বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তুমি কোথায়??
-আ..মি তো বাড়িতে(ঘুমজড়ানো কন্ঠে)
-বাড়িতে মানে????
-বাড়িতে মানে রুমে বেডের মধ্যে...
- ইয়ারকি করছো আমার
সাথে,,,, তোমার এখন কোথাও আসার
কথা ছিল...
-আমার তো এখন কোথাও যাওয়ার
কথা ছিল না,, কোথাও যাওয়ার
কথা ছিল
নাকি??
-না জনাব আপনার কোথাও আসার
কথা ছিলনা,,,আপনি ঘুমান বেশি করে...
(রাগান্বিত কন্ঠে)
রাগে ফোস ফোস
করতে করতে রিসিতা ফোনটা কেটে দিল।
এত্তক্ষন যাদের মধ্যে কথা হচ্ছিল
তাদের
একজন হচ্ছে শেখর এবং অন্যজন
হচ্ছে রিসিতা । দুজনেই হলদিয়া গভঃ কলেজের স্টুডেন্ট....।দুজনই কলেজ লাইফ
থেকেই এরা দুজন দুজনকে খুব প্রেমিক প্রেমিকার চেয়ে একটু
বেশি বলা চলে দুজনকে...
আজ রবিবার বিকেল ৩ টার সময়
শেখরের রিসিতার সাথে সিটি সেন্টার যাওয়ার
কথা ছিল.....কিন্তু বেছারা শেখর তার
ঘুমকন্যাকে সাথে নিয়ে ঘুমুচ্ছিল তাই সব
ভূলে গেছে। আর এদিকে রিসিতা মল এর
সামনে একা দাঁড়িয়ে মনে মনে শেখর
কে গালি দিয়েই চলছে...
ফোন কেটে যাওয়ার সাথে সাথে শেখর
এর ঘুমকন্যা তার
কাছে থেকে চলে যাওয়ার কারনে তার ঘুম
ভেঙে গেল।
সাথে সাথে তার সবকিছু
মনে পড়ে গেল... শেখর
মনে মনে ভাবতে লাগল আজ আর তার
রক্ষা নাই,,,,।ঘরির
দিকে তাকিয়ে দেখল ৩:৩০টা বাজে। তার
মানে রিসিতা ৩০ মিনিট থেকে মল এর
সামনে দাড়িয়ে আছে...। শেখর
তারাতারি করে একটা রিকশা নিয়ে মল
এর সামনে গিয়ে উপস্থিত হয়েই দেখল
রিসিতা দাড়িয়ে আছে... রিসিতা শেখর
কে দেখা মাত্রই অন্যদিকে মুখ
ঘুরিয়ে একটা টোটো ডেকে নিয়ে টোটোতে
উঠল,,,
-এই রিসিতা,,,,দাড়াও...দাড়াও..কোথায় যাচ্ছো??
-এই দাদা চলুন তো আপনি,,
-এই দাদা দাড়ান আমিও উঠব,,
শেখর টোটোর দিকে এগিয়ে গিয়ে টোটোতে
উঠতে যাওয়া মাত্রই পিঠে কয়েকটা কিল-
ঘুসি অনুভব করতে পারল। তারপর ও ৩২
খানা দাত বের
করে একটা হাসি দিয়ে টোটো থেকে রিসিতা কে টেনে নামাল।
-এই ছাড়ো আমায়,,,যাও ঘুমাও গিয়ে..
-স্যরি রিসিতা। রবিবার ঘুমানোর
অভ্যাস
থাকার কারনেই তো আসতে লেট হল,,
-তুই আমার সাথে একটাও
কথা বলবে না ছাড়ো আমায়...আমায়
যেতে দাও,,,
প্লিজ রাগ করো না। বললাম
তো স্যরি।
-রাখো তোমার স্যরি তোমার কাছে।আমার
সাথে আর কোন যোগাযোগ রাখার
চেষ্টা করবে না...
-ওকে(একটু রাগী ভাব নিয়ে)
এরপর রিসিতা চলে গেল তার বাসার
দিকে আর শেখর বাসার দিকে ফিরতে শুরু
করল। রিসিতা জানত যে ও শেখর এর
সাথে রাগ করলেও শেখর নিজে থেকেই
ফোন করে ওর রাগ কমিয়ে দেবে। তাই
সে শেখরের ফোনের জন্য
অপেক্ষা করতে লাগল...। সেদিন রাত
চলে গেল। পরদিন রিসিতা আরো রেগে গেল
এবং কলেজেও আর গেল না। সেদিন ও
চলে গেল কিন্তু শেখর রিসিতাকে ফোন
দিলনা। পরদিন রিসিতার একটু একটু টেনশন
হতে লাগল। রিসিতা এবার আর থাকতে পারল
না কেঁদেই ফেলল এবং বুঝতে পারল
যে শেখর শুধু ওর ভালোবাসাই নয়...এর
চেয়ে একটু বেশি কিছু। এবার শেখরের
রাগকন্যা বা মহারানী নিজে থেকেই
তাকে ফোন করল কিন্তু ফোন বন্ধ।
রিসিতার টেনশন আরো বেড়ে গেল। সে আর
থাকতে পারল না তারাতারি করে শেখরের
বাড়ি চলে গেল। গিয়ে দেখল শেখরের
বাড়িতে তালা ঝুলানো।
রিসিতা কি করবে বুঝতে পারছিল না।
সে শেখরের বাড়ির গেটের সামনে বসেই
কাঁদতে শুরু করল,,
শেখরের বাড়ির পাশের
একটা মেয়ে রিসিতাকে চিনত।
সে রিসিতাকে এইভাবে কাঁদতে দেখে
দিকে এগিয়ে গেল,
তুমি এখানে এইভাবে বসে কাঁদছ
কেন??
-দিদি,,,শেখর কে দেখেছো??
ও তো পরশু এক্সিডেন্ট
করছে। এখন হসপিটাল এ আছে,,,
-এক্সিডেন্ট!!!!কিভাবে??কোথায়
আছে এখন??
-আমি ঠিক জানি না। তমলুকে
আছে মনে হয়...
সুমি একথা শুনে তারাতারি করে তমলুক
এ গেল এবং সেখানে শেখরের বাবার
দেখা পেয়ে গেল। এরপর শেখরের
বাবা রিসিতাকে শেখরের কেবিন এ
নিয়ে গেল। শেখরকে দেখেই
রিসিতা কাঁদতে শুরু করল।
রিসিতাকে দেখেই সে অন্যদিকে ঘুরে গেল
এবং ওর মাকে বলল
মা তুমি ওকে এখানে থেকে চলে যেতে বল
আমার ওকে সহ্য হচ্ছেনা।
রিসিতা কাঁদতে কাঁদতে রুম
থেকে বেড়িয়ে গেল...
৫ দিন পর শেখর সুস্থ
হয়ে কলেজে গেল। সে এ
কয়েকদিনে বুঝে গেছে রিসিতা শুধু তার ভালোবাসাই
নয় তারচেয়ে বেশি কিছু। এরপর থেকে তারা কেউ কখনও রাগ করেনা| এখন তারা হলদিয়া গভঃ কলেজের মধ্যে সেরা জুটি |
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now