বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রহস্যময় সেই বাড়িটি-০১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "রহস্যময় সেই বাড়িটি" আবুল ফাতাহ মুন্না ------------------- (পর্ব-১) গোয়েন্দা দল প্রতিটি স্কুলের প্রতিটি ফার্স্ট বয়ের হতে হয় নম্র,ভদ্র।ফার্স্ট বয়রা স্যারের পাঞ্জাবীতে গিট্টু দেবেনা,কারো খেজুর গাছের রস খেয়ে হাড়িতে ‘হিসু’ করে রাখবেনা,বোম্বাস্টিং খেলে কারো পিঠ ফাটাবেনা,এটাই নিয়ম।তবে সরকারি মহিম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর প্রথম ছাত্র মীর জাফর এসব নিয়মের মাথায় বাড়ি দিয়ে বাঁদরকুল শিরোমনি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে বসেছে। সিরাজউদ্দৌলার সাথে বেইমানীর পুরষ্কার হিসেবে ‘মীর জাফর’ নামে কারো নাম রাখার পথ বাংলাদেশে পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।কেউ যেমন তার সন্তানের নাম আবু জেহেল রাখবেনা তেমনি মীর জাফরও রাখবেনা। মীর জাফরের বাবা মা’ও তাদের সন্তানের নাম মীর জাফর রাখেনি।একাজটা তার সহপাঠিরা নিজ দায়িত্বে করে নিয়েছে।তবে এর পেছনে নবম শ্রেনীর ইতিহাস শিক্ষক বেলায়েত সাহেবের বেশ খানিকটা ভূমিকা ছিল।ঘটনাটা খুলেই বলা যাক। ক্লাসের প্রথম দিন পরিচয় পর্ব হচ্ছে।সব ছাত্রের নাম ধাম জিজ্ঞেস করছেন বেলায়েত সাহেব। মীর জাফরের পালা এল এক সময়।স্যার জিজ্ঞেস করলেন,‘এই তোর নাম কী?’তুই করে বলা স্যারের স্বভাব।সবাইকে তুই করে বলেন।ছাত্রদের ধারনা,হেড স্যারসহ অন্যান্য স্যারদের তুই করে বলার কোনো সিস্টেম থাকলে বেলায়েত সাহেব সুযোগটা হাতছাড়া করতেন না! মীর জাফরকে নাম জিজ্ঞেস করতেই ও উঠে দাঁড়িয়ে বলল,‘স্যার,মির্জা ফর...’ এতটুকু শুনেই ইতিহাস স্যারের ইতিহাসুনুভুতি জাগ্রত হয়ে গেল।‘কী বললি,মীর জাফর? তোর বাবা মা ইতিহাস পড়ে নাই?তাইলে তোর নাম মীর জাফর রাখল কেমনে? মীর জাফর কে ছিল জানিস?১৭৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্র কাননে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলার যখন বজ্র কঠিন প্রতিজ্ঞায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।বাংলার আকাশে যখন দুর্যোগের ঘনঘটা।কে দেবে আশা কে দেবে ভরসা! ঠিক তখনই বিশ্বাসঘাতকতা করে বসে তার প্রধান সিপাহহসালার মীর জাফর।আর সেই বিশ্বাস ঘাতকের নামে তোর নাম?’ মীর জাফরসহ ক্লাসের সব ছাত্রের উপর দিয়ে যেন আরেকটা পলাশী বয়ে গেল এতক্ষণ ধরে। মীর জাফর আমতা আমতা করে বলল,‘স্যার আমার নাম মীর জাফর না।’ ‘তাইলে তোর নাম কী?’কটমট করে ওর দিকে তাকালেন স্যার। ‘স্যার আমার নাম,মির্জা ফরহাদ!’ ‘কী,মির্জা ফরহাদ?সেইটা আগে বললিনা কেন?’স্যারের গলাটা কেমন যেন শোনাল! ‘স্যার আমি তো বলতেই চাইছিলাম।আপনি তো আমাকে পুরো নাম বলার সুযোগই দেন নাই।’ বেলায়েত সাহেব খানিকটা থতমত খেয়ে গেলেন।তিনি ‘মীর জাফর’ সংক্রান্ত আলোচনায় আর না গিয়ে গলা খাকারি দিয়ে পরের জনের নাম জিজ্ঞেস করতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। তবে বেলায়েত সাহেবের এই ইতিহাসপ্রীতির কারণে সহপাঠিদের কাছে মির্জা ফরহাদ,মীর জাফর হিসেবেই পরিচিতি পেয়ে গেল!বেচারা মীর জাফর! দুষ্টুমি একা একা করা যায়না।তার জন্য সঙ্গী সাথী লাগে।মীর জাফরেরও সকল ধরনের বাঁদরামির জন্য দুজন বিশ্বস্ত অনুচর রয়েছে।তার মধ্যে একজন আমি।আমি হলাম ওর ডান হাত আর পিকুল হল ওর বাম হাত। পিকুল হিন্দু।ওর ভাল একটা নাম আছে।তবে সেটার আগে পিছে ভট্টাচার্য্যি আর চন্দ্রের মত বেশ কিছু উপাধি থাকায় ওই বিশাল নামে ডাকার সাহস আমরা কেউ পাই না।তাই ডাক নামেই ডাকি।মাঝে মধ্যে অবশ্যি নামের শেষে ‘প্যাঁকাটি’ যোগ করা হয়।ওমন শুকনো একটা ছেলেকে প্যাঁকাটি বলবনা তো কী বলব? বাঁদরও বোধহয় বাঁদরামি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়।তখন বোধহয় ওদেরও ভাল কিছু করতে ইচ্ছে হয়।এজন্যই সম্ভবত ওরা মাঝে মধ্যে মানুষের মাথার উকুন বেছে দেয়!যদিও উকুন বাছতে ওদের বাধা দিলে কান বরাবর একটা ‘থাবড়া’ খেতে হয়,তবুও কাজটা তো ভাল! যাইহোক,আমরা তিন বাঁদরও বাঁদরামি করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে গেলাম।ইচ্ছে হতে লাগল দেশ ও দশের(?) জন্য কিছু একটা করি।আমরা যেহেতু রাজনৈতিক দল খুলতে পারবনা সেহেতু একমাত্র উপায় গোয়েন্দা দল খোলা! এভাবেই গোয়েন্দা দল খোলার চিন্তা প্রথম মাথায় আসে আমাদের। একদিন সন্ধ্যাবেলা ফুটবল খেলার পর মাঠের পাশের বড় বটগাছটার নীচে চলে এলাম।আসলে খেলাটাকে ‘ফুটবল’ বলে চালানোর অপচেষ্টা না করাই ভাল।খেলাটাতে যে পরিমাণ ল্যাং দেয়াদেয়ি,টানাটানি আর গুতোগুতি হয় তাতে করে ফুটবলের চাইতে কাবাডির সাথেই বেশি মিল! বটগাছের নীচে ঘন সবুজ ঘাসের গালিচায় বসলাম আমরা তিনজন।আগের দিনই মীর জাফর ওরফে মির্জা ফরহাদ বলে দিয়েছিল দলের একটা করে নাম ভেবে আসার জন্য।আজই নাম চুড়ান্ত হবে,কাল থেকেই আমাদের কার্যক্রম বিপুল উদ্দমে শুরু হয়ে যাবে। গাছের নীচে বসেই পিকুল একটা পলিথিনের ব্যাগ থেকে পিঠা বের করে আমাদের দিল।পিকুলের মা অসাধারণ পিঠা,নাড়ু বানায়।প্রতিটা পূজা পার্বণে আমরা ওদের বাসায় একেবারে হামলে পড়ি।পিকুলের মাও বোধহয় আমাদের খাইয়ে বড় আরাম পান,যতটা আমরা খেয়ে পাই। ‘তো কে কী নাম ঠিক করলি?’মুখ ভর্তি পিঠা থাকায় ফরহাদের হাউমাউ করে বলল। তিন গোয়েন্দার পোকা পিকুল বলে উঠল,‘দি নিউ তিন গোয়েন্দা।’ ‘এটা আবার কেমন নাম?’আমি বললাম। ‘কেন সমস্যা কী?আমাদের দলটা গোয়েন্দা দল তার উপর আমরা সদস্যও তিনজন।কিন্তু মুশকিল হল,কিশোর মুসা রবিনরা আমাদের আগেই তিন গোয়েন্দা নামটা নিয়ে ফেলেছে।তাই আমাদের দলের নাম হবে ‘দি নিউ তিন গোয়েন্দা।’ব্যাখ্যা করল পিকুল। ‘কিন্তু নামটা শুনে মনে হচ্ছে আমরা গোয়েন্দা দল না,সার্কাসের দল খুলছি।আর আমরা তিনজন হলাম সার্কাসের তিন ভাঁড় হে হে হে!’ ‘ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে হাসবিনা।ভাঁড় হলে তুই একা হবি।আমরা ভাঁড় হতে যাব কোন দুঃখে?’আমাকে ধমক দিল ফরহাদ।‘তোর এমন মনে হবার কারণ কী,যুক্তি পেশ কর।’ ‘কেন,সার্কাসের দলের নাম দেখিসনি?‘দি নিউ কাঞ্চন সার্কাস’।‘দি নিউ তিন গোয়েন্দাও’ তো ওই টাইপেরই,তাইনা?’ ‘তো ঠিক আছে তোর নামটা বল।’ ‘মুন্না।’ ‘গাধা!’ ‘গাধা বললি কেন?’আমি রেগে গেলাম। ‘তোর নাম বলতে বলিনি,দলের নাম কী ঠিক করলি সেটা বল।’ ‘ও আচ্ছা,তা একটু বুঝিয়ে বলবিনা!শোন তাহলে,গোয়েন্দা দলের নাম হতে হবে ভয়ঙ্কর,যাতে অপরাধীরা নাম শুনেই ভিরমি খায়।’ ‘যেমন?’ ‘যেমন ধর,‘কিং কোবরা’!’ নামটা শুনেই পিকুল হো হো করে হেসে উঠল।সম্ভবত ওর নামে বাগড়া দেবার প্রতিশোধ হিসেবে।‘এই নাম শুনে অপরাধীরা ভয়ে ভিরমি খাওয়া তো দূরের কথা,আমি তো হাসিতে খাবি খাচ্ছি!’গা জ্বালানো ভঙ্গিতে পিকুল হাসতে হাসতে বলল। আমি সমর্থনের আশায় ফরহাদের দিকে তাকালাম।ফরহাদ আমার সব আশার গুড়ে ইট বালি ঢেলে দিয়ে বলল,‘এই নাম শুনলে সবাই ভাববে আমরা বোধহয় সাপুড়ে।কিং কোবরা ধরে ধরে খেলা দেখাই!’ ‘তো ঠিক আছে,তুই বল তাহলে তুই কী নাম ঠিক করেছিস?’আমি রাগে ফুঁসে উঠলাম। ‘আমি নাম বলতে যাব কেন?আমি হলাম তোদের নেতা।তোরা নাম দিবি আমি তার মধ্যে থেকে একটা চুড়ান্ত করব।’ ‘তো সেটাই না হয় কর।’আমি বললাম। ‘আমার মতে দুটো নামের মধ্যে পিকুলের নামটাই সেরা।নামটার মধ্যে যুক্তি আছে।তবে সার্কাস সার্কাস ভাবটা দূর করার জন্য ‘দি’ শব্দটা বাদ দেয়া হল।তারমানে আমাদের দলের নাম হচ্ছে,‘নিউ তিন গোয়েন্দা।’ফরহাদ কচকচ করে পিঠা খেতে খেতে মাথা দুলিয়ে বলল। মীর জাফর যুক্তির কথা বললেও আমার ধারণা পিকুলের পিঠা খেয়েই মীর জাফর ওর নামটা সিলেক্ট করেছে।নইলে আমার নামটা কি কম সুন্দর! মীর জাফর আসলেই একটা মীর জাফর।আসল মীর জাফর মসনদের লোভে বেইমানী করেছে আর এই মীর জাফর পিঠার লোভে বেইমানী করল,ছিঃ ছিঃ! আমি মীর জাফরকে মনে মনে কয়েকবার ‘মীর জাফর’ বলে গালি দিলাম। (চলবে) -------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রহস্যময় সেই বাড়িটি-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now