বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০৪

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (৬) ‘বাবা, কাউকে বলিনি এর আগে। শুধু তোমাকেই বলছি। আমি যে উদ্ভট স্বপ্নগুলো দেখি, সেখানে অনেক দেব-দেবী আছেন। আমিও আছি। ব্যাপারটি অসম্ভব হলেও, কতটা বাস্তব, সেটা বোঝাতে পারব না।’ রিচার্ড মেয়ের জন্য নাস্তা বানাচ্ছিলেন। মৃদু হেসে বললেন, ‘আর?’ ‘আর...স্বপ্নে যাকে দেবী আফ্রোডাইটি হিসেবে দেখি, সে দেখতে পুরোপুরি মায়ের মত! অথচ, আমাকে খুবই অপছন্দ করে সে।’ ‘তুমি কি মিথলজি অনেক পছন্দ করো, রুবাই?’ ‘আগে করতাম না। কিছুটা বড় হওয়ার পর ওসব নিয়ে অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করেছি...আমি জানি তুমি কি বলবে!’ রিচার্ড কৌতুকের দৃষ্টিতে তাকালেন। ঠোঁটে এক চিলতে হাসি। ‘কি বলব?’ ‘বলবে, এটা সাইকোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডার। যারা খুব মিথলজি পছন্দ করে, তারা একটি মানসিক রোগের শিকার হয়। তখন নিজেকে মিথলজিক্যাল ক্যারেক্টার ভাবে! ওরকম স্বপ্ন দেখে। তাই না? কিন্তু ট্রাস্ট মি, আমি সেই ছোটকাল থেকেই স্বপ্নগুলো দেখি। বাস্তব আমির সাথে-সাথে স্বপ্নের আমির বয়স বেড়েছে। মা কখনও আমাকে পৌরাণিক গল্প শোনাতেন না। অতএব, “গল্পের প্রভাব”, এই যুক্তি তুমি দিতে পারছ না এখানে!’ রিচার্ড টেবিলে নাস্তার প্লেট সাজাচ্ছিলেন। কাজ থামিয়ে মেয়ের সামনে এসে হাঁটু গেঁড়ে বসলেন। বললেন, ‘ধুর বোকা! আমি কোন যুক্তি দিচ্ছি না। স্রেফ একটি সম্ভাবনা ভেবে বলেছিলাম ও কথা। তাছাড়া, মাঝে-মাঝে এমন ব্যাপারও ঘটে, যার কোন ব্যাখ্যাই থাকে না আমাদের কাছে। কিছু-কিছু ঘটনায় যুক্তি, বিজ্ঞান এসব ঠিক কোন সমাধান দিতে পারে না। তখন যা কাজ করে, তা হলো আমাদের ইন্সটিঙ্কট। অতএব, দুশ্চিন্তা করো না। তবে আমার মনে হয়, খুব শীঘ্রই সব বুঝে ফেলবে তুমি। সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। ওকে? এসো, নাস্তা করে নাও।’ এসময় ড্রয়িংরুমের ল্যান্ড ফোনটি বেজে উঠল। রিচার্ড উঠে গিয়ে রিসিভ করলেন। কিছুক্ষণ পর রুবাইকে ডেকে বললেন, ‘সোনা, তোমার ফোন। কথা বলো এসে।’ রুবাই বেশ অবাক হলো। বাবার ল্যান্ডলাইনে কে ফোন করবে তাকে? সে বাবার হাত থেকে রিসিভার নিয়ে কানে ঠেকালো। ‘হ্যালো।’ ‘মিস রুবাইয়াৎ বলছেন?’ চমৎকার ইংরেজিতে কেউ একজন জানতে চাইল। ‘জি! আপনি?’ ‘আমি ফিবাস। গ্রীস হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির একজন মেম্বার। গতকাল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের প্লেনে, আমাদের একটি কুইজ কম্পিটিশন হয়েছিল। যাতে আপনি পার্টিসিপেট করেছিলেন, এবং জিতেছেন এথেন্সের সবগুলো মিউজিয়ামের জন্য টিকেট। এবং আমাদের গাইড ট্যুর। আজ বিকেলের মাঝেই আপনার ঠিকানায় টিকেট এবং কয়েকটি গাইড ম্যানুয়ালসহ আমাদের ট্যুরের শিডিউল পাঠিয়ে দেয়া হবে...শুনতে পাচ্ছেন, আপনি?’ ‘জি। শুনতে পাচ্ছি, মি. ফিবাস।’ ‘আচ্ছা। ভালো থাকুন। হ্যাভ এ গুড ডে।’ লাইন কেটে যাওয়ার পরেও রুবাই কয়েক মিনিট রিসিভার কানে চেপে দাঁড়িয়ে রইল। কেমন যেন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল তার। বাবা বলেছিলেন, তার ভাগ্য নির্ধারক কিছু ঘটবে এখানে! সত্যিই কি তাই? কখন ঘটবে? সেদিন বিকেলেই রুবাই নিজের নামে একটি কুরিয়ার পেল। জানতে পারলো, পরদিন সকালেই গাইড ট্যুর। *** (৭) পথ-প্রদর্শিকা তরুণীর সাথে দেখা হওয়ার পর দিন পেরিয়েছে পনেরোটি। অথচ এমেন্ড্রার মনে হচ্ছে, সেটি বুঝি বছর-খানেক আগের ঘটনা! স্বর্ণ-পাহাড় খুঁজে পেতে কোন অসুবিধেই হয়নি তার। তবে গত তিন মাসের কষ্টের দ্বিগুণ ভোগাচ্ছে এই পাহাড়ে চড়ার ব্যাপারটি। এতটা খাড়া হবে পাহাড়টি, সে ভুলেও ভাবেনি। আলখাল্লা, জামা, সবকিছু শতচ্ছিন্ন। হাত-পায়ের চামড়ার অবস্থাও একই। তবু বাবা, সম্রাট দারিয়ুসের বিপদের কথা ভেবে ক্লান্ত হচ্ছে না মেয়েটি। অবশেষে আজ বিকেলে চূড়ার দেখা মিলল। তখন সূর্য শেষ কিরণ ছড়াচ্ছে। চারপাশে তাকিয়ে সকল কষ্ট ভুলে গেল সে। এত সুন্দর! যেন সত্যিকার অর্থে সোনায় মোড়ানো! আর ঐ তো! সামনের ছোট্ট বেদীটির উপরেই তো রাখা আছে ওটা তার কাক্সিক্ষত স্বপ্ন! লক্ষ্য! যার জন্য এত কষ্ট করা! এমেন্ড্রার ক্লান্ত শুকনো ঠোঁটের কোণে একটু করে হাসি ফুটে ওঠে। এগিয়ে গিয়ে হাত বোলায় বস্তুটির উপর। নরম গলায় বলে, ‘আহ! সামর্থ্যের তরবারি!’ ঝুঁকে তরবারিটি তুলতে যেতেই কে যেন গম্ভীর স্বরে ধমকে উঠে! ‘হ্যাঁ, সামর্থ্যের তরবারি। কিন্তু এটি তোমার নয়, মেয়ে!’ এমেন্ড্রা সামনে তাকিয়ে দেখে, উজ্জ্বল একটু করো আলো ভাসছে। সেটি এতই উজ্জ্বল, তাকিয়ে থাকা দায়। সে ভয় পায় না। বরং তরবারিটি শক্ত হাতে তুলে নেয়। দৃঢ় কণ্ঠে বলে, ‘হে সত্যের দেবতা এপোলো, তরবারিটি আমি জিতে নিয়েছি। তাহলে এটি কেন আমার হবে না?’ ‘জিতে নিয়েছ? বরং বলো, খুঁজে নিয়েছ! আমার বোন আর্টেমিস যদি তোমাকে ধাঁধাঁর জবাব না বলে দিতো, তুমি তরবারিটি কখনোই খুঁজে পেতে না।’ ‘উনি দেবী আর্টেমিস ছিলেন! হয়ত আপনি ঠিক বলছেন। কিন্তু দেবী আর্টেমিসের সাহায্য আমি অর্জন করেছি, মহামান্য! আর সেখানে কোন ছল নেই। বরং আপনি বাধা দিচ্ছেন অন্যায়ভাবে!’ এপোলো শব্দ করে হাসলেন। বিদ্রূপের গলায় বললেন, ‘মেয়ে, আমাকে ন্যায়-অন্যায় শেখাচ্ছো? একজন দেবতাকে?’ ‘আমার কথায় তা মনে হলে ক্ষমা চাইছি। আপনি নিজেই নিয়ম করেছিলেন, তরবারিটি যে খুঁজে পাবে তার হবে! তাহলে...’ ‘আমি এও বলেছিলাম, কোন নারীকে এই তরবারি অধিকার করতে দেব না আমি।’ ‘নারী-বিদ্বেষী মনোভাব থেকে আপনার এই সিদ্ধান্ত। এক কিংবা একাধিক নারী, পুরো একটি জাতির পরিমাপক হতে পারে না!’ ‘সে যাই হোক, আমি তোমাকে এটি নিতে দিচ্ছি না।’ ‘আমিও প্রাণ থাকা অবধি তরবারিটি হাতছাড়া করছি না, মহামান্য! কারণ, এর সাথে আমার বাবার এবং রাজ্যের স্বার্থ ও ভাগ্য জড়িত।’ এপোলো মৃদু গলায় বললেন, ‘তোমার বাবা ইতোমধ্যেই পৃথিবীর মায়া ছেড়েছে, রাজকুমারী!’ এমেন্ড্রার হাত কেঁপে গেল। সে ধপ করে বসে পড়ল সেখানে। ‘আপনি...ওহ...দেবতা এপোলো, আপনি মিথ্যে বলছেন! নিশ্চয়ই তাই! আপনি অবশ্যই জানেন, বাবা ছাড়া আমার কেউ নেই। তাই আমাকে বিপর্যস্ত করতেই এ কথা বলছেন!’ ‘আমি কিন্তু সত্যের দেবতা, রাজকুমারী!’ ‘বাবা...সত্যি আর নেই! ওহ বাবা...বাবা!’ এমেন্ড্রা হাঁটুতে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠল। এক হাতে তরবারিটি তখনও ধরে আছে। দেবতা এপোলোর কেমন যেন মায়া হলো তার প্রতি। ইচ্ছে হলো, পরম মমতায় মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে! সান্ত¡নার কোন কথা শোনাতে। অদ্ভুত অনুভূতি! কয়েক মুহূর্ত পর নিজেকে সামলে নিয়ে এমেন্ড্রা বলল, ‘তবুও আমি তরবারিটি নিয়ে যাব। আমার রাজ্যের সবাই নিশ্চয়ই এখন আমার পথ চেয়ে আছে। আমি ওদের ঠকাতে পারি না!’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now