বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"রহস্যময় সেই বাড়িটা"
আবুল ফাতাহ মুন্না
---------------------
(পর্ব-৩)
পিকুল বলতে শুরু করল,‘ঘটনাটা বেশ কয়েকবছর আগের।আমি আমার এক আত্মীয়র কাছে শুনেছি।ঘটনাটা সিলেটে তাদের এলাকাতেই ঘটেছিল।পেপারেও এসেছিল খবরটা।
একবার ওই এলাকায় একটা পরিবার একটা খালি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে তারা কারো সাথে মিশত না।এলাকার লোকজনও তাদের এড়িয়ে চলত।তাছাড়া তাদের বাসাটাও ছিল খানিকটা নির্জন একটা জায়গায়।’
‘ঠিক আহসান সাহেবদের মত?’উত্তেজিত গলায় বললাম আমি।
‘ঠিক তাই,’মাথা নাড়ল পিকুল।‘একদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেল ওই এলাকায়।ওই বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে এক লোক হঠাত নিখোঁজ হয়ে গেল।
লোকজন স্বভাবতই দুর্ঘটনা ভাবে এটাকে।কিন্তু ওই বাড়ির সামনে থেকে একের পর এক মানুষ নিখোঁজ হতেই থাকে।মোট চার পাঁচজন মানুষ নিখোঁজ হয়।
কিছুদিন এভাবে চলার পর গ্রামের মুরুব্বীরা ঠিক করে ওই বাড়িটাতে তল্লাশি চালাবে তারা ।একদিন দল বেধে হানা দেয়া হয় সেই রহস্যময় বাড়িটাতে।
আশ্চর্যের ব্যাপার,বাড়িটা সম্পূর্ণ খালি পাওয়া যায়।সবাই যেন একেবারে ভ্যানিশ হয়ে গেছে।বাড়ির চারপাশের উঠোনে ছোপ ছোপ রক্ত আর সাদা মুরগীর পালক ছড়িয়ে আছে।
লোকজন এরপর বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির দেয়াল এবং মেঝেতে অদ্ভুত অদ্ভুত সব সিম্বল বা প্রতীকের দেখা পায়।যেমন ধর পেন্টাগ্রাম।’
‘কী গ্রাম?’জানতে চাইলাম আমি।
‘পেন্টাগ্রাম।অর্থাৎ তারকা চিহ্ন।’
‘মানে কী এর?’
‘ব্ল্যাক ম্যাজিক।’এবার জবাব দিল ফরহাদ।
‘মানে ওই যে আফ্রিকার ভুডু টাইপ?’
‘হ্যাঁ,পৃথিবীতে ব্ল্যাক ম্যাজিক বা কালো জাদুর অস্তিত্ব আছে।পেন্টাগ্রাম হল ব্ল্যাক ম্যাজিকের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রতীক।এই তারকা চিহ্নের পাঁচটা কোণের মধ্যে একটা কোণ থাকে দক্ষিণমুখী।এই ধরণের পেন্টাগ্রামকে বলে ‘স্যাটানিক পেন্টাগ্রাম’ বা শয়তানের পঞ্চভুজ।এর মাধ্যমে শয়তানের উপাসনা করে অনেকে।পৃথিবীর অনেক দেশেই শয়তানের উপাসকদের বিভিন্ন সংগঠন আছে।এসব সঙ্গঠনকে ‘কাল্ট’ বলা হয়।’ফরহাদ কালো জাদু সম্পর্কে লেকচার দিল।
‘এসবে কি সত্যিই কাজ হয়?’আমার বিশ্বাসই হতে চাইছেনা।
‘হ্যাঁ,এইসব ব্ল্যাক ম্যাজিকের মাধ্যমে অনেক ক্ষমতা লাভ করা সম্ভব।কালো জাদু বিভিন্ন ধরনের হয়,যেমন আফ্রিকার ভুডু।এরপর আমাদের দেশে ‘বান মারা’বলে একধরনের কালো জাদুর প্রচলন আছে।এসবই মানুষের ক্ষতি করে।কালো জাদু যে সত্যি কাজ করে তার সবচাইতে বড় প্রমাণ হল,আমাদের মহানবী(সাঃ)কেও একবার জাদুটোনা করা হয়েছিল।তাঁর মাথার একটা চুল মোবারক চুরি করে এনে সেই চুলে সাতটা গিঠ দেয়া হয়েছিল মন্ত্র পড়ে।তারপর চুলটা একটা কুয়ায় ফেলে দেয়া হয়।
এর ফলে রাসূল(সাঃ) মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।পরবর্তীতে আল্লাহ তায়ালা জিবরাঈল (আঃ)কে পাঠিয়ে সূরা ফালাক এবং নাস নাজিল করেন।এই সূরাদ্বয়ের মাধ্যমেই রাসূল(সাঃ)জাদুটোনা থেকে মুক্তি লাভ করেন।’
আমি আর পিকুল তন্ময় হয়ে শুনছিলাম এই আশ্চর্য কাহিনী।ফরহাদের প্রতি খানিক হিংসাই হল আমার।ও কত কিছু জানে!
‘তবে আফ্রিকার ভুডুর বেশিরভাগই পুরোহিতদের কারসাজি’,বলল ফরহাদ।
‘ভুডু পুরোহিতদের কারসাজি?’
‘হ্যাঁ,আফ্রিকার আদিবাসীদের পুরোহিতরা খুবই ধূর্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে।এরা নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এসব করে।ভুডুর একটা অংশ হচ্ছে-মরা মানুষ জীবিত করা।পুরোহিতরা একধরনের ড্রাগের সাহায্য নেয় এক্ষেত্রে।ড্রাগ মানে,বিশেষ এক ধরনের গাছের ছাল বাকল আরকি।ওই ড্রাগটা মানুষের স্নায়ুকে সাময়িক সময়ের জন্য একেবারেই বিকল করে দেয়।মৃতের সবগুলো লক্ষণই তার মধ্যে চলে আসে।কিছুক্ষণ পর যখন ড্রাগের নেশা কেটে যায় তখন মানুষগুলো জোম্বির মত টলতে টলতে উঠে দাড়ায়।সরল আদিবাসীরা ভাবে তাদের ‘মহা ক্ষমতাধর’ পুরোহিতরা মৃত মানুষকে ‘জিন্দা’ করতে পারে!তবে এই ড্রাগের প্রভাবে সেই মানুষটা আর বাঁচেনা।কিছুক্ষন পর একেবারেই মারা যায়।’
আমার গা কেমন যেন করে উঠল কালো জাদুর ভয়ংকরত্ব উপলব্ধি করে।বললাম,‘হুমম বুঝলাম,কিন্তু আহসান সাহেবদের সাথে ব্ল্যাক ম্যাজিকের কী সম্পর্ক?’
পিকুল বলল,‘আমার ধারণা,আহসান সাহেবরাও কালো জাদুকর।শয়তানের উপাসনা করে মহা ক্ষমতা লাভ করতে চায়।আর ব্ল্যাক ম্যাজিকের সাথে খুবই ঘনিষ্টভাবে জড়িয়ে আছে একটা ভয়ংকর ব্যাপার।সেটা কী বলত,ফরহাদ?’প্রশ্ন ছুড়ে দিল পিকুল।
‘বলি!’
‘বলি!মানুষ বলি?’খানিকটা চড়ে গেল আমার গলা।
‘হ্যা,বলি।ব্ল্যাক ম্যাজিকের প্রধানতম শর্ত হচ্ছে মানুষ বলি দেয়া।ভারতের হরিয়াণা রাজ্যে ২০০৪ সালে সাধুর পরামর্শে এক মা তার বাচ্চার হৃৎপিণ্ড বের করে বলি দেয়।উদ্দেশ্য,ধনী হওয়া।এটাও এক ধরনের ব্ল্যাক ম্যাজিক।’
শীতের সন্ধ্যায় পিকুলদের বাসার ছাদে বসে আমি আবার শিউরে উঠলাম।
‘আগেই তো বললাম,আমার ধারণা আহসান সাহেবরা ব্ল্যাক ম্যাজিক করে।এবং আমার আরো বিশ্বাস,আহসান সাহেবদের বাড়িতে যে ছেলেটা আছে তাকে আহসান সাহেবরা বলি দেবে।’
‘বলি দেতে চাইলে তো দিয়ে দিলেই ল্যাঠ্যা চুকে যায়।শুধু শুধু দেরী করে ঝামেলা বাড়াচ্ছে কেন?!’আমি বললাম।
‘কারণ,বলি দিতে হয় অমাবস্যার রাতে।আর অমাবস্যা আসতে এখনো চারদিন বাকি।’পিকুল বলল।
হিন্দুরা এসব দিন তারিখ ভাল মনে রাখতে পারে।কবে পূর্ণিমা,কবে অমাবস্যা সেসব বোধহয় পঞ্জিকা দেখে দেখে মুখস্ত করে ফেলে ওরা।
ফরহাদ কিছুক্ষন চূপ করে থাকল।কী যেন ভাবছে।একটু পর বলল,‘যেহেতু রহস্যের একটা সন্ধান পেয়েছি সেহেতু এটাকে অবহেলা করা ঠিক হবেনা।অন্তত খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে।যদি সত্যি সত্যি কাউকে বলি দেবার জন্য আটকে রাখা হয় তাহলে তাকে উদ্ধার করতেই হবে।
চারদিন পর যদি অমাবস্যা হয় তাহলে আমাদের হাতেও আর চারদিন সময় আছে।যা করার এরমধ্যেই করতে হবে।তবে তার আগে নিশ্চিত হতে হবে তাদের বাড়িতে কোনও মেহমান এসেছে কিনা।যদি আসলেই মেহমান এসে থাকে আর সেই মেহমানের কথা আহসান সাহেব গোপণ না করেন,তাহলে আমাদের আর ঝামেলা করতে হচ্ছেনা।এখন আমাদের প্রথম কাজ হল,কাল দিনেরবেলা নিশ্চিত হয়ে নেয়া যে, আহসান সাহেবদের বাড়িতে তারা ছাড়াও আর কেউ আছে কিনা।’
‘সেটা কিভাবে?’
‘কাল আমরা দিনেরবেলা কোন এক ছুতায় আহসান সাহেবদের বাড়িতে যাব।তার সাথে কথা বলে দেখব।যদি সে স্বীকার করে তাদের বাড়িতে কেউ আছে তাহলে তো আর কোনও সমস্যা নেই।আর যদি বলে নেই,তবে কাল রাতে আমরা অভিযানে বের হব।’
‘অভিযানে বের হবার আগে বল,আহসান সাহেবের কাছে গিয়ে কী বলব আমরা?“আপনার বাড়িতে কি বলি দেবার জন্য কাউকে লুকিয়ে রেখেছেন” বলাটা বোধহয় ঠিক হবেনা,কি বলিস?’ বললাম আমি।
‘সেটা নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবেনা।যেহেতু আমি তোদের লিডার সেহেতু যা বলার আমিই বলব।’
‘শুনে ভাল লাগল!এখন বল কিসের অভিযান?’
‘আমরা রাতেরবেলা আহসান সাহেবদের বাড়ির আশপাশে খুঁজে দেখব এমন কোনো সুত্র মেলে কিনা যাতে করে নিশ্চিত হওয়া যায় ওখানে আসলেই কেউ একজন থাকে,যার কথা আমরা কেউ জানিনা।’
কথাটা শুনেই আমার পিলে কেঁপে উঠল।‘অত রাতে ওই কালো জাদুকরদের বাড়িতে যাবি?’আমি মিনমিন করে বললাম।আমার আবার ভূতের ভয়টা একটু বেশিই কিনা!
‘অবশ্যই যাব।কারন আমরা এখন সাধারণ কেউ নই।আমরা এখন গোয়েন্দা।গোয়েন্দাদের কথায় কথায় ভয় পেলে চলেনা।তাছাড়া আমরা এখনো নিশ্চিত নই তারা আসলেই ব্ল্যাক ম্যাজিকের চর্চা করে কিনা।তবে তোর যদি একান্তই ভয় লাগে তাহলে তুই লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমাস,আমি আর পিকুলই...’
বদমাশ মীর জাফরটা আমাকে ভয়ের কথা বলে ব্ল্যাকমেইল করছে!‘আমি ভয় পাচ্ছিনা।আসলে হয়েছে কী,অত রাতে আমাকে বাসা থেকে বের হতে দেবেনা!’
‘তোকে বাসা থেকে বের করার দায়িত্ব আমার।’
আমি মীর জাফরকে মনে মনে মীর জাফর বলে গালি দিয়ে বাধ্য হয়েই বললাম,‘আচ্ছা ঠিক আছে,আমি রাজী।’
‘তো ওই কথাই রইল,আমরা কাল আহসান সাহেবদের বাসায় যাচ্ছি।’সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল আমাদের দলনেতা।
মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে।আমরা নেমে এলাম ছাদ থেকে।
(চলবে)
-----------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now