বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রাসুলের যুগে মতবিরোধের মীমাংসা যেভাবে হতো

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান K.M.Tafsirul Islam Rakib (০ পয়েন্ট)

X আল কোরআন মানবজীবনের সব সমস্যা সমাধানের মূল উৎস; যার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত। তাঁর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে সাহাবিরা জীবনের সব স্তরে ইসলামী বিধান বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। পারস্পরিক মতভিন্নতাসহ জীবনের সব সংকটে তাঁদের আশ্রয় ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)। তবে কখনো কখনো তাঁরা ইজতিহাদও (চিন্তা-গবেষণার মাধ্যমে সমাধান বের) করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের এই চিন্তা-গবেষণাকে উৎসাহিত করতেন। যদিও কখনো কখনো তাঁদের সিদ্ধান্ত ও আমল সংশোধন করে দিতেন। আবার ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মতভিন্নতাও দেখা যেত। মহানবী (সা.) তাঁদের মতভিন্নতা দূর করে দিতেন। ক. খন্দকের যুদ্ধে বনু কুরাইজা মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি লঙ্ঘন করার মাধ্যমে বিশ্বাসঘাতকতা করে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তাদের অপরাধের শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ঘোষণা করেন, তোমরা দ্রুত প্রস্তুত হও এবং বনু কুরাইজার উদ্দেশে রওনা করো। তিনি এটাও বললেন, কেউ যেন বনু কুরাইজা পৌঁছার আগে সালাত আদায় না করে। পথে আসরের সময় হলে একদল সাহাবি নামাজ আদায় করল এবং অপর দল করল না। দ্বিতীয় দলের যুক্তি ছিল রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ। আর প্রথম দল নির্দেশ দ্বারা ‘বিলম্ব না করে দ্রুত পৌঁছা’ উদ্দেশ্য নিয়েছে। এ ঘটনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো দলকে তিরস্কার করেননি। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৯৪৬, ৪১১৯) খ. আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘জাতুল সালাসিল’ যুদ্ধের সময় এক প্রচণ্ড ঠাণ্ডার রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল। এ সময় আমার আশঙ্কা হয়েছিল, যদি আমি গোসল করি তবে আমার মৃত্যুও হতে পারে। ফলে আমি তায়াম্মুম করে সাথিদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করি। অভিযান থেকে ফিরে এসে তাঁরা ঘটনাটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানান। তিনি আমার কাছে কারণ জানতে চাইলেন। আমি কারণ খুলে বললাম এবং কোরআনের আয়াত ‘তোমাদের নিজেদের মেরে ফেলো না। আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু’ তিলাওয়াত করলাম। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসলেন; আর কিছুই বললেন না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৩৪) গ. আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুজন ব্যক্তি সফরে বের হন। পথে সালাতের ওয়াক্ত হয়। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে অজু করার মতো কোনো পানি ছিল না। ফলে তাঁরা তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করেন। এরপর সালাতের সময়ের মধ্যে তাঁরা দুজনই পানি পেলেন। তাঁদের একজন অজু করে আবার সালাত আদায় করলেন; কিন্তু অপর ব্যক্তি তা করলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ঘটনা শোনার পর যিনি আবার সালাত আদায় করেননি তাঁকে বললেন, ‘তুমি সঠিক নিয়মই পালন করেছ। তোমার ওই সালাতই তোমার জন্য যথেষ্ট।’ আর যিনি অজু করে আবার সালাত আদায় করেন তাঁকে বলেন, তোমার জন্য দুবার পুরস্কার রয়েছে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৩৮) ঙ. রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেক সময় সাহাবিদের পরামর্শ করেও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বদর যুদ্ধের বন্দিদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসে যেমনটি পাওয়া যায়। যেখানে আবু বকর (রা.) ও ওমর (রা.) ভিন্ন ভিন্ন মত দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আবু বকর (রা.)-এর মতটি গ্রহণ করেন। (বিস্তারিত দেখুন, মুসনাদে আহমাদ : ১৩/২৪৩) এসব হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, সাহাবিরা রাসুল (সা.)-এর উপস্থিতিতে ইজতিহাদ করেছেন এবং নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী আমলও করেছেন। কখনো কখনো তাঁদের ভেতর চিন্তার বৈপরীত্য দেখা গেছে। তবে তাঁরা কখনো নিজের মতকে চূড়ান্ত মনে করেননি। বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে চূড়ান্ত বিধান গ্রহণ করেছেন। তিনি কখনো কখনো নতুন মত দিয়েছেন, কখনো দুই মতের একটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আবার কখনো দুটোকেই অনুমোদন দিয়েছেন। চিন্তা ও মতের যে বৈচিত্র্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ছিল, তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে মাজহাবের সৃষ্টি হয়েছে। যা ইসলামী ফিকহ ও আইনের ওপর গবেষণাকে ত্বরান্বিত করেছে, মানুষের জীবন সহজ করেছে, তাদের সামনে বিধানাবলির বিকল্প পথ উন্মুক্ত করে সংকীর্ণতা দূর করেছে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রাসুলের যুগে মতবিরোধের মীমাংসা যেভাবে হতো

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now