বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রকাশক

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রকাশক - প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার কি? আমাকে চিনতে পারছেন না? তা অবশ্য না পারারই কথা। নেপথ্যে থাকি, আমাকে তো আর লোকে দেখে না, দেখে আমার হাতে তৈরি করা খোলসগুলোকে। তবে গল্পের টাইটেল দেখে অবশ্যই বুঝে নেওয়া উচিৎ, যদি আপনার ঘটে কমন সেন্স বলে কিছু থেকে থাকে আরকি! সেটা যদিও দুঃখজনকভাবে আজকালকার যুগে খুব বেশি মানুষের ঘটে নেই। যদি ধরতে না পেরে থাকেন তাহলে আর কষ্ট করে ধরার চেষ্টা করতে হবে না। আমার পরিচয়টা আনুষ্ঠানিকভাবে আমি নিজেই তুলে ধরছি। হুম, আমি প্রকাশক। আঁতি-পাতি প্রকাশক না, একদম পোড় খাওয়া মাটি কামড়ানো প্রকাশক। সেই যে ‘ভাববিলাস প্রকাশনী’, নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? তারই কর্ণধার আমি। দীর্ঘ পনের বছর আছি এই লাইনে; কত লেখক এই দুই হাতের চিপা দিয়ে বই হয়ে বের হল, আর কতো বড় বড় সাহিত্যিক আমার হাত ধরে উন্নতির চাঁদে পৌঁছল তার হিসাব নেই। কিন্তু আমার খবর কি কেউ রেখেছে? না, সেই প্রয়োজন কেউ বোধ করেনি। আপনিও করেন নি, সেটা আপনার চেহারার প্রশ্নবোধক ভাবটা দেখেই দিব্বি বুঝতে পারছি! থাক আর কষ্ট করে স্বীকার করার প্রয়োজন নেই, আমি জানি, আমার প্রকাশনীর নাম আপনি আগে কখনো শোনেননি। তা বাপু আপনাকেও দোষ দেওয়া যায় না। আজকাল তো বই-ই কেউ পড়তে চায় না। তার পরিবর্তে চালায় কম্পিউটার, হলে গিয়ে দেখে মুভি, রাস্তায় গিয়ে খেলে ক্রিকেট, ফুটবল, ইত্যাদি। এই হয়েছে এক জ্বালা। আরে এসব করতে গেলে তো এনার্জি খরচ করতে হয় বিস্তর। তার পরিবর্তে যদি বাসায় বসে আয়েশ করে একটা দুর্দান্ত সামাজিক বইয়ের পাতায় ডুব দেওয়া যায়, তাহলেই কষ্ট করে পাড়ি দেওয়া সম্ভব জগতের নির্মম বাস্তবতাকে, সেই সাথে নিজের চিন্তা চেতনা এবং সামাজিক উপলব্ধিও উন্নত করা সম্ভব। কিংবা ধরা যাক একটা দারুণ অ্যাডভেঞ্চার বই! সেই রোমাঞ্চকর পর্বতের মধ্যে দিয়ে দুর্ধষ অভিযাত্রীদের অকুতোভয় ছুটে চলা! সেই থ্রিল, সেই উচ্ছ্বাস, সেই গুপ্তধন! সেসবের পরোয়া কি আর মানুষ করে আজকের দিনে বসে? নাহ করে না। তারা চায় সবকিছু হাতের মুঠোয়। জঙ্গলের অভিজ্ঞতা তারা হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা লাইভ ভিডিওফিডে দেখতে চায় মুহূর্তে, সময় নষ্ট করে বইয়ের পাতায় দাপড়ে বেড়াতে চায় না তারা। আজকাল কিছু বললেই মানুষ সময়ের অজুহাত দেখায়, সেটার নাকি বড়ই স্বল্পতা। বলি স্বল্পতা নেই কিসে? আমাদের টাকারও তো স্বল্পতা রয়েছে, দৈনন্দিন স্বচ্ছন্দেরও তো স্বল্পতা রয়েছে, আমাদের ভাবনা চিন্তারও স্বল্পতা রয়েছে; না সেগুলো বাদ দিয়ে বাবুদের কেবল সময়ের স্বল্পতা নিয়েই পড়ে থাকতে পারলেই হল। আর আজকালকার দিনের বাবা-মা’দেরও বলিহারি, কোথায় বাচ্চাদের হাতে সুন্দর সুন্দর বাঁধাই মলাটের বই তুলে দেবেন, কিন্তু তা না করে উল্টো কেড়ে নিচ্ছে নির্বিচারে! আচ্ছা বাচ্চাগুলোর কথা যদি বাদও দেই তবুও, আমাদের দিকটা তো একবার ভেবে দেখা উচিৎ, নাকি?! মানুষ বই না কিনলে আমাদের পেট চলবে কিভাবে? আমরা খাবো কি? আর আমরা না খেতে পেয়ে মরলে দেশের জনসংখ্যা কতই বা কমবে? দশমিক শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য .................. (আরও অনেক গুলো শূন্যের পড়ে) এক পার্সেন্টও না। তবুও, তবুও আমাদেরকেই ভাতে মারা চাই! যত্তসব!! তাই যুগের সাথে আমাদেরকেও বদলে যেতে হয়েছে, আমিও বদলেছি। পনের বছর আগে ভালো স্ক্রিপ্ট হলেই বুকে টেনে নিয়ে নিজের পয়সা দিয়ে গল্প ছাপাতাম, এখন আর তা করি না। এখন পয়সা নিয়ে ছাপাই। উপায় তো নেই। লেখক ভালো হোক কিংবা মন্দ, ফেলো কড়ি, মাখো তেল! ওই টাকাতেই তো সংসার চলে। আর বলেন কেন! বাসায় তো আমারও স্ত্রী আছে, সন্তান আছে দুটো, তারাও স্কুলে যায়, কোচিং করে, গান শেখে শখ করে আবার। একদিকে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, আর তারা আবার শুরু করেছে শিল্প চর্চার তোড়জোড়! আচ্ছা আপনারাই বলুন, আমার বাপ-দাদা কি গৌরি সেনের বংশধর, যে টাকা চাইলেই পকেট ভারি করে দেব? নাকি আমি পাড়ার মোড়ে সুজি বেঁচে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছি রাতারাতি! একদিকে আমি ভুজুংভাজুং করে টাকা আনি আর অন্যদিকে তারা বিনা ভুজুং ভাজুং করে টাকা খসায়। আচ্ছা যদি মেনেও নিই বাচ্চা দুটো ছোট, তাই বিচার বুদ্ধি তাদের অনুন্নত, কিন্তু ওদের মা? ওর থেকে তো একটু ভালো বিবেচনা আশা করা যায় অন্তত! নাকি? সবই আমার কপাল, নাহলে এই দৈন্যদশা নিয়ে যাই বিয়ে করতে? সেই তো নেহাত সামাজিকতা রক্ষার চাপে পড়ে এই ভুল কাজটা করে ফেলেছিলাম প্রায় বছর দশেক আগে। সেই যে করলাম, সেই থেকেই জীবন আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কামাই বাড়েনি কিন্তু খরচ বেড়েই চলছে ক্রমশ। বিয়ের রেজিস্টার সেই উকিল, আর ওই মর্কট সাক্ষীগুলোকে একবার বাগে পেলে দেখিয়ে দিতাম আমার এতো বড় সর্বনাশকে উৎসাহিত করার ফল কতটা ভয়ানক হতে পারে। আমার বাবা, সামান্য চাকুরে ছিলেন, দিন আনে দিন খায় অবস্থা ঠিক না, তবে মাস আনে মাস খায় অবস্থা বলতে পারেন। তবুও আমাকে লেখাপড়া করিয়ে, উচ্চ শিক্ষা দিয়ে শেষ পর্যন্ত চেয়েছিলেন নিজের থেকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাতে। আর আমি এখন এমন স্থানে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে মাস আর দিন কেন বছর গেলও খাবার যোগাড় হবে কিনা সেই নিশ্চয়তা নেই। সবই কপাল। দুর্ভাগ্য। এইতো গেল মাসেই বাসা পরিবর্তন করতে হল। তা না করেও আর উপায় কি ছিল বলুন? আগের বাসা ভাড়া নগদ পাঁচ হাজার টাকা দুম করে বাড়িয়ে দিলো ফাজিল বাড়িওয়ালা। দেশে তো আর আইন কানুন বলতে কিছু নেই! যা আছে দুই একটা হাঁটু ভাঙ্গা নিয়ম, তা সব ওই ব্যাটা বাড়িওয়ালাদেরই দখলে পড়ে রয়েছে। আমার দুর্ভাগ্য, বাবা আমাকে উচ্চ শিক্ষা না দিয়ে যদি একটা বাড়ি কোনরকমে দিতে পারতেন, তাহলে আজকে আর এই দুর্দিন দেখতে হতো না, উল্টে টু-পাইস পকেটে আসতো। আর এখন তো আমি একলা নই যে যাযাবরের মতো যেখানে খুশি সেখানে গিয়ে মাথা গুজতে পারবো। নিজে একা যেভাবে থাকা যায়, পরিবারকে সেভাবে রাখা যায় না, সমাজ তাতে মন্দ বলে, ধিক্কার দেয়। মানুষ হয়েছ কি সমাজের দ্বারস্থ তোমার হতেই হবে, তাদের কথার পরোয়া তোমাকে করতেই হবে, তাতে তোমার খারাপ লাগুক কি ভালো, পরিশ্রম হোক, কি বিনাশ্রম হোক। সেই বাসা পাল্টে এখন যেখানে এসেছি, এই বাসাটা আগেরটার অর্ধেকও না আকারে। তাই স্বভাবতই আমার বিস্তর সমস্যা হয়েছে। আগে নিজের একটা স্টাডি ছিল, সেখানে নিভৃতে বসে পাণ্ডুলিপি পড়া যেত। খুঁটি নাটি কাজ করা যেত। মাঝে মধ্যে নিজের থেকে দু-একটা লেখা লেখাও যেত। কিন্তু এখন আর যায়না এসব করা। বরং এই সময়টা টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে দুনিয়ার জঘন্য সব আলোচনা শুনতেই পার হয়ে যায়। রোজ সেই এক কথা সেসব আলোচনায়, আর গবেটগুলোর মাথায় যুক্তি বুদ্ধি আমার থেকেও কম, তারপরেও ঘণ্টার পড় ঘণ্টা বকর বকর করে যায় মূর্খের মতো। আরে ওদের বদলে আমাকে নিলেই তো পারে নাকি? না, তা নেবে কেন! আমাকে তো আর দশজন লোক চেনে না, বিভিন্ন বিষয়ে আমার জ্ঞানগর্ভ আলোকপাত জানতেও চায়না, চায় কেবল একই বাঁদরের কিচিরমিচির শুনতে দিনের পড় দিন। তাই চ্যানেলের মালিকও ওদের পকেটই ভারি করে যাচ্ছে অনর্গল, আর পক্ষান্তরে আমার ভাঁড়ার শূন্য। থাক সে কথা, এসব হাবি যাবি বলে আপনাদের সময় নষ্ট করার কোনও মানেই নেই। তার থেকে বরং বইয়ের কথায় ফেরত আসি। এই যে প্রকাশনা জগত, আজব এক কারখানা। এখানে ভালোর দাম নেই বুঝলেন, নামের দাম আছে। যার নাম বড়, তার বিক্রি বেশি। আমিও চাই নাম দেখেই লেখক টানতে দলে, কিন্তু হায়, সেখানেও তো প্রয়োজন সেই একটাই জিনিশ, সেই টাকা, সেই অর্থ, সেই সামর্থ্য। কথায় বলে, ‘টাকায় টাকা আনে।’ আমি বলি এই কথা একদম সত্যি, একদম একশত পঞ্চান্নভাগ সত্যি। টাকা যার আছে টাকা কেবল তারই আসে, যার নাই, সে-ই আমার মত বসে মশা মারে, আর নানান ফন্দিফিকির করে টাকা ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। গতসপ্তাহে এক লেখক এল আমার কাছে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “পাণ্ডুলিপি এনেছেন?” সে উত্তরে একটা লাখ টাকার বান্ডিল আমাকে ধরিয়ে দিয়ে বলল, “প্রকাশক সাহেব হাজার কপি বই চাই সামনের সপ্তাহে।” শুনে সাথে সাথেই আশ্বস্ত করে দিলাম আমি। পরিচিত প্রেসে খবর চলে গেল, কর্মীরা প্রস্তুত হল; হতেই হবে, টাকার ভাগ তো ওরাও পাবে। সব কিছু শেষ হয়ে গেলে মেরে কেটে আমার কাছে আর কতই বা থাকবে, তিরিশ হাজারের মতো, তা দিয়ে হয়তো সামনের দুই মাসের বাসাভাড়াটা ক্লিয়ার করা যাবে। আহা! এরকম দুটো করে খদ্দের রোজ এলে মন্দ হয় না। প্রতিভার দাম দিয়ে কোনও ফয়দা নেই, বরং অর্থই সামর্থ্যের মূল। তবে মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হয় জানেন, খুব ইচ্ছে হয় ভালো কিছু কিছু লেখা ছাপাতে, একদম নিজের টাকায় ছাপাতে, কিন্তু পারি না। পাণ্ডুলিপিটা সযত্নে তালা বন্ধ করে রেখে দেই অফিসের লকারে। পাণ্ডুলিপির মালিক সেই লেখকের আশাতুর চোখে চোখ রেখে সরাসরি নাও বলতে পারি না। কেমন যেন মায়া লাগে। কেবল সময় পেছাই আর আশা জিইয়ে রাখি, হয়তো একদিন সে নিজেই বুঝতে পারবে, তারপরে আমার পিছে পিছে আর ঘুরবে না কষ্ট করে। মানুষ বেশ ভালো রকমের বুদ্ধিমান প্রাণী, সুতরাং ‘বিলম্ব’ থেকে ‘বাতিল’ বুঝে নিতে বেশিদিন সময় লাগার কথা না। যাদের লেখা পয়সা নিয়ে ছাপাই তাদেরকে ফিরতি টাকা অফার করে লজ্জিত করি না আমি। কি হবে লাভ তাতে! দশ জনের মাঝে টাকা বিলিয়ে সব যদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করে দেই তাহলে তো কেউই বাঁচতে পারবে না সঠিকভাবে। তার থেকে কমপক্ষে একজন মানুষ একটু মাথা তুলে বাঁচুক, আমি বাঁচি, তাতেই হবে। মহাপুরুষরা বলেছেন, ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম।’ আমি আপনি সবাই আসলে বাঁচার চেষ্টা করছি, নাম নিয়ে কিংবা না নিয়ে! এতে আসলে অন্যায় কিছুই নেই। ন্যায় অন্যায় খুব আপেক্ষিক বিষয়, আপনার জন্য যেটা অন্যায় সেটাই হয়তো আমার জন্য ন্যায়, কিংবা এর বিপরীত হিসাবে আমার জন্য অন্যায়টা হয়তো আপনার ন্যায়। যখন মানুষ ভালোবেসে ধন্যবাদ দেয় তখন গর্বে আমার বুকটা ভরে ওঠে। আজকাল মানুষ ধন্যবাদ দিতেও ভুলে গিয়েছে একপ্রকার, তবুও কানাগলি ভেসে দুই একটা বানী সুবাতাসের মতো এসে গায়ে পরশ বুলিয়ে যায়। সেই সময়গুলোতে মনে হয় বেঁচে আছি তো কেবল এইটুকুর জন্যই, নাহলে কবেই হয়তো সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে বিবাগী হয়ে যেতাম, কিংবা আত্মহত্যা করে নিতাম। নাহ! ভয় পাবার কিছু নেই, আমি খুব ভীতু মানুষ, আত্মহত্যা আমার সেন্টিমেণ্টের সাথে সঠিক খাপ খাবে না। যতো যাই বলি, ওটা করতে পারবো না। তবে সবথেকে দুঃখের বিষয় হচ্ছে গত কয়েক বছরে বই ছাপিয়ে এখন যা ব্যাকআপ জমা হয়েছে তার অধিকাংশই অফিসের গোডাউনে পড়ে রয়েছে। প্রায় পর্বতসম সেই স্তূপ! আগামী তিন মাসের আরও দুটো বই ছাপানোর কথা রয়েছে, এ দুটোও যদি না বিকোয় তাহলে অফিসঘরে বই ঠাই দেওয়া মুশকিল হয়ে যাবে। এত বই দিয়ে আমি কি করবো? ঠোঙা বানানোর কাগজ হিসাবে বেচে দেওয়া যায়! কিন্তু এতো পরিশ্রম করে কাজ করেছি এগুলোর পেছেন, সেই প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে, এডিটিং, টাইপিং, এতো মানুষকে খুঁচিয়ে বাঁধাই, পেস্টিং, সেই বিশাল বিশাল সব ঝক্কি! এসব কথা মনে পড়লেই কেমন মায়াগুলো হৃদপিণ্ডে দলা পাকিয়ে আমাকে আপাদমস্তক নিশ্চল করে দেয়। আমি তখন আর এই বিষয়টা নিয়ে এগুতে পাড়ি না। যাই হোক, অনেক কথা বলে ফেললাম আপনাদের সাথে। বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। আশা করি এতোগুলো কথা শোনার পরে দুই একটা হলেও আমার প্রকাশনীর বই কেনার চেষ্টা করবেন। আসলে মানুষ তো, তাই বাঁচার জন্য হাত পাততেই হয়! বাঘ সিংহ হলে হাত পাততাম না হয়তো, প্রয়োজনে ছিনিয়ে নিতাম। কিন্তু মানুষের সে উপায় নেই, থানা পুলিশ রাজ্যের ঝঞ্ঝাট, আর একবার মামলা হলে তো বছরের পড় বছর উকিলের চরকায় অর্থরূপী তেল ঢালো গ্যালন গ্যালন। আচ্ছা, আজকের মতো আসি, পরে আবার এক সময় কথা হবে, এখন খুব জরুরি একটা মিটিং আছে, নবীন এক লেখকের আসার কথা পাণ্ডুলিপি নিয়ে, একদম ঝকঝকে প্রিন্টেড পাণ্ডুলিপি, আগেকার দিনের মতো এখন আর হাতের লেখা বোঝা না বোঝার ঝামেলা নেই, কম্পিউটারের কল্যানে এখন সবার হাতের লেখাই এক। তবে নবীন লেখক তো, প্রথম বই করতে চায়, টাকা পয়সার মারপ্যাঁচটা ওকে একটু ভালো করে বুঝিয়ে বলতে হবে। এইসব কাজ আসলে খুব সেনসিটিভ, তাকে নিরুৎসাহিতও করা যাবে না, আবার আমার পকেটের দিকটাও ঠিক রাখতে হবে। এমন ভাবে বোঝাতে হবে যেন পাখি জালে ধরা পড়ার আগেই আবার ফুড়ুৎ করে উড়ে পালিয়ে না যায়। বিদায়, সবাই ভালো থাকবেন, বই কিনবেন, বই পড়বেন। বই পড়লেন তো প্রকাশকের পেটেও কিছু দিলেন আরকি! মানব কল্যানে এতো ভালো একটা কাজ করার সুযোগ ছাড়াটা বোধহয় ঠিক হবে না, কি বলেন?!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রকাশক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now