বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
-নতুন বউ কথা বলতে জানে না নাকি?সারাদিন চুপচাপ থাকে।মাঝেমাঝে একটু আধটু মাথা নাড়িয়ে আমার কথার সম্মতি জানায়।
উদয় মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো-
-নতুন তো তাই লজ্জা পায়।
রুনা বললেন-
-সে কি তোকেও লজ্জা পায়?
-হ্যা পায়।
রুনা অবাক হয়ে বললেন-
-আজকালকার মেয়েরা এইরকমও হয়!এখনকার মেয়েরা কথায় কাজে হয় চটপটে চঞ্জল।এখনকার দিনে বোকাসোকা মেয়ে বলতে কোনো শব্দই নেই।
উদয় হাসার চেষ্টা করে বললো-
-তোমার ছেলে কতোটা ভাগ্যবান তুমি নিজেও জানো মা।
রুনা সামান্য হেসে বললেন-
-সবই ভাগ্য।বউ কি করছে এখন?
অরনিতা এখনো ঘুমিয়ে আছে।মাকে এই কথা জানানো যাবে না।নয়তো মা বলবে ভদ্র মেয়েটার দেরিতে ঘুম থেকে উঠার বাজে অভ্যাসটাও আছে।উদয় বললো-
-বিছানা গুছাচ্ছে।
-তুই বউকে নিয়ে নাস্তার টেবিলে চলে আয়।
মাকে মিথ্যাে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না উদয়ের।কিন্তু তবুও বলতে হলো সংসার বাঁচাতে।মা যদি এই নব বধূর আসল রুপ দেখতেন তাহলে নিশ্চয়ই এতোক্ষনে মাথায় হাত রেখে বসে পরতেন।মা তো আর জানেন না যে তার ছেলে এতোটাই ভাগ্যবান যে হিটলারের বোনের নিউ ভার্সন তার কপালে জুটেছে।বাড়ির সবার সামনে সে চুপচাপ শান্তশিষ্ট বউ কিন্তু উদয়ের সামনে লেজবিশিষ্ট।
.
বিয়ের বয়স দুই দিন নয় ঘন্টা।এই দুই দিন আর নয় ঘন্টায়
অরনিতার সাথে সামান্য হাসি ঠাট্টা পর্যন্ত হয় নি উদয়ের।বিয়ের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয়েছে কথা কাটাকাটি।
.
ফুলশয্যার মুহূর্তের কথা।অরনিতা তখন ভারী শাড়ির সাজে বসে রয়েছিলো।ভারী সাজ,শাড়ি এসব অরনিতার মোটেও পছন্দ না।শাড়ি পরলেই কেমন যেন দম আটকে আসে ওর।গহনা পরলে অসহ্য লাগে।মনে হয় গলায়,কানে,নাকে ভারী বস্তু চেপে বসে আছে।
বিয়ের রাতে নতুন বউ যেমন বরের অপেক্ষায় বিছানায় পা গুটিয়ে বসে অরনিতাও তেমনিভাবে বসে আছে।সে মোবাইল হাতে নিয়ে ফোন স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে।নব বধূ সেজে চার কোনায় আবদ্ধ রুমে বরের জন্য বসে থাকাটা একটা কঠিন অপেক্ষা।অপেক্ষা জিনিসটাই বিরক্তিকর।পনেরো মিনিট পর উদয় এলো।মুখে হাসি হাসি ভাব।অরনিতা কঠিন কন্ঠে বললো-
-আমাকে এতোক্ষণ বসিয়ে রাখার মানে কি?
উদয় কিছু না বোঝার মতো করে বললো-
-ঘুমিয়ে পরো তাহলে।ঘুম আসলে ঘুমিয়ে পরতে।
-সে কি!আমার বাসর ঘর আর আমি ঘুমিয়ে থাকবো?
-তুমি রেগে যাচ্ছো কেন?
-দেখুন,আমি মোটেও রেগে যাচ্ছি না।আমার কাছে বিরক্ত লাগছে।আপনার আরও আগে আসা উচিত ছিলো।আপনি আধাঘণ্টা যাবত রুমের ভেতর আমাকে একা বসিয়ে রেখেছেন।
-তোমাকে বসে থাকতে বলেছে কে!তোমার শুতে ইচ্ছে করলে শুয়ে পরো।এখন এই রুমটা আমার না তোমারও।তুমি এই রুমে যেইভাবে থাকতে ইচ্ছে হয় সেইভাবেই থাকতে পারো।আমি তোমাকে কোনো কিছুতেই বাধা দিবো না।
-এর মানে আমি এখন দৌড়ে পালালেও আপনি আমাকে বাধা দিবেন না!
-তা তো বলি নি!
অরনিতা বিছানার চারিদিকে তাকালো।একগাদা ফুল দিয়ে সাজানো গোছানো বিছানা।ফুলের গন্ধটা একটুও সহ্য হচ্ছে না ওর।অরনিতা বললো-
-একটা হেল্প করুন।ফুলের পাপড়িগুলো বিছানা থেকে সরাতে আমাকে হেল্প করুন।ফুল আমার ভালো লাগে না।ফুলের গন্ধ আমার অসহ্য লাগে।
উদয় হেসে ফেললো।আর বললো-
-দুনিয়ায় হয়তো তুমি-ই একমাত্র মেয়ে যে কি না ফুল পছন্দ করে না।ফুলের ঘ্রাণের পারফিউম ভালো লাগে অথচ ফুল ভালো লাগে না!
অরনি ভ্রু কুঁচকে বললো-
-হাসছেন কেন?
-তোমার কথা শুনে।
-আমি মজা করি নি।অকারনে হাসা আমি পছন্দ করি না।
-আর কি কি পছন্দ করো না?এক কাজ করো,বসে বসে লিস্ট বানাও।
-আপনি কি মজা করছেন আমার সাথে!
-না,মজা করছি না তো।
-আচ্ছা,শুনুন।এইবার সিরিয়াস কথা বলি।এই বিয়ে টিয়ে নিয়ে আমার তেমন কোনো আগ্রহ ছিলো না।আমার কাছে বিয়ে আর শ্বশুরবাড়ি মানে হলো চার দেওয়ালে আবদ্ধ করে রাখা একটা জায়গা।আপনি আমাকে চেনেন না।আর আমিও আপনাকে চিনি না।সুতরাং আমরা দূরত্ব বজায় রেখে চলবো।
মেয়েটার কথা শুনে উদয় চমকে গেলো।মা বলেছিলো এই মেয়ে হবে ভদ্র মায়াবতী।মায়াবতী মেয়ের এই হাল যেন কথাবার্তায় পি এইচ ডি।উদয় কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।
অরনিতা আবারও বললো-
-প্রেম কয়টা করেছেন?
উদয় অনুমান করে নেওয়ার ভঙ্গিতে বললো-
-গুনতেহবে।
অরনিতা মুখ বাকিয়ে বললো-
-আগেই জানতাম আমার বিয়ে অন্য একজনের প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে হবে।
-সুন্দরি মেয়েদেরও হাজারটা প্রেমিক থাকে।আমার ধারনা তোমারও ছিল।
-সমস্যা এইদিকেই।সবাই ভাবতো আমার প্রেমিক আছে।তাই কখনো কোনো প্রপোজ পাই নি।মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি নিজে সিঙ্গেল ছিলাম অথচ ফ্রেন্ডদের রিলেশনে কোনো ঝামেলা হলে পরামর্শ দিতাম।শুনুন,আপনি কয়জন প্রেমিকার প্রাক্তন প্রেমিক তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।তবে জেনে রাখুন,আপনি এমন একটা বউ পেয়েছেন যার একসময় প্রেমের নামেই এলার্জি ছিলো।
উদয় হেসে হেসে বললো-
-মেয়ে হয়ে প্রপোজ পাও নি!বিশ্বাস হয় না।
অরনিতা রাগ দেখিয়ে বললো-
-আপনি,আবারও হাসছেন!এইরকম হাসি আমার সামনে হাসবেন না প্লিজ।রাগ লাগে।আর এইটা সত্যি যে আমি রিয়েল লাইফে কোনো প্রপোজ পাই নি।তবে ফেসবুকে পেয়েছি।
-ফেসবুকেরগুলা তো ভুয়া।টাইম পাস।আজকাল মেয়েরা ক্লাস ফাইভ সিক্সেই প্রপোজাল পায়।আমি ছেলে হয়ে যদি প্রপোজ পাই আর তুমি মেয়ে হয়ে একটাও পাও নি!আমি প্রথম প্রপোজ পেয়েছিলাম ক্লাস নাইনে।
-ওই মেয়ের সাথে প্রেম করেছিলেন কতোদিন?
-আরে প্রেম টেম না।এমন কিছুই হয় নি।মেয়েটি ওর বান্ধুবীকে দিয়ে আমাকে প্রপোজাল করিয়েছিলো।তখন আমি বাসায় এসে মাকে সব বলে দিয়েছিলাম।মা পরে আমাকে নিয়ে স্কুলে গিয়ে ওই মেয়েকে বকা দিয়েছিলো,পরে ওই মেয়ে আমার সামনেই আসে নি।আফসোস হয় শুধু একটা কারনেই।মেয়েটার দোষ নেই,আবেগের বসে বলে দিয়েছিলো।আর আমি সেটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি।যেটা অন্যায় ছিলো।যখন বুঝতে পারছি তখন কিছু করার ছিলো না।ওকে আর পাইনি।অন্য স্কুলে চলে গেছে।
-মেয়েটার মন ভেঙে দিলেন এর মানে ফিউচারে আপনি আমারও মন ভেঙে দিবেন?
-তুমি তো আমার বিবাহিত বউ।তোমার মন ভাঙবো কেন!
-ছেলেদের প্রতি আমার কখনওই বিশ্বাস ছিল না এবং নেই।
-আচ্ছা,বলো তো,কথায় কথায় তোমার টেম্পারেচার এত হাই হয়ে যায় কেন?
অরনিতা জোর গলায় বললো-
-ইউজলেস কথা আর বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না আমার।বাসর ঘর না।ছাই।আপনি আপনার মতো করে ঘুমিয়ে পরুন তো।আমার এখন ঘুম আসছে না।
-নতুন জায়গায় আসলে চোখে সহজে ঘুম আসে না।তাই হয়তো।
-জানেন,আপনি মোটেও রোমান্টিক না।যতোটুকু বুঝলাম।ভেবেছি বিয়ের পর স্বামীর সাথে প্রেম করবো।কিন্তু আপনার মতো বোরিং একটা মানুষ কপালে জুটবে ভাবি নি।যে শুধু কথায় কথায় হাসতে জানে আর কিছুই জানে না।আমার কপালে হয়তো সমস্যা আছে।
উদয় বললো-
-হাতটা দেও তোমার।দেখি তোমার হাতের রেখায় কোন প্রেমিকপুরুষ ছিল!কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমার সাথে বিয়ে হয়েছে তোমার।
-আপনি আবারও মজা করছেন!
উদয় হাই তুলতে তুলতে বললো-
-আমার সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু জানা বাকি তোমার।তোমার এই স্বামীর অনেক ডিমান্ড আছে কিন্তু!আমি ভার্সিটির মেয়েদের জাতীয় ক্রাশ ছিলাম।তুমি-ই একজন যে আমাকে পেয়েছে।
এখন বুঝো তুমি কতোটা ভাগ্যবতী..
অরনিতা পিট পিট করে তাকিয়ে রইলো।যেন এই মুহূর্তে সে একটা আশ্চর্যান্বিত ঘটনা শুনেছে।উদয় ভাব নিয়ে বললো-
-আমি ঘুমাবো এখন।শুনেছি ঘুমানোর সময় কোনো রুপবতী মেয়ে পাশে থাকলে অনেক সুন্দর স্বপ্ন দেখা যায়।
অরনিতা কিছু বললো না।এই ছেলের ভাব দেখে ওর কাছে বিরক্ত লাগছে।অরনিতা তাচ্ছিল্য ভঙ্গিতে নিজে নিজেই ফিসফিসিয়ে বললো-
-হেহ..যেই না চেহারা নাম রেখেছে পেয়ারা।আবার সে নাকি ভার্সিটির মেয়েদের জাতীয় ক্রাশ ছিল।ছেহ..
.
পরের দুইদিন এইভাবেই চললো।তবে দুজনের মধ্যে এইরকম ঝাল মেশানো কথাবার্তা শুধু তাদের রুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।রুমের বাহিরে সবার সামনে তারা সুখী দম্পতি।শাশুড়ির সামনে অরনিতা একজন আদর্শ বউ।উদয়ের মা রুনা মনে করেন তিনি এমন একজন বউয়ের শাশুড়ি হতে পেরেছেন যেই বউ নিয়ে প্রাণভরে গর্ব করা যেতে পারে।
.
.
রুনা ডেকে গেছেন।সকাল সাড়ে নয়টা বাজতে চলেছে।আর এই মহারাণীর এখনো ঘুম ভাঙেনি।উদয় অরনিতাকে ডেকে বললো-
-এই যে,উঠে পরো।এখন আর রাত নেই।সকাল হয়ে গেছে।
অরনিতা উঠলো না।আলো যেন চোখে না লাগে তাই বালিশ মুখে চেপে আরও আরাম করে শুয়ে রইলো।কিন্তু বেশীক্ষণ চোখ টিপরে রাখতে না রাখতেই অরনিতা উঠে বসলো।আজ ওর বেস্ট ফ্রেন্ড নিহিলার জন্মদিন।আজকে জুলাইয়ের পঁচিশ তারিখ।এই দিনটা সে ভুলে গেলো কি করে!বেস্ট ফ্রেন্ডের বার্থডে ভুলে যাওয়াটা একটা জাতীয় ভুল।এই ভুল সবাই করে।গত বছরও লেট করে উইশ করাতে কয়েকবার সরি বলতে হয়েছিলো এইবারও তাই করতে হবে।বালিশের কাছে রাখা ফোনটা হাতে নিলো সে।
উদয় খেয়াল করলো অরনিতা ঘুম থেকে উঠে গেছে।ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিয়ে বসে আছে।উদয় বললো-
-ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই ফেসবুকিং!
অরনিতা উদয়ের দিকে তাকালো।এই ছেলে একটু না।অনেক বেশী-ই বাড়িয়ে কথা বলে।
-আপনাকে কে বলেছে আমি ফেসবুকিং করছি?
-তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে।এইরকম শুধু তুমি-ই না।মাঝেমাঝে আমিও করি।
-বাড়িয়ে কথা বলবেন না তো।রাগ লাগে।আর আমি যা ইচ্ছে তা করি তাতে আপনার কি?
-আমিও যা ইচ্ছে তাই বলি তাতে তোমার কি?
-আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন আর আমার কিছু না!
-আমার কথা শুনতে ভালো না লাগলে কান বন্ধ করে রাখলেই হয়।
-দেখুন,সকাল সকাল আপনার সাথে ইউজলেস টপিক নিয়ে কোনো ঝগড়ায় জড়াতে ইচ্ছে করছে না আমার।
উদয় হেসে বললো-
-ইউজলেস হোক আর ইউজফুল টপিক হোক তোমার সাথে আমার এই পর্যন্ত ঝগড়া ছাড়া হয়েছিলোই বা কি!
অরনিতা উদয়ের কথার জবাব দেওয়ার মতো প্রয়োজন বোধ করলো না।ফোন স্ক্রিনে তাকিয়ে বার্থডে উইশ মেসেজ পাঠালো নিহিলাকে।
To Be Continued ...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now