বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পুরোনো সাইকেলে টুংটাং আওয়াজ তুলে বাবা বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে যেতেন। আমি তখন প্রাইমারির ছাত্র। বাবা সরকারি চাকরি করতেন। বিকেলে অফিস থেকে ফিরে আড্ডায় যাওয়া বাবার নিত্যদিনের অভ্যাস ছিল। রাতে বাবার আসার সময় হলে জোরে শব্দ করে পড়তাম, যাতে বাবা শুনতে পান আর খুশি হন যে আমি পড়ছি। অনেক সময় পড়া ধরতেন। যখন বেশি বেশি পড়া ধরা শুরু করতেন, তখন অনেক সময় তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে ঘুমের ভান ধরতাম। চোখের পলকে সময় চলে যায়...।
এখন বাবা বুড়ো হয়ে গেছেন। প্রায় সময় দুই চোখ বুজে থাকেন। আমিও চাকরি থেকে ফিরে আড্ডায় যাই। তবে বাবার মতো সাইকেলে নয়। আমার একটা মোটরসাইকেল আছে। সেটার শব্দ তুলে ছুটে যাই। এখন আমার ছেলেও প্রাইমারির ছাত্র। তবে আমাকে দেখানোর জন্য বা আমি ফিরে আসার সময় হলে তাকে পড়তে হয় না। যুগ বদলেছে, তারা এখন পুরোপুরি স্বাধীন।
খুব ভাবনায় পড়ে গেলাম। এই তো সেদিনের কথা! যা আমি ছিলাম, আজ তা আমার ছেলের জীবন। যে অবস্থানে ছিলেন আমার বাবা, সেই অবস্থানে এখন আমি। এভাবে আমার ছেলে আমার স্থানে আসবে একদিন। তার ছেলেও একদিন হয়তো প্রাইমারির ছাত্র হবে। আমার ছেলে হয়তো আরও দামি কিছু নিয়ে ছুটে যাবে আড্ডা দিতে। হয়তো সে সময় আড্ডা থাকবে না। থাকবে অন্য কিছু! তখন বাবার মতো আমিও চোখ বুজে পরপারের অপেক্ষায় থাকব!
এভাবে অদৃশ্য নিয়তি সবাইকে বিদায় নিতে বাধ্য করবে। দুচোখ বুজে পরপারের অপেক্ষায় থাকার জন্য বাধ্য করবে। এ রীতি আমার কাছে খুব কঠিন, নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম মনে হয়। বিদায়ের সুর যখন মনে বাজে, তখন মনে হয় বেঁচে থাকাটা আসলেই খুব সুন্দর কিছু।
কাজী সুলতানুল আরেফিন
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now