বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"রহস্যময় সেই বাড়িটা"
আবুল ফাতাহ মুন্না
-------------------
(পর্ব-৫)
রাতের অভিযান
বিকেলে আহসান আহেবের বাসা থেকে বের হবার পরই আমাদের উত্তেজনা চরমে উঠে যায় রাতের রোমাঞ্চকর অভিযানের কথা চিন্তা করে।
আমাদের রাতেরবেলা বাড়ি থেকে বের হওয়াটা তেমন সমস্যা না।ও কাজটা আমরা প্রায়ই করে থাকি।
রাতের খাওয়া দাওয়া সেরেই পিকুল ফরহাদের সাথে ‘গ্রুপ স্টাডি’ করতে,ফরহাদ আমার বাসায় ‘দাওয়াত’ খেতে আর আমি পিকুলদের বাসায় ‘নোট’ আনতে বের হয়ে পড়লাম!
আমরা তিনজনই চলে এলাম আমাদের খেলার মাঠে।মাঠের পাশের বটগাছটাকে আমাদের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার বানানো হয়েছে।এখানেই আমরা একটু পরের অভিযান নিয়ে আলোচনা করে একটা প্ল্যান তৈরি করব।এরপর সেই অনুযায়ী কাজে বের হব।তাছাড়া এখন সবে মাত্র রাত নয়টা বাজে।এত তাড়াতাড়ি বোধহয় ঘুমান না আহসান সাহেবরা।আরো ঘন্টা খানিক পর রাত খানিকটা গভীর হলে বের হব আমরা।
বাড়ি ফেরা নিয়ে টেনশন নেই।যদি বেশি রাত হয়েও যায় তাহলে পিকুলদের বাসার ছাদে যে পিচ্চি রুমটা আছে,ওখানেই বাকি রাত কাটিয়ে দিতে পারব।
পিকুল ওর বাবার সাথে আলোচনা করে দেখছে ওই রুমটাকে আমাদের হেডকোয়ার্টার বানানোর জন্য বাগাতে পারে কিনা।
আমরা বটগাছের নীচে এসে বসলাম।অবশ্য রাত বিরেতে এই বটগাছের নীচে বসার ব্যাপারে আমার ঘোর আপত্তি ছিল।এইসব শ্যাওড়া,বটেই তো ভূতেদের আড্ডা জমে বলে শুনেছি!তবে মাঠটা রাস্তার পাশে হওয়ায় তেমন ভয় পাচ্ছিনা।রাস্তা ঘাটে এখনও প্রচুর মানুষ।বড় বড় শহরের মত অত বেশি না হলেও সারা রাতই কেউ না কেউ থাকে রাস্তায়।তাছাড়া পুলিশের টহলও থাকে।
আমর বসার পর ফরহাদ বলা শুরু করল,‘এখন আমাদের ঠিক কী জানতে হবে বলত?’
‘ওই বাড়িতে সত্যি সত্যি কোনো কিশোর থাকে কিনা।’বলল পিকুল।
‘আচ্ছা আমরা কেন ধরে নিচ্ছি আহসান সাহেবরা একজন কিশোরকে বলি দিতে চলেছেন?অনেক বড় মানুষও তো গেমস,কমিক পছন্দ করে।আর পিকুল যে গত রাতে ওই বাড়িতে আমাদের বয়সী কারো জামা কাপড় বারান্দায় শুকাতে দেখেছে সেটা তো অন্ধকারে পিকুলের ভুলও হতে পারে?’বললাম আমি।
‘হুমম,তোর কথায় যুক্তি আছে।তবে কথা হল,সাধারণত বলি দিতে হয় শিশুদের,সুতরাং ওই ছেলেটার কিশোর হবার সম্ভবনাই বেশি।।তবে বড় মানুষ বলি দেবার নজিরও আছে।’জবাব দিল ফরহাদ।
‘আমাদের বয়সী কেউ আবার শিশু হয় কি করে?’
‘কেন জানিস না আঠারো বছর পর্যন্ত একজন মানুষ শিশু থাকে?’
‘ওটা সরকারের নিয়ম অনুযায়ী,শয়তানের নিয়ম অনুযায়ী না।’
‘ওই হল,দুটো একই জিনিষ!’বলল ফরহাদ।কেন জানি উত্তরটা আমার খুবই মনে ধরল।
‘অর্থাৎ,আমাদের জানতে হবে ওই বাড়িতে কোনো কিশোর বন্দি কিনা...’
আমি আবারও ফরহাদকে থামিয়ে দিলাম।‘আচ্ছা,কিশোর কিশোর বলছিস কেন?কিশোরীও তো হতে পারে।আজকাল তো মেয়েরাও ছেলেদের পোশাক পরে।তাছাড়া বলি তো মেয়েদেরই বেশি দেয়া হয় বলে শুনেছি।’
‘ফরহাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,‘আচ্ছা,তুই যেন তোর বাবা মা’র কত নাম্বার সন্তান?’
‘সবার ছোট,কেন?’আমি বুঝতে পারছিনা কালো জাদু সংক্রান্ত আলোচনার সাথে আমার জন্ম সংক্রান্ত আলোচনার কী সম্পর্ক।
‘হুমম যেটা ধারনা করেছিলাম।আম খেয়েছিস কখনো?’
‘কী বলিস আম খাব না কেন?’
‘একটা ব্যাপার কী লক্ষ্য করেছিস,আমের গোড়ার দিকটা হয় মিষ্টি আর আগার দিকটা হয় টক।কারণটা কী জানিস?আমের গোড়ার দিকে গাছের রস ভালভাবে পৌঁছে এজন্য ওদিকটা মিষ্টি হয় আর আগার দিকে রস না পৌছানোতে সেটা টক হয়।এজন্যই প্রত্যেক বাবা মা’র প্রথম সন্তানরা আমার মত বাবা মা’র গুণ পেয়ে ভাল হয়।আর বড়রা সব গুণ আগেই নিয়ে নেয়াতে ছোট সন্তানেরা তোর মত ফাজিল হয়ে থাকে!’
‘তোকে এই যুগান্তকারী সূত্র কে বলল?’আমি থমথমে গলায় বললাম।
‘কে বলবে আবার,আমি নিজেই তোকে দেখে গবেষণা করে বের করে ফেলেছি।’
পিকুল ফিক করে হেসে ফেলল।অথচ ব্যাটা পিকুলটাও আমার মত ওর বাবা মা’র ছোট ছেলে।আসলে হাতি কাদায় পড়লে চামচিকাতেও লাথি মারে!
আমি রেগেমেগে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম তার আগেই ফরহাদ কথা ঘুরিয়ে ফেলল,‘আমাদের কাজ এখন ওটাই।ওই বাড়িতে গিয়ে খোঁজ করে দেখা সেখানে কাউকে আটকে রাখা হয়েছে কিনা।সে কিশোর নাকি কিশোরী,কম বয়সী নাকি বুড়ো ভাম সেটা নিয়ে পড়ে মাথা ঘামালেও চলবে।এখন যেটা প্রশ্ন,সেটা হল,কিভাবে আমরা জানতে পারি এই ব্যাপারটা?’
পিকুল বলল,‘আমার মনে হয় আমরা বাইরে থেকে প্রতিটা রুমে আড়ি পেতে দেখতে পারি কারো গলা শোনা যায় কিনা।আর যদি ভাগ্য ভাল থাকে তাহলে দু একটা জানালা খোলা পেয়েও যেতে পারি।যদিও সে সম্ভবনা কম।এখনও শীত বেশ ভালই পড়ে।’
‘হুমম,গুড আইডিয়া।’বলে ঘড়ির দিকে তাকালো ফরহাদ।‘এখন বোধহয় রওনা হওয়া যায়।দশটা বাজে।শীতের রাতে আহসান সাহেবরা শুয়ে পড়তে এর চাইতে বেশি দেরী করবে বলে মনে হয় না।চল তাহলে যাওয়া যাক।’
আমরা তিনজন উঠে দাড়ালাম।আমাদের সবার পরণেই কালো পোষাক।ফরহাদ আগেই বলে দিয়েছিল কালো পোষাক পড়ে আসতে।তাতে করে অন্ধকারে আমাদের দেখা যাবেনা।আমরা অদৃশ্য মানবে পরিণত হব।
‘এই,আমার না মনে হচ্ছে আমরা সত্যি সত্যি গোয়েন্দা।’উত্তেজনায় খানিকটা কেঁপে গেল আমার গলা।
‘এতক্ষন তাহলে কী মনে হয়েছিল?’পিকুল জিজ্ঞেস করল।
‘এতক্ষনও গোয়ন্দাই মনে হয়েছিল,তবে এখন মনে হচ্ছে আমরা সত্যি সত্যিই কিছু একটা করতে যাচ্ছি।কারো উপকার করার জন্যই এতরাতে আমরা বাইরে বের হয়েছি।এই কাজটা করে আমাদের এক পয়সাও লাভ নেই এরপরও আমরা কারো সাহায্যে জন্য এগিয়ে যাচ্ছি এটাই আমাদের বড় পাওয়া।’
পিকুল আর ফরহাদ কিছু না বলে একবার শুধু আমার দিকে তাকাল।ওদের বোধহয় ধারণা ছিলনা আমার মুখ দিয়ে এরকম উচ্চমার্গীয় কথা বেরোতে পারে।
দশ মিনিটের মধ্যেই আমরা বাঁশঝাড়ে পৌঁছে গেলাম।তিনদিন পরই যেহেতু অমাবস্যা সেহেতু স্বাভাবিকভাবেই আজ ভরা পূর্ণিমা।চারদিকটা চাঁদের আলোতে ভেসে গেলেও এই জায়গাটাতে আলো সেভাবে পৌছতে পারছেনা।গাছগাছালি এক ধরনের আলো আঁধারি তৈরি করছে।গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে নেমে আসা আলো মাটিতে নকশা আঁকছে।
আমরা তিনজন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চললাম আহসান সাহেবের বাসার দিকে।যতই এগোচ্ছি বুকের কাঁপুনিটা ততই বাড়ছে।মুখে না বললেও আমি জানি ফরহাদ আর পিকুলেরও একই অবস্থা।রাত বিরেতে কালো জাদুকরের বাড়িতে হানা দেয়া কি আর চাট্টিখানি কথা?
‘দেয়াল টপকাতে হবে,’আহসান সাহেবের বাড়ির পেছনে এসে পিকুল ফিস ফিস করে বলল।‘কে আগে যাবে?’
‘আমি যাই।গিয়ে তো আবার এই মটুটাকে টেনে তুলতে হবে,’আমার দিকে তাকিয়ে বলল ফরহাদ।
আমি বললাম,‘আমি একাই পারব।’
‘হু,মাথা খারাপ হয়েছে আরকি।তুই একা একা উঠতে যা আর ধপাস করে পড়ে গিয়ে আমাদের সবার বারোটা বাজা।’বলে আর দেরী করল না ফরহাদ দেয়াল টপকে উঠে গেল বাঁদরের মত।
এরপর আমার পালা।আমি দেয়ালের মাথায় হাত দিয়ে নিজেকে টেনে তোলার চেষ্টা করতেই দেখলাম তরতর করে উঠে যাচ্ছি!এটা আবার কোনো জাদু টাদু কিনা ভাবতে গিয়ে টের পেলাম পিকুল নীচ থেকে ঠেলছে আর ফরহাদ উপর থেকে টানছে।তাই তো বলি আমি আবার এমন সুপার ম্যান হয়ে গেলাম কবে!
সবার শেষে পিকুল উঠল।আমরা তিনজন এখনো দেয়ালের উপরই বসা।নীচে নামা হয়নি।এখান থেকেই বাড়িটাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।
বাড়ির সবগুলো লাইট অফ।পুরো বাড়ি অন্ধকারে ডুবে আছে।মনে হচ্ছে এখানে সত্যি সত্যিই যেন কোনও রুপকথার ভয়ংকর ডাইনী থাকে।
আমরা কয়েকমিনিট ধরে দেয়ালের উপর দাঁড়িয়ে থেকেও বাড়িটা থেকে কোনো ধরনের সাড়া শব্দ পেলামনা।নিশ্চয়ই শুয়ে পড়েছে সবাই।জানালাগুলো সব ভেতর থেকে বন্ধ করা।যার ফলে ভেতরের বাসিন্দারা শুয়ে পড়লেও ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা সেটা বোঝা যাচ্ছেনা।
আমরা আর দেরী করলামনা।ফরহাদ আমাদের হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিল ও এখন মাটিতে নামতে যাচ্ছে।এরপর আমরা নামব।
বাঁদরেরর মত দেয়াল টপকানো ফরহাদ এবার শিকারী চিতার মত নিঃশব্দে দেয়াল থেকে নেমে গেল।এরপর আমি নামলাম।এবার কারো সাহায্য ছাড়াই নামতে পারলাম।অবশ্য আমার দেহের ওজনে মাটি খানিকটা কেঁপে উঠল!
‘হিশশশশ,’আওয়াজ করে আমাকে শব্দ করতে মানা করল ফরহাদ।
ওর ‘হিশশশশ’ আওয়াজটা আমার কাছে বাচ্চাদের ‘হিসু’ করানোর আওয়াজের মত লাগল!
আমার পর নামল পিকুল।খ্যাংড়াকাঠি পিকুলের নামার সময় এক বিন্দুও শব্দ হলনা।
আমরা তিনজন খানিকটা কুঁজো হয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলাম।আমরা দেয়াল টপকেছি বাড়ির পেছন দিক দিয়ে।এখনো পেছন দিকটাতেই আছি আমরা তিনজন।বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে।
আমাদের লক্ষ্য এই মুহূর্তে বাড়ির পেছনের জানালাটা।বাড়ির চারদিকেই দুটো দুটো করে আটটা জানালা।সামনের অংশের দুটো জানালা আমাদের না দেখলেও চলবে।ওদিকে ড্রয়িংরুম।আমাদের দেখতে হবে বাকি তিনটা রুম।
বাড়িটা তৈরি করবার সময় দেখেছিলাম,এ বাড়িতে মোট রুম চারটা।ড্রয়িংরুম,দুটো বেডরুম আর একটা বোধহয় গেস্টরুম।এই তিনটা রুমের জানালা দিয়ে দেখতে হবে ভেতরে দেখা যায় কিনা।দেখা না গেলে সেক্ষেত্রে কিছু শোনা যায় কিনা সে চেষ্টা করতে হবে।একান্তই যদি কিছু দেখা বা শোনা না যায় তাহলে খুঁজে দেখতে হবে এমন কোনও আলামত পাওয়া যায় কিনা যাতে করে এ বাড়ির সেই রহস্যময় বাসিন্দার কথা জানা যায়।
আমরা প্রথমেই পেছনের জানালার দিকে এগিয়ে গেলাম।জানালার গ্লাস দিয়ে ভেতরে তাকাবার চেষ্টা করলাম কিন্তু ভেতরে ঘুটঘুটে আঁধার থাকায় কিচ্ছু দেখা গেলনা।
‘ফরহাদ ফিস ফিস করে বলল,‘ওপাশের রুমটা সম্ভবত গেস্টরুম টাইপের কিছু হবে।ব্যাবহার করা হয়না দীর্ঘ দিন ধরে।এখানে খুজে লাভ নেই।যাকে গেমস আর কমিক কিনে দেন তাকে এই পরিত্যাক্ত রুমে রাখবেননা আহসান সাহেব।’
‘তুই বাইরে থেকে কিভাবে বুঝলি রুমটা পরিত্যাক্ত?’আমার প্রশ্নটাই পিকুল করে দিল।
‘এই দ্যাখ,জানালার চারপাশে ধুলো লেগে রয়েছে।অর্থাৎ জানালাটা অনেকদিন ধরে খোলা হয়না।আর যে রুমে মানুষ থাকে সেই রুম অবশ্যই কিছুদিন পর পর হলেও খোলা হবে।’
ফরহাদের বুদ্ধি দেখে সত্যি মুগ্ধ হলাম আমি।
‘তাহলে অন্যপাশে চল,’বললাম আমি।
‘হ্যাঁ,’বলে বাড়ির ডান পাশটার উদ্দেশ্যে চলল ও।পেছন পেছন আমরা দুজন।
এখানে আসার আগে যে ভয়টা ছিলা সেটা অনেকটাই কেটে গেছে।তার বদলে সেখানে ঠাই করে নিয়েছে উত্তেজনা।
বাড়ির ডান দিকেও অন্যসব দিকের মত পাশাপাশি দুটো জানালা।দুটো জানালা একই রুমের।আমরা গিয়েই একটাতে চোখ রাখলাম।
এবার বোধহয় আমাদের ভাগ্য ভাল।জানালার গ্লাস দিয়ে ওপাশের মৃদু আলোর আভা দেখা যাচ্ছে।নিশ্চয়ই ডিম লাইটের আলো।তারমানে কেউ আছে এই রুমে।
ফরহাদ বলল,‘পিকুল তুই গিয়ে দেখ তো ওপাশের জানালাতেও এমন আলো আছে কিনা?’
পিকুল কিছু না বলে চলে গেল।আমরা জানালার ওপাশটা দেখার চেষ্টা চালিয়ে গেলাম।তবে কিছু দেখা যাচ্ছেনা।একটা পর্দা দিয়ে জানালাটার অধিকাংশই ঢাকা।জানালা খোলা গেলে দেখা যেত।
একটু পরই পিকুল ফিরে এল,‘হ্যাঁ,ওপাশেও এমন আলো জ্বলছে।’হাপাচ্ছে বেচারা।নিশ্চয়ই উত্তেজনায়।
‘তারমানে এবাড়িতে আহসান সাহেব ছাড়াও যে একজন রহস্যময় বাসিন্দা থাকে সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।এখন সমস্যা হল সে কোন রুমে থাকে সেটা আমরা জানিনা।এই রুমেও থাকতে পারে আবার ওপাশের রুমেও থাকতে পারে।’
‘ইউরেকা!’আনন্দের আতিশয্যে গলাটা বোধহয় সামান্য চড়ে গিয়েছিল।ফরহাদ আর পিকুল আমার দিকে রেগেমেগে তাকাল।তবে যখন দেখল আমি কী কাজ করে ফেলেছি তখন যারপরনাই অবাক হয়ে গেল।
আমি আসলে তেমন কিছুই করিনি।ওরা দুজন যখন কথা বলছিল তখন আমি কী মনে করে টান দিতেই খুলে গেল জানালাটা!
আসলে আমরা ভাবতেই পারিনি শীতের দিনে এই রহস্যময় বাড়ির জানালা খোলা থাকবে।সেজন্য কেউ টান দিয়ে দেখার কথাও চিন্তা করেনি।
জানালাটা অল্প একটু খুলেছি আমি।ফরহাদ ফাঁকটা আরো খানিকতা বড় করে ভেতরে তাকাল।বেশ কিছুক্ষণ ধরে ভেতরে দৃষ্টি বুলিয়ে বলল,‘এই সেই রহস্যময় বাসিন্দা!’
‘তাই নাকি!কিভাবে বুঝলি?’পিকুল জিজ্ঞেস করল।
‘দেখ,তোরাও বুঝবি।’ফরহাদ জবাব দিল।
পিকুল কিছুক্ষণ ভেতরে তাকিয়ে মাথা ঝাকাল।
এরপর আমি তাকালাম।ভেতরে একটা খাট,কম্পিউটারের টেবিল আর কিছু অন্যান্য আসবাবপত্র দেখা যাচ্ছে।খাটে একটা মানুষ শুয়ে আছে।খুবই আবছা একটা প্রতিকৃতি।কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা তার আকার আকৃতি সম্পর্কে।তবে এটা যে আহসান সাহেব নন সেটা বুঝতে শার্লক হোমস কিংবা ফেলুদা হতে হয়না।যে মানুষটা শুয়ে আছে সে লম্বায় আহসান সাহেবের চাইতে বেশ খাট।তাছাড়া এই মানুষটা আহসান সাহেব হলে তার স্ত্রীও থাকত তার সঙ্গে।
আমি সেদিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে এনে বললাম,‘হুমম,আচ্ছা এখন তাহলে কী করনীয় আমাদের?’
‘চল আগে এখান থেকে বের হই।যা জানার ছিল সেটা জানা গেছে।’
আমরা দ্রুত দেয়াল টপকে বের হয়ে বাড়ির পথ ধরলাম।এখনও তেমন রাত গভীর হয়নি।বাসায় ফেরা যাবে।হাঁটতে হাঁটতেই কথা বলতে লাগলাম আমরা।
ফরহাদ বলল,‘আমাদের আজকের অভিযান সফল হয়েছে।এখন আমরা নিশ্চিত।তবে সবচেয়ে কঠিন কাজটাই বাকী আছে।ওই ছেলেটাকে ওখান থেকে বের করে নিয়ে আসা।আমাদের হাতে সময়ও বেশি নেই,মাত্র দুটো দিন।’
(চলবে)
---------------
বাকি পর্ব আগামী কাল ☺
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now