বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
নিহিলা বললো-
-আরেকটা আপত্তিকর প্রশ্ন করবো আপনাকে?
-এইবার কেমন টাইপ প্রশ্ন হবে?
-যেমন বাসরঘর রিলেটেড কিছু কোয়েশ্চেন।
-সে কি!বিয়ের আগেই সরাসরি বাসরঘরে চলে গেলেন?স্টেপ বাই স্টেপ কোয়েশ্চেন করলে ভালো হতো না..যেমন প্রথমে প্রেম নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এরপর করবেন বিয়ে নিয়ে..এরপর না হয় বাসর..
নিহিলা আমতা আমতা করে বললো-
-আমি যাস্ট সিম্পল কোয়েশ্চেন করবো।সিরিয়াস টাইপ না।আপনি নরমালি উত্তর দিবেন।
হেমন্ত উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বললো-
-ঠিকাছে।করুন..
-ধরুন,বাসর রাতে আপনি জানতে পারলেন আপনার বউ অন্তঃসত্ত্বা তখন আপনার রিয়েক্ট কেমন হবে?
হেমন্ত অবাক হওয়ার মতো ভান করে বললো-
-এরমানে আপনি কি..?
-ছি:..ছি:..না..না..উলটো বুঝবেন না।
নিহিলার কথাগুলো শোনার পর হেমন্তর খুব হাসি পাচ্ছিল।কিন্তু সে হাসি দমিয়ে রেখেছে।হাসলেই সব মজা শেষ হয়ে যাবে।নিহিলা আর কি কি এবং কেমন টাইপ প্রশ্ন করতে চায় ওইগুলো জানা জরুরি।যে যেমনভাবে চায় তার সামনে তেমনভাবেই ধরা দেওয়া উচিত।এইটা খুব ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার।হেমন্তর কাছে এইটা একটা সাইকোলজি খেলার মতো লাগছে কেননা মানুষের ব্রেইন পড়ার চেষ্টা করতে সে খুব ভালোবাসে।তার ধারণা মানুষ যখন যেমনটা চায় তার সামনে তেমনভাবে নিজেকে তুলে ধরলে ব্যাক্তিটিকে সহজে বুঝতে পারা যায়।সে কি চাইছে,কেমনটা তার পছন্দ এসব সম্পর্কে আন্দাজ করা যায়।
হেমন্ত বললো-
-বাসর ঘরে যদি এই কথা শুনি তাহলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো।
-জ্ঞান ফিরলে কি করবেন?
-সব কিছু হাসিমুখে মেনে নেব।
-লেইম টাইপ প্রশ্ন করে ফেললাম।আপনি মাইন্ড করেন নি তো!
-নো..ইন্টারেস্টিং একটা কোয়েশ্চেন ছিল।এইবার টাফ লেভেলের করুন।
-আচ্ছা।আরেকটা মজার প্রশ্ন করি।এই প্রশ্নটার উত্তর দশ সেকেন্ডের মধ্যে দিতে হবে।কোনো রকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই জবাব দিতে হবে।পটাপট উত্তর দিবেন।
-ওকে..বলুন..
-বাসর ঘরে যদি জানতে পারেন যে আপনার বন্ধুর প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে আপনার বিয়ে হয়েছে তখন কি করবেন?জলদি উত্তর দিবেন..আপনার হাতে সময় কম।আমি ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত গুনছি।ওয়ান,টু,থ্রি...
হেমন্ত বললো-
-বন্ধুকে ফোন দিবো।এরপর আমার বাসর রাতেই আমার বউকে তুলে দিবো বন্ধুর হাতে।ওদের দুজনকে মিলিয়ে দিবো।
নিহিলা এইট পর্যন্ত গুনা মাত্রই হেমন্ত উত্তর দিলো।হেমন্তের উত্তর শুনে নিহিলা বললো-
-ওইগুলো নাটকের কাহিনীতেই হয়।আর আপনি নাটকীয়ভাবে জবাব দিচ্ছেন।
-যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর।
হেমন্ত হাসতে লাগলো।নিহিলা বললো-
-ঠিকাছে।এইবার কঠিন একটা প্রশ্ন করবো।তবে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য টাইম নির্দিষ্ট করে দিবো না।ভেবে চিন্তেই জবাব দিবেন।
-বলুন।
-ধরুন,বউ শাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়েছে।এখন আপনি কাকে সাপোর্ট দিয়ে কথা বলবেন?মাকে না বউকে?
-এইটা তো অনেক টাফ কোয়েশ্চেন..
নিহিলা সামান্য হেসে বললো-
-থাকুক,উত্তর দিতে হবে না।এই পর্যন্তই চলবে।
-এইবার রেজাল্ট দিন।আমি পাশ করেছি নাকি ফেইল করেছি?
-টিটিপি করেছেন।অর্থাৎ টেনে টুনে পাশ।
হেমন্ত হাসলো।নিহিলাও হেসে ফেললো।
.
.
আজ উদয়ের ছুটির দিন।ঘুম থেকে উঠেছে সকাল সাড়ে এগারোটায়।এতো বেলা করে উঠেও চোখে ঘুমের নেশা কাটে নি।মনে হচ্ছে আরেকটু ঘুমিয়ে নিলে তৃপ্তি পাওয়া যেতো।কিন্তু তবুও তাকে উঠতে হলো।হিটলার বউকে আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না।থাকলে হয়তো কথার রেকর্ড বাজাতো।
.
হালিমা আর অরনিতা ছাদে উঠেছে।হালিমা মেয়েটা বেশ মিশুক।অরনিতা হালিমাকে বললো-
-শোনো হালিমা,তোমার কাছ থেকে আমি কিছু তথ্য নেব।এই বাড়িতে কে কেমন প্রকৃতির এই সম্পর্কে তুমি আমাকে সংক্ষেপে বলবে।
হালিমা এক কথায় জবাব দিলো-
-সবাই ভালা।
হালিমা হয়তো অরনিতার কথার অর্থটা বুঝতে পারে নি।তাই অরনিতা বললো-
-এই বাড়িতে সবার সম্পর্কে কিছু বলো।টুকটাক যা জানো তাই বলো।যেমন,রুনা আন্টি কেমন?উদয় সাহেবের বড় ভাই সায়েম ভাইয়া কেমন?সায়েম ভাইয়ার বউটা কেমন?একটু একটু করে সবার সম্পর্কে আমাকে ধারণা দাও।
হালিমা মাথা চুলকে বললো-
-সবাই ভালা মানুষ।আমারে তারা খুব আদর করে।পরী আপুও অনেক ভালা।
-পরীকে আপু বলছো কেন?পরী তোমার ছোট।নাম ধরে ডাকবে ওকে।
-আমি পরী বইলাই ডাকতাম।একদিন বড় ভাবী আমারে ধমক দিয়া কইলো পরীরে পরী নামে ডাকতে না।নামের লগে আপু বইলা ডাকতে।
-ভাবী কি খুব রাগী?
-হ..অনেক রাগী বড় ভাবী।বড় ভাইয়ের লগে তার ঝগড়া বিবাদ লাইগা থাকে।পরীও ভয় পায় ওর মায়েরে।যেদিন ভাই-ভাবী ঝগড়া করে ওইদিন পরী আম্মার সাথে ঘুমাও।আব্বাজান মরবার পর আম্মাও চুপচাপ হইয়া গেসে।আগে ভাই-ভাবী দুইজনরে ঝাড়ি মাইরা ঝগড়া থামাইতো।অহন আর ঝগড়া থামাইতে যায় না।
-তারা কি ঘনঘন এইরকম ঝগড়া করে?
-হ..পারলে প্রতিদিনই করে।এতোদিন ঘরে ছোট ভাইজান আর আপনের বিয়া-শাদির আয়োজন আছিলো।মেমান আছিলো তাই করে নাই।এখন বিয়া শেষ।দুইদিন পর আপনেও তাগো ঝগড়া দেখবেন।
অরনিতা মনে মনে বললো "কি সর্বোনাশ!এইটুকু মেয়ের সামনে ঝগড়া করে!চোখের সামনে মামা-বাবার ঝগড়া দেখলে পরীর মনের উপর এর প্রভাব পরবে।মেয়েটার মনমানসিকতা ছোট থেকেই বদলাতে শুরু করবে।দেখা যাবে বড় হয়েও এর প্রভাব মেয়েটার মনে রয়ে গেছে।যা একেবারেই ঠিক না।"
অরনিতা বললো-
-তুমিও বুঝদার হয়ে গেছো হালিমা।তোমার বয়স কতো?
হালিমা একটু ভেবে নিয়ে বললো-
-জানি না।
-মনে হয় বারো কিংবা তেরো।যাই হোক,এইটুকু বয়সে বেশ ভালোই বোঝো তুমি।মেয়ে মানুষদের বুঝদার হতে হয় এবং সাহসীও।কিন্তু জানো,পোকামাকড়ের বেলায় আমি ভীতুর পরিচয় দেই।কারন পোকামাকড় আমার দুর্বল জিনিসগুলোর মধ্যে একটি যেগুলোকে আমি খুব ভয় পাই।তুমি কি এসব ভয় পাও হালিমা?
হালিমা হাসতে হাসতে জবাব দিলো-
-না।
-এইবার বলো রুনা আন্টি কেমন?মানে হচ্ছে আমার শাশুড়ি।
-আম্মাও তো খুব ভালা।আমারে খুব আদর করে।
-এইবার আমার সম্পর্কে বলো তো কিছু।শুনতে ইচ্ছে করছে।দেখি এই কয়দিনে আমাকে কেমন চিনলে তুমি!
হালিমা হেসে হেসে বললো-
-আপনেও ভালা।বড় ভাবীর থেইকা অনেক ভালা।
হঠাৎ উদয়ের গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো।অরনিতাকে ডাকছে সে।ডাক শুনে অরনিতা হালিমার দিকে তাকিয়ে বললো-
-আমি নিচে যাই।দেখে আসি তোমার ছোট ভাইজান ডাকছে কেন!
.
অরনিতা রুমে ঢুকে দেখলো উদয় তোয়ালে পেঁচিয়ে বিছানায় বসে আছে।দেখতে কিছুটা হাস্যকর লাগছে।উদয় বললো-
-আমার শার্ট,গেঞ্জি,জিন্স কোথায়?আলমারি ফাকা কেন?
অরনিতা মিটি মিটি হেসে বললো-
-সব ধুয়ে দিয়েছি।
উদয় রাগী স্বরে বললো-
-ওইগুলো না শুকানো পর্যন্ত কি আমি এই অবস্থায় বসে থাকবো?
অরনিতা এইবার পুরোপুরি হেসে ফেললো।আর বললো-
-হু,থাকবেন।তাতে হয়েছেটা কি?আয়নার সামনে তাকিয়ে দেখুন।খুব হ্যান্ডসাম লাগছে আপনাকে।
উদয় অন্য দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে বসে রইলো।অরনিতা হাসতে হাসতে বললো-
-অন্যসময় আপনি আমাকে রাগিয়ে দিতেন আজ আমি আপনাকে রাগিয়ে দিলাম।রাগে রাগে কাটাকাটি।ফলাফল শূণ্য।
উদয় কিছু বললো না।অরনিতা বললো-
-এখন দেখলেন তো,রাগিয়ে দেওয়ার পর এইভাবে ভূতের মতো হাসলে কেমন বিরক্ত লাগে।আমারও সবসময় এইরকমই লাগে।সুতরাং আপনার বেলায়ও একইরকম লাগারই কথা।
উদয় বললো-
-অনেক হয়েছে মজা।এখন সমাধান দেও।আমাকে কতোক্ষণ এইভাবে কার্টুনের মতো বসে থাকতে হবে!
অরনিতা হাসি থামিয়ে বললো-
-আপনি কি আমাকে খুব বোকা ভাবেন?বলুন তো?আপনি যতোটা বোকা আমাকে ভাবেন আমি ততোটা নই।আমি আপনার জন্য একটি শার্ট আর প্যান্ট আগেই আলাদা করে রেখেছি।যাতে শাওয়ার নেওয়ার পর ওইগুলো পরতে পারেন।বাকি কাপড়গুলো ধুয়ে দিয়েছি।
অরনিতা ওয়ারড্রবের নিচের ড্রয়ার থেকে সেই শার্ট আর প্যান্ট নিয়ে উদয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো-
-এই নিন।
উদয় বললো-
-আরও হাসো.হিহিহি.দাঁত বের করে হাসো।থামলে কেন?
-ঠিকই বলেছেন।অনেক তাড়াতাড়ি গেমটা শেষ করে ফেলেছি।আরও কিছুক্ষণ পর কাপড়গুলো এনে দিলে মজা হতো।আরও কিছুক্ষণ হাসতে পারতাম।
উদয় অস্পষ্ট স্বরে বললো-
-হে..আল্লাহ..এইরকম বউওয়ালা স্বামীদেরকে হেফাজত দান করো।আমিন..আমিন..আমিন..
অরনিতা জোর গলায় বললো-
-কি বললেন আপনি?
-কোথায় কি বললাম আবার?আমি তো যাস্ট ঝগড়া করার প্র্যাক্টিস করছিলাম।তোমার সাথে ঝগড়া করতে করতে তা আমার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।তাই এখন নিজের সাথে নিজেই কথা বলে ঝগড়ার অনুশীলন করি।
-ঝগড়া করেন কেন তাহলে?ঝগড়ার শুরুটা তো আপনাকে দিয়েই হয়।
-মিথ্যা বলা মহাপাপ।
-কি?আমি মিথ্যে বলছি?
-না।আমি তোমাকে তো কিছু বলি নি।আমি নিজে নিজে কথা বলছি।
-আপনি কি আমাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ গাধী ভাবেন?বলুন তো?
-না তো।তোমাকে আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হিটলার বউ ভাবি।
-আপনি আমাকে রাগিয়ে দিচ্ছেন কিন্তু।
উদয় কিছু না বোঝার ভান করে আশেপাশে,সামনে পেছনে তাকিয়ে বললো-
-তুমি কি এইটা আমাকে বললে?
-না তো কাকে বলবো?এইখানে আপনি আর আমি ছাড়া আর কে আছে?
-একজন আছে।
-কে আছে?
-তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড "টিকটিকি"।
এই বলে উদয় হাসতে লাগলো।
.
.
সাবেরা কিছুক্ষণ পর পর উকি দিয়ে হেমন্ত আর নিহিলাকে দেখার চেষ্টা করছে।তাদের হাসাহাসির ব্যাপারটা আন্দাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
.
নিহিলা হেমন্তকে বললো-
-এইবার আপনি আমাকে যা ইচ্ছে জিজ্ঞেস করতে পারেন।আমার যা জিজ্ঞেস করার ছিল আমি তা করে ফেলেছি।
হেমন্ত বললো-
-একটা বিষয় বলি তোমাকে,মানুষের ব্রেইন পড়তে আমি খুব ভালোবাসি।তুমি এতোক্ষণ যেইভাবে যা বলছিলে আমি মনোযোগ দিয়ে তোমার মনের মতো করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।তুমি কি চাইছো,কেমন জবাবে সন্তুষ্ট হচ্ছ এইগুলোর সাধারণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করছিলাম।
-বিয়ের পর কি সারাক্ষণ বসে বসে আমার ব্রেইন পড়বেন আপনি?
-হতেও পারে।সবার আগে বউয়ের ব্রেইন পড়া জরুরি।এমনও হতে পারে বাসরঘরে ঘোমটা খুলে বউয়ের মুখ দেখে রোমান্টিক বাক্য বলার আগেই ব্রেইন পড়ার মিশনে লেগে যেতে পারি।
-আমি যে কতোটা বোকাসোকা আর বুদ্ধিহীন মেয়ে তা আমার ব্রেইন পড়ার পরই বুঝতে পারবেন।
-তুমি নিজেকে নিজে বোকাসোকা,বুদ্ধিহীন মেয়ে ভাবো?
নিহিলা হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো।
-তোমাকে একটা ওষুধ বলে দিচ্ছি।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জাগার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে দশবার মনে মনে বলবে "আমি বুদ্ধিমান মেয়ে"।আর যখন ভয় তোমার কাছাকাছি থাকবে বা তুমি পাচ্ছ ঠিক ওই মুহূর্তে মনে মনে দশবার বলবে "আমি সাহসী মেয়ে"।
-আমার দুর্বলতা নিয়ে আপনি কি মজা নিচ্ছেন?
-মোটেও না।তুমি ট্রাই করে দেখো।পনেরো দিনের মাথায় এর সুফল পাবে।
-আপনি কি সাইকোথেরাপিস্ট?
-না।এসব কিছুই না।
-তাহলে কি সাইক্রিয়াটিস্টদের ব্রেইন পড়ে এসব তথ্য পেয়েছেন?
হেমন্ত হেসে বললো-
-এগুলো হচ্ছে আমার নিজের আবিষ্কৃত হাবিজাবি থেরাপি।হাবিজাবি হলেও এই থেরাপি কাজে আসে।আমি কয়েকজনের উপর এই বিষয়টা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি।যাদেরকে পরীক্ষা করেছি ওরা ওদের দুর্বলতা থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরেছে।তাই আমার ধারণা এই থেরাপি আপনারও কাজে আসবে।
-থ্যাংক ইউ।আমি ট্রাই করে দেখবো।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।কেউ এসেছে হয়তো।সাবেরা দরজা খুললো।নিহিলার মামা তৈমুর সাহেব এসেছেন।হাত পায়ে ব্যান্ডেজ করা।তাকে এই অবস্থায় দেখে সাবেরা বললো-
-হায়..হায়..এই হইসে আপনের?
সাবেরার কথার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না তিনি।গম্ভীর হয়ে ড্রয়িং রুমে যেতে লাগলেন।
তৈমুর সাহেবকে এই অবস্থায় দেখে নিহিলা আর হেমন্ত চমকে তাকালো।নিহিলা উঠে গিয়ে বললো-
-এ কি!মামা,কিভাবে এইরকম হলো তোমার?
তৈমুর কোনো জবাব দিলেন না।হেমন্তকে দেখে হাসিমুখে হেমন্তর পাশে বসলেন।হেমন্ত বললো-
-আঙ্কেল,আপনার এই অবস্থা হলো কি করে?
-তেমন কিছু না বাবা।সামান্য এক্সিডেন্ট।রিকশা দিয়ে যাচ্ছিলাম।রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ একটি কুকুর পরলো।ওইটাকে বাঁচাতে গিয়ে রিকশাওয়ালা রিকশাকে কন্ট্রোলে রাখতে পারে নি।রিকশা একটি ভ্যান গাড়ির সাথে ধাক্কা খেলো।আর আমি রিকশা থেকে ছিটকে পরে গেলাম।
হেমন্ত বললো-
-আপনি বসুন।রেস্ট নিন।
-বাবা,তুমি আসবে জানলে আমি বাসা থেকে বের-ই হতাম না।
-আপনাকে ফোন করেছিলাম।কিন্তু পাই নি ফোনে।আসলে হঠাৎ করেই চলে আসলাম..
হেমন্তর কথা শেষ না হতেই তৈমুর সাহেব নিহিলাকে বললেন-
-ছেলেটাকে কিছু খেতে দিয়েছিলি?সাবেরাকে গিয়ে বল কিছু আয়োজন করতে।দুপুরের খাবারে ভালো কিছু রাঁধতে বলে দে।
হেমন্ত বললো-
-না আঙ্কেল।আমি এখনি চলে যাবো।
-তোমাকে আমি এখনি যেতে দিবো তা তুমি ভাবলে কি করে?এসেছো যখন আমি তোমাকে এতো সহজে ছাড়ছি না।
.
.
নিহিলা রান্নাঘরে গিয়ে সাবেরাকে বললো-
-আজ সে এখানে খাবে।ভালো তরকারি রাঁধবি।
সাবেরা বললো-
-আইচ্ছা বুবু।
নিহিলা খেয়াল করলো সাবেরা মুচকি মুচকি হাসছে।নিহিলা বললো-
-কি হয়েছে?তুই হাসছিস কেন?
সাবেরা মুচকি হেসে বললো-
-হবু জামাইয়ের প্রেমে পরা জায়েজ।
-কি বলতে চাচ্চিস তুই?
-না বুবু।কিচ্ছু না।
-তোর কাজ তুই কর।সারাক্ষণ শুধু আলতু ফালতু কথা।
-দুলাভাইয়ের সাথে বইসা বইসা কথা বইলা হাসাহাসি করতাসিলেন।আমি সব বুঝছি বুবু।
-তুই আসলেও একটা বেক্কল।বসে বসে কিছুক্ষণ গল্প করে হাসাহাসি করলেই প্রেম হয়ে যায় না।প্রেমে পরা কি এতো সহজ?
এই বলে নিহিলা চলে গেলো।সাবেরা এইবার হাসি বন্ধ করে রাঁধতে লাগলো।
To Be Continued....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now