বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি সুজানা আবেদীন সোনালি মিথলোজিক্যাল ফ্যান্টাসি পর্ব ১ (১) খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দ। গ্রীসের ছোট্ট দ্বীপ রোডসে বেশ উৎসব-উৎসব একটি ভাব। কারণ, আজ রাজকুমারীকে রাজ্যের পরবর্তী কর্ণধার ঘোষণা করা হবে। যুবরাজ্ঞী পদে অভিষেক হবে তার। গ্রীসের ইতিহাসে এই প্রথম কোন নারী সিংহাসনে আরোহণ করতে যাচ্ছে। তাছাড়া রাজকুমারীকে রাজ্যের প্রতিটি মানুষ পছন্দ করে। ভালবাসে। দলে দলে রাজপ্রাসাদের দিকে পাড়ি জমানো লোকগুলোর মুখে তাই আকর্ণ হাসি। কেউ-কেউ চেঁচিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছে। ‘রাজকুমারী এমেন্ড্রাকে দেখেছো তোমরা? আমি বাজি ধরে বলতে পারি, তোমাদের দেবী আইসিসের চেয়ে সুন্দরী ও। আর সে কি গুণ! ও আমাদের কত্তো সুখে না রাখবে!’ মধ্যবয়স্কা এক মহিলা তার পাশেরজনকে বেশ উচ্ছ্বাস নিয়ে বললেন। ‘ওর রূপ আর গুণের কাছে, তোমাদের আফ্রোডাইটি ও কিন্তু হার মানবে! তাছাড়া এমেন্ড্রা তো আইসিসের ভক্ত। প্রাসাদের পেছনের সেই বিরাট আইসিসের মন্দিরটি ও এ কথার শতভাগ সমর্থন জানায়। তাই নয় কি?’ পাশের মহিলাটি গর্বের সাথে উত্তর দেয়। তাকে দেখে মনে হতে থাকে, ও বুঝি নিজেই কোন দেবীর প্রতিনিধিত্ব করছে! প্রথম মহিলাটি হেসে ফেলেন। আশ্বস্তের সুরে বলেন, ‘সব দেব-দেবীই আসলে এক। পবিত্র শক্তি, আত্মার প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁরা। তাই, এমেন্ড্রার বিশ্বাসের প্রতি আমার কোন আপত্তি নেই।’ দুই মহিলা এরপর পুরনো বান্ধবীর মত হাতে হাত রেখে, প্রাসাদ অভিমুখে পা বাড়ায়। তাদের থেকে বেশ কিছুটা পেছনে, শ্বেত-শুভ্র আলখাল্লায় মাথা পর্যন্ত ঢাকা এক ছায়ামূর্তি। ধবধবে দুধ সাদা চমৎকার একজোড়া হাত দিয়ে, সে পরনের আলখাল্লাটি শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। বিড়বিড় করে বলল, ‘আমার কিন্তু আপত্তি আছে। বেশ আপত্তি আছে। এই মেয়ে, যুবরাজ্ঞী হতে পারে না!’ তারপর আগের দুজনের পথ ধরল সে ও। বিরাট রাজপ্রাসাদটির চূড়া দেখা যাচ্ছে এখান থেকেই। *** রাজা দারিয়ুস হাতের রাজদ-টি তুলে ধরে উৎসবে কোলাহলমুখর জনতাকে শান্ত করলেন। ‘ধন্যবাদ! আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে, সমবেত হওয়ার জন্য। দেবতা জিউস এবং সকল অলিম্পাস বাসী আপনাদের মঙ্গল করুন।’ থেমে একবার চারপাশে তাকালেন দারিয়ুস। তার বাঁ পাশে অপেক্ষাকৃত ছোট সিংহাসনে বসে থাকা রাজকুমারীকে দেখলেন তিনি। স্নেহার্দ্র চোখে জরিপ করলেন যেন। মনে-মনে বললেন, ‘ঈশ! ঠিক যেন একটি সদ্য পাপড়ি মেলা গোলাপ! এতটি স্নিগ্ধ কারো মুখভঙ্গি হয়? এত পবিত্রতা!’ দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘আজ আপনাদের এখানে সমবেত করার পেছনে আমার বড় একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। রাজকুমারী এমেন্ড্রা কে তো চেনেন সবাই, তাই না? মা-হারা মেয়েটি আমার, আপনাদের মাঝেই বেড়ে উঠেছে। বলতে গেলে, আপনারাই ওকে বড় করেছেন।’ উপস্থিত সবাই সমস্বরে স্বীকৃতি জানালো। ‘আজ ওর উনিশতম জন্মদিন। মৃতা স্ত্রীর প্রতি ভালবাসা এবং বিশ্বস্ততার ফলে আর বিয়ে করিনি আমি। এমেন্ড্রাই আমার একমাত্র বংশধর। তাই আমার ইচ্ছে, আমার পরে আমার মেয়েটিই এই রাজ্য দেখাশোনা করবে। কি বলেন আপনারা? কোন আপত্তি আছে কি?’ জনতা দ্বিগুণ উৎসাহে হৈ-হুল্লোড় করে উঠল। তাদের আনন্দ যেন বাঁধ মানছে না। দারিয়ুস ওদের কিছুক্ষণ আনন্দ করতে দিলেন। তারপর রাজদ- তুলে থামালেন আবার। হঠাৎ কে যেন চেঁচিয়ে প্রতিবাদ জানালো। সেই আলখাল্লাধারী। এখন অবশ্য অবগুণ্ঠন নেই তার। ধবধবে ফর্সা এক তরুণী। দীর্ঘাকার একহারা গঠন। সোনালী রঙের গুচ্ছ-গুচ্ছ চুল ছড়িয়ে আছে পিঠে এবং কাঁধে। চমৎকার মুখশ্রী। এমেন্ড্রার সাথে মিল অনেকটাই। জনতা শুরুতে বিরক্ত হলেও, ওকে দেখার পর থেকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। কেউ-কেউ বিড়বিড় করে বলেও ফেলল, ‘আরে! এতো রাজকুমারীর মতই দেখতে!’ কথাটি কানে যেতেই তরুণী সেদিকে এক পলক তাকাল। চোখে তার অগ্নিদৃষ্টি। তারপর ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলো সিংহাসন বেদীর কাছে। রক্ত-লাল ঠোঁট জোড়া এবং বড়-বড় চোখে তীব্র রাগ তার। রাজা দারিয়ুসের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমার আপত্তি আছে!’ দারিয়ুস নিজেও কম অবাক হননি। তবু নিজেকে সামলে নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘কেন?’ ‘কারণ, ও একটি মেয়ে। এবং দুর্বল। ও কি করে রাজ্য চালাতে পারে?’ রাজা গম্ভীর গলায় বললেন, ‘বুদ্ধি, কৌশল এবং সাহস থাকলে একটি মেয়ে একটি ছেলের চেয়ে ভালোভাবেই রাজ্য চালাতে পারবে!’ তরুণী বাঁকা হাসল। বিদ্রূপ ফুটে উঠল তার পরবর্তী কথায়। ‘তাই? আপনি সত্যি মনে করেন আপনার মেয়ে রাজ-প্রধান হওয়ার যোগ্য?’ ‘আমি বিশ্বাস করি।’ ‘তাহলে ওকে বলুন পূর্ববর্তী হবু রাজাদের মত সিংহাসনে আরোহণ করার আগে “সামর্থ্যের তরবারি” খুঁজে আনতে! বোঝা যাবে, কে কতটা যোগ্য!’ রাজা চমকে উঠলেন! তার সুশ্রী চেহারা রক্তশূন্য দেখাল। মৃদুস্বরে বললেন, ‘সামর্থ্যের তরবারি! কিন্তু তুমি জানো কি করে?’ ‘কারণ, ও সাধারণ কেউ নয়। তুমি দেবী আফ্রোডাইটির সাথে কথা বলছ, বাবা!’ দারিয়ুস আরও বেশী চমকে পেছনে ফিরলেন। আফ্রোডাইটি কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটে এক চিলতে হাসি। (২) ২০১৫ সাল। জানালা দিয়ে প্লেনের বাইরের আকাশ দেখছে মেয়েটি। শান্ত, চুপচাপ সাগরের মত নীল একজোড়া চোখ। মাথা ভর্তি কালো রেশমের মত কোমল চুল। কপালের এক কোণে ত্রিভুজাকারে সাজানো তিনটি লাল তিল। অভিজাত মুখভঙ্গি। যেন প্রাচীন কোন এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের তরুণী! গন্তব্য তার হিথ্রো এয়ারপোর্ট। সেখান থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে এথেন্স। গ্রীস! কেন যেন মন বড্ড টানছে দেশটির প্রতি? কেন? কি আছে ওখানে? শুধু একটি চিঠি পেয়েই...মেয়েটি তার কোলের উপর ভাঁজ করে রাখা চিঠিটি আবার খুলল। প্রেরক, তার জন্মদাতা পিতা। যাকে সে কখনোই দেখেনি। অসংখ্যবার পড়া চিঠিটি আবার পড়তে লাগল। প্রিয় রুবাইয়াৎ, কেমন আছো? তুমি তো জানোই, আমার ভাষা গ্রীক। তবু তোমাকে লেখার জন্য বাংলা শিখলাম। ইংরেজিতেও লেখা যেত। কিন্তু চেয়েছি, চিঠির বিষয়বস্তু তোমার জন্য সহজ হোক। আমি জানি, আমাকে তুমি পছন্দ করো না। হয়ত ঘেন্না করো রীতিমত। কিন্তু বিশ্বাস করো, আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তোমার মায়ের ছিল। আমার নয়। ওকে অনেক বুঝিয়েছি। বলেছি, এথেন্সে আমার বেশ বড়-সড় ব্যবসা আছে। এখানে আমরা বেশ ভালোই থাকব। কিন্তু ও নিজের দেশে ফিরবেই! আচ্ছা বলো তো, হাহাকার নিপীড়ন ছাড়া কি আছে ও দেশে? নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সর্বত্র। এমন দেশে মানুষ ভাল থাকে কি করে? শুনেছি, নিজ বাড়িতেই খুন হয় মানুষ! আমার কথা রাখো, রুবাই। এখানে চলে এসো। কলেজ জীবনে জ্যোতিষ চর্চা করেছিলাম অনেকদিন। সেই আলোকেই বলছি, বড় কিছু একটা এখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে! ভাগ্য নির্ধারক কিছু। যা তোমার জীবন বদলে দেবে! কিছু টাকা পাঠাচ্ছি। টিকেট কিনে নিও সেটা দিয়ে। চলে এসো। সবচেয়ে বড় কথা, তোমাকে দেখতে চাই। কেন ওখানে এসে কথাগুলো বলছি না, তা হয়ত তুমি জানো। ভালো এবং সাবধানে থেকো। ইতি, তোমার বাবা রুবাই চিঠিটি ভাঁজ করে হ্যান্ড ব্যাগে রাখল। চোখ বুজে চিঠির উত্তর সাজাতে লাগল মনে-মনে। বাবা, জানিনা কেন আমার দেশের প্রতি তোমার এত ক্ষোভ! জানিনা কেন তোমার একটা চিঠি পেয়েই নিজের সুন্দর দেশটিকে ছাড়ছি! অথচ এ সময়টুকুতেই আমার দেশ বড্ড সুন্দর করে সাজে। কৃষ্ণচূড়া ফোটে। বৃষ্টি হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বৃষ্টি! তখন... ‘মিস! আপনার কিছু লাগবে?’ এয়ার-হোস্টেসের নরম গলার স্বরে রুবাইর লেখা আর এগোয় না। থেমে যায়। তাকিয়ে দেখে, হাসি-খুশী এয়ার-হোস্টেস উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তার সিটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। রুবাই পাল্টা হেসে বলল, ‘নো, থ্যাংকস। আমরা কখন পৌঁছাবো?’ ‘এই তো। ঘণ্টাখানেকের মাঝেই!’ হোস্টেস চলে যেতেই রুবাই জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। ভাবছে। আচ্ছা, ভাগ্য নির্ধারক কিসের কথা বলেছিল বাবা? সেটা কি তার স্বপ্নগুলোর সাথে জড়িত? স্বপ্ন! সেই ছোটবেলা থেকেই রুবাই স্বপ্নগুলো দেখে। কি বাস্তব সেগুলো! আর সবচেয়ে বড় কথা, স্বপ্নগুলো তাকে ঘিরেই! অদ্ভুত, তাতে সন্দেহ নেই! *** হিথ্রো এয়ারপোর্টের লাউঞ্জ এরিয়া। যাত্রা বিরতিতে এথেন্স গামী যাত্রীগণ এখানেই অপেক্ষা করছে। লাউঞ্জ এরিয়ার একটি ম্যাগাজিন স্টল। রুবাই একমনে ম্যাগাজিনগুলো দেখছে। হাতে নিয়ে পাতা উল্টাচ্ছে। কখনও বা তাকে সাজানো উপন্যাস দেখছে। তার থেকে বেশকিছু দূরে এক তরুণ মুখে মাস্ক লাগিয়ে ছোট-ছোট বাচ্চাদের সাথে দুষ্টুমি করছে। পরনে তার কালো ব্লেজার। সাদা টিশার্ট, এবং কালো জিন্স। বাচ্চাদের সাথে দুষ্টুমি করতে-করতে, হঠাৎ রুবাইর দিকে নজর পড়ল তার। থমকে দাঁড়াল সে। যেন খুব অবাক হয়েছে। কিছুক্ষণ ওভাবে দাঁড়িয়ে থেকে, নিজের অজান্তেই এগিয়ে আসতে লাগল। ধীরে-ধীরে। দৃঢ় পা ফেলে। মুখে এখনও মুখোশটি রয়েছে তার। চোখে ঘোরলাগা দৃষ্টি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now