বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকৃত ভালবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান sagor the gangster of king is here (crush) (০ পয়েন্ট)

X প্রকৃত ভালবাসা (৪৬) প্রিয়া নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের একটি মেয়ে। নীরব উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে। সারাদিন দুষ্টামি করে বেড়ায়। দুষ্টামিতেই একদিন সে প্রিয়াকে প্রপোজ করে বসে। . প্রথমে প্রিয়া রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে যায়। নীরব সবসময় প্রিয়ার সাথে কোনো না কোনো রকম ফাজলামো ও পাগলমো করতো। প্রিয়া সেগুলোকে খুব উপভোগ করতো। . একটি মেয়ে যখন বুঝে সে তার প্রিয় ব্যক্তিটির হৃদয়ে রাজত্ব করছে। তখন মেয়েটি নিজেকে দুনিয়ার সবথেকে সুখী মনে করে। প্রিয়াও তাই অনুভব করত। . প্রিয়ার ভালবাসা নীরবকে দায়িত্বশীল করে তোলে। . নীরব ঘুমাচ্ছে। হঠাৎ প্রিয়াকে নিয়ে একটি দুঃস্বপ্ন দেখে। যেখানে প্রিয়া আত্মহত্যা করে নীরবকে নিরবতায় ফেলে অজানা দেশে পাড়ি জমায়। সাথে সাথে চিতকার দিয়ে উঠে। . বাবা মা সবাই এসে জিজ্ঞেস করতে থাকে কি হয়েছে? নীরব বলল একটি দুঃস্বপ্ন দেখেছি আর কিছু না। . সবাই চলে যাবার পর নীরব প্রিয়াকে কল করে। কিন্তু পিক করছে না। নীরবের হার্ট বিট বেড়েই চলছে। চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠল। . বেশ কিছুক্ষণ পর কল রিসিভ করল প্রিয়া। ঘুমন্ত অবস্থায় বলল, কি হয়েছে বাবু! সাথে সাথেই ঝাড়ি দেয়া শুরু করল নীরব। কথাগুলো কান্না জড়িত হওয়ায় প্রিয়া কিচ্ছুই বুঝলো না। শুধু এইটুকুই বুঝলো যে নীরব কাদছে আর খুব ভয়ে পেয়ে আছে। . প্রিয়ার ঘুম হাওয়া হয়ে গেল। প্রিয় মানুষটিকে অস্থির দেখে কেউ ঘুমাতে পারে না। . কি হয়েছে বাবুটার? কাদছে কেন? কিছুটা অস্থিরতায় বলল প্রিয়া। নীরব বলল এতক্ষণ লাগে একটা কল ধরতে! আমি কতটা ভয় পেয়েছি জানো! প্রিয়া বলল,আরে বাবা, আমি তো ঘুম যাচ্ছিলাম। > আমি কালই দেখা করতে চাই। < আচ্ছা বাবু করব। কিন্তু কি হয়েছে সেটা তো বলবা, নাকি? > কাল বলব এখন ঘুমিয়ে পড় বাবুনিমনি। < ওকে। বাবুমশাই . কল কেটে ঘুমের সাথে যুদ্ধ শুরু করল নীরব। কিন্তু আসছে না। ওদিকে প্রিয়া জানালা দিয়ে আকাশের পানে তাকিয়ে মনে মনেই হাসছে আর বলছে, বড্ড পাগল একটা ছেলে নীরব। এই মাঝরাতেও সে তাকে নিয়েই চিন্তা করে। প্রিয়া নিজেকে অনেক সুখী ভাবছে। . সকালে পার্কে এসেই দেখে নীরব হাজির। প্রিয়া সামনে যেয়ে হাই বলার সাথে সাথেই নীরব প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে কাদতেঁ শুরু করে। . < এই কি হচ্ছে এসব! বাচ্চাদের মত কাদছ কেন? নীরব কেদেই যাচ্ছে। < ওকে তাহলে তুমি কাদতেঁ থাক। আমি গেলাম। নীরব চুপ হয়ে গেল। . < কি হয়েছে খুলে বল তো। (প্রিয়া) > আগে তুমি কথা দাও, আমি যা বলব তুমি তা শুনবে। < আমি তোমার কোন কথাটা শুনি নাই সেটা বল তো? < আচ্ছা শুনো, তোমার জীবনে যত বড়ই তুফান আসুক না কেন আমাকে না বলে তুমি কোনো রকমের বড় সিদ্ধান্ত নিবে না। . প্রিয়া ভেবে পাচ্ছে না সে রাগবে না হাসবে। এই সামান্য কথার জন্য এতো কিছু! প্রিয়া বলল আচ্ছা বাবু ঠিক আছে। . একদিন প্রিয়া ভার্সিটি থেকে আসছিল। হঠাৎ কিছু বখাটেরা ছেলেরা গাড়িতে তুলে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। . প্রিয়ার হাসিমাখা জীবনটা নিমিষেই মলিন হয়ে যায়। অসহ্য লাগছে এই পৃথিবী তার কাছে। না আর পারছে না। এবার একটু মুক্তি চায়। . কিন্তু নীরবকে দেয়া কথার জন্য কিছু করতে পারছে না। . প্রিয়া তার এই কলংকিত জীবনের সাথে নীরবকে জড়াতে চায় না। তাই প্রিয়ারবের সাথে দেখা করে ব্রেকআপ করতে চায়। . নীরব বিশ্বাসই করতে পারল না। যে মেয়ে তাকে ছাড়া একমুহুর্ত থাকতে পারত না। আজ সেই মেয়েই সম্পর্ক নষ্ট করছে? . নীরব প্রিয়ার হাত ধরে বলে, আজ যদি তুমি আমাকে একা রেখে চলে যাও। তবে আমি আমার জীবন শেষ করে দিব। . প্রিয়া কথাগুলো শুনে কাদছে। নীরব বলল, কি হয়েছে প্লিজ একবার বল। প্রিয়া নীরবকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগল। . প্রিয়া সব খুলে বলে দিয়ে বলতে লাগল, এইজন্যই আমি তোমাকে আমার এই কলংকিত জীবনের সাথে জড়াতে চাইনি। . কথাগুলো শুনে নীরব প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে কেদে কেদে বলতে লাগল, এখানে তোমার দোষ কোথায়? দোষ ওদের। আর ওরা তার শাস্তি পাবে। আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমার শরীরকে নয়। আমি তোমাকে আমার পাশে আজীবন চাই। তুমি আমার শুধুই আমার। . প্রিয়াও কাদতে লাগল। তবে সুখের কান্না। প্রিয় মানুষটি যখন এমন হয়। তখন সব মেয়েরাই সুখ কাদে। অদ্ভূত ভাললাগা (৪৭) ফেসবুকে নতুন আইডি খুলেছে শুভ। তবে টাইমিংটা খারাপ, কারণ এখন সময়টা হলো সেলিব্রেটিদের। কেউ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট তো পাঠায় উল্টো কাউকে পাঠালে তারাও ঝুলিয়ে রাখে। যারা এক্সসেপ্ট করে কিংবা ইনবক্সে সাড়া দেয় তাঁদের জেরা পুলিশের চেয়েও কঠিন। তাই সামাজিক যোগাযোগের সাইটে বন্ধু খুঁজতে থাকা শুভই হয়ে গেল সবার কাছে রীতিমতো একটা জোকস। তবু শুভ হাল ছাড়েনা বিভিন্ন পেইজের লিংকে পোস্টে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বন্ধু হওয়ার আহ্বান করতে থাকে। সারাদিন দিন এড মি এড মি কমেন্ট করতে থাকে। এই রকম অবস্থায় একদিন শুভ ফেসবুকে লগিন করে দেখে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এসেছে, খুশি দ্বিগুণ হয়ে যায় যখন দেখা যায় মেয়ে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। প্রোফাইলে প্রজাপতির ছবি, প্রথম দেখাতে ফেক আইডি মনে হতে পারে যে কারোরই কিন্তু শুভ এক্সসেপ্ট করলো। কারণ কেউ তো তাঁকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালো হোকনা সে ফেক আইডি কিন্তু তাও তো মেয়ে আইডি। বন্ধু হওয়ার বেশ কিছুদিন পরেও মেয়ে আইডিটার কোন খোঁজ নেই। প্রোফাইলে খুব একটা তথ্যও নেই। হঠাৎ একদিন রাত দুটোর দিকে মেয়েটাই নক করে শুভকে। : হ্যালো। : হাই। কেমন আছেন। অনেকদিন পর। এতো রাতে! : দিনের বেলা আমি থাকিনা। : আপনার নামটা জানতে পারি? : নাম তো মূল্যহীন। কি আসে যায় নামে! : না তবু জানতে চাইছি। জানালে খুশি হবো। : আফরিন। : অনেক সুন্দর নাম আপনার। কেমন জানি একটা শান্তি শান্তি অনুভব হয়। এই পর্যন্ত চ্যাট করেই আফরিনের চ্যাটের সবুজ বাতি নিভে যায়। পরেরদিন সারা দিন অপেক্ষা করেও আফরিনের চ্যাটের সবুজ বাতি জ্বললো না। পরেরদিনো একি, সবুজ বাতি আর জ্বলেনা। পরদিন শুভ নিজ উদ্যোগে ইনবক্সে নক করলো তাও কোন রেসপন্স ছিলো না আফরিনের দিক থেকে। এদিকে শুভর এড মি অপারেশন চলতে লাগলো তার আপন গতিতে। আফরিনের মিচুয়াল এক মেয়েকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে শুভ। এর মাঝে আফরিন একদিন মধ্যরাতে অনলাইনে এসে নক করে শুভকে। বেশ কিছু কথা হয় তাঁদের মাঝে। জানা গেল আফরিন কোথায় পড়াশোনা করতো, বন্ধু বান্ধব সবকিছু। এর পর প্রায় চ্যাট হতো আফরিনের সাথে তবে আফরিন শুধুই রাতে অনলাইনে আসতো। একদিন নোটিফিকেশন জানালো আফরিনের মিচুয়াল মেয়েটি শুভর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহন করলো। এবং অন্যদিকে আফরিনের আইডিটাও আবার নীরব হয়ে গেল। শুভ অনেক ম্যাসেজ পাঠালো বাট রিপ্লাই আসলোনা। আফরিনের প্রোফাইল রেসপন্স না করলেও শুভর এড মি অপারেশন সাকসেসফুল হলো, অনেক নতুন মানুষের মাঝে নতুন বন্ধুদের ভীড়ে বেশ ভালোই সময় কাটতে লাগলো শুভর। সময় এতোটাই ভালো যাচ্ছিলো যে একদিন আফরিনের মিচুয়াল ফ্রেন্ডটিও নক করলো। : কেমন আছেন? : আমি ভালো আছি আপনি কেমন আছেন? : হুম, একটু মন খারাপ। : কেন কেন? : কাউকে মিস করছি। : সাম ওয়ান স্পেশাল? : অনেক স্পেশাল। : আচ্ছা আপনি আফরিনকে চেনেন? : gj আপনি কিভাবে ওকে চিনেন! আমার ফ্রেন্ড। আমরা একসাথেই পড়া লেখা করেছি। ওকেই আজ মিস করছিলাম। : আরো বলুন আপনার বন্ধুর ব্যাপারে। : আমরা ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি। ফাজিলের চূড়ান্ত ছিলো। শান্তশিষ্ট থাকতেই পারতোনা। এক সাথে ঈদের শপিং করতাম। ………. : বাহ বেশ চমৎকার বন্ধুত্ব তো আপনাদের। তা এবারের ঈদের প্ল্যান কি আপনাদের! : আছেন? হ্যালো? : আফরিন আর আমার সাথে যায় না। : হ্যাঁ আমার সাথেও বেশ কিছুদিন ধরে যোগাযোগ নেই! : কি বলছেন আপনি! আফরিন মারা গেছে আজ এক বছর। আজ ওর মৃত্যুবার্ষিকী। ওর ফেসবুক একাউন্ট এক বছর ধরে ইনএক্টিভ। শুভ তাড়াতাড়ি চ্যাট হিস্ট্রি চেক করতে গেল! ওখানে কিছুই নেই! আফরিনের ফেসবুক ওয়াল এক বছর ধরে কোন আপডেট নেই! চলুক ভালোবাসা (৪৮) ----হ্যালো --- বলেন? মুডি কন্ঠে বলেন শুনেই অনিক উত্তর দিল --না কিছু না।ওপাস থেকে খট করে ফোনটা কেটে দিল মুনিয়া। মনে মনে অনিক ভাবে এত ভাব কেন মেয়েটার।যা রুড,মেয়েরা হবে কোমল স্নিগ্ধ অার এই মেয়ে পুরাই ডেট ওভার তাল মিছ্রির মত।ক্লাশেও একই ব্যাবহার।ভার্সিটির গ্রুপ ডিসকাশনের সময় ও তেমন কথা বলেনা। মনে হয় সিরাজদৌলার বংশধর তাই মুখের বাক্য অযথা ব্যায় করেনা। পরের দিন আবার ফোন দেয় অনিক ---হ্যালো --- বলেন! -- ওপস,কিছু না।যেই বলা অমনি ধুম করে ফোনটা কেটে দিল। অনিক ভাবতে থাকে মুনিয়া কি ইচ্ছে করেই এমন ব্যাবহার করে আমার সাথে নাকি সবার সাথে ই এমন।কৌতহল মিটাতে অন্য নাম্বার থেকে ফোন দেয়, হ্যালো,... একই ঘটনা।এবার মনে মনে ভাবে নাহ এই মেয়ে কে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।পুরাই ডেট ওভার পাবলিক।কিন্তু মন মানেনা প্রতিদিনের মতই আবার ফোন দেয় অনিক।তবে মনে মনে ভাবে অাজ দু একটা কথা শুনাবেই।যা হবে তা পরে দেখা যাবে। -- হ্যালো --- বলেন -- কি মনে করেন নিজেকে? সব ছেলে কি অাপনাকে প্রপোজ করার জন্য ফোন দেয়।অাপনি একটা ফাউল মেয়ে। এত ভাব কিসের! বোবা তো অার না।নাকি........। ( গড়গড়িয়ে কথা গুলো বলতেই থাকে অনিক।) ওপাশে কোন অাওয়াজ নেই।ফোনের লাইনে অাছে কিনা বুঝতে অনিক বলে ওঠে -- ওহহ হ্যালো। --- আর কিছু বলবেন? কথাটা শুনে একটু চুপ হয়ে যায় অনিক। --- নাহ কিছু বলবো না। বলতেই ও পাস থেকে ফোনটা ধুম করে কেটে দেয় মুনিয়া। মানসিক যন্ত্রনাটা বেড়ে গেলো একটু অনিকের।এমন কেন মেয়েটা।পরের দিন ক্লাশে নরমাল দেখতে পায় মুনিয়াকে।এক পর্যায়ে হালটা ছেড়েই দেয় মুনিয়াকে ফলো করা।বেশ কিছু দিন পরে মুনিয়া হঠাৎ অনিক কে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসে, হেই অনিক? রাইট! ০১৭......০৯ নাম্বারটা আপনার, না তোমার।কি ভাবো নিজেকে? পঞ্চাস টাকা গাঁজা খোরদের দিলে আজকাল দুচারটা অনিক কে খুন করা যায়।অামি মুনিয়া, তোমার মত অনিক কে পকেটে নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে পারি।( আরো রূঢ়ভাবে কি কি আবোল তাবোল বলে যাচ্ছে অনিক কে।অনিকের হা হয়ে মুনিয়ার থ্রেট উপভোগ করছে।মনে মনে বলছে রাগলে তো মেয়েদের জটিল লাগে।)। শোন সাহস থাকলে আবার ফোন দিও।বলেই মুনিয়া হেটে গেলো। রাতে অনিকের মাথায় আবার মুনিয়ার খেয়াল চলে অাসে।বেশ কিছু সময় চিন্তা করে। ফোনটা হাতে নিতেই ইচ্ছে হচ্ছিলো ফোন দিয়ে শুনবে মুনিয়ার রিএ্যাকট কেমন হয়। ---হ্যালো --- বলেন! -- নাহ কিছু না। দুম করে ফোনটা কেটে দেয়। পরের দিন ক্যাম্পাসে মুনিয়া আগের মত ই নরমাল।তবে এখন সামনে পড়লে মাঝে মাঝে অনিককে আড় চোখে দেখে।ইদানিং অভ্যাস হয়ে গেছে অনিকের মুনিয়াকে ফোন দিয়ে- বলেন কথাটা শোনার।কয়েক মাস ধরে ঠিক একই সময় ফোন দেয় মুনিয়াকে।আদিম যুগের ক্যাসেট প্লেয়ারের মত একই ডায়লগ প্রতিদিন মুনিয়া বলে ই যাচ্ছে।সো বোরিং বাট ওলসো ইন্টারেস্টিং অনিকের কাছে।প্রতিদিন ওরা একই ক্যাম্পাসে থাকে কিন্তু মুনিয়া ক্লাশ ছাড়া একটুও বাড়তি সময় দেয়না ক্যাম্পাসে।যেন জাপানের কোন রোবট সুন্দরী। বেশ কয়েকদিন অনিক ক্যাম্পাসে যায়নি।ফোনও করেনা মুনিয়াকে।মুনিয়া মাঝে মাঝে ফোনের দিকে তাকায় যেন পরিচিত নাম্বারটা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।কিন্তু তা আর হয় না।একদিন কল করবে ভাবতে ভাবতেই অনিকের নাম্বারে কলটা দিয়েই দিল মুনিয়া।কিন্তু নাম্বার টা বন্ধ পেলো।দুই দিন পরে একটা মেসেজ লিখে অনিকের ফোনে পাঠালো।মেসেজ ডেলিভারী হচ্ছে কিনা তাই তাকিয়ে রইল।চার ঘন্টা পরে মেসেজ ডেলিভারী হল।তড়িঘড়ি করে ফোন দিল অনিকের নাম্বারে।রিং হলো কিন্তু ফোনটা রিসিভ হলো না।ইদানিং মুনিয়া বেশ অস্হিরতায় কাটায়।অজানা একটা অস্হিরতা কোন নাম নেই,ঠিকানা নেই এ অস্হিরতার।ওই দিন অনিককে দেখতে পায় তাড়াহুড়ো করে চলে যাচ্ছে ক্যাম্পাস থেকে। কিছুই বলা হলোনা মুনিয়ার।রাতে ঠিক অনিকের কল করার সময়ে কল দেয় মুনিয়া, -- হ্যালো, অন্য প্রান্ত থেকে -- বলেন। মুনিয়া একটু অপ্রস্তুত হয়ে কলটা কেটে দেয়।মনে মনে ভাবতে থাকে অন্য,কেউ রিসিভ করলো নাতো ফোনটা।নাহ, কন্ঠটাতো চেনা চেনা ছিল।ঘন্টাখানেক পড়ে, এবার যা হয় হবে ফোন করে অনিককেই চাইবো।বলতে বলতে কল দিল মুনিয়া -- হ্যালো, অনিক? -- বলেন -- কিছু না। বলতেই হা হা আওয়াজে হেসে ওঠে অনিক।মুনিয়া কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায়,বলে --ঠিক আছে হাসির কিছু নেই, মনে পড়লো তাই কল দিলাম।মেয়েরা কল দিলেই ভেবোনা তোমাকে প্রপোজ করতে কল করেছে।বলেই ফোনটা কেটে দেয় মুনিয়া।কিছুটা নিজেকে ছোট লাগছে নিজের কাছে মুনিয়ার। হেড়ে গেলাম আমি অনিকের কাছে।অপমানিত ও হলাম।কি দরকার ছিল অনিক কে কল দেবার।এমন সময় একটা মেসেজ এলো মুনিয়ার ফোনে।"miss u" ♥। এবার ফোন দিল মুনিয়া, --- হ্যালো --- বলেন, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি? --- অনিক,বেশ ফাজলামো হচ্ছে কিন্তু। -- ম্যাম, একটা কল সেন্টারে পার্ট টাইম চাকরি পেয়েছি তাই ব্যাস্ত ছিলাম।সরি কল করতে পারিনি। কথাগুলো শুনতে শুনতে মুনিয়া শান্ত শীতল নদী হয়ে গেল।সেদিন ওরা কয়েক ঘন্টা কথা বলেছিল।যেন ওদের কথা ফুরাতে চাইছে না। অতঃপর ভালো থাকুক দুজন দুজনার মিস্টি ভালবাসায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এটাই প্রকৃত ভালবাসা
→ প্রকৃত ভালবাসা
→ প্রকৃত ভালবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now