বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এতদিনে ‘সে’ প্রশানত্দি অনুভব করল। সে অননত্দ আকাশে তাকিয়ে খুজতে লাগল- মেঘ ভাই, এস, এদিকে এস, দেখে যাও আমি পেরেছি। আমি সফল হতে যাচ্ছি। তোমাকে আর আমা হতে দূরে থাকতে হবে না। সূয্যর্ি মামা আজকে আমি বিষন্ন নই, আজ আমার সাথে কথা বল। দেখ আমি মানুষের উপর প্রতিশোধ নিতে পেরেছি। এবার সে তার ছোট্র একটি হাসি ছড়িয়ে দিল পৃথিবীতে।
{৮}
বৃদ্ধ ফারুক খাঁন দেখল যেখানে সে দাড়িয়ে আছে, পায়ের কাছেই একটি ঘাস ফুলের চারা, মারিয়ার মুখের কালো তিলকের আকৃতির একটি ফুলও ফুটেছে। দুই-তিন সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি চারা গাছ। আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন বৃদ্ধ- দেখ, মারিয়া দেখ, এই দেখ ঘাসফুল উদ্ভিদ। পৃথিবীতে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে। দেখ ফুলটা কি সুন্দর হাসছে। প্রাণ এসেছে পৃথিবীতে, প্রাণ। তুমি এখানে দাড়াও মারিয়া।
ফারুক খাঁন দৌড়ে গেল মহাকাশযান লক্ষ্য করে। চিৎকার করতে থাকল- রবার্ট, রবার্ট এই দেখ প্রাণ এসেছে পৃথিবীতে । কিন্তু ততক্ষনে মহাকাশযানটি ছুটে চলেছে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে। বিষন্ন চিত্তে মারিয়ার কাছে ফিরে এল ফারুক খাঁন । একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ঘাসফুলের দিকে। দৃষ্টি ফেরাল মারিয়ার চোখে- মারিয়া প্রাণ এসেছে পৃথিবীতে। আবার প্রানের স্পন্দনে মুখরিত হবে পৃথিবী। মানব শিশুদের কোলাহলে আবার মুখরিত হবে এই বিরান ভূমি। আমার সবোচ্র্চ বিদ্যা আমি ঢেলে দেব তোমার প্রতি। তোমাকে কিছুতেই মরতে দেব না। আবার সুস্থ হবে তুমি। তুমি হবে এই পৃথিবীর প্রথম মানবী ইভ।
{৯}
সন্ধ্যে না হতেই আবার ঘাসফুলটি শুকিয়ে গেল। দেখতে দেখতে বেশ কয়েক মাস চলে গেল। মারিয়া মাঝে কিছুটা সুস্থ হয়েছিল, এখন আবার অবনতি ঘটছে। ইতিমধ্যে বৃদ্ধ ফারুক খাঁন মারা গেছেন। মারিয়া বুঝতে পারছে তারও বেশীদিন বাকী নেই।
ব্যসত্দ পদক্ষেপে মারিয়া শহরে প্রবেশ করল। খা-খা করছে সমস্থ দালান-কোটা, রাসত্দা-ঘাট। থমথমে পরিবেশে ভূতুড়ে আতংক বিরাজ করছে। কোথাও প্রানের চিহ্ন মাত্র নেই। অট্রালিকার গায়ে খোদাই করে কিছু আকিবুকি করল মারিয়া, নেমে এল বিশাল অট্রালিকার সামনে। গাড়িটির দিকে তাকিয়ে হাসল- পৃথিবীর সবচেয়ে দামী গাড়ি। হাঃ হাঃ। পৃথিবীর সবোচ্র্চ ধনী ব্যক্তির জন্য তৈরী করা হয়েছিল এটি। গাড়িতে চড়ল মারিয়া। জিপিএস ফেড অটোমেটিক কন্ট্রোলার, সম্পূর্ণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত গাড়িটি। কম্পিউটার গাড়ির সমসত্দ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করল গ্যাস, ক্যামেরা, ছোট রাডারটি, সব পরীক্ষা করল। সমপূর্ণ অপারেশনাল। গাড়ির ভিতর ছোট একটি কনফারেন্স টেবিল, চারপাশে স্বর্ণ আর হীরা খচিত কারুকার্য। বসার আসনগুলিও চমৎকার। গাড়ি স্টার্ট নিল। চলতে শুরু করল শহরের রাসত্দা ধরে, শহর ছেড়ে গ্রামে আবার শহরে, চলছে তো চলছেই।
এবার মুচকি হাসল মারিয়া। একা একাই বলল- মহামান্য মারিয়া, পৃথিবীর একছত্র অধিপতি, আপনী আসন গ্রহণ করুন।
মারিয়া আসন গ্রহণ করল এবং চির নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। গাড়িটি এগিয়ে চলছে তাকে দেয়া গনত্দব্যের পথ ধরে।
{১০}
আবার সবুজে- সবুজে মুখরিত হল পৃথিবী। আকাশ ছোয়া বৃক্ষ এখন খেলা করে মেঘের সাথে। পাখির কিচির মিচির শব্দ ভেসে যায় সুদুরে। অরন্যে- অরন্যে ছেয়ে গেল মাঠ-ঘাট। পৃথিবীর আবহাওয়া এখন সমপূর্ণ সতেজ। সমুদ্রের পানি স্বাভাবিক। ঠান্ডা হাওয়া এখন দোল দিয়ে যায় কাশবনে।
এখন সে আনন্দিত। সূর্য আর মেঘ এখন তার সাথে অভিমান করে না। সে সারারাত প্রেম করে চাদের সাথে। চাদকে সে আমন্ত্রণ জানায় পৃথিবীর মাটিতে আর তারকারাজি মিটমিটিয়ে হাসে বন্ধুর পাগলামি দেখে। পৃথিবীতে এখন কোন মানুষ নেই তাই সবাই তার আপনজন।
{১১}
ধীরে-ধীরে মহাকাশযানটি নেমে আসে সবুজ ঘাসের উপর। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বেরিয়ে আসে সাত জনের একটি অভিযাত্রীদল। দুজন নারী, দুজন পুরুষ আর তিন জন শিশু-কিশোর। সবার উস্ক-খুস্ক চুল, পরনে ছেড়া মলিন পোশাক। পুরুষ দুজনের হাতে দুটি ক্ষুদ্র অস্ত্র। শিশু- কিশোররা চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দিল। নারী দুজন ঝোলার মধ্য হতে মানচিত্র বের করে ধরল, মানচিত্র দেখে-দেখে হাটছে সবাই। কবুতরের ঝাক যখন ওদের মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল , গুলির আঘাতে ছিটকে পড়ল ঘাসের উপর আর করুন আর্তনাদ ভেসে চলল বাতাসে ভর করে।
চমকে উঠল “সে”- আর্তনাদ, করুন কান্না। এ কার কান্না? শীতল ভয়ের এক অনুভুতি বয়ে গেল ওর শরীরের মধ্য দিয়ে। তবে কি—? নাহ, কিছু ভাবতে পারছে না সে। মানুষ কি আবার ফিরে এল তাহলে? পাখির কান্না, পশুর আর্তনাদ। এগুলো তো মানুষের উপস্থিতিরই লক্ষন। বাতাসে বারুদের গন্ধ। হ্যা সবই তো মিলে যাচ্ছে। এরাই তো একদিন আমাকে নিচিহ্ন করতে চেয়েছিল। নাহ, কিছুতেই এটা বরদাশত করা হবে না।
{১২}
- দাড়াও তো রবার্ট। বলল বয়সের ভারে নুয়ে পড়া বৃদ্ধটি। অভিযাত্রীর দলটি থমকে দাড়ায়।
- এই দেখ এটি আমাদের সেই অট্রালিকাটি নয়, যেখানে আমরা শেষ সম্মেলন করেছিলাম? ওই তো আমাদের ন্যাশনাল পালর্ামেন্ট, মনে আছে রবার্ট মহামান্য খাঁনের সাথে আমরা কতবার এখানে এসেছিলাম!
-হ্যা, তাই তো। আর পায়ের তলায় ঘাসের নীচে তাহলে রাসত্দা। আগ্রহ ভরে বলল রবার্ট।
- হ্যা, সেটাই তো মনে হচ্ছে।
- সোনামনিরা এই দেখ এটা তোমাদের আসল মাতৃভুমি। বলল এক নারী। দেখ দেখ যে সব গল্প তোমাদের শুনাতাম সেইসব অট্রালিকা, গাড়ি আরো কতোকিছু। সব আমাদের জন্যই প্রস্তুত, এখন আমরা সুখে শানত্দিতে বসবাস করব।। বাচ্চারা গাড়ি গুলো দেখে লাফালাফি শুরু করে দিল।
- জর্জ রবার্টসন, বন্ধু আমার। দেখ তো এই দেয়ালে কি লেখা?
রবার্টসন এগিয়ে আসে- আরে, আরে, এতো আমার প্রিয়তমা মারিয়ার হাতের লেখা।
খোদাই করে লেখাগুলো পড়তে লাগল রবার্ট- “হে পথিক একটু দাড়াও। হে মানব, তোমরা যদি ভূল করে এই গ্রহে এসে থাক তবে এখুনি ফিরে যাও। এটা পৃথিবী, চির কল্যাণময় যার অর্থ। কোন যুদ্ধাংদেহী মানব কিংবা ৰমতা লোভীদের জন্য নয়। কোন মানুষ এখানে বাচতে পারবে না। তোমরা কি দেখছ না সুউচ্চ অট্রালিকা, সুবিশাল আকাশ, সমুদ্রের ঢেউ আর প্রশসত্দ রাসত্দা এসবই একদা তাদের রাজত্বে ছিল যারা একদা সগর্বে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াত। আজ কোথায় তারা যাদের সম্মুখে, পশ্চাদে সারি-সারি নত মাথা এগিয়ে যেত, বিন্দু মাত্র বিপদ যাদের স্পর্শ করতে পারত না? কিন্তু মৃত্যুর কাছে আজ সবাই পরাজিত। শকুকে খেয়েছে তাদের লাশ। পড়ে আছে শুধু শূন্য কংকাল। প্রতিশোধের আগুনে কেউ টিকতে পারে নি। এখানে চলছে খেলা, প্রতিশোধের খেলা, প্রকৃতির চরম প্রতিশোধের খেলা। সে তোমাকেও ক্ষমা করবে না। এখনও সময় আছে মনকে ভাবার অবকাশ দিও না। দোহাই লাগে হে মানব, মহাবিশ্বে অনত্দত একটি গ্রহে মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখ। চলে যাও এখুনি। আর যদি দেখা পাও রবার্টসন, তবে তাকে জানিও প্রিয়তমা মারিয়ার অভিনন্দন।”
সবার চোখের জল টপটপ করে পড়ছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে রবার্ট বলল- কোথায় যাব মারিযা? মহাবিশ্বে কোথাও যে মানুষের বসবাসের যোগ্য ভূমি নেই। মঙ্গলের অনুপযোগী বায়ু আর পাথুরে মাটির সঙ্গে লড়াই করতে করতে অবশিষ্ট আছি আমরা এই ক’জন।
ক্লানত্দ পদক্ষেপে আবার হাটতে শুরু করল সবাই।
- রবিনসন দেখ থোকা-থোকা আংগুর। দেখ কত ফলজ বৃক্ষ। এখন সবই আমাদের। আমরা এখানে আবার বংশবিসত্দার করব। প্রশসত্দ রাসত্দা ধরে আবার ছুটে চলবে আমাদের গাড়ি, আকাশে উড়বে বিমান, সমুদ্রে বিশালাকার জাহাজ। চিনত্দা কি, সব তো তৈরী করাই আছে। আমাদের বংশধররা শুধূ আহরোন করবে। ঐ দেখ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার, সমসত্দ জ্ঞান সংরক্ষিত আছে সেখানে। পুরো গ্রহ জুড়ে আছে কম্পিউটারের বিশাল নেটওয়ার্ক, জ্ঞানের অসীম ভান্ডার। সব, সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের জন্য প্রস্তুত। একটা শানত্দিময় ভূমি আমরা গড়ে তুলব।
দুজনে মুঠো ভরে থোকা থোকা আংগুর পেড়ে আনল। একফালি কাপড় বিছিয়ে রাসত্দায় বসল। বোতলে ভরে আনল টাটকা পানি।
-পানি, আহ্ কি চমৎকার। তৃপ্তির সাথে পান করল ওরা।
মুঠোভরে আংগুর মুখে পুরল সবাই। এমন সুস্বাধু খাবার বুঝি কেউ কখনো খায় নি।
মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল- কি ব্যাপার মাথা ব্যাথা করছে কেন? শরীরটা এমন করছে কেন?
দাড়ানোর চেষ্টা করল সবাই কিন্তু পারল না। বিষাক্ত ফলের বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল ওরা। চোখ দুটো যেন বন্ধ হয়ে আসছে। চোখ বন্ধ করার আগে সবাই দেখতে পেল আকাশে কিছু শকুন সবোচ্র্চ উচ্চতায় উড়ে বেড়াচ্ছে, যেন এদিকেই ছুটে আসছে।
শুধু নয় বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে একটি গাছ জড়িয়ে ধরেছে, সে যেন কিছু বলতে চায়।
_ ইমা। কেউ যেন ডাকল। চমকে উঠল মেয়েটি।
- ইমা। কি চাও তুমি? যেন মসত্দিস্কের নিউরনের ভাজে ভাজে আবার শুনতে পেল মেয়েটি।
- আমাকে বাচাও। আমি বাচতে চাই। কান্না জড়িত কন্ঠে বলল ইমা।
নিঃশব্দে হাসল কেউ – কেন তুমি বাচতে চাও? গর্বভরে পৃথিবী প্রকম্পিত করতে চাও বলে?
- না, না আমি বাচতে চাই তোমার মহিমা আর সৌন্দর্য দেখব তাই।
- আমি দুঃখিত ইমা। তুমি মানুষ, এখানে মানুষ বাচতে পারবে না। তোমাদের জন্য এটা একটা নিষিদ্ধ গ্রহ।
- আমি তো কোন অপরাধ করি নি।
- হ্যা ইমা, আমি জানি তুমি পুতঃপবিত্র। পৃথিবীর সমসত্দ সুন্দর তোমার মাঝে। তবুও আমি খুব দুঃখিত ইমা। হ্যা, তুমি বেচে থাকবে আমার অনত্দরে, ফুল হয়ে ফুটবে আমারই শাখে। তুমি এখন যাও । আমি সত্যি খুব দুঃখিত ইমা।
- না, না আমাকে বাচতে দাও। কান্নায় থরথর করে কাপছে শরীর। কিন্তু সব নিরব, কোন উত্তর এল না। ইমার নিথর দেহটি পড়ে গেল মাটিতে।
{১৩}
অট্রালিকা গুলো এখন পশু-পাখি, জীব-জানোয়ারের আবাসস্থল। লতা-পাতা আর গাছে ঢাকা পড়েছে বহুতল ভবনগুলো।
সে এখন চরম আনন্দে উদ্বেলিত। এখন বুঝি তার মহাবিশ্বে আর কোন শত্রু অবশিষ্ট রইল না। মৌমাছিরা মধু আহরনে ব্যসত্দ। পাখিরা গাছের শাখে বসে কিচির মিচির ডাকছে। বাতাস এসে আলতো করে চুমো খায় তার শরীরে। সমসত্দ দুঃখ বেদনা আর আত্ম-অহংকার ভূলে সে এখন বিজয়ীর বেশে দাড়িয়ে আছে। এটাই বুঝি তার প্রশানত্দি কারণ সে প্রতিশোধ নিতে পেরেছে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now