বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটা ছোট্ট পুকুরে বাস করতো তিন..তিনটি মাছ।নাম শেনি,জেনি আর রেনি। মাছগুলো ছিল দেখতে বেশ সুন্দর এবং নাদুশ-নুদুশ। অ্যাকুরিয়ামের মাছ দেখেছো না…দেখতে ঠিক সেরকমই সুন্দর। কিন্তু ছোট্ট পুকুরের ভেতর মাছগুলোর খুব কষ্ট হচ্ছিলো। তাছাড়া তাদের জীবনেরও নিরাপত্তা ছিল না। কখোন না জানি শিকারির চোখে পড়ে যায় আর জীবনটা চলে যায় কে জানে…। একদিন হলো কী..সত্যি সত্যিই ঐ পুকুরের পাড় দিয়ে যাচ্ছিলো এক মাছ শিকারী। হৃষ্টপুষ্ট আর সুন্দর মাছগুলো শিকারির চোখ এড়ালো না। শিকারী মাছগুলোকে দেখে ফেললো।
জেনি: আহ্ হা… মাছগুলোকে ধরে ফেললো…!
শেনি : না…ভাগ্যিস শিকারির হাতে শিকার করার মতো কোনো যন্ত্র বা জাল কিছুই ছিল না।
রেনি : যাক বাবা বাঁচা গেল…মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো অল্পের জন্যে…। তারপর…
শেনি : শিকারী কিন্তু মাছগুলোকে ধরার লোভ ছাড়তে পারলো না..একাকি সে বিড়বিড় করে বললোঃ যেভাবেই হোক..জালটাল দিয়েই হোক, বড়শি দিয়েই হোক কিংবা টেঁটা দিয়েই হোক… মাছগুলোকে ধরবেই সে…
জেনি : মাছেরা কি শিকারির কথাগুলো শুনেছিল….?
শেনি : হ্যাঁ, শুনতে পেয়েছিল….
রেনি : শুনে তারা কী করলো….
শেনি : কী আর করবে…শুধু বুঝতে পারলো…গড়িমসি করলে ফাঁদে আটকা পড়তে হবে..মারা যেতে হবে.. সুতরাং যতো দ্রুত সম্ভব শিকারির হাত থেকে বাঁচার একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে…
জেনি : তো কী চিন্তা করলো তারা..!
রেনি : তিনটি মাছই কি একই রকম চিন্তা করেছে…?
শেনি : না…মাছগুলোর মধ্যে একটা ছিল খুবই বুদ্ধিমান এবং দূরদর্শী। আরেকটি মাছের মোটামুটি এতটুকু বুদ্ধি ছিল যে বুঝতে পারতো পালানো উচিত এবং কীভাবে পালানো যায় তা-ও ভাবতে পারতো আরকি…তবে তৃতীয় মাছটি ছিল বোকা এবং অলস…খামোখা সময় নষ্ট করতো সে..
জেনি : তাহলে তো তিনটি মাছের চিন্তা ছিল তিন রকম, তাই না…
রেনি : আমারও সেরকমই মনে হয়….
শেনি : হ্যাঁ, যথার্থই ধরেছেন আপনারা। ছোট্টবন্ধুরা! তোমরাও নিশ্চয়ই সেরকমই ভাবছো তাই না..! আচ্ছা বলতে পারো মাছগুলো কে কী ভেবেছিলো…শোনো! বুদ্ধিমান মাছটি মনে মনে ভাবলোঃ এই বালা-মুসিবৎ থেকে যে করেই হোক প্রাণে বাঁচতে হবে…শিকারী যে-কোনো মুহূর্তেই চলে আসতে পারে, তাই ছোট্ট এই পুকুর থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে হবে বিশাল সমুদ্রের দিকে। সে তার চিন্তাটা গোপন রাখার চেষ্টা করলো এবং বাদবাকি মাছ দুটোকে জানাবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলো। কারণ সে ভাবলো, কথাটা যদি সবাইকে জানিয়ে দেয় তাহলে তারা বলবেঃ সমুদ্রে যাবার জন্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, অনেক কষ্ট হবে, অনেক সমস্যা, এটা সেটা আরো কত্তো কী…এসব বলে-টলে তারা হয়তো তাকে তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য করে বসতে পারে..।
জেনি : বুদ্ধিমান মাছটা শেষ পর্যন্ত কী করলো..?
রেনি : সে কি অন্যদেরকে একেবারে বুঝতেই দেয় নি কিছু..?
শেনি : না, সে কোথায় যাচ্ছে..কীভাবে কী করছে-কাউকে কিচ্ছু না জানিয়ে একাকি রওনা দিলো। সমুদ্রে যাবার জন্যে সে এক্কেবারে সরু এবং বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিলো…
জেনি : সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছলো শেষপর্যন্ত…
শেনি : হ্যাঁ, সমুদ্রে গিয়ে পৌঁছে গেল সে…
রেনি : যাক…টেনশনমুক্ত করলেন। তো দ্বিতীয় মাছটির ভাগ্যে কী জুটলো…সে কি ধরা পড়ে গেল..?
শেনি : দ্বিতীয় মাছটির বুদ্ধিশুদ্ধি একেবারে তীক্ষ্ণ না হলেও মোটামুটি ছিল,একেবারে বোকা ছিল না। শিকারীরা যখন তাকে দেখতে পেল তখনি তার টনক নড়লো। বুঝতে পেলো অলসতা করে ফেলেছে এবং শিকারিরা ওঁৎ পেতে আছে তাকে ধরার জন্যে। নিজেকেই নিজে ধিক্কার দিতে লাগলো-ইস্ কেন যে অলসতা করলাম, কেন বুদ্ধিমান মাছটির সাথে চলে গেলাম না..গেলে তো জানটা অন্তত রক্ষা পেত..আহ..এখন যে কী হবে…! ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মাছটির মনে হলো..এখন তো রাগ করার সময় নয়..এখনো যেটুকু সময় হাতে আছে তাকে কাজে লাগানো উচিত..কীভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায় সেই চিন্তা করা উচিত..এই ভেবেই মাছটি তাড়াতাড়ি বুক আকাশের দিকে আর পিঠটাকে পানির দিকে দিয়ে মরার ভান করে ভেসে উঠলো। কোনোরকম নড়াচড়া না করে মাছটি ভেবেছিল পানির সরু একটি নালায় গা ভাসিয়ে দিয়ে পার হয়ে যাবে। কিন্তু না…
জেনি : শিকারী ধরে ফেললো…!
রেনি : মারা পড়লো মাছটি..!
শেনি : শিকারী মাছটাকে ধরে ফেললো ঠিকই। ধরে পুকুরের পাড়ে মাটির ওপর ফেলে রাখলো। মাছটি যেহেতু কোনোরকম নড়াচড়া করলো না, সেহেতু শিকারী ভেবেছিল..ওটা কতোদিনের মরা কে জানে…তাই সেখানেই ফেলে রেখে চলে গেল। শিকারীরা যখন কিছুটা দূরে চলে গেল…মাছটি তখন লাফিয়ে লাফিয়ে পুকুরে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেল।
জেনি : মাছটির বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয়।
রেনি : আসলে উপস্থিত বুদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ঠাণ্ডা মাথায় মাছটি ওভাবে তার বুদ্ধিটাকে কাজে না লাগালে নির্ঘাৎ তার মৃত্যু হতো…
জেনি : আচ্ছা তৃতীয় মাছটির ভাগ্যে কী জুটলো..
শেনি : তৃতীয় মাছটি তো একটু আহাম্মক টাইপের ছিল..
জেনি : মোটা মাথার আর কি..নাহ…
শেনি : হ্যাঁ, খামোখা সময় নষ্ট করতো…সময়ের মূল্য বুঝতো না…এইমাত্র সে বুঝতে পারলো যে তার সামনে বিপদ…তাই অস্থির হয়ে পড়লো..কী করবে না করবে ভেবে কুল পাচ্ছিলো না। এদিক ওদিক খালি দৌড়াদৌড়ি করতে লাগলো। ভেবেছিলো দৌড়াদৌড়ি করে হয়তো বিপদ থেকে বাঁচা যাবে..কিন্তু কীভাবে তা সে নিজেও জানতো না। অগত্যা সে শিকারীর পাতা জালে আটকা পড়ে গেল। আটকে গিয়েও সে এফোঁড় ওফোঁড় করার চেষ্টা করলো নিজেকে বাঁচাতে। কিন্তু যতোবারই সে জালের ঘরে আটকালো, ততবারই আহত হলো। আহত হতে হতে ক্লান্ত হয়ে পড়লো। ক্লান্তির ভারে এক সময় সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেললো এবং শিকারীর হাতে ধরা পড়ে গেল।
রেনি : শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে গেল..
শেনি : হ্যাঁ, ধরা পড়ে গেল..
রেনি : আহ…বেচারা…আমার না ভীষণ খারাপ লাগছে..অ্যাকুরিয়ামে আমার কটা মাছ আছে..এত্তো মায়া লাগে মাছগুলোর জন্যে…
জেনি : হ্যাঁ! মাছগুলো দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি মায়াবি…আর সকল সুন্দরের মৃত্যুই কষ্টকর…আচ্ছা শিকারী মাছটাকে ধরে নিয়ে কী করলো…
শেনি : কী আর করবে..কাবাব বানিয়ে খেলো…
রেনি : আহ..হতভাগা..ধরা পড়ার আগে যদি একটু বুদ্ধি খাটাতো..
শেনি : হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন..মাছটা কিন্তু মনে মনে বলেওছিল..এইবার যদি কোনোভাবে শিকারীর হাত থেকে বেঁচে যেতে পারতাম তাহলে আর কোনোদিন অলসতা করতাম না..যেভাবেই হোক যতো কষ্টই হোক সমুদ্রে পাড়ি জমাবো..আর একবার যদি সমুদ্রের বিশাল অস্তিত্বের সাথে গিয়ে মিশে যেতে পারি তাহলে তো ভয়ের কিছু থাকবে না..নিশ্চিন্তে জীবন যাপন করবো।
জেনি : কিন্তু ও তো বোকা ছিল।
রেনি : বিপদ এলে বোকারও বুদ্ধি খোলে।
শেনি : মাছটাও তাই বলেছিল…বলেছিল নিজের বুদ্ধিতে যদি না কুলায়, তাহলে যাদের বুদ্ধি আছে তাদের সাথে গিয়ে যোগ দেবে, কীভাবে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে হয় সেই বুদ্ধি এবং কলাকৌশল জেনে নেবে তবু সমুদ্রে যাওয়া চাই..ই..চাই..নিরাপদ জীবন যাপন করা চাই..
জেনি : কিন্তু তার আর সুযোগ হলো কই..সকল সুযোগ তো হাতছাড়া হয়ে গেল..কথায় বলে..চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে..
রেনি : সে জন্যেই সময় থাকতেই সময়ের মর্যাদা বুঝতে হয়…তাই না…
শেনি : হ্যাঁ..যথার্থই বলেছেন আপনি….
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now