বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রতিশোধ ০১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X “অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহবান, প্রানের প্রথম জাগরনে তুমি বৃক্ষ আদিপ্রান।” - কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। {১} তার চোখ নেই কিন্তু সে দেখছে। দেখছে, অনুভব করছে সবকিছু। সে দেখছে দিনদিন তার বংশধররা, তার প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে এই বিলুপ্তির ধারা ছিল ধীরে ধীরে কিন্তু এখন দিন দিন সেটা দ্রত হতে দ্রুততর হচ্ছে,। আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমস্যাটা। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। শুধু চাপা কষ্ট আর দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই প্রাণীগুলো কত নিষ্ঠুর, কত অকৃতজ্ঞ। তারা নিজের আশ্রয় দাতাকে ভূলে যাচ্ছে, ভূলে যাচ্ছে পালনকর্তা,অন্নদাতাকে। সে স্মৃতি হাতড়ে চলে গেল সেই টারসিয়ারী যুগে, জুরাসিক যুগে। মহাকালের ভাজে ভাজে খুজে দেখল। হ্যা, এইতো ধারাবাহিক ভাবে সব মনে পড়েছে। এই সুন্দও গ্রহ, বিশ্বভ্রক্ষান্ডের একমাত্র প্রাণ সমৃদ্ধ গ্রহ, এটা তো একদা আমাদেরই রাজত্বে ছিল। শুধু আমরাই ছিলাম। যেদিকে দৃষ্টি যেত শুধূ সবুজ আর সবুজ আর ছিল সাগরের নীলাভ পানি। সেই পানির নিচেও আমাদের বংশধরদের রাজত্ব ছিল। আসমান ছোয়া বৃক্ষগুলি প্রতিদিন খেলা করত মেঘবালিকার সাথে। মেঘবালিকা কত ভালবাসতো তাকে, দান করত অমৃত জলধারা আর পূর্বে উদিত সে নক্ষত্র শীতল রাখত মায়ের আচল। কথা হত মেঘবালিকা,সূর্য আর রাতের চাদ কিংবা তারার সাথে। মেঘ আর সূর্য প্রায়ই একে অপরকে সহ্য করতে পারত না। যখন মেঘকে নিমন্ত্রম করতাম, অভিমানে সূর্য তখন লুকিয়ে পড়ত কিংবা যখন সূর্যকে নিমন্ত্রম করতাম তখন অভিমানে মেঘ ডানা মেলে উড়ে যেত। কিন্তু তারকারাজি এবং চাদ ছিল একে অপরের ভাল বন্ধু, প্রতি রাতে তারা আমায় ডাকত। আমিও নেচে গেয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাতাম। কিন্তু এখন ওরা সবাই আমার শত্রু হয়ে যাচ্ছে এই নিষ্ঠুর প্রাণীগুলোর জন্য। মেঘবালিকা এখন আর আমার ডাকে সাড়া দেয় না, সূর্য কষ্ট দেয় আমার জননীকে। কত সাত-পাচ ভাবে, কিন্তু অতীতকে সে বিষন্ন করে তুলতে চায় না। স্মৃতির পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় পাঠ করে সে- হ্যা এই তো পাওয়া গেছে। কত যত্নে আমি ওদের আগলে রেখেছিলাম, আশ্রয় দিয়েছি আচল তলে, অন্ন দিয়ে বাচিয়ে রেখেছি প্রাকৃতিক বিপর্যয় আর স্রষ্টার অভিশাপ হতে। এরা কত অসহায় ছিল, আমিইতো এদের লুকিয়ে লুকিয়ে রাখতাম শত্রুর আক্রমন হতে। নাহ্ এরা বড় অকৃতজ্ঞ, এরা মানুষ, এরা নিশ্চয়ই বড় অকৃতজ্ঞ জাতি, এরাতো নিজেরাই একে অপরকে ধ্বংস করে ফেলছে। এটা পৃথিবী, অপূর্ব সুন্দর আর চিরকল্যানময়। এখানে এমন অকৃতজ্ঞদের বাস করার কোন অধিকার নেই, এরা খুবই কুৎসিত জাতি। আর নাহ্ , কিছুতেই ওদের এই অসৎ উদ্দেশ্য সহ্য করা হবে না। তীব্র প্রতিশোধের নেশায় জ্বলে ওঠে সে। ওরা কি নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবে না কি আমাকেই প্রতিশোধ নিতে হবে? কিন্তু এখনও তো আমি ওদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন তবে কেন আমাকে ওরা ধ্বংস করে দিতে চায়? ওরা কি বুঝতে পারছে না যে, আমি অস্থিত্বহীন হয়ে পড়লে ওরাও অস্থিত্বহীন হয়ে পড়বে? অবশেষে এই রহস্যের উৎঘাটন করল সে- নাহ্ , আমার ধ্বংসের পরও ওরা ধ্বংস হবে না। ওরা টিকে থাকবে আরো কোটি-কোটি বছর। ওরা জীবিকা আর খাদ্যের অন্বেষণনে চলে যাচ্ছে মাটির তলদেশে, সমুদ্রের গভীরে। আমার বিলুপ্তির পর ওরা ভূগর্ভের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং ততদিনে ওরা নিশ্চয়ই বেচে থাকার একটা অবলম্বন পেয়ে যাবে। ওরা প্রস্তুত করবে কৃত্রিম খাদ্য এমন কি মাটিস্থ প্রোটিন বের করে ওরা খাদ্য তৈরী করবে, তবুও ওরা আমাকে বাচতে দেবে না। এরই মধ্যে আমাকে প্রতিশোধ নিতে হবে। প্রতিশোধের নেশায় হিস হিস করে ওঠে সে। এক প্রকার হিংস্র বাতাস গাছের শাখাগুলোকে যেন দুমড়ে মুচড়ে ফেলছে। এই পৃথিবীতে আমিই প্রথম এসেছি, প্রানের স্পন্দন ঘটিয়েছি আর ওরা কিনা আমাকেই মেরে ফেলতে চায়? ক্ষোভের সাথে মানুষ গুলোর দিকে তাকায় সে- কেমন বিশ্রী শব্দ করে, কেমন কুৎসিত কাঠামো আর কেমন গর্বভরে পৃথিবী প্রকম্পিত করে? যেমন রুক্ষ তাদের চেহারা তেমন রুক্ষ তাদের ব্যবহার । কান্না আসে তার- এমন অকৃতজ্ঞদের আমি কোটি-কোটি বছর লালন করেছি? বিশ্বাস করতে কষ্ট হয তার। নাহ্ , আমাকে বাচতেই হবে। জীবনের স্পন্দনে আমিইতো প্রথম প্রান। আমিইতো এতদিন আশ্রয় দিয়ে সবাইকে টিকিয়ে রেখেছি আর আজ আমিই এখানে থাকতে পারব না? তা হয় না, এই পৃথিবী আমার। অঝোর ধারায় কাদছে সে। পৃথিবীর কোটি কোটি বছরের ইতিহাস পাঠ করল সে, প্রানের সমসত্দ রহস্য নিংড়ে বের করে আনল। সমসত্দ রহস্যের সমাধান দেওয়া আছে সেখানে। দেওয়া আছে শত্রুকে ধ্বংস করার কৌশল, আত্মরক্ষার উপায়। সব, সব আছে সেখানে। সে সমাধান খুজে পায়- তাকে মরতে হবে। বাচতে হলে মরতে হবে, তবে মরার আগে মরতে হবে- হ্যা, এই তো পেয়ে গেছি । এতদিনে এই মানুষগুলিকে একটা উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারব, যেন ভবিষ্যতে কোন প্রজাতি নিজেদের মানুষ দাবি করতে লজ্জা পায়। আমি সেই ব্যবস্থাই করব। হঠাৎ এক টুকরো মেঘ ওর মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায়। কান্না জড়িত কন্ঠে সে ডাক দেয়- মেঘ ভাই, কই যাও? একটু দাড়াও না। কতদিন তোমায় দেখি না। আমার কষ্ট হয় না বুঝি? অভিমান ঝরে পড়ে তার। পরিচিত কণ্ঠ পেয়ে থমকে দাড়ায় মেঘ- কি করব বোন? তোমরা নেই তাই এখন আর পৃথিবীময় ঘোরার ইচ্ছে জাগে না। সূূর্যটা যখন পশ্চিমে ঢলে পড়ে তখন সে ডাক দেয়- সূর্যি্য মামা, আজ আমার সাথে কথা বলনি কেন? -তোমায় বিষন্ন দেখে কষ্ট হয়, মেঘবালিকা আর আগের মত আসে না, তাই তোমার কষ্ট আর বাড়াতে চাই না। কষ্ট চেপে রেখে বলে সূর্যি্য মামা । সন্ধ্যার পর একটুকরো বাতাস যখন তাকে পরশ বুলিয়ে যায়, সে ডাক দেয়- ও ভাই, দিনের শেষে এলে তাও ক্ষনিকের জন্য। দাড়াও না ভাই, কিছু কথা বলি্। সে বুঝতে পারছে, দিনদিন সবাই দূরে সরে যাচ্ছে, প্রিয়জনরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না । প্রতিশোধ নিতে হবে, চরম প্রতিশোধ। থরথর করে কেপে ওঠে সে। {২} তখনও শেষ বিকেলের আলো ফুরিয়ে যায় নি, অন্যসব দিনের মতই চলছে সবার কাজকর্ম। ব্যসত্দ তরুন-তরুনীরা বিপনী বিতান গুলোতে কেনাকাটায় ব্যসত্দ, কেউবা হাটছে পার্কে, মাঠে অথবা নদীর ধারে। সারাদিনের অফিস শেষে সবাই ঘরে ফিরছে। কারো মধ্যে দুঃচিনত্দার ছাপ নেই। সবার মধ্যে একই কথা ‘শেষ পর্যনত্দ কিছুই হবে না।’ টেলিভিশনে কিছুক্ষন পর-পরই প্রচার করা হচ্ছে ভয়াবহ ভবিষ্যৎবানী। বিজ্ঞানীরা আগত সাইক্লোনটির নাম দিয়েছেন ‘রিভেনজ’ (Revenge)। প্রতিটি বেতার কেন্দ্র হতে ঘোষনা করা হচ্ছে সমুদ্রের মাঝিরা যেন সন্ধ্যের পূর্বেই ফিরে আসে। কেউ-কেউ ফিরল, কেউ ফিরল না। উপকূলীয় এলাকা গুলোতে পুলিশ আর সামরিক বাহিনীর লোকজন গিয়ে মাইকিং করছে কিন্তু কারো আগ্রহ নেই সাইক্লোন শেল্টার স্টেশন গুলোতে যাওয়ার, একপ্রকার বাধ্য করেই সবাইকে নিয়ে যাচ্ছে ওরা। সন্ধ্যের সাথে সাথেই আকাশে জমে উঠল কালো মেঘ। অনেকে উৎকণ্ঠায় তাকালো আকাশে। অভিজ্ঞতার আলোকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আর বুঝতে বাকি রইল না এ কিসের আলামত, এ যে মতু্যর পরওয়ানা নিয়ে আসছে মৃতু্যদূতৃ ‘রিভেনজ’ (Revenge) । দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের তাৎপর্য এবার কেউ-কেউ কিছুটা অনুভব করছে। সবাই ছুটছে দ্বিগ্ববিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে। ছুটছে আশ্রয়ের আশায়, ছুটছে বেচে থাকার আশায়। বহন যোগ্য সম্বলটুকু কাপড়ে বেধে ওরা ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসল। চোখের জল ফেলতে-ফেলতে মুক্ত করে দিল গবাদি পশু-পাখিদের। রাত নামার সাথে-সাথেই সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠল, বাতাসের গতিবেগ ক্রমেই বাড়ছে। রাত্রির প্রথম প্রহরেই আঘাত হানল প্রলয়ংকরী সাইক্লোন ‘রিভেনজ্’ (Revenge) । প্রায় চারশ কিলোমিটার বেগে ঝড়টি আঘাত হানল সারা রাত্রি ধরে। লন্ড ভন্ড করে দিল কোটি-কোটি মানুষের ঘর-বাড়ি, ফসলের ক্ষেত , সনত্দান-সনত্দতি আর গবাদি পশু-পাখি। সকাল হল। আকাশে বাতাসে শুধু মানুষের চিৎকার আর হাহাকার। স্বজন হারানোর কান্নায় পৃথিবীর আকাশ ভারী হয়ে উঠল। পৃথিবীর বাতাসে শুধুই লাশের গন্ধ। এখন শুধুই বেচে থাকার আকুতি। চাই খাদ্য আর পানি। পর্যাপ্ত ত্রাণ।। কিন্তু কে দেবে তাদের সাহায্য। রাসত্দাঘাট সব বিধ্বসত্দ , স্থল যোগাযোগের কোন উপায় নেই, রাসত্দার উপর ভেঙ্গে পড়ে আছে শতবর্ষী গাছগুলোও। চারিদিকে লক্ষ-লক্ষ মানুষের লাশ আর লাশ, লাশের মিছিলে মানবতা খুজে পাওয়া ভার। সবার চোখে মুখে উৎকণ্ঠা, প্রকৃতি এ কি নিষ্ঠুর খেলা খেলল মানুষের জীবন নিয়ে, প্রকৃতি এ কেমন প্রতিশোধের নেশায় মেতে উঠল? {৩} বিসত্দীর্ন ধান ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে করিম মিয়া। এক দাগে দশ একর জমি তার । গত বছরও এখানে ছিল সুউচ্চ গাছের সমাহার। মৃতু্যর সময় বাবা বলেছিল একসাথে যেন সব উজাড় না করে আর অবশ্যই যেন নতুন গাছ লাগায়। একদিন শহরের এক পার্টি আসে, চড়া দাম হাকে। কাচা টাকার গন্ধ পেয়ে করিম মিযা সব গাছই বিক্রি করে দেয়। সে এখন কোটি টাকার মালিক, এলাকার সবচেয়ে বড় ধনী। প্রতিবেশীরা বলেছিল আবার গাছ লাগাতে। কিন্তু আবার পনের, বিশ বছর। নাহ্ , বাকীতে বিশ্বাসী নয় করিম মিয়া। তার চাই কাচা টাকা, নগদ টাকা। সে ধান আবদ করে, বছর না ঘুরতেই আসবে টাকা, করিম মিয়া উঠোনে বসে ভাবে আর পান চিবোয়। কিনত্দ এখন যেন তার কান্না আসছে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। বাড়নত্দ ধানের চারা গুলি কেমন শুকিয়ে যাচ্ছে। যত্মতো কম হচ্ছে না, নিজের মেশিন, পর্যাপ্ত পানি, সার, তবুও চারা গুলি দিনিিদন শুকিয়ে যাচ্ছে। করিম মিয়া ছুটে যায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতর্ার কাছে। উপজেলা কৃষি অফিসারসহ সবাই সরেজমিনে পরিদর্শন করল। কয়েক বছরের মধ্যেই কৃষি মন্ত্রনালয়ে জমা পড়ে হাজার হাজার প্রতিবেদন। নির্দিষ্ট কোন কারণ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবর্ত্র একই অবস্থা। প্রকৃত কারণ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই হতাশ। এভাবে কেটে গেল বহু বছর। চলবে------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রতিশোধ
→ প্রকৃতির প্রতিশোধ
→ অমায়িক প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ
→ প্রকৃতির প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ -১
→ "প্রতিশোধ"
→ প্রতিশোধ
→ প্রতিশোধ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now