বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রামে দূরন্তপনায় বেড়ে ওঠা হয়েছে আমাদের। দিনে বানিয়ে বানিয়ে কত খেলা খেলতাম, পুকুরে দাবড়িয়ে বেড়াতাম, রাতেও চলত কত রকম খেলা, সাথে ভূতের গল্প। ডিসেম্বরের শেষের দিকে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে স্কুল ছুটিতে অনেকের আত্মীয়-স্বজন শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে আসত। সাধারণত এ সময়টায় নানার বাড়ীতে বেড়াতে যেত সবাই। আমার সেই সুযোগ সারা বছর ধরে ছিল। কারণ- দাদার বাড়ী আর নানার বাড়ীর সহঅবস্থান; দাদা আর নানা সম্পর্কে চাচাত ভাই ছিলেন। সপ্তম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষার পর বাড়ীতেই আছি। পাশের বাড়ীতে ঢাকায় বসবাসকারী এক পরিবার বেড়াতে আসল। তাদের সাথে একটি ছেলে আছে যার সাথে এর আগেও আমাদের গ্রামে বেড়াতে আসার প্রেক্ষিতে দেখা হয়েছে। ছেলেটির মাঝে লোক দেখানো ভাবটা বেশী ছিল। শহরের ছেলে, পড়ালেখায় ভাল আর অনেক কিছু জানে এ রকম ভাবের প্রাবল্যে সে আমাদের বহু বার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে। “মেহমান মানুষ, কী আর বলব” সবার মাঝে এ রকম একটা হতাশাজনক ভাব। একদিন রাতে আমারা ভুতের গল্প করছি; ভয়ে একেক জনের প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ছেলেটিও ছিল। আমি লক্ষ্য করেছি, তারও একই হাল। ঐ দিনের গল্পের অনেকটা জুড়ে ছিল পানির নিচে ভৌতিক কি কি থাকে; ছোট ছেলে মেয়েদের প্রতি তাদের বিশেষ আকর্ষণ; পানির নিচ থেকে মানুষ কে টেনে নিয়ে যাওয়া; নিয়ে যেয়ে মেরে ফেলা অথবা তাদের রাজ্যে কাজ করানো সহ আরও অনেক রকম কিচ্ছা কাহিনী। গল্প শেষে সবাই যার যার সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে। কেঊ বলছে সে আর একা পানিতে নামবে না। মেয়েদের মধ্য থেকে কেউ বলছে মরে গেলেও সে তার চুল খোলা রাখবে না। পানিতে বেশীক্ষন থাকব না। নানা রকম প্রতিজ্ঞা। যদিও পরের দিন সকালে কারোই এসব প্রতিজ্ঞার কিছুই মনে থাকত না। ছেলেটি মাঝখান থেকে বলল তোমারা অযথাই ভয় পাচ্ছ। ভূত বলে কিছু নেই। আর যদি থাকেও আমি ওসব ভয় পাই না। আমি তোমাদের মত এত ভীতুর ডিম না। শেষোক্ত দুই লাইন আমার খুব লেগেছে। বাছা ধনের সাহস যাচাই করার প্রতিজ্ঞা করে ফেললাম। পুকুরে দাবড়ানো আমাদের নিত্য দিনের নিয়ম ছিল। মাঝে মাঝে তিন-চার ঘন্টা কোথায় দিয়ে চলে যেত বুঝতেই পারতাম না। বাড়ীতে ঢুকলে উত্তম-মধ্যমের মাত্রার উপর ভিত্তি করে একটা খসড়া হিসাব করে নিতাম। একদিন দুপুরে ছেলেপুলেরা পুকুরে গোসল করছি, সেই ছেলেটিও আসল। বিদ্যারসাগর সাতার জানবে কি ডুব ই দিতে শেখেনি তখনও, বুক পানিতে নেমে মগ দিয়ে মাথায় পানি ঢালছে। ডুব দিয়ে অনেক্ষন পানির নিচে থাকা, আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার বিশেষ দক্ষতা সেই সময় মোটামুটি আমাদের সবারই ছিল। ছেলেটি আমার সেই দক্ষতার সীমার মধ্যেই ছিল। বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে ডুব দিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম। হাতড়ে তার লুঙ্গীর গোছার নাগাল যেই না পেলাম, এক হাতে কাঁদা খামচে ধরে আরেক হাতে দুই তিনটা হেঁচকা টান দিয়ে আমি আমার আগের জায়গায় চলে আসলাম। মাথা তুলে দেখি সে পুকুর পাড়ের দিকে প্রাণপনে দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার করছে “ভূত, পুকুরে ভূত”। নদীমাতৃক দেশের নাগরিক হয়ে একটি ছেলে সেদিন হয়ত দ্বিতীয় বার পানিতে নামার সাহস হারাল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now