বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X রিটার্ন অব ড্রাকুলা কাহিনী : ফ্রেডা ওয়ারিংটন অনুবাদক : ইসমাইল আরমান ------------------------------------- পর্ব ৩৩ঃ মীনা হারকারের জার্নাল ১৫ নভেম্বর, রাত দুটো হাতে বেশী সময় নেই। রাতের বাকি ঘটনা সংক্ষেপে লিখে রাখছি। পায়ের আওয়াজের কথা লিখছিলাম, একটু পরেই আমার কামরার দরজা খুলে উদয় হলো ইলিনা। ঘুমন্ত কুইন্সিকে নিয়ে এসেছে। আমার কোলে ওকে তুলে দিয়ে ইশারা করল, কামরা থেকে বেরিয়ে আসতে। সিঁড়ি ধরে নীচতলায় নামতেই দেখা পেলাম কাউন্টের। সে জানাল, চ্যাপেলে যেতে হবে আমাদেরকে। জোনাথন'রা এসেছে ; দেখা করতে হবে তাদের সাথে। এরপর শীতল গলায় সে আমায় বলল, " ওদেরকে বুঝিয়ে দিয়ো, অযথাই এখানে এসেছে ওরা। তুমি যেতে চাও না ওদের সাথে। ওরা যদি ফের এরকম কোনও চেষ্টা চালায়, তাহলে কুইন্সিকে চিরদিনের মতো হারাবে"। ওর কথামতোই কাজ করেছি আমি। অনিচ্ছাস্বত্তেও বুকে পাথর বেঁধে চলে যেতে বলেছি জোনাথন আর তার সঙ্গীদের। কষ্ট ফুটে উঠতে দেখেছি ওদের মুখে কিন্তু আমি নিরুপায়। এরপরেই ঘটল একটা আশ্চর্য ঘটনা। যেন হাওয়া থেকে উদয় হলো একটা রহস্যময় লোক। হামলা করল কাউন্টের ওপর। প্রথম এক ঝলক দেখায় লোকটাকে কেমন চেনা চেনা লাগল কিন্তু ঠিকমতো তাকে দেখতেই পেলাম না। তার আগেই আমায় আর কুইন্সিকে একটা সমাধিকক্ষের ভেতর ঢুকিয়ে তালা আটকে দিল কাউন্ট। কতক্ষণ ঐ সমাধিকক্ষে আটকা ছিলাম বলতে পারব না। ভয়ে শুকিয়ে গিয়েছিল আত্মা। মনে হচ্ছিল আর কোনওদিন বেরোতে পারব না ওই অন্ধকার সমাধিকক্ষ থেকে। কুইন্সি সঙ্গে না থাকলে কি যে করে বসতাম, কে জানে। ওর ঘুম না ভাঙানোর জন্য শান্ত থাকতে হয়েছিল আমাকে। অনেকক্ষণ পর সমাধির ডালা সরিয়ে আমায় বের করে আনল কাউন্ট। জোনাথন আর তার সঙ্গীরা ততক্ষণে চলে গেছে। ইলিনাকে দেখি চ্যাপেলের প্রবেশপথের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক দূরে দেওয়ালের কাছে কাগজের দলার মতো কি যেন একটা দলা পাকিয়ে পড়ে আছে - সেই রহস্যময় লোকটাই হবে হয়তো। আমার তখন অপ্রকৃতিস্থ দশা, কিচ্ছু চিন্তাভাবনা করতে পারছি না। ড্রাকুলার ইশারায় সিঁড়ি ধরে বেরিয়ে এলাম চ্যাপেল থেকে। ঢুকে পড়লাম বাড়ির ভেতরে। নিজের কামরায় এসে কুইন্সিকে শুইয়ে দিলাম বিছানায়। টের পেলাম, আমার সারা শরীর তখনো থরথর করে কাঁপছে। একটা গ্লাসে আমার জন্য ব্রান্ডি নিয়ে এল কাউন্ট। দুজনে বসলাম ফায়ারপ্লেসের সামনে। " আজ রাতের ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত মীনা", নরম সুরে বলল কাউন্ট, " অনেকক্ষণ ওই সমাধিকক্ষে আটকা থাকায় নিশ্চয় খুব খারাপ লাগছিল না। কিন্তু ওই মূহুর্তে তোমায় আর কুইন্সিকে লুকোবার আর কোনও জায়গা ছিল না, তাই বাধ্য হয়েই কাজটা করেছিলাম। আমি চাইনি, গোলমালের সুযোগ নিয়ে হারকার আর হেলসিং তোমায় নিয়ে পালাক। পালাতে পারতও না অবশ্য, কিন্তু মাঝখান থেকে নেকড়েগুলো তোমায় আর কুইন্সি'কেও আমার শত্রু ভেবে বসত"। "নেকড়ে?" সরোষে বলে উঠলাম আমি। ওর ভদ্রতার মুখোশটা আর সহ্য করতে পারছিলাম না আমি। বললাম, " নেকড়ের হামলা থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলে আমাদের? জ্যান্ত কবর দিয়ে বড় উপকার করেছ আমাদের!" " বললাম তো আমি দুঃখিত! ", বলল কাউন্ট, " তবে সমাধি কিন্তু আশ্রয় নেবার জায়গা হিসেবে খুব একটা মন্দ নয়। খুব শিগগীরই এই অমূলক ভয় কেটে যাবে তোমার"। " হ্যাঁ, মরে যাবার পর", রাগত স্বরেই বললাম, " যখন আমার লাশের কবর হবে"। মুচকি হাসল কাউন্ট। বলল, " বুঝি না তোমার স্বামী আর তার বন্ধুরা কেন এত একরোখা? যা বলি ঠিক তার উল্টোটা করে। পিছু নিতে মানা করেছিলাম, তাও নিল। সবকিছু গুবলেট হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত কিছুতেই ক্ষান্ত হতে জানে না তারা"। " ওদের কিছু হয়নি তো?" শঙ্কিত গলায় জিজ্ঞেস করলাম। " আমার জানামতে......না", বলল কাউন্ট, " যে পথে এসেছিল, সেই পথেই আবার ফিরে গেছে"। " আর সেই লোকটা? যে তোমার ওপর হামলা করেছিল? কে ছিল সে?" " ওকে নিয়ে তোমার মাথা না ঘামালেও চলবে", তাচ্ছিল্যের সুরে বলল ড্রাকুলা ; কিন্তু তার চেহারা দেখে বুঝলাম, লোকটার ব্যাপারে সামান্য হলেও বিচলিত সে। " কিন্তু আমার স্বামী আর বন্ধুদেরকে নিয়ে তো মাথা ঘামাতে হবে", বললাম আমি, " ওরা যদি আবার আসে? ওদেরকে খুব ভাল চিনি....ওরা কিছুতেই আমায় এভাবে পড়ে থাকতে দেবে না। কথা দাও, ওদের কোনও ক্ষতি করবে না তুমি। প্লিজ, কথা দাও। আর আমি মনে করি, তার দরকারও তো নেই। তোমার বিরুদ্ধে ওরা এমনিতেই অসহায়"। " সবকিছু ওদের ওপরেই নির্ভয় করছে", কাটা কাটা গলায় বলল কাউন্ট, " যদি আবার বোকার মতো কোনও কান্ড না ঘটায় তাহলে নিরাপদে থাকবে। তেমন সম্ভাবনা অবশ্য একেবারেই ক্ষীণ। মাথামোটা ভ্যান হেলসিং রয়েছে না ওদের সঙ্গে। আর যদি আমার কাছ থেকে কোনও প্রতিশ্রুতি চাও, তাহলে তার বিনিময়ে তোমায় সেই কিছু একটা দিতে হবে"। " আমার রক্ত তোমাকে দিয়েছি। দেবার মতো আর তো কিছু নেই"। " কে বলল নেই?" বলল কাউন্ট, " তোমার আত্মা আছে, হৃদয় আছে....." " এসবের কোনওটাই তুমি পাবে না কাউন্ট।" " আমি যেটা চাই, সেটা হাসিল করেই ছাড়ি, মীনা। এতদিনেও কি তা বুঝতে পারোনি?" " আমাকে তুমি সম্পূর্ণ হাসিল করতে কখনওই পারবে না কাউন্ট। বাধাটা কেবল আমার দিক থেকেই নয়, আমার স্বামী আর বন্ধুদের দিক থেকেও পাবে। আমাকে পিশাচিনী বানিয়ে তুমি পাশে রাখতে পারবে না। কারণ আমার স্বামী আর বন্ধুরা তখন লুসির মতো আমাকেও হত্যা করে মুক্তি দেবে। তখন আমি আবার ঈশ্বরের সাথে মিলিত হব"। " হাহ!" বিরক্তি প্রকাশ করল কাউন্ট, " ঈশ্বরের কাছে ফিরে যেতে এত উতলা কেন তুমি? তাঁর একটু অবাধ্য হতে অসুবিধেটা কোথায়? পাপ যদি তিনি করতেই না দেবেন তাহলে পৃথিবীতে পাপ নামক কাজগুলো সৃষ্টি করেছেন কেন? ", বলতে বলতে আমার হাত ধরল কাউন্ট। সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠলাম আমি। কাউন্ট সেটা লক্ষ্য করে বলল, " আমি কাছে এলেই এভাবে কাঁপো কেন বলো তো? ভয়ে নাকি আনন্দে? নাকি আনন্দ পাবার ভয়ে? আমাকে ভয় পাবার কিছু নেই মীনা। আমি তোমার ক্ষতি চাই না"। " তা হলে আমায় যেতে দিচ্ছ না কেন?" বলে উঠলাম আমি, " প্লিজ মুক্তি দাও আমায় আর কুইন্সিকে। কথা দিচ্ছি, ভ্যান হেলসিং আর তাঁর সঙ্গীরা আর কখনো বিরক্ত করবে না তোমায়"। " আর আমি? আমি ওদের বিরক্ত করতে পারব?" " সামান্য ক'জন মানুষের সঙ্গে তোমার রেষারেষি মানায় না কাউন্ট ", বললাম আমি, " ওটা তোমার মান মর্যাদার পরিপন্থী। আর....তাছাড়া কিসের জন্য প্রতিশোধ নিতে চাইছ? ওরা তো তোমায় ধ্বংস করতে পারেনি"। " শত্রুদের প্রতি আমি কখনওই দয়া দেখাইনি, মীনা। ওদেরকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমি বিশ্রামও নিইনি। প্রতিদিনের অভ্যাস বদলাতে পারব না আমি"। " কেন? আমি তো ভেবেছিলাম, তোমার অসাধ্য কিছুই নেই। সামান্য অভ্যাসের কাছে হার স্বীকার করবে?" হাসল কাউন্ট। বলল, " কথার মারপ্যাঁচ খেলিয়ো না মীনা। আমায় তুমি কখনওই বদলাতে পারবে না"। " আমি তা চাই-ও না", বললাম অতি রুষ্ট গলায়, " আমি আমার প্রিয়জনদের নিরাপত্তার দিকটা ভেবে বলেছি। তোমার কথা ভেবে নয়"। " বাঃ চমৎকার মিথ্যে বলতে শিখেছ দেখছি। মীনা, তুমি খুব মিষ্টি, জানো তো? খোদ শয়তানের জন্যও তোমার মনে করুণা আছে, দরদ আছে। আমার জন্য কিছুই নেই?" " বেশ, আছে", বললাম আমি, " তোমাকেই এই দুনিয়ায় আমি সবচেয়ে বেশী করুণা করি"। কাউন্টের মুখের হাসি বিস্তৃত হলো। বলল, " এজন্যই তুমি আমার প্রতি বেশী আকর্ষণ অনুভব কর। জোনাথনের চেয়েও তুমি আমায় বেশী চেনো বলে। জোনাথন একটা আত্মকেন্দ্রিক লোক - সবকিছু নিজের মধ্যে চেপে রাখে। কখনো কিছু বলে না তোমায়। কিন্তু আমি....আমি আজ পর্যন্ত কখনওই কিছু গোপন করিনি তোমার কাছে। অন্যায় করি আর যা-ই করি, সেটা প্রকাশ করার মতো সৎসাহস আমার আছে। পুরুষের মধ্যে এই জিনিসটাই তো তুমি দেখতে চাও, তাই না?" বলতে দ্বিধা নেই, অক্ষরে অক্ষরে সত্যি কথা বলেছে কাউন্ট। একেবারে অন্তর্যামীর মতো আমার মনের ভেতরটা পড়ে নিচ্ছে ও। জবাব দিতে না পেরে মাথা নীচু হয়ে গেল আমার। " লুকোচুরি করে লাভ নেই মীনা", বলল কাউন্ট, " আমার প্রস্তাবটা কি তুমি ভেবে দেখেছ?" হ্যাঁ। কিন্তু মুখে আমি তাকে বললাম, " না"। দীর্ঘশ্বাস ফেলল কাউন্ট। বলল, " বোকা তুমি, বড্ড বোকা। হৃদয়ের চেয়েও আদর্শকেই বড় করে দেখছ"। তারপর একটু চুপ করে থেকে বলল, " বেশ, তাহলে অন্য কথায় আসি। " চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল কাউন্ট। তারপর বলতে লাগল, " তোমার ছেলের কথা ভাবো। চমৎকার একটা বাচ্চা....কিন্তু ভেতর থেকে প্রচণ্ড দুর্বল। হৃদপিন্ড আর ফুসফুসে জন্মগত সমস্যা আছে। মারা যেতে পারে যে কোনও সময়। কিন্তু একজন মা হিসেবে কি তুমি চাও না, ও বেঁচে থাকুক? আর দশটা বাচ্চার মতো বেড়ে উঠুক?" মাথা নিচু করে এবার কাঁদতে শুরু করলাম আমি। অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটা বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করছে কাউন্ট। " ওকে মরতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই, মীনা। আমি ওকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি"। " কিভাবে? " " অমরত্ব দিয়ে"। ঝট করে মুখ তুললাম আমি। বললাম, " বলতে চাও, ওকে জীবন্মৃত বানিয়ে?" কাঁধ ঝাঁকাল ড্রাকুলা। বলল, " যা খুশী বলতে পারো ওটাকে। কিন্তু বাস্তব হলো, তোমার ছেলে আর কোনওদিনই মরবে না। বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। তুমি কি তা চাও না? শুধু সম্মতি দাও, বাকিটা আমি দেখছি। তিনবার রক্ত নেব ওর.....ঘুমের মধ্যে....ও কিছু টেরই পাবে না। বরং এরপর সমস্ত অসুখবিসুখকে পরাস্ত করে ও ফিরে আসবে তোমার কাছে। ভেবে দ্যাখো, তোমার অসুস্থ ছেলেকে বাঁচাবার আর কি কোনও ভাল উপায় আছে?" আমাকে মস্ত এক দোটানার মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেল কাউন্ট। মাথার ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে গেল বিশ্রী একটা কুচিন্তা......ভয়ঙ্কর এক প্রলোভন। সন্তানকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবার প্রলোভন। নিজের আত্মা বিসর্জন দিতে কোনওভাবেই রাজি নই আমি। কিন্তু কুইন্সির ব্যাপারে আমি কি সিদ্ধান্ত নেব ভাবতে শুরু করলাম। হায় ঈশ্বর! কেন এমন পরীক্ষায় ফেললে আমাকে? " ১৫ নভেম্বর, সন্ধ্যা।। শর্টহ্যান্ড যে-ই আবিষ্কার করে থাকুক, তাকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। খুব দ্রুত এবং অল্প পরিশ্রমে তরতর করে লিখে যেতে পারছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরোতে হবে বাড়ি ছেড়ে, শর্টহ্যান্ড ছাড়া এই অল্প সময়ে জার্নাল লিখতে পারতাম না। গত রাতে কাউন্ট বিদায় নেবার পর কুইন্সির বিছানায় গিয়ে বসেছিলাম। মনের অস্থিরতার কারণে ঘুম আসছিল না কিছুতেই। হাত বোলাতে শুরু করেছিলাম ঘুমন্ত কুইন্সির গায়ে। ঘুমের মধ্যেই নড়ে উঠল ও। ওকে আদর করতে করতে বললাম, " খুব শীঘ্রি আমরা বাড়ি ফিরব সোনা"। জবাবে ও বলল, " কিন্তু মা.....ইলিনা আন্টি যে বলে, এটাই আমাদের বাড়ি!" হায় ঈশ্বর! কেন যে ওই ডাইনীটাকে বাড়িতে স্থান দিয়েছিলাম! যাই হোক, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। গাঢ় ঘুম.....যেন ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে আমায়। রাতভর কি ঘটল, কিচ্ছু টের পাইনি। সকালে যখন ঘুম ভাঙল, দেখি, কুইন্সি নেই বিছানায়। কখন যেন ওকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে! তাড়াতাড়ি ওর কামরায় ছুটে এলাম। সেখানেও নেই কুইন্সি! মাথায় যেন বজ্রাঘাত হলো আমার। তন্নতন্ন করে সব জায়গা খুঁজলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না ওকে। এমনকি ইলিনাকেও কোথাও দেখলাম না। মাথা খারাপের মতো দশা হলো আমার, দিনের বেলা কাউন্টের দেখা পাবার সম্ভাবনা নেই। পাগলের মতো ঘুরলাম বাড়িময়। একসময় নিজের কামরায় ফিরে এলাম আমি। সাঁঝের আঁধার নামলে আবার বেরোলাম আমি। জানি, এইসময় কাউন্টের জেগে ওঠার সময় হয়েছে। সিঁড়িতেই দেখা হলো ওর সঙ্গে। থমথম করছে মুখ, তাতে বাসা বেধেছে চাপা ক্রোধ। কুইন্সির অমঙ্গল আশঙ্কায় কেঁপে উঠল আমার বুক। " কুইন্সিকে আমি খুঁজে পাচ্ছি না, কাউন্ট ", হাহাকার করে বললাম, " ইলিনাকেও দেখিনি সারাদিন"। " ওরা দুজনেই কারফ্যাক্স ছেড়ে চলে গেছে", শান্তগলায় বলল কাউন্ট। " চলে গেছে কেন?" হাত ধরে আমায় কামরায় ফিরিয়ে নিয়ে এল কাউন্ট। বলল, " উত্তেজিত হবে না। কুইন্সিকে নিয়ে পালিয়ে গেছে ইলিনা। গত রাতে আমার কাছে গোঁয়ারের মতো আবদার জুড়েছিল, ওকে তখুনি ' ভ্যাম্পায়ার' বানিয়ে দিতে। রাজি হইনি তাই খেপে গিয়ে ঘটিয়েছে কান্ডটা। কুইন্সিকে চুরি করে তাই একটা শিক্ষা দিতে চেয়েছে আমায় আর তোমায়"। বজ্রাহতের মতো থমকে গেলাম আমি। কাউন্ট আমার ছেলেকে চুরি করলেও বোধহয় এতটা আঘাত পেতাম না। কারণ এই ক'দিনে ওকে দেখে বুঝেছি, পিশাচ হলেও ওর ভেতরে একটা নীতিবোধ আছে। কিন্তু ইলিনা......ও তো একটা অর্ধোন্মাদ ডাইনী! কি করবে কুইন্সিকে নিয়ে গিয়ে, তার ঠিকঠিকানা নেই। কেঁদে ফেললাম আমি, কাউন্টের সাহায্য চাইলাম ছেলেকে খুঁজে দিতে। " অবশ্যই!" জোর গলায় বলল সে, " অন্তত এই একটা ব্যাপারে আমার ওপর ভরসা রাখতে পারো। ইলিনাকে অবশ্যই খুঁজে বের করব আমি....শাস্তি দেব ওকে। চলো, বেরোতে হবে আমাদের এখন। পায়ে হেঁটেই গেছে ওরা.....বেশীদূর যেতে পারেনি। এক্ষুনি বেরোলে শীগগির ধরে ফেলতে পারব। যাও, তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও"। নিজের কামরায় ঢুকতে গিয়েও থমকে দাঁড়ালাম। খটকা লাগছে। জিজ্ঞেস করলাম, " নেকড়েগুলোকে কিভাবে ফাঁকি দিয়ে পালাতে পারল ইলিনা? ওকে বাধা দেয়নি ওরা?" " আমারই ভুল", বলল কাউন্ট, " নেকড়েগুলো ওকে বন্ধু হিসেবেই চেনে। ওভাবেই ওদের ট্রেনিং দেওয়া আছে। যাও দেরী কোরো না, কাপড় বদলে তৈরি হয়ে নাও"। " কিন্তু ইলিনাকে আমরা খুঁজে পাব কি করে?" জিজ্ঞেস করলাম আমি" বাড়ি থেকে বেরিয়ে ও যদি ক্যারিজ ভাড়া করে? যদি ট্রেনে চেপে দূরে কোথাও চলে যায়?" " দুনিয়ায় এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে ওকে খুঁজে পাবো না আমি। ওর রক্ত পান করেছি আমি, তাই আমাদের আত্মার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হয়েছে। যত দূরেই যাক, যেখানেই যাক, ওর ডাক ঠিক শুনতে পাব আমি"। আর কথা বাড়ালাম না। ঢুকে পড়লাম কামরায়। কাপড় বদলে অপেক্ষা করতে লাগলাম কাউন্টের জন্য। সেই ফাঁকে লিখে রাখছি জার্নাল। মনে মনে প্রার্থনা করছি, আমার স্বামী আর বন্ধুরা যেন হঠকারী কিছু করে না বসে। তাহলে চিরকালের মতো হারাব ইলিনাকে আর ইলিনাকে হারালে হারাব আমার ছেলেকে। ক্রমশ অশুভ আত্মা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রিটার্ন অব ড্রাকুলা-৩৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now