বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
উপন্যাসটির সবচেয়ে রহস্যময় এবং প্রভাব বিস্তারকারী চরিত্র হলো বিধুশেখর মুখুজ্যে। তিনি শুধু বাবু রামকমল সিংহের বন্ধু নন, একজন পথ-প্রদর্শকও বটে। পেশায় আইনজীবী হলেও তিনি কখনো ঘোর সংসারী, কখনও কট্টর ব্রাহ্মণ, কখনও স্নেহশীল পিতা, বন্ধুবৎসল, পরোপকারী। আবার তার বিপরীত চরিত্রও লক্ষণীয়।
বন্ধু-পতœীর সাথে তাঁর গোপন সম্পর্ক কেউ না জানলেও বন্ধু ঠিকই জানতেন। তাই মৃত্যু-মুহূর্তেও পুত্র নবীনকুমার তার সন্তান কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিধুশেখরকে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি রামকমলের মাথা ছুঁয়ে মিথ্যে বলেছিলেন, নবীন রামকমলেরই সন্তান। নীতির প্রশ্নে অটল বিধুশেখর যখন গঙ্গানারায়ণকে তার বিধবা কন্যা বিন্দুর প্রতি আসক্ত হতে দেখে তখন কিছু নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
প্রথমত: গঙ্গাকে রামকমল সিংহের বিষয়-সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা। দ্বিতীয়ত: বিন্দুকে কাশীতে পাঠিয়ে ব্যভিচারের পথে ঠেলে দেয়া যা গঙ্গাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। এদিকে গঙ্গাকে দিয়ে মা-কালীর কাছে শপথ করিয়ে নিয়েছেন যে সে যেন কখনও বিন্দুর সামনে না যায় তবেই তিনি বিন্দুকে কোনো শাস্তি দিবেন না।
নবীনকুমারের সকল আবদার রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা ও মুখাগ্নি করার অনুমতি প্রদান নবীনের প্রতি তাঁর অন্ধ ভালোবাসাই প্রকাশ করে। কিন্তু কেন এ প্রচণ্ড স্নেহ? এর পশ্চাতে রয়েছে এক পাপের কাহিনি যা রামকমলেরও মৃত্যু মুহূর্তে ধারণা ছিল, তাই তিনি বিধুশেখরকে তাঁর মাথা ছুঁয়ে দিব্যি করে নবীনের জন্ম-পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন।
বিম্ববতী পরবর্তীতে বিধুশেখরকে আর কোনো প্রশ্রয় দেননি, বরং তাকে স্পর্শ করলে তিনি আতœঘাতিনী হবেন বলে বিধুশেখরকে জানান, এমনকি তীর্থে চলে গিয়ে সেই পাপ মোচনেরও হুমকি দেন। এটা বিধুশেখরের স্ববিরোধী আচরণ বলে প্রতিভাত হয়।
বিম্ববতীর হরিদ্বারে চলে যাওয়াকে বিধুশেখর প্রথমে সহজভাবে মেনে নিতে না পারলেও পরে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রাজি হয়ে যান এবং তখন থেকে বিধুশেখরের শরীর ভেঙে পড়তে থাকে, এমনকি মনও। বহু বছর পর গঙ্গানারায়ণ ফিরে আসলেও তিনি গঙ্গাকে ক্ষমা করেননি এবং নিরুদ্দেশ থাকার সময় গঙ্গার সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেন।
তবে নবীনকুমারের প্রতি তার ভালোবাসা দিনে দিনে যেন আরও গভীর হতে থাকে। নিজ স্ত্রীর মৃত্যু, বিম্ববতীর প্রস্থান ও মৃত্যুর খবর, নিজ কন্যাদের মৃত্যু বিধুশেখরকে এতটুকু বিচলিত করেনি, যতটুকু করেছে নবীনের মৃত্যু।
নবীনের অকালমৃত্যুতে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েন ও শোকের চূড়ান্ত রুপ প্রকাশ করেন যা বিধুশেখরের মত কঠিন হৃদয়ের মানুষের কাছে একেবারে অপ্রত্যাশিত। এমনকি যে নবীনের তার মুখাগ্নি করার কথা ছিল, সে নবীনের মুখাগ্নি করার জন্য তিনি শ্মশানঘাটে পর্যন্ত যান।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now