বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রায় বাড়ির বিধবা মেয়ে

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X বারবণিতা হীরে বুলবুলের ছেলে চন্দ্রনাথ ওঝা তাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। এই ছেলেটি কলকাতা শহরে জিন-ভূত তাড়ানো, ভণ্ড সন্ন্যাসী নির্ণয় ও বিভিন্ন ধরনের অলৌকিক কর্মকাণ্ড করে বেড়ায় । ছেলেটি তাকে যতই প্রত্যাখ্যান করে সে ততই তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। চন্দ্রনাথের আস্তানায় একদিন সে এক মেয়েকে দেখে যার চেহারা অবিকল তার মা বিম্ববতীর মতো। মেয়েটিকে নবীনকুমার তার সাথে যেতে বললে সে প্রত্যাখান করে এবং তাকে বিপদ থেকে উদ্ধারকারী চন্দ্রনাথের সাথে থাকতে চায়। অপমানিত হয়ে ফেরত আসার পর দিন সকালে আবার গিয়ে দেখে সে বাড়িটি পুরোপুরি অগ্নিদগ্ধ। তারপর সে মেয়েটিকে খোঁজার জন্য শহরের সকল বারবণিতার গৃহে সশরীরে গিয়ে সন্ধান করে। এরমধ্যে দুর্নাম রটে যে শহরের এমন কোনো অবিদ্যা নেই যাকে সে ভোগ করেনি। অথচ কোনো পতিতাকে সে স্পর্শ করেও দেখেনি। শুধু মেয়েটির মধ্যে মাতৃরূপ দর্শন করেছে বলে সে মেয়েটিকে সর্বত্রই খুঁজেছে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া। সে নিজেও জানতো না কেন মায়ের চেহারার মেয়েটিকে সে খোঁজ করছে এবং পেলেই বা কী করবে? তবুও মেয়েটিকে না পেয়ে সে তার তীর্থগামী মা বিম্ববতীকে দর্শনের উদ্দেশ্যে হরিদ্বারে রওনা হয়। পথিমধ্যে মায়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর নদীয়া জেলায় নদীর পাশে একটি বাড়ি কিনে মায়ের শ্রাদ্ধব্রত পালন করে ও প্রায় তিন হাজার কাঙালিকে ভোজন করায়। সেখান থেকে তাদের জমিদারির নায়েব ভূজঙ্গধর ভট্টাচার্য তাকে ইব্রাহিমপুর নিয়ে আসে। নবীনকুমার দলবল নিয়ে যখন ইব্রাহিমপুরে ঘুরছে তখনই এসে পড়ে ধানকুড়ি ও ভিনকুড়ি গ্রামে। এই গ্রামেরই ছেলে দুলালচন্দ্র তার সর্বক্ষণের সঙ্গী, অথচ কেউ তা জানে না। ঘুরতে ঘুরতে বহু বছর আগে পোড়ানো একটি বাড়ির সামনে আসতে এক পাগলের মুখোমুখি পড়ে সে। সবার নিষেধ সত্ত্বেও সে ঐ পাগলের কাছে গেলে পাগলটি ঝাপটে পড়ে তার বুকের ওপর কামড় বসায় এবং পিরানের অংশসহ এক টুকরো মাংসপিণ্ড তুলে ফেলে। দুলালচন্দ্র মনিবের প্রতি এমন আচরণের জন্য পাগলটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে এবং তখনও সে জানে না যে এই পাগলটিই তার পিতা ত্রিলোচন দাস, যে একদিন খাজনা দিতে না পারায় জমিদারের লোকেরা এই বাড়িটি পুড়ে ফেলাতে জমিদারের কাছে বিচারের জন্য স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় এসে সব হারিয়ে পাগল হয়ে বহুবছর পর গ্রামে এসে ঐ পোড়ো বাড়ির মাটি খেয়ে বেঁচে আছে। ত্রিলোচন দাসের কামড় খেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে গ্রাম্য কবিরাজ দ্বারা ব্যান্ডেজ করে নবীনকুমারকে তখনই কলকাতায় আনা হয়। কলকাতার ডাক্তারের সেবা-শুশ্র“ষায় সে বেঁচে উঠলেও কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য বালিগঞ্জে গেলে সেখানে চন্দ্রনাথের সাগরেদ সুলতানের সাথে দেখা হয়ে যায় এবং সুলতানের সহযোগিতায় বাাঁশের সাঁকো পার হয়ে ঘরে উঠতেই চন্দ্রনাথ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তার মায়ের মত সেই মেয়েটির কথা জিজ্ঞেস করতেই মেয়েটি বের হয়ে আসে। তখন চন্দ্রনাথ তার পূর্বেকার বাড়িটি পোড়ানোর জন্য নবীনকে দোষারোপ করতেই সে রাগে পেছন ফিরলে চন্দ্রনাথ তাকে দাঁড়াতে বলে এবং মেয়েটিকে নিয়ে যেতে বলে। ঐ-সময়ই নবীনকুমার ঢলে পড়তেই দুলাল তাকে ধরে পেলে এবং বুকের সেই ক্ষতস্থানে তখনই প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিজ্ঞ ডাক্তারদের সর্বপ্রচেষ্টাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে শেষ পর্যন্ত বাইশ বছর বয়সী নবীনকুমার সবাইকে শোক-সাগরে ভাসিয়ে ভবলীলা সাঙ্গ করে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় গ্রহণ করে। নবীনকুমারের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা গঙ্গানারায়ণ ও বিধুশেখর মুখুজ্যের অকাল-বিধবা মেয়ে বিন্দুবাসিনীর মধ্যকার প্রেম-প্রণয়-বিরহ উপন্যাসটির প্রথম অংশ জুড়ে ছিল। তারা দু’জন একই সাথে শৈশব-কৈশোর পেরিয়েছে এবং এরই মধ্যে বিবাহের পর বিধবা হয়ে পিতৃগৃহে বিন্দু পুনরায় ফিরে এসেছে। সনাতনপন্থী ও নীতিবাগীশ বিধুশেখর হিন্দু ধর্ম ও ব্রাহ্মণের প্রথা মান্য করার জন্য বিন্দুর ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। জ্ঞানের প্রতি প্রবল আসক্তি থাকা সত্বেও বিন্দুর পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়ায় গঙ্গা পিতৃবন্ধু ও অভিভাবক বিধুশেখরের ওপর মারাত্মক ক্ষুদ্ধ হয়, কিন্তু সে কিছুই করতে পারে না, উপরন্তু অল্প বয়সে লীলাবতীর সাথে গঙ্গার বিয়েও তিনি আয়োজন করে ফেলেন। বিয়ের পর গঙ্গা বুঝতে পারে যে, সে আসলে বিন্দুর প্রতি আসক্ত। তাই বিন্দুর ঠাকুর ঘরে, যেখানে জনার্দনের মূর্তির পায়ের তলে তাকে সমর্পণ করা হয়, বার বার যাওয়া শুরু করে যা বিধুশেখরের চোখেও একদিন ধরা পড়ে যায়। এমন অনাচার থেকে বিন্দুকে বাঁচানোর জন্য গঙ্গার সাথে প্রতিজ্ঞা সত্বেও বিধুশেখর বিন্দুকে কাশীতে পাঠিয়ে দেন। তারপরই গঙ্গা নদীয়ায় জমিদারি দেখার নাম করে স্ত্রীকে রেখে বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে যায়। ঘুরতে ঘুরতে সে একসময় বিন্দুর খোঁজে কাশীতে এসে হাজির হয়। সেখানে গঙ্গা যা দেখে তার জন্য সে মোটেও প্রস্তত ছিল না। বিন্দুবাসিনী একজন বারবণিতা হয়ে কামুক পুরুষের মনোরঞ্জনে ব্যস্ত। বিন্দুকে এমন পাপের পথ থেকে রক্ষা করার জন্য গঙ্গা বিশাল ঝুঁকি নিয়ে ফেলে, বিন্দুকে নিয়ে মা গঙ্গার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্রোতের তোড়ে বিন্দু হারিয়ে গেলে গঙ্গা আর বিন্দুর খোঁজ পায়নি। গঙ্গার বুকে ঝাঁপ দেয়ার সময় বিন্দু বলে, ‘গঙ্গা, পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে, তবে সেখানে যেন তোকে পাই’। উপন্যাসটির দ্বিতীয় খণ্ডে আমরা অন্যরকম গঙ্গানারায়ণকে দেখতে পাই। দীর্ঘ পাঁচ বছর সে হিমালয়ের বিভিন্ন তীর্থস্থানে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে তাদের জমিদারি পরগণা ইব্রাহিমপুরে ফিরে আসে। কারণ সেখানে সে জালালুদ্দিন শেখকে কথা দিয়েছিল নীলকর সাহেব কর্তৃক অপহৃত তার স্ত্রী হানিফা বিবিকে সে ফেরত এনে দিবে, তারপরই সে নিরুদ্দিষ্ট হয়েছিল। নীলকরদের বিরুদ্ধে একরকম লড়াই করে তাদের নাস্তানাবুদ করে গ্রামের মানুষের কাছে যখন সে কিংবদন্তী, তখন সে ধরা পড়ে জেলে যায়। জেল থেকে তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা নবীনকুমার তাকে জামিনে ছাড়িয়ে আনে এবং বিষয়-সম্পত্তির কাজে আটকে ফেলে। এক সময় বন্ধু-বান্ধবসহ সকলের অনুরোধে সে কুসুমকুমারী নাম্নী বাগবাজারের রায় বাড়ির বিধবা মেয়েকে বিয়ে করে। মায়ের অবর্তমানে বিয়ে করায় গঙ্গার মধ্যে একটা অপরাধবোধ সব সময় ছিল। তবে কুসুমকুমারীর জ্ঞানস্পৃহা ও সংগীত-মনস্কতা গঙ্গানারায়ণকে মা ও বিন্দুর কথা ভুলিয়ে দেয়। বিন্দু তার কাছে ‘কালিদাসের মেঘদূত’ শুনতে চেয়েছিল, এখন তা কুসুমকে শুনাতে গিয়ে বিন্দুর কথাই মনে পড়ে গঙ্গার। নবীনকুমার কর্তৃক বাংলায় অনূদিত ‘মহাভারত’ কুসুম বারবার পড়ে, তবু তার আশ মেটে না। নবীনকুমারের মৃত্যুর পূর্বে বিদ্যাসাগর দেখতে এলে কুসুমকুমারী গঙ্গাকে দিয়ে বিদ্যাসাগরকে প্রণাম করার অনুমতি প্রার্থনা করে। প্রণাম গ্রহণ করার পর বিদ্যাসাগর তার প্রবর্তিত বিধবা বিবাহের সফল এই জুটিকে দেখে পরম আনন্দিত হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রায় বাড়ির বিধবা মেয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now