বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০৩
X
এথেন্স এয়ারপোর্ট থেকে বেরুনো মাত্রই, তাঁর দেখা পেলো রুবাই। অবাক হয়ে আবিষ্কার করল, লোকটিকে একবার দেখেই চিনতে পেরেছে সে। জানতে পেরেছে, তার অদ্ভুত সুন্দর নীল চোখ জোড়া এঁর কাছ থেকেই পাওয়া। সে ফিসফিসিয়ে ডাকল, ‘বাবা!’
ভদ্রলোক ঝট করে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। ড্রাইভারকে বললেন, লাগেজ কম্পার্টমেন্টে ব্যাগ রাখতে। গাড়িতে উঠে বসার আগে, রুবাই চারপাশে একবার তাকাল। সেই প্লেন থেকেই অদ্ভুত একটি অনুভূতি হচ্ছে তার। মনে হচ্ছে, কেউ একজন অনুসরণ করছে তাকে। গভীরভাবে দেখছে, দূরে কিংবা কাছে-পিঠে কোথাও থেকে। কিন্তু, কে? কেন অনুসরণ করবে তাকে?
***
‘কেন যেতে দিলে তাকে?’
‘কারণ, ও বলেছিল আমার সাথে তার পোষাচ্ছে না! সে দেশে ফিরতে চায়!’
কথাগুলো রুবাইর জানা আছে সব। মায়ের ডায়েরী পড়েই জেনেছিল। রেগেছিল খুব। জানতে চেয়েছিল, কেন তাকে ঠকানো হলো? শুধু একটি খেয়ালের বশে! কিছু স্বপ্নের জন্য! মৃত্যুর পূর্বক্ষণে মা তাকে বলেছিল, ‘আমি উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখতাম সেখানে! দেখতাম, আমার একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে। রিচার্ডের কোন একটা ভুলের জন্য তাকে আমি হারিয়ে ফেলেছি! তাই ইচ্ছে করেই ওর সাথে ঝামেলা বাধিয়েছিলাম। তারপর তোকে নিয়ে, দেশে ফিরলাম। ওকে তোর কথা একদমই জানালাম না। জানিস, স্বপ্নগুলো প্রথম যখন দেখি তখন আমি জানতামই না তুই আমার গর্ভে! কিভাবে মনের ভুল বলে উড়িয়ে দিই? আমার উপর রাগ রাখিস না, প্লিজ। আসলে...আমি তোকে হারাতে চাইনি!’
না, রুবাই সত্যিই রাগ রাখেনি। তবু কেন যেন আজ অভিমানগুলো ঠিকরে বেরুতে চাচ্ছে!
‘আমাকে কিংবা মাকে, দেখতে ইচ্ছে করেনি কখনও?’
‘তোমার মা আমাকে কসম করিয়ে নিয়েছিল, যাতে ওদেশে না যাই! আর...ট্রাস্ট মি রুবাই, তোমার কথা আমি সেদিন মাত্র জানলাম।’
‘ভালবাসতে, মাকে?’
‘খুব। আজ পর্যন্ত অন্য কোন মেয়ের প্রতি চোখ তুলেও দেখিনি!’
অসহায়ের মত তাকিয়ে বলল, ‘কিভাবে মানবো, তুমি সত্যি বলছো?’
রিচার্ড ড্রয়ার ঘেঁটে একগাদা কাগজ বের করে দিলেন তার হাতে। রুবাই একনজর দেখেই বুঝল, কাগজগুলো লিগ্যাল উইল।
‘চাইলে, কোর্টে গিয়ে ভেরিফাই করিয়ে নিতে পারো। আমার একমাত্র তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।’
‘এগুলো...কেন?’
‘কারণ, আমি তোমাকে আটকে রাখতে চাই সোনা! হারাতে চাই না। বিশ্বাস করো!’
রুবাই জানালার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। তার খুব ক্লান্তি লাগছে। আজকাল সবকিছুই স্বপ্ন মনে হয় তার।
‘জানো, আমি সবসময়ই ভাবতাম, আমার একটা বাবা নেই কেন?’
তারপর সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল।
(৫)
ডাইনী থালিয়ার নির্দেশিত জায়গা দুটোর খোঁজে আজ তিনমাস ধরে ছুটে চলেছে এমেন্ড্রা। একটি জায়গায় দেখা অবশ্য হয়ে গেছে। বাকি আরেকটি। কিন্তু কোথায় সেটি? সে থালিয়ার বলা ধাঁধাটি মনে করার চেষ্টা করল।
সাগর মাঝে থাকে জেগে,
ঘেরা জ্ঞান দিয়ে!
দেবী অ্যাথেনা হেসে বলে,
এ রাজ্য আমার,
তুমি কি করবে নিয়ে?
সেথায় আছে সোনার পাহাড়,
জলে পড়ে তার ছায়া!
সেই পাহাড়ের মাথার উপর,
পাবে তার মায়া!
মানে কি এর? এমেন্ড্রা আনমনেই বিড়বিড় করতে লাগল। একমনে ভাবছে। হঠাই ঘোড়ার বিকট হ্রেষাধ্বনি শুনে ভাবনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরল সে। আবিষ্কার করল, তার ঘোড়াটি বেশ অস্থির আচরণ করছে!
‘কি হয়েছে, পেগাসাস?’
এসময় কারো চিৎকার ভেসে এলো কানে। কে যেন সাহায্যের জন্য চেঁচাচ্ছে। এমেন্ড্রা শব্দ লক্ষ্য করে ঘোড়া ছোটালো। তক্ষুনি!
সামনেই একটি বন। চিৎকারের শব্দ সেখান থেকেই আসছে! সে পেগাসাসকে তাড়া লাগাল। কিছুদূর এগুতেই দেখল এক কিশোরী মেয়ে গাছের ডালে জড়-সড় হয়ে বসে আছে। আর নীচ থেকে গাছটিকে থাবা দিয়ে আঘাত করছে এক প্রকা- সিংহ। যে কোন মূহুর্তে গাছটি হেলে পড়বে। এমেন্ড্রা ঝট করে পেগাসাসের পিঠে উল্টো হয়ে বসল। তারপর দুটো তীর একসাথে ধনুকে লাগিয়ে, সিংহটির মাথায় সই করল। নিশানা অব্যর্থ।
কিন্তু পশুরাজের খুব একটা ক্ষতি হলো না তাতে। উল্টো রাগিয়ে দিল। সিংহটি তার পূর্ব শিকার ছেড়ে, তীর-বেগে এমেন্ড্রার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। এমেন্ড্রা হকচকিয়ে গেলেও, পেগাসাসের পেটে গুঁতো দিল জোরে। আর চেঁচিয়ে বলল,
‘সিংহটিকে আমি সামলাচ্ছি। তুমি পালাও, মেয়ে!’
তারপর ছুটন্ত ঘোড়ার উপর বসেই, সিংহটির বুক সই করে তীর ছোঁড়ার চেষ্টা করল। কিন্তু লাগাতে পারছিল না। হঠাৎ গাছের একটি নিচু ডালের সাথে ধাক্কা লাগায়, এমেন্ড্রা ঘোড়া থেকে পড়ে গেল। আতঙ্কিত চোখে দেখল, সিংহটি তার গায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ মূহুর্তে এমেন্ড্রা লাফিয়ে সরে গেল। তারপর দৃঢ় হাতে ধনুকে একসাথেই তিনটি তীর পরিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। সিংহটি ততক্ষণে প্রায় ঘাড়ের উপর এসে লাফ দিয়েছে। এমেন্ড্রা ঝট করে শুয়ে পড়ে,তার পছন্দসই স্থানে তীর ছুঁড়ে দিল। তারপর গড়িয়ে সরে গেল একপাশে। পলকের জন্য মাথা তুলে দেখল, শেষবার এক বিকট চীৎকার করে পশুরাজ লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে। তারপর সব নীরব।
এমেন্ড্রার ক্লান্ত লাগছে খুব। সে চোখ বুজে শুয়ে রইল চুপচাপ। গত কয়েকটি মাস শরীরের উপর বেশ ধকল গিয়েছে।
হঠাৎ করে, কে যেন শক্তি হাতে তাকে টেনে তুলল। চোখ মেলে দেখে, বেশ হাসি-খুশী চেহারার এক তরুণী দাঁড়িয়ে। গায়ে তার যুদ্ধ পোশাক। যেন এক্ষুণি যুদ্ধে বেরিয়ে পড়বে।
‘বাহ! তুমি তো চমৎকার তীর ছোঁড়ো!’
এমেন্ড্রা ফিসফিসিয়ে বলল, ‘পানি।’
তরুণীটি ছোট্ট একটি পাত্র এগিয়ে দিলো তাকে। তারপর মনোযোগ দিয়ে পানি খাওয়া দেখল তার।
‘আমি নাহয় শিকারে বেরিয়েছি। কিন্তু এই দুর্গম জায়গায় তুমি কি করছো, শুনি!’
‘আমি...একটি জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু পাচ্ছি না। সাহায্য করতে পারেন?’
তরুণী মৃদু হাসল।
‘আমি সবাইকে সাহায্য করি না। তবে সাহসীদের জন্য অন্যরকম অনুভূতি আছে আমার। অতএব, জায়গাটির নাম বলো। সাহায্য তুমি পাবে!’
এমেন্ড্রা কিছুটা ইতস্তত করল। এরপর বলল, ‘আমি নাম তো জানি না। শুধু একটি ধাঁধাঁ।’
তারপর সে ধাঁধাঁটি বলল তাকে। তরুণী কিছুক্ষণ গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে রইল। যেন দ্বিধায় ভুগছে।
‘তোমার কাক্সিক্ষত জায়গাটির নাম এথেন্স। প্রাচীন এটিকা শহরের নতুন নাম। আর ওখানে একটি পাহাড় আছে। লোকে বলে, ‘স্বর্ণ-পাহাড়’! আমার ধারণা, সেটিই তোমার গন্তব্য!’
এমেন্ড্রা তরুণীটিকে ধন্যবাদ জানালো। তারপর এগিয়ে গেল পেগাসাসের খোঁজে। তরুণী তার গমনপথের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘ভাই, ও যোগ্য এবং সাহসী!’
***
পাথুরে একটি গুহায় আগুন জ্বলছে। সে আগুনের আলোয় আফ্রোডাইটির অনিন্দ্য সুন্দর মুখ রাগে বিকৃত দেখাচ্ছে। তার বিপরীতে সেই তরুণীটি। গম্ভীর মুখে চিন্তা করছে কিছু। আফ্রোডাইটি সেদিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি কেন ওকে সাহায্য করলে, আর্টেমিস?’
আর্টেমিস বিরক্ত হলেন, এই প্রশ্নে।
‘সাহসীদের সাহায্য করা আমার ধর্ম। আমি তোমার মত কুচক্রী নই, আফ্রোডাইটি!’
আফ্রোডাইটি রেগে-মেগে কিছু বলার আগেই গুহার অন্য-প্রান্ত থেকে একটি গুরুগম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো।
‘থামো, তোমরা দুজন!’
দেবীদ্বয় সেদিকে তাকালেন। আলোর সীমা থেকে কিছুটা দূরে এক পুরুষ মূর্তি দাঁড়িয়ে। তার ঘাড়ে লম্বা চুলের ফাঁকে একটি জ্বলজ্বলে চিহ্ন দেখা যাচ্ছে; সোনালী রঙ্গে আঁকা একটি বীণা। আর্টেমিস মৃদুস্বরে বললেন, ‘ভাই, তোমার বোধহয় একটু ভেবে দেখা উচিৎ!’
‘কি ভেবে দেখবে ও? ও ওয়াদাবদ্ধ!’ আফ্রোডাইটি চেঁচিয়ে প্রতিবাদ জানালেন। আর্টেমিস শীতল চোখে তাকে দেখলেন এক পলক।
‘আমার ভাইয়ের ওয়াদা নিয়ে তোমার মাথা ব্যথা আছে বলে মনে হয় না! স্বার্থপর আফ্রোডাইটি কখনও কারো ভালো ভেবেছে কি? আমি জানি তুমি হিংসার বশবর্তী হয়ে এসব বলছো! কারণ, মেয়েটি সুন্দরী। হয়ত কিছু ক্ষেত্রে তোমার চাইতেও বেশি!’
আফ্রোডাইটি অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘এগুলো সব আইসিসের কারসাজি! সে-ই সিংহটিকে লেলিয়ে দিয়েছিল...’
‘তা নাহয় মানলাম। কিন্তু মেয়েটি জানতো না! ও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল। সেটিই কি অনেক নয়?’
আফ্রোডাইটি, আর্টেমিসের সাথে যুক্তিতে না পেরে পুরুষ মূর্তিটির দিকে ফিরলেন।
‘ওহ, এপোলো, তুমি নিশ্চয়ই তোমার বোনের কথায় মন দিচ্ছ না! ও অবুঝ!’
‘ওর কথায় যথেষ্ট যুক্তি আছে। কিন্তু দয়া করে তোমরা দুজনই চুপ থাকো। আমি পরামর্শদাতা চাইনি!’
‘অলিম্পাসের দোহাই...’
‘অলিম্পাসের দোহাই তোমাকে, আফ্রোডাইটি! একা থাকতে দাও।’
আর্টেমিস এবং আফ্রোডাইটি বেরিয়ে যেতেই, এপোলো দেয়ালে হেলান দিয়ে বসলেন। আনমনেই বললেন,
‘পিতা জিউস, আমি এখন কি করব? পথ দেখাও!’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now