বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
--------------------------------------------------------------
ভার্চ্যুয়াল সম্পর্ক রক্ষায় বিগত দিনে বেশ অনেক কথাই বলা হয়ে গিয়ে থাকলেও ভার্চ্যুয়াল বন্ধুদের মধ্যে দেখতে পাইনি খুব বেশী পরিবর্তন।যা খুবই দুঃখজনক।বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এখানে যতোটা সহজ লভ্য তা ভেঙ্গে দেয়া আনফ্রেন্ড বা ব্লকের মাধ্যমে আরও বেশী সহজ যা আমরা সবাই জানি।জানি না কেবল কিছু ভদ্রতা, রুচী জ্ঞান আর বন্ধুত্ব রক্ষা করার দায়টুকু।দায় বলছি এজন্যই যে সমাজে চলতে গেলে আজকাল বংশ মর্যাদা না থাকলেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছা বা অর্থকড়ি অনেকেরই আছে।নেই কেবল শিষ্টাচার।
ভার্চ্যুয়ালের বাইরে পথে চলতে গেলে মুরুব্বী গোছের লোক দেখলে সালাম দেয়া, বাসে নারীদের দাঁড়িয়ে যাতায়াতকালে সীট ছেড়ে দেয়া অথবা রিক্সাওয়ালাকে তুই,তুমি না বলে বয়জেষ্ঠ্য হলে আপনি সম্বোধন করার মতো শিষ্টাচারগুলোও আমরা পালন করি না বড়ই তাচ্ছিল্যে।
যারা মাত্র টিন এইজে আছো, ভেবে দেখো তো মা বাবার কাছে কিছু চাইলে কিংবা খেতে চাইলে মা যদি হাতের কাজের জন্য কিঞ্চিত দেরীই করেন কি ব্যাবহার তোমরা করো।চাইলেই নমনীয় হয়ে কথা বলতে পারো বা নিজের খাবারটা নিজে সার্ভ করে মাকে হেল্প দিতে পারো।
মেয়েরা যারা বড় হচ্ছো, মন মতো কিছু না হলেই ধুম করে সবার আগে দরজা লাগিয়ে দাও নিজের ঘরে।এটা কি ঠিক? রাত জেগে নেট চালানো তোমার স্বাস্থ্যের জন্য এবং নৈতিকতার কী ক্ষতি সাধন করে তা যেদিন বড় হয়ে যাবে সেদিন বুঝবে।তাই বড়রা এ বিষয়ে অবজেকশন দিলে, জরুরী কাজ থাকলে তাদের বুঝিয়ে বলো উলটো রাগ না দেখিয়ে।রাগ দেখালেই বড়রা ভাববেন তুমি তাদের আউট অফ কন্ট্রোলে চলে গেছো।এগুলো তোমার রোজকার শিষ্টাচার।যার প্রভাব ভার্চ্যুয়াল জগৎে অহরহ পড়ছে।
এবার আসি ভার্চ্যুয়ালের পাতায়।আপনারা ছেলেরা যখন গার্লস আই ডি তে নতুন পরিচয়ে রিকুয়েস্ট পাঠান, মেয়েটি তা চট করে এক্সেপ্ট করে নিলেই হয় সস্তা আর না করলেই হয় মুডি।ইনবক্সে তাকে নক করলে ভদ্রতা করে পর পর তিনটি প্রশ্নের রিপ্লাই দিলেই আপনারা অধিকারের মাত্রা অতিক্রম করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে শুরু করেন। আর মেয়েটি যখন একজন অপরিচিতকে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদাণে বিরত থাকে তখন আপনারা তার সম্পর্কে বাজে টেক্সট লিখে যান।এটা কি শিষ্টাচার?
"বসতে দিলেই শুতে চায়"- বলে যে প্রবাদটি আছে তা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায় ভার্চ্যুয়ালই।একটা মেয়ে যখন আপনার সাথে ভালো ব্যাবহার করবে তখনই আপনার টেক্সটগুলো প্রেম প্রেম ভাবের দোলায় ভাবায়িত হয়ে উঠবে।মেয়েটি না বুঝে কিংবা বুঝেই রিপ্লাই দিলে সে যথেচ্ছ চেষ্টায় আপনাকে বন্ধু ভাবে বোঝালেও আপনি আর তা মানতে চাইবেন না।উপরন্তু তার শারীরিক বর্ননা সমেত এমন কিছু লিখতে শুরু করবেন যা মেয়েটিকে কখনো কখনো এক্সাইট করে তুলতে পারে।যার সুযোগে আপনি অডিও এবং কাল বিলম্ব না করে ভিডিও কল দিয়ে বসেন।ততক্ষনে মেয়েটি আপনার ফেলা বর্শীর টোপ গিলে ফেলেছে।এমন সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে যে বন্ধুত্বের দাবিতে আপনি আর তাকে না বলতে সুযোগ রাখেননি।সম্মানিত সর্ব বয়সী পুরুষ, এটা কি শিষ্টাচার?
বিগত আরেটিক্যাল গুলো আমার শ'য়ে শ'য়ে শেয়ার হয়ে গেছে আপনারা দেখেছেন।হাজার হাজার কমেন্টস আর বাক বিতন্ডা হলেও এটা কিন্তু অনস্বীকার্য যে নারীরাই এক পর্যায়ে সাফারার হয়।আপনারা নন।এখন হয়তো বলবেন, "দিদি, শিষ্টাচার কি শুধুই পুরুষের জন্য? নারীরা কি পুরুষদের খারাপ করে না?" জ্বী পাঠক।আমি কিন্তু সব পুরুষকে ইন্ডিকেট করিনি।তেমনি সব নারীরাও সহী নয়।তবে এদের সংখ্যা খুব কম।অথচ জরীপে দেখা যায়, ভার্চ্যুয়াল আদালতের তথ্য মোতাবেক নারীরাই কিন্তু আপনাদের শিষ্টাচার হীনতার শিকার হন সবচেয়ে বেশী।
তাই আসুন, বিভেদ নয়।শিষ্টাচার চর্চা করি ভার্চ্যুয়ালই এবং বাইরের পৃথিবীতেও।একে অপরকে প্রতিহিংসা বা প্রতিপক্ষ ভেবে নয়।ঘর থেকে ওই মা নামক নারীটি হতে শুরু করে সহপাঠী , সহকর্মী সহ ভার্চ্যুয়াল বন্ধু তালিকার সকলের সাথে শিষ্টাচার রক্ষা করে চলি।যা সর্বত্র ছড়িয়ে যাক আপনার স্মার্টনেস আর ব্যাক্তিত্বের অবকাঠামোতে।এটি শুধুই পুরুষ নয়, নারীরাও মেনে চলুন।প্রতিটি সম্পর্ক হয়ে উঠুক স্নিগ্ধ, স্বচ্ছ, অটুট।দূর হয়ে যাক বৈষম্য, বন্ধু বিচ্ছেদ বা ব্রেক আপ অথবা সামাজিক অস্থিতিশীলতা।ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।ব্যাক্তিত্ববান মানুষ হয়ে উঠুন।
-ওয়াহিদা সুলতানা লাকি।
৩০/০৫/১৭
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now