাতালে পৌঁছে গেলাম, রোগী একজন নারী। বয়স কেমন তা বোঝা যায় না। তবে কোনো দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে মনে হলো। এরই মধ্যে রক্ত দিয়েছি। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। বাইরে একজন অপেক্ষা করছেন। সম্ভবত রোগীর আত্মীয় হবেন। বিচিত্র স্বরে কান্নাকাটি করছেন, ভীষণ মায়া লাগছে ওনাকে দেখে। শাওন মেডিকেলের ছাত্র। এই কান্নাকাটিতে অভ্যস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটনা ঠিক উল্টো। শাওন অনবরত শার্টের হাতায় চোখের পানি মুছছে। তাহলে কী রোগী ওর নিকটাত্মীয়?
ততক্ষণে আমার লাঞ্চ ব্রেক শেষ। ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হলে এক্ষুনি চলে যাওয়া উচিত। কিন্তু যেতে পারছি না। একজন নার্স জানালেন, বাইরে যিনি অপেক্ষা করছেন, তিনি রোগীর মা। সোমা নামের এক নারী হাজবেন্ডের নির্যাতনের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মনে মনে খুব রাগ হলো, অচেনা এক পুরুষের প্রতি। হয়তো সোমা কোনো অন্যায় করেছিলেন। কিন্তু তার শাস্তি তো এত নিষ্ঠুর হতে পারে না। এবার সোমার মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। নিজের পরিচয় দিলাম রক্তদাতা হিসেবে, বললাম বন্ধু শাওনের কথাও। আন্টি কৃতজ্ঞতা জানালেন, শাওনকেও দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শাওন এক অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে গেল। ব্যাপারটা কেমন জানি ঘোলাটে লাগছিল। মাথায় একটা বড় প্রশ্ন খেলে গেল। কীভাবে কী হলো, আন্টির কাছে জিজ্ঞাসা করতেই বেরিয়ে এল সবকিছু। অসহায় সোমা ও এক ভয়ংকর বখাটের কাহিনি। সব শুনে দূরে দাঁড়ানো শাওনের সামনে যখন এলাম, মনের মধ্যে তখন তীব্র ঘৃণা। মাথা নিচু করে সে জানাল, শাওন নিজেই সেই কালপ্রিট। কলেজে ভর্তির পর পারিবারিক প্রতিপত্তি আর সঙ্গদোষে দিনে দিনে সে পচে গেছে। ভেতরটা কেমন দুমড়ে-মুচড়ে গেল। খুব অসহায় বোধ হলো।
নওরীন নাহার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now